আমরা একে অপরকে লাশ বানাবো, তারপর রাজনৈতিক ফায়দা লুটার জন্য সে লাশের মালিকানা নিয়ে আবার খুনাখুনিতে লিপ্ত হবো ৷ প্রতিটি লাশ উৎপাদন করবে আরো অন্ততঃ একশ’টি লাশ; তার থেকে হাজারো লাশ ৷ এভাবে চলবে দিনের পর দিন --- বছরের পর বছর --- সরকারের পর সরকার --- যুগের পর যুগ ৷
এখন আর শুধু রক্তে-ভেজা লাশই যথেষ্ঠ নয়; তাই সে লাশকে ম্যান-হোলের নোংরা পানিতে চুবিয়ে এর যেন দাম বাড়ানো হচ্ছে ৷ তাই করেছি সদ্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে; ঠিক এক রকমই করেছি আমরা পিলখানায় ৷ একবারের লাশের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পরের বারের লাশটি নিয়ে আমরা আরো বেশি নৃশংসতার চমক দেখাই ৷ এসবই আমাদের রাজনীতির খেলা !!
আরেকটু অতীতে গেলে দেখা যাবে, আমাদের দুই বীর জাতীয় নেতাকে আমরা ত্রিশ-পয়ত্রিশ বছর আগেই চরম নৃশংসভাবে লাশ বানিয়ে মাটিতে পুতে রেখেছি - একজনকে টুঙ্গিপাড়ায়, অন্যজনকে ঢাকায় ৷ কিন্তু এখন আমাদের দুই নেত্রী ভাবছেন: লাশগুলো যদি নীরবে কবরেই পড়ে থাকে তাহলে কি ফায়দা পাওয়া যাবে? তাই ইদানিং তারা এক পক্ষ আরেক পক্ষের পবিত্র লাশগুলোকে কবর থেকে টেনে-হেঁচড়ে উঠানোর ঔধ্যত্য দেখাচ্ছেন ৷ হায়রে দেশ, হায়রে রাজনীতি, হায়রে মনুষ্যত্ব-বোধ !!
প্রতিহিংসার রাজনীতিকে উস্কে দিতে এবং সাধারণ ছাত্র-জনতাকে হিংস্র জন্তু-জানোয়ারের মতে ক্ষিপ্ত করে তুলতে আমাদের নেতারা পৃথিবীর সেরা ৷ তাই বিদেশী শক্তি আমাদের দেশের ক্ষতি করার কোনো প্রয়োজন হবেনা; আমরা নিজেরাই যথেষ্ঠ আমাদেরকে ধ্বংশ করার জন্য - একে অপরকে কবরে পাঠানোর জন্য অথবা কবর থেকে তোলার জন্য ৷
টেলিভিশনের পর্দায় একবার দেখা যাচ্ছে: বড় বড় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-হত্যা, সারা দেশে পুলিশের গণহারে ধর-পাকড় ইত্যাদি, ইত্যাদি; আর পরক্ষণে দেখানো হচ্ছে: সব শিশুদের জন্য স্কুলে পড়ার ব্যবস্থা করা হবে ৷ এই দুটো সংবাদের মধ্যে কোনো যোগসূত্র পাওয়া যাবে? হ্যাঁ, যাবে মনে হয় - এই শিশুদেরকে এজন্যই বোধ হয় পূষে বড় করা হচ্ছে যে, কিছুদিন পরে যৌবনে পা দিয়ে তারা যখন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবে তখন তাদেরকে রাজনীতিবিদদের হিংস্র হাতিয়ার হিসাবে বাবহার করা যাবে ৷
বড়লোকের সন্তান এবং নেতাদের ছেলেমেয়রা চলে যাবে বিদেশে পড়তে ৷ আর গরিব-মধ্যবিত্তদের সন্তানদেরকে রাজনীতিবিদরা চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি করে লাখ লাখ টাকা আয়ের লোভ দেখিয়ে খুনী-সন্ত্রাসী বানাবে ৷ তারপর তারা মরবে তো মরুক, এতে নেতাদের কি? সন্তান হারানোর ব্যাদনায় কাঁদবে মা-বাবা ৷ তাদের ভবিষ্যতের আয়-উপার্জনের একমাত্র ভরসা এই সন্তানটিকে হারিয়ে চোখে অন্ধকার দেখবে গরিব পরিবারটি ৷
আবার বড়লোকের সেই সন্তানেরা বিদেশ-ফেরত হয়ে তাদের মা-বাবার আসনে বসে একই রাজনীতির চাকা ঘুরাবে ৷ এই হীন চক্রাকারের রাজনীতির ফাঁক-ফোকর আমাদেরকে বুঝতে হবে, এবং যারা এখনো বুঝতে অক্ষম, সেই আম-জনতাকে বুঝানো আমাদের নাগরিক দায়িত্ব ৷
কোথায় যাচ্ছে দেশ? এত বিরাট সংখ্যার সংসদ সদস্যপদ নিয়ে নির্বাচনে জয়ী হয়ে এই সরকার তার জনপ্রিয়তাকে গঠনমূলক খাতে কাজে না লাগিয়ে এক বছর যেতে না যেতেই দেশের এই অবস্থা করলো !
আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো যে সব সময় পরস্পরের সাথে কামড়া-কামড়ি করে দেশকে রক্তাক্ত করবে, পাকিস্তান-ভারতের অজুহাত অকারণে টেনে আনবে, ধর্মের পক্ষে-বিপক্ষে স্লোগান উঠাবে, স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি আর বিপক্ষের শক্তির একটা কৃত্রিম বিভাজন সৃষ্টি করে জনগনকে বিভক্ত করার প্রয়াস চালাবে তাতে এখন আর কারো সন্দেহ থাকার কারণ নেই ৷
নাগরিকরা বিভক্ত থাকলেই সুবিধাবাদী রাজনৈতিক দল তাদেরকে ইচ্ছামত এক্সপ্লয়েট করতে পারে, আর স্বার্থপর রাজনীতিবিদরা জন-বিভক্তিকে তাদের পক্ষে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার এবং টিকে থাকার পথ সুগম করে ৷ দূর-দৃষ্টিবিহীন, দেশপ্রেমহীন, বুদ্ধিতে দেউলিয়া রাজনৈতিক দলের স্বার্থান্বেষী, দুর্নীতিপরায়ণ রাজনীতিবিদরা এভাবেই চিন্তা ও কাজ করে ৷ আর উপায়ান্তর না দেখে জনগণ একবার ধানের শিস্-কে প্রানপণে হাতের মুঠোয় ধরতে গিয়ে পায় শুধু খড়ের ঝাটা, আর আরেকবার নৌকায় পা রাখতে গিয়ে পড়ে যায় অথৈ সাগরে ৷
আমাদের দেশের রাজনৈতিক সমস্যা নিয়ে আলোচনার তো শেষ নেই, লিখে শেষ করার ও উপায় নেই, তাই আমি এব্যাপারে লেখাকে আর দীর্ঘায়িত করতে চাইনা । পাঠকরা নিজেরাই নিজ অভিজ্ঞতা থেকে জাতীয় সমস্যার সূদীর্ঘ লিস্ট তৈরী করতে পারবেন।
সমস্যার ব্যাপারে আমরা সবাই ভুক্তভোগী; তবে শুধু সমস্যার আলোচনা করে লেখা শেষ করলে তো সে লেখা অর্থহীন হয়ে পড়ে। কিভাবে এই সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে পাওয়া যায় সে আলোচনাই বরং বেশি প্রয়োজন।
ব্যক্তিত্বের দিক দিয়ে আমি একজন আশাবাদী লোক - হতাশাবাদী নই - সে কারণে সমস্যার সমাধানের উপর আমার ক্ষুদ্র-জ্ঞানে কিছু আলোচনা করতে চাই, তবে তা হবে পরবর্তি পর্বে, কারণ এখন এই লেখাকে আর বড় করে আপনাদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটাতে চাইনা। "সমাধান পর্ব" লিখে শীঘ্র আপনাদের সামনে পেশ করার আশা রাখছি।
--- ভালো থাকুন
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



