somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কাল্পনিক_ভালোবাসা
বহুদিন আগে কোন এক বারান্দায় শেষ বিকেলের আলোয় আলোকিত উড়ন্ত খোলা চুলের এক তীক্ষ্ণ হৃদয়হরনকারী দৃষ্টি সম্পন্ন তরুনীকে দেখে ভেবেছিলাম, আমি যাদুকর হব। মানুষ বশীকরণের যাদু শিখে, তাকে বশ করে নিশ্চিন্তে কাটিয়ে দিব সারাটি জীবন।

বেহায়ার মত করোনা নিয়ে পুনরায় লেখা এবং মাস্ক নিয়ে আমাদের ফেসবুক বিজ্ঞানীদের নানান মতবাদ।

২২ শে মে, ২০২০ রাত ১১:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি ব্যক্তিগতভাবে ইদানিং করোনা সংক্রান্ত খবর ইগনোর করার চেষ্টা করছি এবং এই সংক্রান্ত কোন তথ্য বা খবরও শেয়ার করা থেকে বিরত থাকছি। প্রধান কারন আমাদের দেশে করোনা ব্যবস্থাপনার বেহাল দশা, গণমানুষের অসচেতনতা এবং হাস্যকর লকডাউন। আমি বালস্যবাল হরিদাস পাল, সাগর তীরের বালির কনা, আমার মত দুই একজনের কথা কোন পলিসি নির্ধারিত হবে না, কেউ সচেতন হবে না, পিপি পড়ে মার্কেটে যাওয়া বন্ধ হবে না, ইফতারী কেনার জন্য দোকানে দোকানে ভীড় বন্ধ হবে না। বড় জোড় পরিচিত মানুষের দুই একটা লাইক কমেন্টই আমার এই লেখার একমাত্র প্রাপ্তি। কিন্তু বাংলাদেশে প্রতিদিন যে হারে করোনা রোগী সনাক্ত হচ্ছে এবং মৃতের সংখ্যা বাড়ছে তাতে এই বিষয়ে লিখতে না চাইলেও লিখতে হচ্ছে।

মুল বিষয়ে আসি। আমার একজন ঘনিষ্ঠ ডাক্তার বন্ধু, যিনি বাংলাদেশের এমন একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন যে প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা কিংবা গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে সাধারন মানুষের কোন দ্বিধা নেই। বলা ক্ষেত্র বিশেষে মানুষের আস্থার জায়গা সেই প্রতিষ্ঠানটি।
ডাক্তার হিসেবে তাঁর পেশাদারিত্ব, মেধা ইতিপূর্বে বহুবার প্রমানিত হয়েছে। সেই বন্ধু যখন কোন বিষয়ে চিন্তিত হয়, তখন সেটা আমার মত সাধারন মানুষেরও চিন্তার কারন হয়ে দাঁড়ায়। কিছুদিন আগে সেই বন্ধুর সাথে আলাপকালে একটি চমকপ্রদ কিছু বিষয় জানতে পারলাম। ইচ্ছে করেই ভয়াবহ শব্দটা ব্যবহার করি নি, কারন বলা যায় না কোন উর্বর মস্তিস্ক হয়ত এই শব্দের কারনে পুরো লেখাটিকে গুজব হিসেবে চালিয়ে ঈদের আগে আমাকে লাল দালানে চালান করে দিতে পারে। তাই যা বলছি বা লিখছি, দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে নিশ্চিত হয়ে ও তথ্য প্রমান সহই লিখছি।

যাইহোক, করোনা সম্পর্কে প্রতিষ্ঠিত সাইন্স হলো, এই ভাইরাসটি মানব শরীরে সিম্পটম তৈরী করুক বা না করুক, মোটামুটি ভাবে ২৮ দিনে শরীর থেকে চলে যায়।ভাইরাল লোড কম থাকলে ১০ দিনেও চলে যায়। চমকপ্রদ ব্যাপারটি হলো সাম্প্রতিক সময়ে আমার সেই ডাক্তার বন্ধুটি হাসপাতালে এমন বেশ কিছু রোগী দেখেছেন যাদের ক্ষেত্রে এই তত্বটি খাটছে না। ঘটনাগুলো ছিল এমন –

