গণমানুষের প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় গুণ তিনি অত্যন্ত সহনশীলা, ধৈর্য্যশীলা। ৭৫-এ বাবা-মা, ভাই-বোন-ভাবী, ফুপা-ফুপু, সহ পরিবারের ১১ জনকে হারান, হারান জাতীয় চারনেতাকে। পাখির ছানার মত ছোট যে ভাইটা রাসেল মানব ইতিহাসের নৃশংসতম খুনীরা তাকেও রেহাই দেয়নি, রাইফেলের বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুনীরা তার ছোট ফুলের মত কলজেটা বের করে এনে তা নিয়ে মেতেছিল নারকীয় উল্লাসে। শুধু তাই নয়, নেপথ্যের নায়কেরা এ খুনের যাতে কোনোদিনই বিচার না হতে পারে তার জন্য দিয়েছিল আত্নস্বীকৃত খুনীদের দিয়েছিল indemnity। খুনের পুরস্কার স্বরূপ তাদের পাঠানো হয়েছিল রাষ্ট্রদুত বানিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে।
ক্ষমতায় আসার পর অতি সহজেই রাষ্টীয় ক্ষমতাকে ব্যবহার করে প্রথমসুযোগেই গ্রেফতারকৃত খুনীদের বিচার না করে ক্রসফায়ারের নাটক সাজিয়ে মেরে ফেলতে পারতেন।কিন্তু তিনি তা করেননি। প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার প্রতিটি স্তর পেরিয়ে, খুনীদেরকে বাঁচানোর জন্য খুনীদের দোসরদের অবিরাম নানা কূটকৌশল সহ্য করে ২য় বার ক্ষমতায় এসে আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে অবশেষে ন্যায্য বিচার পেতে সমর্থ হন তিনি। সেদিন যদি আইনের স্বাভাবিক পথে না হেটে বিশেষ আদালতের মাধ্যমে তিনি খুনীদের ফাঁসি দিতেন তাহলে খুনীদের দোসররা দেশ-বিদেশে মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগ তুলে বিচারকে বিতর্কিত করবার চেষ্টায় আদাজল খেয়ে লাগত। যাইহোক, তাকে মেরে ফেলবার জন্যও খুনীদের পুরনো ও নতুন দোসরদের ত্ৎপরতাও কখনো থেমে থাকেনি। যার সবচেয়ে ভয়ংকরতম প্রয়াস ছিল ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা। জাতি দেখেছে খুনীদের পুরনো ও নতুন দোসররা গ্রেনেড হামলার পর কি ভুমিকা নিয়েছিল। গ্রেনেড হামলার দায় আওয়ামীলীগের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করে কোনোভাবেই যখন সফল হওয়া গেলনা তখন জজ মিয়া নামের এক গরিব লোককে আসামী বানিয়ে মঞ্চস্থ করা হলো ইতিহাসের ঘৃণ্যতম প্রহসন। ২য়বার ক্ষমতায় আসার পরও অতি সহজেই রাষ্টীয় ক্ষমতাকে ব্যবহার করে প্রথমসুযোগেই তিনি ২১শে আগস্টের সেই নৃশংসতম গ্রেনেড হামলায় জড়িতদের দ্রুত তাদের পাওনা বুঝিয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু না এবারো তিনি তা করে আইনের স্বাভাবিক পথেই হাটলেন। ঘাতকের আঘাতে বারবার চরম বিপর্যস্ত হয়েও কিভাবে তিনি পারেন মানবীয় স্বাভাবিক প্রতিশোধপরায়ণতাকে জয় করে আইনের স্বাভাবিক পথে হাটতে? তিনি যে অত্যন্ত সহনশীলা, ধৈর্যশীলা।
