somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় গুণ তিনি অত্যন্ত সহনশীলা, ধৈর্য্যশীলা।

২৩ শে মে, ২০১১ বিকাল ৩:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গণমানুষের প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় গুণ তিনি অত্যন্ত সহনশীলা, ধৈর্য্যশীলা। ৭৫-এ বাবা-মা, ভাই-বোন-ভাবী, ফুপা-ফুপু, সহ পরিবারের ১১ জনকে হারান, হারান জাতীয় চারনেতাকে। পাখির ছানার মত ছোট যে ভাইটা রাসেল মানব ইতিহাসের নৃশংসতম খুনীরা তাকেও রেহাই দেয়নি, রাইফেলের বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুনীরা তার ছোট ফুলের মত কলজেটা বের করে এনে তা নিয়ে মেতেছিল নারকীয় উল্লাসে। শুধু তাই নয়, নেপথ্যের নায়কেরা এ খুনের যাতে কোনোদিনই বিচার না হতে পারে তার জন্য দিয়েছিল আত্নস্বীকৃত খুনীদের দিয়েছিল indemnity। খুনের পুরস্কার স্বরূপ তাদের পাঠানো হয়েছিল রাষ্ট্রদুত বানিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে।
ক্ষমতায় আসার পর অতি সহজেই রাষ্টীয় ক্ষমতাকে ব্যবহার করে প্রথমসুযোগেই গ্রেফতারকৃত খুনীদের বিচার না করে ক্রসফায়ারের নাটক সাজিয়ে মেরে ফেলতে পারতেন।কিন্তু তিনি তা করেননি। প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার প্রতিটি স্তর পেরিয়ে, খুনীদেরকে বাঁচানোর জন্য খুনীদের দোসরদের অবিরাম নানা কূটকৌশল সহ্য করে ২য় বার ক্ষমতায় এসে আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে অবশেষে ন্যায্য বিচার পেতে সমর্থ হন তিনি। সেদিন যদি আইনের স্বাভাবিক পথে না হেটে বিশেষ আদালতের মাধ্যমে তিনি খুনীদের ফাঁসি দিতেন তাহলে খুনীদের দোসররা দেশ-বিদেশে মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগ তুলে বিচারকে বিতর্কিত করবার চেষ্টায় আদাজল খেয়ে লাগত। যাইহোক, তাকে মেরে ফেলবার জন্যও খুনীদের পুরনো ও নতুন দোসরদের ত্ৎপরতাও কখনো থেমে থাকেনি। যার সবচেয়ে ভয়ংকরতম প্রয়াস ছিল ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা। জাতি দেখেছে খুনীদের পুরনো ও নতুন দোসররা গ্রেনেড হামলার পর কি ভুমিকা নিয়েছিল। গ্রেনেড হামলার দায় আওয়ামীলীগের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করে কোনোভাবেই যখন সফল হওয়া গেলনা তখন জজ মিয়া নামের এক গরিব লোককে আসামী বানিয়ে মঞ্চস্থ করা হলো ইতিহাসের ঘৃণ্যতম প্রহসন। ২য়বার ক্ষমতায় আসার পরও অতি সহজেই রাষ্টীয় ক্ষমতাকে ব্যবহার করে প্রথমসুযোগেই তিনি ২১শে আগস্টের সেই নৃশংসতম গ্রেনেড হামলায় জড়িতদের দ্রুত তাদের পাওনা বুঝিয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু না এবারো তিনি তা করে আইনের স্বাভাবিক পথেই হাটলেন। ঘাতকের আঘাতে বারবার চরম বিপর্যস্ত হয়েও কিভাবে তিনি পারেন মানবীয় স্বাভাবিক প্রতিশোধপরায়ণতাকে জয় করে আইনের স্বাভাবিক পথে হাটতে? তিনি যে অত্যন্ত সহনশীলা, ধৈর্যশীলা।