রোগীগুলো হয় করোনাপ্রবণ এলাকা থেকে আসায় অথবা করোনা রোগীর সংস্পর্শে থাকায় তাদেরকে করোনা গাইডলাইন অনুযায়ী ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। এই ১৪ দিনে তাদের কোন লক্ষণ না থাকায় ‘করোনা আক্রান্ত নয় বলে তাদের কে স্বাভাবিক কাজ কর্ম শুরু করতে বলা হয়। এদের মধ্যে দু একজনের ‘কন্টাক্ট হিস্টরী’ বেশ স্ট্রং হওয়ায় টেস্ট করিয়ে নেগেটিভ পাওয়ার পরই ছাড়া হয়।

ঘটনা হলো কোয়ারেন্টিন থেকে বের হওয়ার ৪-৬ দিনের মাথায় তাদের জ্বর ঠান্ডা কাশি দেখা দিলে তাদের আবার টেস্ট করানো হয় এবং পজিটিভ আসে। এই রোগীগুলোর সাথে কথা বলে এটা শিউর হওয়া যায় যে তারা সাধারণ ছুটি থাকায় কোয়ারেন্টিনের পর স্বাস্হ্য বিধি মেনেই চলেছেন। ইন্টারেস্টিং ব্যাপারটা হলো এই রোগীগুলো করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর লক্ষণ প্রকাশ পেল কমপক্ষে ২০-২২ দিন পর, যেটা আরো বেশীও হতে পারে, যা কিনা করোনার ব্যাপারে ২-৭ দিন। আর রোগীগুলোর সেরে উঠতে (এখানে সেরে ওঠা বলতে রেজাল্ট নেগেটিভ আসা বুঝানো হয়েছে) রোগী ভেদে ৩-৪ সপ্তাহ সময় লেগেছে। এর মধ্যে একটা কেসের ব্যাপারে উনি যা বললেন সেটা হলো রোগীটা কোয়ারেন্টিন শেষ করে চারদিনের মাথায় সামান্য কাশি আর হালকা জ্বর নিয়ে ভর্তি হন। সেদিনই তার শ্বাসকষ্ট শুরু হলে ফুসফুসের এক্সরে করানো হয়। তিনি একটা ভয়াবহ ক্ষয়ে যাওয়া ফুসফুসের ছবি দেখিয়ে বললেন, এটা উনার চেষ্ট রিপোর্ট। যদি ধরেও নেয়া হয় রোগীটি কোয়ারেন্টিনের পর আক্রান্ত হয়েছে, তবুও এই ফুসফুসের ছবি সেটা সাপোর্ট করে না। মেডিকেল সায়েন্স অনুসারে ৫ দিনে কোন ভাইরাস ফুসফুসের এই অবস্থা করতে পারে না।


(আক্রান্ত ব্যক্তির চেষ্ট টেস্টের রিপোর্ট। বিষয়টি একজন মানুষের ব্যক্তিগত বিষয় বিধায় সংগত কারনে প্রতিষ্ঠান ও কিছু তথ্য ব্লার করে দেয়া হলো, ভালো করে তাকালে এখানে তারিখ দেখতে পাবেন।)

আমার ডাক্তার বন্ধুর ধারনা, অনেকের ক্ষেত্রে এটা বডিতে প্রবেশ করে খুব ধীরে ধীরে ড্যামেজ করতে থাকে। আমরা অনেক সময় নিজেরাই জানতে পারছি না যে আমরা করোনা আক্রান্ত হয়েছি বা করোনা আমাদের কোন প্রত্যঙ্গকে ড্যামেজ করে যাচ্ছে। এর ফলাফল হচ্ছে – হঠাৎ মৃত্যু। যা ইদানিং আমরা অনেকগুলো স্টোরিতে দেখেছি। বলা নেই কওয়া নেই, একটা সুস্থ মানুষ দুম করে মারা যাচ্ছে।

