somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিউমেরোলজি

৩০ শে নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



হ্যারিপটারের গল্পগুলো যারা পড়েছেন বা মুভিগুলো যারা দেখেছেন তারা সবাই জানেন যে গল্পের অন্যতম চরিত্র হারমাইনির (মুভিতে এমা ওয়াটসনের চরিত্রে) প্রিয় সাবজেক্ট ছিল এরাথমেনসি (arithmancy) মানে সংখ্যার জাদুকরী ! এরাথমেনসির জটিল চার্টগুলো ব্যবহার করে ভবিষ্যৎ বলার ক্ষমতা ছিল হারমাইনির সবচেয়ে পছন্দের সাবজেক্ট । বাস্তবে সংখ্যা ব্যবহার করে জীবনের বৈশিষ্ঠ্য নিৰ্ধাৰণের এই অনুশীলনকেই বলে নিউমেরোলজি । নিউমেরোলজি বা সংখ্যা তত্ত্বের ব্যবহারিক ইতিহাস অনেক পুরোনো ।ব্যাবিলনীয় ও মিশরীয় সভ্যতায় সংখ্যাতত্ব ব্যবহারের প্রমান পাওয়া যায় । প্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে চীনের ইতিহাসেও সংখ্যাতত্বের অনুশীলনের প্রমান আছে।কিন্তু গ্রহণযোগ্যতার বিচারে নিউমেরোলজির আলোচিত হয়ে উঠার ভিত্তি পায় বিখ্যাত গ্রিক ম্যাথমেটিশিয়ান আর জিওমেট্রিশিয়ান পিথাগোরাসের কাজের মধ্যে দিয়েই । আন্ডারউড ডাডলি (Underwood Dudley) তার বই “Numerology: Or, What Pythagoras Wrought (Spectrum)” -এ লিখেছেন যে পিথাগোরাস একবার হঠাৎ আবিষ্কার করলেন যে কিছু সিরিজ অড বা বেজোড় নম্বরের যোগ ফলের সাথে এক যোগ করলে ফলাফল সব সময়ই স্কয়ার রুট দিয়ে প্রকাশ করা যায় !একটা ফটো দিয়ে পিথাগোরাসের গুরু তত্বটা সহজ করে বলি:


ফটো : all is number
কি চমৎকার ১ -এর সাথে সিরিজ বেজোড় সংখ্যা যোগ করে কেমন ২স্কয়ার (৪), ৩ স্কয়ার (৯), ৪স্কয়ার (১৬), ৫ (২৫)স্কয়ার, ৬ স্কয়ার(৩৬) মানগুলো পাওয়া যাচ্ছে (দুই হাজার বছরের পুরোনো মাথায় কেমন করে এই চিন্তা আসলো তা আমি এই দুই হাজার বছর পরের মাথা নিয়েও ভেবে পাইনা | আরো চিন্তা করুন এসএসসি-র জ্যামিতি। ত্রিভুজের দুই বাহুর দৈর্ঘ্য তৃতীয় বাহুর দৈর্ঘ্যের চেয়ে বড়।এই নিরস গদ্যময় চিন্তাটাও এই প্রাচীন মাথা থেকেই বের হয়েছিল) ! সংখ্যার এই আচরণে তিনি বিরাট রহস্যময়তার দেখা পেলেন । সে থেকেই তিনি একটা সিদ্ধান্তে আসলেন যে সব কিছুই আসলে নাম্বারের খেলা (all is number)! এই সিদ্ধান্তের একটা ব্যাখ্যা হলো যে পৃথিবীর সব কিছুকেই সম্পর্কিত নাম্বার ও অনুপাত দিয়ে মাপা ও বর্ণনা করা যেতে পারে। এই ধারণা যে অযৌক্তিক তা কিন্তু না । এটা একটা খুব যৌক্তিক ধারণা। আধুনিক বিজ্ঞান ও ম্যাথমেটিক্সে এই ধারণার প্রভাব বিপুল । পিথাগোরাসের এই ‘all is number’ মন্তব্যের আরো একটা ব্যাখ্যা হলো পৃথিবীর সবকিছুই নম্বর দিয়ে তৈরী আর তাই সবকিছুকেই সংখ্যাত্মক মানে প্রকাশ করা যেতে পারে । এই ধাৰণাটাও কিন্তু শুনতে খুব অবাক করার মতো হলেও এর কিছু দৃঢ় ভিত্তি আছে । যেমন H2O এই সংখ্যাত্মক অর্থ দিয়ে কিন্তু আমরা শুধু পানি-ই বুঝি । বলা যায় সংখ্যা সম্পর্কে পিথাগোরাসের মন্তব্যের শেষের ইন্টারপ্রিটেশনটাই আধুনিক নিউমেরোলজির ভিত্তি। ডক্টর জুলিয়া স্টান্টন (Dr.Julia Stenton) বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে নাম্বারের এই স্টাডির নামকরণ করেন 'নিউমেরলজি' । কিন্তু নিউমেরলজি সবার মধ্যে পরিচিত হয়ে উঠে ১৯১১-১৯১৭ সালের মধ্যে এল ডি বালিয়েটের (L. Dow Balliett) লেখা নিউমেরোলজি নিয়ে প্রকাশিত কিছু বইয়ের মধ্যে দিয়ে।

