somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি তোমার মত কাউকে খুঁজছি!

২৩ শে এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৮:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পাতা-মেয়ের চোখের দিকে কত সময় তাকিয়ে ছিলাম তার কোন হিসাব নাই। পাতা-মেয়েও হয়ত কখনও কোন ছেলের চোখের দিকে এত সময় তাকিয়ে থাকে নি। ওর নাম পাতা-মেয়ে নয়, এমনকি ওর নামের কোন অংশে প-ত-ম-য় কিচ্ছু নাই। আমার দেওয়া এই নামের সাথে ওর চরিত্রেরও মিল নাই! তারপরও কেন যেন ওকে আমার পাতা-মেয়ে ডাকতে ভালো লাগে।



আমি ছিলাম পাতা-মেয়ের সবচাইতে ভালোবন্ধু। আর ছেলে-মেয়ে ভালো বন্ধুত্ব হয়না কথার সত্যতা প্রমান করতেই আমরা একজন আর একজনের প্রেমে পড়েছিলাম। প্রেমে পড়ে শুধু হাবুডুবুই না, রিতিমত চুবনি ও নাকানি-চুবানি খেয়েছিলাম। ভার্সিটির এমন একটা প্রাণীও ছিলো না যে আমাদের সম্পর্কে জানতো না। ক্লাস বাদে সব সময় হেডফোনের এক অংশ আমার কানে, অন্য অংশ তার কানে।

আমার সাথে সম্পর্ক হবার আগে পাতা-মেয়ের অন্য একটা সম্পর্ক ছিলো; বাবা-ফুফু মেনে নিবে না বলেই সে সম্পর্কটা শেষ করে দেয়। ছেলে দুর্দান্ত স্মার্ট হওয়ায় নতুন গার্লফ্রেন্ড পেতে তার কোন সমস্যাই হয়নি। তবে এক সময় আমি উপলব্ধী করি যে পাতা-মেয়ের মত সুন্দরী আর ভালো মেয়ে সামলানো আমার কাজ না। তাই তাদের দুইজনকে এক করে দেবার ব্যবস্থা করি; এবং শেষমেষ সফলও হই। তাদের যেদিন বিয়ে, পাতা-মেয়ে সবার অগোচরে আমাকে প্রচন্ড জোরে জড়িয়ে ধরে বলেছিলো, আমি ভুলকরলাম রে; আমারতো তোর মত কাউকে দরকার ছিলো।

না, এই 'ওর মত কাউকে দরকার ছিলো' বা 'তোমার মত কাউকে খুঁজছি' কথাটা এই প্রথম নয়, আগে এবং পরে বহুবার শুনেছি। লোপা, তাকিয়া, তানজি, পাখি, সুলতানা, হাজেরা সহ বহু মানুষ একই কথা বলেছে। সবারই মনের মধ্যে যে মানুষ বসবাস করে, আমি ঠিক তার মত। সবাই আমার মত কাউকে খুঁজছে! আমাকে নয়!

এক সময় সব পার হয়েছে। জীবনে একটা পর্যায়ে নিশ্চিত হয়ে গেছি যে এখন আর কেউ আমাকে এই কথা বলবে না। হয়ে চলেছেও তাই।

এইতো, মাত্র কয়েক মাস আগে একটা নতুন চাকরীতে জয়েন করেছি। বেতন এবং সুযোগ সুবিধার দিক চিন্তা করলে যে কোন মেয়ের মা সহ পটে যাবে! তবে যেহেতু একজন জীবন সঙ্গী আছে, তাই কাউকে পটাতে হয় না। আমাদের প্রতিষ্ঠানের অদ্ভুত এক নিয়ম; এখানে কারও প্রমোশন হয় না। প্রতি ১বছরের কন্ট্রাক্টে কাজ করতে হয়। যদি প্রমোশন দরকার হয়, তাহলে নতুন কোন জব ওপেনিং থাকলে সেটায় এপ্লাই করতে হয়। ই্ন্টারভিউতে পাশ করলে সেই পজিশনে নতুন করে চাকরী। আর একটা বড় সমস্যা হলো একবার কন্ট্রাক্টে সাইন করলে পরেরবার নতুন পজিশনের জন্য এপ্লাই করতে হলে নূন্যতম ৯-১২ মাস অপেক্ষা করতে হবে। ৯মাস থেকে ১২ মাসের মধ্যে হলে নিজের বসের কাছ থেকে পারমিশন নিতে হবে; আর ১২ মাসের বেশী হলে তা নিতে হবে না।