আতংকের বিষয় হচ্ছে, চায়নার সরকারী ডাক্তারগণ তাদের নিজেদের অনুসন্ধান ও কেসস্টাডির ফলাফলের উপর ভিত্তি করে আমার বন্ধুর এই ধারনাটিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন গত ২১ শে মে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেশটির জটিল রোগ বিশেষজ্ঞ কিআইয়ু হাইবো বলেন, চীনের উত্তরাঞ্চলে যেসব রোগী পাওয়া যাচ্ছে, তাঁদের শরীরে ভাইরাস বেশি দিন অবস্থান করছে এবং পরীক্ষায় নেগিটিভ দেখাতে সময় বেশি লাগছে। সংক্রমণের পর উহানের পরিস্থিতির চেয়ে এখানে উপসর্গ প্রকাশ পেতেও এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় বেশি লাগছে। তাই ভাইরাস ছড়ানোর আগে তা শনাক্ত করতে বেগ পেতে হচ্ছে। (সুত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, ২১শে মে)

আল্লাহ না করুক - করোনার রুপ বা প্যাটার্ন যদি এইভাবে কিছুদিন পর পর বদলায়, যেখানে আক্রান্তের লক্ষন ফুটে উঠতে দেড় দুই মাস সময় লাগে, তাহলে নিঃসন্দেহে বলা যায়, বাংলাদেশের জন্য অতি অদূর ভবিষ্যতে একটি ভয়াবহ বিপর্যয় অপেক্ষা করছে। চীনে আবার করোনার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারনা - এই দ্বিতীয় আক্রমন আগের তুলনায় অনেক বেশি ভয়ংকর হবে। ইতিমধ্যে তার লক্ষনও প্রকাশ পেয়েছে। অনেকটা অনেকটা স্পেনিশ ফ্লুয়ের মত। মানব ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছিল পাঁচ কোটিরও বেশি মানুষের। এই সংখ্যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নিহত মানুষের সংখ্যার চাইতেও বেশি। জানেন তো কেন এই ফ্লুয়ের নাম স্পেনিশ ফ্লু রাখা হয়েছিলো? কারন ইউরোপের বিভিন্ন রাষ্ট্র যখন এই সংক্রান্ত তথ্য গোপন করছিলো, তখন স্পেনের সংবাদ মাধ্যম এই ফ্লুর খবরটি মুক্তভাবে পরিবেশন করেছিলো।

সাম্প্রতিক বাস্তবতায় হয়ত আমাদের অনেকের মনে বেশ কিছু রাষ্ট্রের নাম মনে পড়তে পারে যারা এই করোনাকে গুরুত্ব দেয় নি, তথ্য গোপন করেছে বলে অনেকেই সন্দেহ করছে। খোদ বাংলাদেশের মানুষই যে কোন কারনেই হোক সরকারী হিসাবে আস্থা রাখে না। কেন রাখে না - সেই আলোচনায় যেতে চাচ্ছি না। ফলে বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে মৃতের সংখ্যা নিয়েও সাধারন মানুষের একটা বড় অংশে বিভ্রান্তি বা দ্বিধা আছে এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। আমি সত্য মিথ্যার ফারাকে যাবো না। জাস্ট সরকারী হিসাবকেই যদি আমি বিবেচনায় আনি, তাহলে বুঝা যাচ্ছে পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হচ্ছে। ফলে সামনে যে আমাদের জন্য একটা কঠিন পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে এটা যত দ্রুত আমরা বুঝব, ততই আমাদের মঙ্গল। আশা করি, আমরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহন করবো, বাস্তবতা বুঝব। তবে আফসোসের ব্যাপার, ইতিহাস বলে, ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা গ্রহন করে না। যদি করত, আজকের পৃথিবী আরো অনেক সুন্দর হতো।