নিউমেরলজি-র বেশ কয়েকটা পদ্ধতি আছে যেমন ক্যালডিয়েন (Chaldean), কাবালাহ (Kabbalah), পিথাগোরিয়ান (Western) I এই পদ্ধতিগুলো বিভিন্নভাবে সংখ্যাকে ব্যাখ্যা করে । এখন পাশ্চাত্যে ব্যবহৃত নিউমেরোলজি সিস্টেমগুলোর মধ্যে পিথাগোরিয়ান নিউমেরোলজিই সবচেয়ে জনপ্রিয়। আমাদের আজকের পোস্টের আলোচনাও তাই পিথাগোরিয়ান নিউমেরোলজি নিয়ে ।

পিথাগোরিয়ান নিউমেরলজি পদ্ধতিতে একজন মানুষের সাথে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ নাম্বারগুলোকে,যেমন জন্ম তারিখ, নামের অন্তর্ভুক্ত অক্ষরগুলোর জন্য নির্ধারিত সংখ্যা ইত্যাদিকে সিঙ্গেল ডিজিটে প্রকাশ করা হয় । পিথাগোরিয়ান সিস্টেম ব্যবহার করে নিউমেরোলজিস্টরা এই নাম্বারের ভিত্তিতেই একজন মানুষের জীবনের বিভিন্ন দিক ও বৈশিষ্ঠ্য সম্পর্কে বিশ্লেষণ করেন । সংখ্যা বিশ্লেষণের এই পদ্ধতিতে পাঁচটি শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত করে মানুষের বিভিন্ন বৈশিষ্ঠ্য সম্পর্কে ধারণা দেবার চেষ্টা করা হয় Iএই পাঁচটি শ্রেণী হলো : ১. লাইফ পাথ নাম্বার (Life Path Number),২. (ব্যক্তি) প্রকাশ সম্পর্কিত নাম্বার (Expression/Destiny number), ৩. দর্শনাভূতি সম্পর্কিত নাম্বার (First impression number) ৪. আত্মিক নাম্বার (Inner Soul Number), ৫. চারিত্রিক বৈশিষ্ঠ্য সম্পর্কিত নাম্বার ( Character/Consonant Number) ।


