পূর্বের পর ...
ওযু (১ম ভাগ)
ইবাদতের উদ্দেশ্যে শরীয়তের বিধান মতে পবিত্র পানি দিয়ে কতিপয় বিশেষ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধৌত করাকে ওযু বলে। ওযু দুই প্রকার, যথাঃ (১) ফরয ওযু- যা সালাত আদায়ের জন্য করা হয় এবং (২) সুন্নাত ওযু- যা কোরআন তেলাওয়াত, পবিত্র থাকা ও গোসল করার জন্য করা হয়।
ওযু সম্বন্ধে কোরআন-এর বাণী
আল্লাহ বলেছেন,
"ইয়া আইয়্যুহাল্লাজীনা আমানু ইজা ক্বুমতুম ইলাস সালাতি ফাগ্ছিলু উজুহাকুম ওয়া আইদিয়াকুম ইলাল মারাফিকি ওয়ামছাহু বিরুয়ুছিকুম ওয়া আরজুলাকুম ইলাল কা'বাইন।"
"হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, তোমরা যখন সালাতের জন্যে দাঁড়াবে- তোমরা তোমাদের (পুরো) মুখমন্ডল ও কনুই পর্যন্ত তোমাদের হাত দুটো ধুয়ে নেবে, অতঃপর তোমাদের মাথা মাসেহ করবে এবং পা দুটো গোড়ালি পর্যন্ত (ধুয়ে নেবে,)" {সূরা আল মায়িদা, আয়াত ৬}
ওযু সম্বন্ধে কয়েকটি হাদীস
(১) ওযু শুরু করার পূর্বে 'বিসমিল্লাহ' বলতে হবে। হাদীসে এসেছে রাসূল (স.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি আল্লাহর নাম নেবে না, তার ওযু হবে না।" {তিরমিযী, ইফা ১ম খন্ড, হা/২৫}
(২) আবু আবদুল্লাহ বুখারী (র.) বলেন, নবী (স.) বর্ণনা করেছেন, ওযুর ফরয হল এক-একবার করে ধোয়া। তিনি দু-দুবার করে এবং তিন-তিনবার করেও ধৌত করেছেন, কিন্তু তিনবারের বেশী ধৌত করেননি। পানির অপচয় করা এবং নবী (স.) এর আমলের সীমা অতিক্রম করাকে উলামায়ে কিরাম মাকরূহ বলেছেন। {বুখারী, ইফা, ১ম খন্ড, ৯৬ পরিচ্ছেদ}
(৩) ইসহাক ইবনে ইবরাহীম আল-হানাযালী (র.) ... ... আবু হুরায়রাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলতেন, রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, যে ব্যক্তির হাদস হয় তার সালাত কবুল হবে না, যতক্ষণ না সে ওযু করে। হাযরা-মাওতের এক ব্যক্তি বলল, হে আবু হুরায়রা, হাদস কী? তিনি বললেন, নিঃশব্দে বা স্বশব্দে বায়ু বের হওয়া। {বুখারী, ইফা, ১ম খন্ড, ৯৭ পরিচ্ছেদ, হা/১৩৭}
(৪) ইয়াহইয়া ইবনে বুকায়র (র.) ... ... নু'আয়ম মুজমির (র.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু হুরায়রা (রা.) এর সঙ্গে মসজিদের ছাদে উঠলাম। তারপর তিনি ওযু করে বললেন, "আমি রাসূলুল্লাহ (স.)-কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন আমার উম্মাতকে এমন অবস্থায় ডাকা হবে যে, ওযুর প্রভাবে তাদের হাত-পা ও মুখমন্ডল থাকবে উজ্জ্বল। তাই তোমাদের মধ্যে যে এ উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে নিতে পারে, সে যেন তা করে।" {বুখারী, ইফা, ১ম খন্ড, ৯৮ পরিচ্ছেদ, হা/১৩৮}
(৫) আলী (রা.) ... ... আব্বাদ ইবনে তামীম (রা.)-এর চাচা থেকে বর্ণিত একবার রাসূলুল্লাহ (স.) এর কাছে এক ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হল যে, তার মনে হয়েছিল যেন সালাতের মধ্যে কিছু হয়ে গিয়েছিল। তিনি বললেন, সে যেন ফিরে না যায়। যতক্ষণ না শব্দ বা গন্ধ পায়। {বুখারী, ইফা, ১ম খন্ড, ৯৯ পরিচ্ছেদ, হা/১৩৯}
(৬) আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ (র.) ... ... ইয়াহইয়া আল-মাযিনী (র.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ (রা.)-কে (তিনি আমর ইবনে ইয়াহইয়ার দাদা) জিজ্ঞাসা করল, "আপনি কি আমাদেরকে দেখাতে পারেন, কিভাবে রাসূলুল্লাহ (স.) ওযু করতেন?" আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ (রা.) বললেন, 'হ্যাঁ'। তারপর তিনি পানি আনলেন। হাতের উপর পানি ঢেলে দু'বার হাত ধুলেন। তারপর কুলি করলেন এবং তিনবার নাকে পানি দিয়ে ঝেড়ে পরিস্কার করলেন। এরপর চেহারা তিনবার ধুলেন। তারপর দু'হাত কনুই পর্যন্ত দু'বার করে ধুলেন। তারপর দু'হাত দিয়ে মাথা মাসেহ করলেন। অর্থাৎ হাত দুটি সামনে এবং পিছনে নিলেন। মাথার সম্মুখ থেকে শুরু করে উভয় হাত গর্দান পর্যন্ত নিলেন। তারপর আবার যেখান থেকে নিয়েছিলেন, সেখানেই ফিরিয়ে আনলেন। তারপর দু'পা ধুলেন {বুখারী, ইফা ১ম খন্ড, হা/১৮৫; মুসলিম, ইফা ২য় খন্ড, হা/৪৪৬} [এই হাদীসটি থেকে সমর্থন পাওয়া যায় যে রাসূল (স.) কোন অঙ্গ এক বার বা দুই বার বা তিন বার ধুয়েছেন।]
ইনশাল্লাহ চলবে ...
* ইফা = ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হা = হাদীস
** মুহাম্মদ আবু হেনা সংকলিত ও আকরামুজ্জামান বিন আব্দুস সালাম সম্পাদিত "আমার নামায কি শুদ্ধ হচ্ছে!" গ্রন্থ থেকে মুমিন ভাই-বোনদের উপকারার্থে এখানে প্রকাশিত হলো। উপরোক্ত লেখার কোনো অংশের কোনো কৃতিত্বের দাবীদার এ ব্লগ লেখক নয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