অতএব প্লীজ এখনও সময় আছে। ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করুন। সর্তক হোন। সব কিছু সরকারের উপর চেয়ে থাকবেন না। দার্শনিক হার্বাট স্পেন্সারের একটা বিখ্যাত উক্তি আছে - সারভাইভাল অব দ্য ফিটেস্ট। সামনে সত্যিকারের সময় ঘনিয়ে আসছে যেখানে যোগ্যতমরাই টিকে থাকবে। নিজের বিবেক বুদ্ধি দিয়ে আর কারো জন্য না হোক, অন্তত নিজের জন্য প্লীজ সচেতন হোন। আগামী দুই বছর অন্তত এই করোনার সাথে আমাদের লড়াই করতে হতে পারে। আফসোস, এই দেশের একটা বড় অংশের মানুষের কাছে করোনা এখনও ফাজলামি। হাসি ঠাট্টার ব্যাপার। সামনে এই হাসি ঠাট্টা বের হয়ে যাবে - যদি না কোন মিরাকেল ঘটে।

এবার ব্যক্তিগত সুরক্ষা প্রসঙ্গে আসি। প্রথমেই আমাদের দেশের এক শ্রেনীর ব্যবসায়ীদের নিন্দা জানাই। এরা অমানুষ, এদের কাছে জাতি, ধর্ম, বর্ণ বলে কিছু নাই। টাকাই এদের আসল ধর্ম। যদিও ধর্মীয় লেবাস এদের খুবই পছন্দ। আর এই সব জালেমদের আমরাই পথ দেখাই, একটার জায়গায় দশটা কিনে। বিশ্বে যখন করোনার প্রকোপ শুরু হয়, তখন অনেক আমদানীকারন চায়না থেকে বিভিন্ন হ্যাণ্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক আমদানী করেন, কেউবা দেশে কাঁচামাল আমদানী করে ক্যামিস্ট দিয়ে মাল প্রস্তুত শুরু করেন। প্রথম লটেই অনেক ব্যবসায়ী দাম বৃদ্ধি করে রাতারাতি বড়লোক হয়ে যান। ধরুন আপনি ৫০ মিলির হ্যান্ড স্যানিটাইজার আমদানি করলেন ৪২ টাকায়। পাইকারিতে বিক্রি হবে ৫৫-৫৮ টাকায় আর খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হয় ৮০ টাকায়। মার্চের তৃতীয় সাপ্তাহে এই একই পন্য পাইকারীতে বিক্রি হয়েছে ৮৫ টাকায়। আর খুচরা বিক্রি হয়েছে ১৫০/১৬০ টাকায়। পরে যখন আমদানী বন্ধ হলো, তখন অনেকেই দেশে মিডফোর্ড থেকে কেমিক্যাল নিয়ে, খ্যাপে ক্যামিষ্ট নিয়োগ করে হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদন শুরু করল। যারা মোটামুটি সৎ তারা নিজেরা নতুন ব্র্যান্ডের নাম দিতো। আর বাকিরা সবাই ধুমছে পরিচিত কোম্পানীর সিল ও বোতল স্টাইল কপি করে বাজারে বিক্রি শুরু করল। ধরুন বিশ হাজার পিস ১০০ মিলি হ্যাণ্ড স্যানিটাইজার বানাতে খরচ ৩০ টাকা প্রতিপিস। পাইকারী বিক্রি হইছে ১২০ টাকা। খুচরা ২০০ টাকা। সেই হিসাবে খরচ ৬ লাখ টাকা। আর প্রফিট ১৬ লাখ টাকা। প্রতি সাপ্তাহে অনেকেই আছেন যারা ১ লাখ পিস পর্যন্ত বিক্রি করেছেন। আর যারা অরিজিনাল প্রোডাক্ট আমদানি করেছেন তাঁরা চোখে অন্ধকার দেখছেন। নকল মালের যন্ত্রনায় অনেকেই আসল মাল বিক্রি করতে পারছেন না।