ফটো : পিথাগোরাস

পিথাগোরিয়ান নিউমেরোলজি অনুসারে সব মানুষেরই একটা নাম্বার আছে Iওপরে বলা নিউমেরোলজির পাঁচটি ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত মানুষের ব্যক্তি বৈশিষ্ঠ্যগুলোকে নাম্বারের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা যায়। এই নাম্বারগুলোর মান হবে সিঙ্গেল ডিজিটে ১-৯ -এর ভেতর । এই নাম্বারগুলো আমাদের ব্যক্তিত্বকে প্রকাশ করে বা আমাদের ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যের প্রতিনিধিত্ব করে । অর্থাৎ এই নাম্বার বিশ্লেষণ করে বলা যায় একজন মানুষের ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যগুলোর প্রকাশ কেমন হবে।যেমন ‘লাইফ পাথ নাম্বার’ পিথাগোরিয়ান নিউমেরলজির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম্বার I লাইফ পাথ নাম্বার মানুষের জীবনের সব বৈশিষ্ট্যকে একসাথে করে একজন ব্যক্তির জীবন সম্পর্কে একটা পূর্ণাঙ্গ ধারণা দেয়। ‘লাইফ পাথ নাম্বার’ -এর ভিত্তিতে নিউমেরলজি জীবনের সাধারণ অর্জন ও চ্যালেঞ্জ, প্রাপ্ত প্রধান সুযোগ, সুন্দর একটা জীবনের সুখ সুবিধা নিশ্চিত করার পন্থা বা ক্যারিয়ার চয়েজ সম্পর্কে বিশ্লেষণ করে I এখন সমস্যা হলো আমাদের ‘Life Path Number’টা কেমন করে আমরা জানবো ? লাইফ পথ নাম্বারটা জানার ভিত্তি হলো জন্ম তারিখ । কারো জন্ম দিন, মাস বছর জানলে এই নাম্বারটা জানা সহজ ।

লাইফ পথ নাম্বার দিয়ে নিউমরোলজি এনালাইসিস করা অনেক সময় ঝামেলার হতেই পারে । কলেজের করিডোরে কাউকে দেখে উদাস হয়েছেন ? ক্লান্ত দুপুরে বাসায় ঢোকার মুহূর্তে পাশের বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা এলোকেশী কোনো মুখ হৃদয় হরণ করেছে ? তাহলেও তাকে সরাসরি জন্ম দিনের কোষ্ঠী জিজ্ঞেস করতে যাবেন না যেন নিউরোলজি দিয়ে তার ব্যক্তি বৈশিষ্ঠের জ্ঞাতিকুষ্ঠি জানতে। কারো কারো লাইফ পথ নাম্বার জানতে জন্ম দিনক্ষণ জিজ্ঞেস করা কিন্তু বিপদজনক হতে পারে আইনগত ও সাংস্কৃতিক ভাবে। তাছাড়া আমাদের দেশে একটা কালচার আছে দুটো জন্মদিনের-একটা সত্যি, আরেকটা সার্টিফিকেট । এই কাৰণে ভুল জন্ম দিনক্ষণ দিয়ে ব্যক্তি বৈশিষ্ঠ্য বিশ্লেষণ করে আপনি বনলতা সেনের মতো মনে করা কারো কাছে দস্যু রানী ফুলন দেবীর মতো কঠিন আচরণ প্রতিদান পেতে পারেন । বা ফুলের মতো চরিত্রের কোনো মানুষ সহসাই হয়ে যেতে পারে ক্যাসিনো কাণ্ডে মুখোশ খসে পড়া গণ্যমান্য জঘন্য রাজনীতিবিদের মতো নোংরা চরিত্রের কেউ !

প্রিয় মানুষের জন্মদিনের গুপ্ত নাম্বার জানেন না বলে কিন্তু হতাশ হবেন না এখনই । নিউমেরোলজিতে আপনার হৃদয়হরণকারী বা কারিনির ব্যক্তি বৈশিষ্ঠ্য জানবার আরো একটি পথ আছে যেই পদ্ধতিটাকে বলে ডেসটিনি নাম্বার বা এক্সপ্রেশন নাম্বার এনালাইসিস ।এই এনালাইসিস করতে আপনার জন্মদিনের গুপ্ত তথ্য জানার জীবনসংশয়করি কোনোই চেষ্টা করতে হবে না । আপনার উনির পুরো নাম দিয়েই তার ব্যক্তি বৈশিষ্ঠ্য এনালাইসিস করতে পারবেন। সেটা নিয়েই নিচের আলোচনা । ডেসটিনি নাম্বার অনুযায়ী মানুষের চরিত্রের বৈশিষ্ঠ্যগুলো কেমন হতে পারে সে সম্পর্কে নিউমেরোলজির ধারনা নিচে শেয়ার করছি । পিথাগোরিয়ান নিউমেরলজিতে সব আলফাবেটের (ইংরেজি) জন্যই একটি করে নাম্বার নির্দিষ্ট আছে। প্রতিটা এলফাবেটের জন্য নির্দিষ্ট নাম্বারগুলো আমরা নিচের চার্ট থেকেই জানতে পারবো ।