অনেকেই বলে থাকেন যে, দুই নেত্রী দেশটকে বিভক্তির দিকে ঠেলে দিয়েছেন, দেশের স্বার্থে তাদের এক হওয়া দরকার। তাদেরকে বলতে চাই, কিভাবে এক হবেন এমন একজনের সাথে যিনি এবং যারা আপনার পুরো পরিবারের হত্যাকারীদের শাস্তি দেয়ার পথ বন্ধ করে দিয়ে খুনের পুরস্কার স্বরূপ তাদের রাষ্ট্রদুত বানিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে ছিল? কিভাবে এক হবেন এমন একজনের সাথে যিনি এবং যারা খুনীদেরকে বাঁচানোর জন্য শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত অবিরাম নানা অপতৎপরতা চালিয়ে গেছে। , কিভাবে এক হবেন এমন একজনের সাথে যিনি বিন্দুমাত্র চক্ষুলজ্জার তোয়াক্কা না করে নিজের বিকৃত আনন্দ চরিতার্থ করবার জন্য তিন তিনবার জন্মদিন পরিবর্তন করে নিজের চতুর্থতম স্থির করে থাকেন আপনার পুরো ফ্যামিলির হত্যাকান্ডের দিনে, আপনার জীবনের সবচেয়ে কষ্টের দিনে।

অনেকেই চারদলীয় সরকারের সাথে এসরকারের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের কোনো পার্থক্যই খুঁজে পাচ্ছেন না।হ্যা, পার্থক্য খুব একটা নেইও--উনিশ আর বিশ। কিন্তু উনিশ আর বিশ-এর মধ্যে যে difference সেটাও কিন্তু একেবারে কম না। একবার বলুন তো, খুলনার মঞ্জুরুল ইমাম, নাটোরের মমতাজ এম.পি.,গাজীপুরের আহসানউললাহ মাস্টার, কিংবা অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া বিএনপির এইরকম ভালো নেতাদের গুলি করে মেরে, বোমা দিয়ে হত্যা করে তার দায় আবার বিএনপির ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা এপর্যন্ত এসরকার করেছে কিনা? কিংবা খালেদা জিয়ার মাথায় গ্রেনেড মেরে আইভী রহমানের মত নেতা সহ অসংখ্য মানুষ মেরে তার দায় আবার খালেদা জিয়ার ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছে কিনা?করেনি, আর করবেওনা। আহসানউললাহ মাস্টার হত্যার সঠিক তদন্ত করতে যাওয়ায় কিভাবে রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এসপি মিজানকে, কিবরিয়া হত্যার সঠিক তদন্ত করতে যাওয়ায় কিভাবে হবিগন্জের এসপি মুসাকে, দশ ট্রাক অস্ত্রের চালান আটক করায় কিভাবে ২জন পুলিশ অফিসার কে চাকরিচ্যুত করা হয় জাতি তা ভুলে নাই। বাংলা ভাইয়ের মত জংগীদের কথা বলতে গেলে কারা বলত এগুলো মিডিয়ার তৈরী গুজব, দশ ট্রাক অস্ত্র আমদানীর মামলা কারা ধামা চাপা দিয়েছিল, জজ মিয়ার মামলার মত নাটক কারা বানিয়েছিল, জাল সনদধারী লোককে কারা বিচারপতি বানিয়েছিল এগুলো এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলে চলবে?
আজকে পত্রিকায় একটি খবর বেড়িয়েছে, কানাডায় প্রধানমন্ত্রী যে হোটেলে ওঠেছেন তার বাইরে বিএনপির শতাধিক সমর্থক বিক্ষোভ করতে থাকলে প্রধানমন্ত্রী কোনোরকম প্রটোকলের তোয়াক্কা না করে পায়ে হেটে বিক্ষোভকারীদের সামনে যান এবং তিনি তাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তিনি কানাডায় তাদের দিন কেমন কাটছে তা জানতে চান এবং তাদেরকে চা-নাস্তার দাওয়াত দেন। ঘটনার আকস্মিকতায় বিক্ষোভকারীরা হতভম্ব হয়ে যান।পরে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের আবারও নির্দেশ দেন বিক্ষোভকারীদের তাদের হোটেলে আপ্যায়িত করতে।-------এই না হলো মন্দকে ভালো ব্যবহার দিয়ে পরাস্ত করবার নমুনা।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মে, ২০১১ বিকাল ৩:২২
৭টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×