এরপর হাইপ তৈরী হলো মাস্কের ব্যাপারে। মাস্ক বা পিপি কেন ব্যবহার করবেন, মাস্কের কি কাজ ইত্যাদি না জেনেই শুরু হলো ফেসবুকে স্পেশালিস্ট মতবাদ দেয়া। কিছুদিন আগে ব্লগার শেয় শায়রী ভাই একটা পোষ্ট দিলেন মাস্কের ব্যাপারে। তিনি আগে থেকে জানতেন আমরা পারিবারিকভাবে আমদানী ব্যবসার সাথে জড়িত। তিনি কিছু অরিজিনাল মাস্কের সন্ধানে ছিলেন। কারন উনার অনুসন্ধানীমুলক মনোভাব কারো অজানা থাকার কথা না। তিনি জানতেন অরিজিনাল বা ভালো মাস্ক ছাড়া নকল মাস্ক ব্যবহারে কোন লাভ নেই বরং আরো ক্ষতি হবার সম্ভবনা থাকে। তখন যখন আমি আমদানির সিদ্ধান্ত নিলাম, সেই সময়ে দেখা গেল আমেরিকান সরকার এন৯৫ মাস্ক রপ্তানী বন্ধ করে দিলো। পরিচিত একজনের মাধ্যমে দুইটা বহু কষ্টে আনানো হলো, জিনিসটা কি বুঝার জন্য। তারপর বাজারে খবর মিলল, করোনা প্রতিরোধে যে সকল মাস্ক উপযুক্ত তার একেক অঞ্চলে একেক নাম যেমন আমেরিকায় যেটা এন৯৫ সেই মানের মাস্ক চায়নায় কেএন৯৫ নামে পরিচিত। আমাদের বাংলাদেশের কিছু ফ্যাক্টরী অল্প কিছুদিন আগে আমেরিকার এন৯৫ সমমানের মাস্ক বানানোর অর্ডার পেয়েছে। এপ্রিলের প্রথম সাপ্তাহেই দেখলাম বাজারে কারা যেন এন৯৫ মাস্ক বিক্রি করছে। বুঝলাম স্যাম্পলের জন্য যে মাল বানানো হয়েছিলো, যা অনুমোদিতও হয় নি, সেটাই বাজারে এক শ্রেনীর মানুষ বিক্রি করা শুরু করেছে। এই বিষয়ে লিখতে গেলে অনেক সমস্যা। কান টানলে মাথা আসবে। কারা যেন দুষ্টামি করে আমাদের সরকারের হাতে এই জিনিস ধরিয়ে দিয়েছিলো। আবার এই ডিলের সাথে সম্ভবত যুক্ত ছিলেন একজন আমলা। যাইহোক, এই বিষয়ে আর কিছু বলতে চাই না। আপনি গুজব হিসেবে উড়িয়ে দিন।

তো বাজারে এর পর শুরু হলো কেএন৯৫ মাস্ক এর চাহিদা। চায়নার বিভিন্ন কোম্পানী দুই নাম্বার মাস্ক বানিয়ে ইতিমধ্যে কানাডায় পাঠিয়েছিলো। কানাডা সরকার সব ফেরত দিসে, এই পর্যায়ে চায়নিজ সরকার এই সব নকল মাস্ক বন্ধ করার জন্য সকল প্রকার মেডিকেল সামগ্রী রপ্তানী বন্ধের নির্দেশ দেয়। কিন্তু ইতিমধ্যে বাংলাদেশে প্রচুর নকল চাইনিজ কেএন৯৫ মাস্ক চলে আসে। যা আমদানী সহ খরচ ৭০ টাকা। এইগুলো বিক্রি হয়েছে ৩০০/৪০০ করে। মানুষ প্রচুর কিনেছে। এরপর আমাদের দেশীয় ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আসলো। বাংলার চায়না হিসেবে বিখ্যাত পুরানো ঢাকার ইসলামবাগ, জিঞ্জিরার বিভিন্ন ছোটখাট গার্মেন্টস শুরু করলো গেঞ্জি কাপড়, ইচ্ছেমত জুট কাপড় দিয়ে মাস্ক বানানো। খরচ ৭ টাকা। বিক্রি ২০ টাকা। খরচ ১৫ টাকা। বিক্রি ৪০ টাকা। গণ মানুষ ধুমাইয়া কিনলো এই সব। এরপর আমাদের ব্যবসায়ীরা ভাবলেন, শালার আমরা কি কেএন ৯৫ মাস্ক বানাতে পারবো না? সুন্দর মত সাদা গেঞ্জি কাপড়, প্লাস্টিক ইত্যাদি মিলাইয়া তারা বানাইলো এন৯৫। অনেক আমদানী কারন অরিজিনাল মাস্কের প্রতিটার প্যাকেট আনে না বাড়তি ওয়েটের ভয়ে। আর আমাদের ব্যবসায়ী ভাইয়েরা প্রতিটি নকল পন্যকে প্যাকেট করে, প্লাস্টিকে র‍্যাপিং করে, সেখানে আবার জলছাপে চাইনিজ কোড দিয়ে বিক্রি করছে ১২০/১৫০ টাকা। খরচ ৪৫ টাকা। খোদ চাইনিজরাও দ্বিধায় পড়বে এটাকে ডুপ্লিকেট মাল বলার জন্য।