ফটো - নিউমেরোলজি নাম্বার চার্ট
এখন আসুন দেখা যাক নিউমেরোলজিতে কিভাবে ব্যক্তির ডেসটিনি নাম্বার বা এক্সপ্রেশন নাম্বারটা বের করা হয় । একটা উদাহরণ দেই – ধরুন কারো নাম আকাশ আলী । তার নামটা ইংরেজিতে লিখুন Akash Ali I এখন ওপরের চার্ট থেকে আকাশ আলী নামের দুটি অংশেরই প্রতিটা আলফাবেটের জন্য নির্ধারিত সংখ্যাগুলো পাশাপাশি লিখে যোগ করুন । নামের দুই অংশেরই নাম্বারের যোগফল দুই ডিজিটের হলে সেই দুটো ডিজিট যোগ করে এক ডিজিটে আনুন I আকাশ আলীর ক্ষত্রে দুই অংশের সংখ্যাগুলোর মান নাম্বারগুলো হবে –
আকাশ আলী
(১+২+১+১+৮) + (১+ ৩+৯)
=(১৩) + (১৩)
=৪ +৪( ১৩-র দুটো ডিজিট ১,৩ যোগ করে পাওয়া যাবে ৪)
=৮
তাহলে সব শেষের এই ৮-ই হলো আকাশ আলীর ডেসটিনি নাম্বার বা এক্সপ্রেশন নাম্বার ।এভাবে সবার নামের জন্য নির্ধারিত সংখ্যাই ১-৯ ভেতর কোনো একটা সংখ্যা হবে । নিউমেরোলজি ডেসটিনি নাম্বার বা এক্সপ্রেশন নাম্বার বিশ্লেষণ করে কোনো মানুষের ব্যক্তিত্ব বৈশিষ্ঠ্য কেমন সেই সম্পর্কে সম্পর্কে ধারণা দেবার চেষ্টা করে । এখানে বলে রাখি যদিও নিউমেরোলজির নাম্বারগুলোকে ১-৯ -র মধ্যে সিঙ্গেল ডিজিটে করার বাধ্যবাধকতা আছে কিন্তু ১১,২২,৩৩ তিনটে নাম্বারকে বলে মাস্টার নাম্বার । এই নাম্বার গুলোকে সিঙ্গেল ডিজিটে প্রকাশ করা যায় না এগুলোর বিশেষ বৈশিষ্ট্যের জন্য।এখন দেখা যাক পিথাগোরিয়ান নিউমেরোলজি ১-৯ নাম্বারের সাথে জড়িত ব্যক্তি বৈশিষ্ঠ্য সম্পর্কে কি বিশ্লেষণ করে ।

ডেসটিনি নাম্বার ১ : জন্মগত নেতৃত্বগুণ, স্বাধীনচেতা (independent)- ডেসটিনি নাম্বার এক সংখ্যাধারীরা জন্মগতভাবেই নেতৃত্ব, উদ্ভাবনী আর ব্যবস্থাপনা গুন্ সম্পন্ন। এরা খুব উদ্যোগী স্বভাবের । সহকর্মী ও অন্যদের উদ্দীপ্ত করতে পারে সহজেই । উচ্চাকাঙ্খী ও পজিটিভ স্বভাবের । সৃষ্টিশীল যে কোনো কাজে এরা সাধারণত সফল । নেতৃত্বগুনের বৈশিষ্ট্যধারী ডেসটিনি নাম্বার ১ -এর বিখ্যাত ব্যক্তি হলেন মহাত্মা গান্ধী ! আমেরিকার কৃষ্ণাজ্ঞ জনগণের স্বাধিকার আন্দোলনের মহান নেতা শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র।