চাকরীতে জয়েন করেছি মোটামুটি নিচু পোষ্ট গুলির একটাতে; তাতেই মারদাঙ্গা স্যালারী। তবে বস, এবং বসের বসের চোখে পড়তে খুব একটা সময় লাগে নি। মাত্র ১৮ দিনের মাথায় আমাকে যে দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেটা আমার স্যালারীর প্রায় ডাবল স্যালারীর পোষ্ট; এবং বলা চলে ম্যানেজারিয়াল পোষ্ট। কাজ যখন ধরলাম, পুরা ডিপার্টমেন্ট এলোমেলো অবস্থা। মাত্র ৩মাসের মধ্যে পুরা ডিপার্টমেন্ট গুছিয়ে বছরের সবাইকে তাক লাগিয়ে দিলাম। এর মধ্যে জানতে পারলাম এই পজিশন যেহেতু আমার না, তাই এখানে একজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। অফিসে 'ইন্টারনাল রিক্রুটমেন্ট' এর চেষ্ট চলছে। ৪জন বাঘা বাঘা লোক ইন্টারভিউ দিলো, কেউ পজিশনটা পেলো না।

অলস দুপুরে অফিসের ব্যালকনিতে গিয়ে রিয়াদ শহরের রৌদ্রের নিচে বসে চা খাচ্ছিলাম; এমন আকাম আমি একলাই করি পুরা অফিসে। আমার বসের বস সেখানে হাজির হলেন; কথায় কথায় ইন্টারভিউয়ের কথা উঠলো। উনি ব্যাখ্যা দিলেন কেন এই ৪জনের কারও চাকরী হলো না।

'আমরা আসলে তোমার মত কাউকেই খুঁজছিলাম'!

এতকালের চেপে রাখা ব্যাথ্যা সহ্য না করতে পেরে বলে উঠলাম, Well, I'm exactly the person who is like me. I'm unique, and you'll never find anyone like me, except me!

বুইড়া বয়সে বুকের কোনায় একটু মোচড় দিয়ে উঠলো, এটা কি আফসোস? নাকি রাগ?
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৮:৩১
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের কাশ্মীর ভ্রমণ- ৫: অবশেষে শ্রীনগরে!

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৯ শে জুন, ২০১৯ সকাল ১১:২৬

গাড়ীচালক মোহাম্মাদ শাফি শাহ সালাম জানিয়ে তড়িঘড়ি করে আমাদের লাগেজগুলো তার সুপরিসর জীপে তুলে নিল। আমরা গাড়ীতে ওঠার পর অনুমতি নিয়ে গাড়ী স্টার্ট দিল। প্রথমে অনেকক্ষণ চুপ করেই গাড়ী চালাচ্ছিল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

চারিদিকে বকধার্মিকদের আস্ফালন!!

লিখেছেন ঘূণে পোকা, ১৯ শে জুন, ২০১৯ সকাল ১১:৩৭

জাতি হিসেবে দিনে দিনে আমাদের মধ্যে এক অদ্ভুত মানসিকতা গড়ে উঠছে।
আমরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্যকে বিচার করার এক অসাধারন দক্ষতা অর্জন করতে শিখে গেছি। আমাদের এই জাজমেন্টাল মেন্টালিটির... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন জনকের চোখে

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ১৯ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ১:১৬


আমি ছিলাম আল্লাহর কাছে প্রার্থনারত
হসপিটালের ফ্লোরে —পরিবারের সবাই
প্রতীক্ষার ডালি নিয়ে নতমস্তকে —আসিতেছে শিশু
ফুলের মতোন — ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শুভাগমন
কোন সে মহেন্দ্র ক্ষণে — পরম বিস্ময়ে সেই
... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহা প্রেম!

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:৪০



ইনবক্সের প্রেমের আর কী বিশ্বাস বলো
এসব ধুচ্ছাই বলে উড়িয়ে দেই হরহামেশা
অথচ
সারাদিন ডেকে যাও প্রিয় প্রিয় বলে.....
একাকিত্বের পাল তুলে যে একলা নদীতে কাটো সাঁতার
সঙ্গী হতে ডাকো প্রাণখুলে।

এসব ছাইফাঁস আবেগী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগারদের কিছু ফেসবুক ছবি

লিখেছেন :):):)(:(:(:হাসু মামা, ১৯ শে জুন, ২০১৯ রাত ৮:৩৭


হাজী জুম্মুন আলি ব্যাপারী
:P

জাহিদ অনিক
এখানে কেউ খোঁজে না কাউকে কেউ যায়নি হারিয়ে।

গিয়াস উদ্দিন লিটন ভাই।

শাহিন বিন রফিক
... ...বাকিটুকু পড়ুন

×