ফলে একজন আমদানীকারকের মাথায় হাত। একটা অরিজিনাল কেএন ৯৫ মাস্ক এর ফ্যাক্টরী প্রাইজ প্রায় দেড় ডলারের বেশি। এর সাথে যুক্ত আছে এয়ার শিপমেন্ট কস্ট, ট্রান্সপোর্টেশন কস্ট, কাস্টমস ফরমালিটি। এয়ার শিপমেন্ট এর কারনে কস্টিং বেশি পড়ে। সেই হিসাবে আমি প্রফিট বাদ দিয়ে শুধু কস্টিং আর অফিস খরচ তুলতে চাই তাহলে প্রতি মাস্ক আমাকে ২৩৬ -২৪২ টাকার মত বিক্রি করতে হবে।

শের শায়রী ভাইয়ের পোষ্ট দেখলাম না জেনে অনেকেই অনেক কথা বলছেন। অবশ্য ঊনারা এই কাজ প্রায়ই করেন। বিভিন্ন পোষ্টে উনাদের মন্তব্য দেখলে মনে হয় ওহি নাজিল হয়েছে। ইহাই চিরন্তন সত্য। অথচ বাস্তবতার ধারে কাছে উনারা অবস্থান করেন না। তেমনি একজন বললেন, KN95 মাস্ক মুলত ডাক্তার ও স্বাস্থকর্মীদের দরকার। সাধারন মানুষের দরকার নাই।

কি হাস্যকর কথা বার্তা। KN95 দুইটা কোয়ালিটির আছে। একটা ডাক্তার ও স্বাস্থকর্মীদের জন্য আর একটা সাধারন মানুষদের জন্য। আপনি মন চাইলেই ডাক্তারদের জন্য KN95 আমদানী করতে পারবেন না চায়না থেকে। এটার জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের চাহিদাপত্র লাগবে এবং আরো বেশ কিছু কাগজপত্র প্রয়োজন। তা না হইলে আমাদের বাংলাদেশী চায়নিজ ভাইয়েরা এটাও কপি বের করে ফেলতেন। আমাদের ভাইয়েরা কপি করছেন যা সাধারন মানুষদের জন্য সেটা। তাও নকলগুলো থেকে নকল করছে। এই মাস্কগুলোর সমস্যা হচ্ছে, এই মাস্কগুলো সুক্ষ থেকে সুক্ষ জীবানু আটকাতে সক্ষম নয়। এইগুলো নাকের সাথে ডিসটেন্স খুবই কম। ফলে আপনি হাঁচি দিলে তা পুরোটাই ভিজে যাচ্ছে এবং ব্যবহারকারীর জন্য অস্বস্তির সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি, এইগুলোর মাধ্যমে অন্য রোগের জীবানুও ছড়াতে পারে। বিপদ হচ্ছে থ্রি লেয়ার মাস্ক বলতে যারা মাস্কের ভেতর তিনটা কাপড় বুঝেন তাদেরকেই আবার দেখি অনেক জায়গায় বলতে গেঞ্জি কাপড় দিয়েই মাস্ক বানানো সম্ভব। যাইহোক। যার যার বুঝ তার তার কাছে।

যারা অরিজিনাল KN95 বিক্রি করেছেন ঢাকায় আমার জানা মতে তারা কেউই ৩০০ টাকার নিচে বিক্রি করেন নি। আমি মনে করি এই বিপর্যয়ে ২৫০ টাকা বিক্রি করাই ভালো। অনেকেই বলেন ভাইরে আমার সাধ্য নাই। এটা ভুল কথা। কারন আপনি আমি নকল প্রোডাক্টই কিনছি প্রায় আসল পন্যের দামে। তাহলে খোঁজ নিয়ে আসল পন্য কিনতে সমস্যা কোথায়?