ডেসটিনি নাম্বার ২ : সহযোগিতা ও দলগত মনোভাবসম্পন্ন (টীম প্লেয়ার) - এদের সম্পর্কে বলা হয় এরা ‘born peacemaker’I যে কোনো পরিস্থিতিতে এরা ভারসাম্যরক্ষার চেষ্টা করে, এরা নির্ভরযোগ্য মধ্যস্থতাকারী। এদের আছে সবার সাথে সহযোগিতার মনোভাব, উদ্ভাবনী শক্তি, অন্যদের সুবিধা অসুবিধা আর চাহিদার প্রতি প্রখর দৃষিট, অংশীদারমূলক মনোভাব, অধ্যাত্বিকতাবোধ সম্পন্ন, কৌশলী ডেসটিনি নাম্বার ২ ধারীদের পেশা হতে পারে আইন, কূটনীতি (ডিপলোম্যাট), আর্কিটেক্ট I ডেসটিনি নাম্বার ২ -এর একজন বিখ্যাত ব্যক্তি হলেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা । প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইতিহাস তাকে কেমন করে মূল্যায়ন করবে আমি জানিনা । কিন্তু প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার সহযোগিতা, অংশীদারমূলক মনোভাব এই সব দক্ষতায় তার সাথে কারো তুলনা সহজ হবে না । আমেরিকান প্রেসিডেন্সির ইতিহাস আলোচনায় এই বিস্ময়টা সব সময়ই থাকবে যে এক টার্ম বয়সী একজন সিনেটর, হিলারি ক্লিনটনের মতো ডেমোক্রেটিক পার্টির সবচেয়ে জনপ্রিয় একজন নেত্রীকে হারিয়ে কিভাবে প্রেসিডেন্ট পদে নমিনেশন পেয়েছিলেন আর সারা পৃথিবীর কোটি মানুষের মন জয় করতে পেরেছিলেন । এসবই কিন্তু অসম্ভব হয়েছিল তার অসাধারণ সহযোগিতার মনোভাবের ফলে সব বয়সী, সব পেশা, সব এথনিক গ্রূপের মন জয় করে গড়ে তোলা এক মহাকোয়ালিশনের কারণে I

এখন নিজের ব্যক্তিগত একটা অভিজ্ঞতার কথা বলি । আমার পিএইচডি প্রোগ্রামের একটা কোর কোর্স ছিল লিডারশীপের ওপর । আমাদের প্রোগ্রাম ডাইরেক্টর, ডক্টর লিগেট পড়াতেন এই কোর্সটা । সেখানে সবাইকেই একাডেমিক জার্নালে পাব্লিশেবল স্ট্যান্ডার্ডের একটা পেপার লিখতে হতো নেতা হিসেবে তাদের পছন্দের কোনো মানুষের ওপর মেইন সেমিস্টার পেপার হিসেবে । ডক্টর লিগেটের ক্লাসে ১৯৯৯ সালে একজন পিএইচডি ছাত্র বারাক ওবামার কমিউনিটি লিডারশিপ ক্ষমতা নিয়ে লিখেছিলো । বারাক ওবামা তখনও সিনেটর হননি, শিকাগোর সাউথ সাইডে পিছিয়ে পড়া আফ্রিকান আমেরিকানদের জীবন মান উন্নয়নের কাজ করেন । সেই পেপারে সেই ছাত্র এটাও লিখেছিলো আগামী পনেরো বছরের মধ্যে এই লোক আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হবে ! সেই লেখার পনেরো বছর না, নয় বছর পরে বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন ! এই কাহিনী ডক্টর লিগেট আমাদের ক্লাসে বলেছিলেন ।

ডেসটিনি নাম্বার ৩ : আশাবাদী,অনুপ্রেরণাদায়ী/নী, বহির্মুখী, এক্সপ্রেসিভ এবং স্বভাবগত ভাবেই সফল গণসংযোগ ক্ষমতার অধিকারী I এরা আদর্শ বক্তা এবং লেখক হিসেবে খুব ভালো হন সাধারণত । কাজের ক্ষেত্রে নিজস্বতা প্রকাশ এদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ I এরা উষ্ণ, বন্ধুত্বপূর্ণ, কেরিসমেটিক এবং সামাজিক । যাদের ডেসটিনি নাম্বার ৩ তারা চিত্রশিল্পী, সংগীতজ্ঞ, চিকিৎসা, আইন, অভিনয় ইত্যাদি পেশার ক্ষেত্রে সাধারণত সফল। হিলারি ক্লিনটন, চার্লস ডিকেন্স, আলফ্রেড হিচককের মতো বরণ্য ডেসটিনি নাম্বার তিনের যৌক্তিকতা প্রমান করেছেন তাদের নিজেদের কাজের মধ্যে দিয়েই |