অনেকেই বলে থাকেন যে, দুই নেত্রী দেশটকে বিভক্তির দিকে ঠেলে দিয়েছেন, দেশের স্বার্থে তাদের এক হওয়া দরকার। তাদেরকে বলতে চাই, কিভাবে এক হবেন এমন একজনের সাথে যিনি এবং যারা আপনার পুরো পরিবারের হত্যাকারীদের শাস্তি দেয়ার পথ বন্ধ করে দিয়ে খুনের পুরস্কার স্বরূপ তাদের রাষ্ট্রদুত বানিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে ছিল? কিভাবে এক হবেন এমন একজনের সাথে যিনি এবং যারা খুনীদেরকে বাঁচানোর জন্য শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত অবিরাম নানা অপতৎপরতা চালিয়ে গেছে। , কিভাবে এক হবেন এমন একজনের সাথে যিনি বিন্দুমাত্র চক্ষুলজ্জার তোয়াক্কা না করে নিজের বিকৃত আনন্দ চরিতার্থ করবার জন্য তিন তিনবার জন্মদিন পরিবর্তন করে নিজের চতুর্থতম স্থির করে থাকেন আপনার পুরো ফ্যামিলির হত্যাকান্ডের দিনে, আপনার জীবনের সবচেয়ে কষ্টের দিনে।
অনেকেই চারদলীয় সরকারের সাথে এসরকারের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের কোনো পার্থক্যই খুঁজে পাচ্ছেন না।হ্যা, পার্থক্য খুব একটা নেইও--উনিশ আর বিশ। কিন্তু উনিশ আর বিশ-এর মধ্যে যে difference সেটাও কিন্তু একেবারে কম না। একবার বলুন তো, খুলনার মঞ্জুরুল ইমাম, নাটোরের মমতাজ এম.পি.,গাজীপুরের আহসানউললাহ মাস্টার, কিংবা অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া বিএনপির এইরকম ভালো নেতাদের গুলি করে মেরে, বোমা দিয়ে হত্যা করে তার দায় আবার বিএনপির ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা এপর্যন্ত এসরকার করেছে কিনা? কিংবা খালেদা জিয়ার মাথায় গ্রেনেড মেরে আইভী রহমানের মত নেতা সহ অসংখ্য মানুষ মেরে তার দায় আবার খালেদা জিয়ার ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছে কিনা?করেনি, আর করবেওনা। আহসানউললাহ মাস্টার হত্যার সঠিক তদন্ত করতে যাওয়ায় কিভাবে রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এসপি মিজানকে, কিবরিয়া হত্যার সঠিক তদন্ত করতে যাওয়ায় কিভাবে হবিগন্জের এসপি মুসাকে, দশ ট্রাক অস্ত্রের চালান আটক করায় কিভাবে ২জন পুলিশ অফিসার কে চাকরিচ্যুত করা হয় জাতি তা ভুলে নাই। বাংলা ভাইয়ের মত জংগীদের কথা বলতে গেলে কারা বলত এগুলো মিডিয়ার তৈরী গুজব, দশ ট্রাক অস্ত্র আমদানীর মামলা কারা ধামা চাপা দিয়েছিল, জজ মিয়ার মামলার মত নাটক কারা বানিয়েছিল, জাল সনদধারী লোককে কারা বিচারপতি বানিয়েছিল এগুলো এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলে চলবে?
আজকে পত্রিকায় একটি খবর বেড়িয়েছে, কানাডায় প্রধানমন্ত্রী যে হোটেলে ওঠেছেন তার বাইরে বিএনপির শতাধিক সমর্থক বিক্ষোভ করতে থাকলে প্রধানমন্ত্রী কোনোরকম প্রটোকলের তোয়াক্কা না করে পায়ে হেটে বিক্ষোভকারীদের সামনে যান এবং তিনি তাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তিনি কানাডায় তাদের দিন কেমন কাটছে তা জানতে চান এবং তাদেরকে চা-নাস্তার দাওয়াত দেন। ঘটনার আকস্মিকতায় বিক্ষোভকারীরা হতভম্ব হয়ে যান।পরে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের আবারও নির্দেশ দেন বিক্ষোভকারীদের তাদের হোটেলে আপ্যায়িত করতে।-------এই না হলো মন্দকে ভালো ব্যবহার দিয়ে পরাস্ত করবার নমুনা।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মে, ২০১১ বিকাল ৩:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