আমার পরিবারের অনেক সদস্যই ব্যাংকে চাকরি করেন এবং ডাক্তারি পেশায় জড়িত। ফলে তাদের নিরাপত্তার জন্য আমাকে ভাবতে হয়। তাই এই বিষয়টি নিয়ে আমি খোজ খবর নিয়েছি। পরিবারের লোকদের কথা ভেবে মাস্ক সংগ্রহ করেছি। কারন ইতিমধ্যে আমার পরিবারের একজন সদস্যকে এই বিপর্যয়ে আমি হারিয়েছি। বিষয়টার গুরুত্ব তাই আমি বুঝি।

সবাই নিরাপদে থাকবেন। এই প্রার্থনাই করি। এত বিশাল পোষ্ট পড়ার জন্য আপনাদেরকে ধন্যবাদ
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মে, ২০২০ রাত ১:০৯
২৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হুমায়ূন ফরীদি স্মরণে জন্মদিনের একদিন আগে !!!!

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ২৮ শে মে, ২০২০ রাত ১০:০১

ঘটনাটি এমন। প্রয়াত চলচ্চিত্র পরিচালক শহীদুল ইসলাম খোকন বসে আছেন। পাশের চেয়ারটি ফাঁকা। ফাঁকা চেয়ার পেয়ে আমি যখন বসতে গেলাম। পরিচালক খোকন ঘাবড়ে যাওয়া চেহারা নিয়ে বললেন ওটা ফরীদি ভাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

যা করা উচিত আমাদের

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে মে, ২০২০ রাত ১০:২৫



৩১ তারিখ থেকে সাধারণ ছুটি শেষ।
ট্রেন, বাস, লঞ্চ সবই চলবে। সরকার বলবে স্বাস্থ্যবীধি মেনে, সীমিত আকারে। যদিও দেশের অসভ্য জনগন তা মানবে না। লকডাউন শেষে অমুক জায়গায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

শ্বাসযন্ত্র ও হৃদযন্ত্রের ব্যায়াম -ফুসফুস ভালো রাখার জন্য যে ব্যায়ামগুলো করবেন।ভিডিও সহ ।

লিখেছেন রাকু হাসান, ২৮ শে মে, ২০২০ রাত ১১:৪০

বর্তমানে কভিড-১৯ মহামারিতে আমাদের শ্বাসযন্ত্রের উপর দিয়ে খুব দখল যাচ্ছে । এই অদৃশ্য শক্তির বিরোদ্ধে লড়াইয়ে মানব আজ
বুক চিতিয়ে লড়তে হচ্ছে। সে লড়াই অনেকটা আলোকিত পৃথিবী দেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকার ও মানুষের মাঝে কোন ধরণের বন্ধন নেই, দেশে এনার্খী চরমে

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৯ শে মে, ২০২০ সকাল ১০:১৩



মানুষ করোনায় সরকারের কোন নির্দেশ শোনেনি, মানেনি; তারা বরং সরকারের নির্দেশ অমান্য করেছে; কারণ, সরকারের প্রতি মানুষের কোন আস্হা নেই; সরকারের নির্দেশ না মানার ভেতরে লুকায়িত প্রতিবাদ আছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

করোনা কারো কারো জন্য আশীর্বাদ

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে মে, ২০২০ দুপুর ২:২৪



দুলাল মিয়া দুষ্টলোক।
তার করোনা হয়নি। অথচ দুলাল মিয়া চারিদিকে ছড়িয়ে দিয়েছে তার করোনা হয়েছে। এখন তার পাওনাদাররা চুপ হয়ে আছে। বরং দুলাল তাদের ফোন দিয়ে, কাদো কাদো গলায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×