ডেসটিনি নাম্বার ৪ : নিয়ম শৃংখলাপরায়ণ - এরা বর্ন প্ল্যানার। অসাধারণ 'প্রাগমেটিক' স্বভাবের। লক্ষ্য অর্জনের উপায় নির্ধারণের একটা সহজাত ক্ষমতাধারী,লক্ষ্য অর্জনে স্থিরপ্রতিজ্ঞ । উদ্যোক্তা ও ব্যবস্থাপনা জাতীয় পদের জন্য এই বৈশিষ্ঠ্যধারীরা বিশেভাবে উপযুক্ত ।সংগঠক হিসেবে এরা অসাধারণ । এই বৈশিষ্ঠ্যধারীরা স্ট্রাকচার্ড, ও রুটিন কাজে বিশেষভাবে সফল ।এরা সব সময়ই সংগঠনে সর্বোচ্চ মাত্রার কাজের উপযোগী একটা নিখুঁত পরিবেশ তৈরি করতে চায় । এই সংখ্যাত্মক বৈশিষ্ঠ্যের অধিকারীরা একাউন্টেন্ট, নির্বাহী, সফট ওয়ার ডিজাইনার, ব্যাংকিংয়ে র পেশায় সাধারণত ভালো করেন । ডেসটিনি নাম্বার ৪ -এর একজন বিখ্যাত ব্যক্তি হলেন বিল গেটস I হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে মতো একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের থেকে স্বেচ্ছায় ড্রপ আউট হবার ঝুঁকি নিয়েছিলেন পল এলেন-এর সাথে মাইক্রোসফট কোম্পানি গড়ার প্ল্যান নিয়ে I মাইক্রোসফট গঠনের নানান উত্থান পতনের একপর্যায়ে পল এলেন চলে গেলেও বিল গেটস মাইক্রো সফটকে পৃথিবীর শীর্ষ স্থানীয় কোম্পানিতে পরিণত করেন অনেকটা একাই এই সবই সম্ভব হয়েছে বিল গেটসের অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে । আর তার সফ্টওয়ার ডিজাইন সম্পর্কিত গুণাবলী নিয়ে কিছু কি আর বলতে হবে ?

ডেসটিনি নাম্বার ৫: জন্মগতভাবেই এরা পাওনিয়ার বা পথ প্রদর্শক শ্রেণীর । এডভেঞ্চারার, সহজাত, প্রোগ্রেসিভ, নন কনফর্মিস্ট (প্রচলিত মতাদর্শ সম্পর্কে সন্দিহান) স্বভাবের । বহুমুখী বৈশিষ্ট্যধরি এই ব্যক্তিরা সাধারণত আইন, প্রকাশনা, রাজনীতিবিদ, আইনপ্রণেতা, রাজনৈতিক চিন্তাবিদ (পলিটিকাল কমেন্টেটর) হিসেবে সফল । ডেসটিনি নাম্বার ৫ বৈশিষ্ঠ্যধারী একজন বিখ্যাত মানুষ হলেন আমেরিকায় ইসলামের অগ্রযাত্রার অন্যতম পথ পদর্শক ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক চিন্তাবিদ ম্যালকম এক্স !

ডেসটিনি নাম্বার ৬ : অনুভূতিপ্রবণ । ট্রেডিশনালিষ্ট Iএই বৈশিষ্ঠ্যধারী ব্যক্তিরা অন্যদের প্রতি সব সময়ই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় ।এরা খুব ঘরোয়া আর নিজেদের পরিবারিক ব্যাপারের প্রতি সব সময় খুব যত্নশীল । ডেসটিনি নাম্বার ৬- এর মানুষেদের জন্য সবচেয়ে উপযোগী পেশা হলো গৃহ নির্মাণ, শিল্পী, সংগীত শিল্পী, বিউটিসিয়ান, ফ্যাশন ফিল্ড, সংগীতজ্ঞ ইত্যাদি । বিটলের জন লেনন, মাইকেল জ্যাকসন, স্টিভিওয়ান্ডারের মতো সংগীত শিল্পী কিন্তু এই ডেসটিনি নাম্বারধারী !

ডেসটিনি নাম্বার ৭- অন্তস্থ জ্ঞান । এই বৈশিষ্ঠ্যধারীরা বিশ্লেষণধর্মী (এন্যালেটিক) কাজে দক্ষ, জ্ঞান অন্বেষী, ইনভেন্টিভ, বন্ধুবৎসল ব্যক্তিত্ব, পারফেকশনিস্ট । ডেসটিনি নাম্বার ৭-এর মানুষেরা শিক্ষকতা, শিল্পকলা, লেখক/লেখিকা, ফটোগ্রাফার ও গবেষক হিসেবে সফল হন সাধারণত । একটা ধাঁধা ধরি আপনাদের বলেনতো আমাদের ব্লগে এই সব বৈশিষ্ঠ্য ক্যাটাগরির প্রায় সব কটাতে বেস্ট ফিট করে এমন গুণিজনটা কে ?

ডেসটিনি নাম্বার ৮ : ডেসটিনি নাম্বার ৮ বৈশিষ্ঠ্যধারীরা খুবই গোল ওরিয়েন্টেড আর উচ্চাকাঙ্খী। এরা ওয়ার্কহোলিক I কোনো কিছু শুরু করলে এদের সেই কাজ করে ফেলবার ক্ষমতা অসাধারণ । বিচার বুদ্ধি, আর অর্গানাইজেশনে খুব ভালা I এরা নিজের কাজ আর সামাজিক জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে সব সময় । ডেসটিনি নাম্বার আট বৈশিষ্ঠ্যধারীরা ভালো ওয়ার্ক এথিকের অধিকারী এবং ধীরস্থির।

ডেসটিনি নাম্বার ৯ : মানবিক অনুভূতিশীল । আদর্শবাদী ও সহানুভূতিশীল । এই বৈশিষ্ঠ্যধিকারিরা সাধারণত বিজ্ঞানী,আধ্যাত্মিক নেতা,চিকিৎসক,শিক্ষক,ক্ল্যার্জি হিসেবে সফল । ডেসটিনি নাম্বার নয় -এর একজন বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব হলো মাদার তেরেসা I কি মনে হচ্ছে আচার্য পিথাগোরাস কঠিন মানুষ ছিলেন ! কঠিন অংকের বাঁধন দিয়ে তার তৈরী ব্যক্তির বৈশিষ্ঠ্য বলার পদ্ধতি খুব একটা খারাপ না !

নিউমেরোলজির ব্যাখ্যা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে মতভেদ আছে কিন্তু এটার একটা বিজ্ঞান ভিত্তিক ব্যখ্যাও থাকা সম্ভব সেই সম্ভাবনা কেউ উড়িয়ে দেননি I এটা নিয়ে চর্চা ও গবেষণা এখনো চলছে।ইতিহাসের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিজ্ঞানী,দার্শনিক সংখ্যা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বিভিন্ন বিষয় ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন I আধুনিক পাশ্চাত্যের দর্শন যার কাছে অনেক ঋণী সেই সেন্ট অগাস্টিন সংখ্যাতত্বের কার্যকরিতা নিয়ে লিখেছেন I বিখ্যাত মুসলিম গণিতবিদ জাবির ইবনে হাইয়ান তার কিছু গবেষণার কাঠামোতে সংখ্যার ভিত্তিতে তৈরী বস্তুর শ্রেণী বিভাগ ব্যবহার করেন বলে জানা যায়। সংখ্যার এই রহস্যময়তা নিয়ে শুধু সেই প্রাচীন যুগে কেন আমাদের এই সময়েও চর্চা চলছে । হুমায়ুন আহমেদের ফিবোনাচ্চি রাশিমালা নিয়ে লেখা উপন্যাসটা (এই যাহ নামটা ভুলে গেলাম) যারা পড়েছেন তারা জানেন আধুনিক সময়েও পৃথিবীর বিভিন্ন বিষয়ের সাথে সংখ্যার সম্পর্ক নির্নয়ে বিজ্ঞানীরা কেমন অনুসন্ধিতসু। সুতরাং সংখ্যা নিয়ে আমার এই লেখাও তাই দেরি না করে তাড়াতড়ি (লাইক দেওয়া ও কমেন্ট করাটা ফরজ মনে করে) পড়ে ফেলুন !

***এই লেখাটা লিখতে ও ফটো আহরণে একগাদা ইন্টারনেট আর্টিকেলের থেকে জ্ঞানার্জন করতে হয়েছে সেটা বলাই বাহুল্য। সেগুলোর সংখ্যা ও পরিমান এই লেখার অর্ধেক হবে বলে মনে হয় ।তাই আর রেফারেন্স দিলাম না লেখার লেন্থ বিরক্তির ব্যারোমিটারে নিচের দিকে রাখতে ।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:৩৯
২১টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাদা পুলিশের পায়ে কালোর মৃত্যু, জ্বলছে আমেরিকা, পুড়ছে পুলিশ থানা, লুট হচ্ছে দোকান

লিখেছেন গুরুভাঈ, ২৯ শে মে, ২০২০ রাত ৮:৪৪

সাদা পুলিশ কালো এক ব্যাক্তিকে রাস্তায় ফেলে দীর্ঘক্ষণ পা দিয়ে গলা চেপে ধরে হত্যা করেন। এর প্রতিবাদে এই করোনার সময় রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছে স্থানীয় জনগন সহো সারা আমেরিকা, ঘটনাস্থলের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজ্ঞান যখন চলে যায় রাজনীতির অধীনেঃ একজন ওপেনহাইমারের উত্থানের গল্প, পতনের গল্প অন্যদিন

লিখেছেন শের শায়রী, ২৯ শে মে, ২০২০ রাত ৯:৪৮



জন্ম ১৯০৪ সালের ২২ শে এপ্রিল। নিউইয়র্ক শহরে। বাবা জুলিয়াস ওপেনহাইমার ১৮৮৮ সালে জার্মানি থেকে নিউইয়র্ক শহরে পাড়ি জমান ১৭ বছর বয়সে এবং সেখানেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। জুলিয়াস... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গণতন্ত্র

লিখেছেন ব্রাত্য রাইসু, ২৯ শে মে, ২০২০ রাত ১১:০৬

সিকদার ভ্রাতৃদ্বয়কে যে ব্যাংককে পলাইতে হইল, এই জিনিসরে 'শাস্তি' বা 'আইনের শাসন' ভাবতে কেন অপারগতা?

তারা তো চাইলে এই দেশেই বহাল থাইকা বহাল থাকতে চাইতে পারতেন, তাই না?

তা যে তারা চাইলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

করোনার মাঝে ভয়ংকর প্রতিবাদে জ্বলছে আমেরিকার অনেক শহর

লিখেছেন চাঁদগাজী, ৩০ শে মে, ২০২০ সকাল ৯:৪১



*** হোয়াইট হাউজের ২০০ গজের মধ্যে পুলিশ ও প্রতিবাদকারীদের মাঝে ধাক্কাধাক্কি চলছে , মানুষ হোয়াইট হাউসে প্রবেশের চেষ্টা করছে, অনেকেই আহত হয়েছে; এখনো গ্রেফতার করা হচ্ছে না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেভাবে হত্যা করা হয় প্রেসিডেন্ট জিয়াকে-

লিখেছেন গিয়াস উদ্দিন লিটন, ৩০ শে মে, ২০২০ বিকাল ৩:৫৪

১/



রাতের শেষ প্রহরে তিনটি সামরিক পিকআপ জিপ এসে দাঁড়ালো চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের গেটের সামনের রাস্তায়। একটি পিকআপ থেকে একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলের কাঁধে র রকেট লঞ্চার থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×