ক্রিস্টিনা
শাহজালাল উপশহরে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সামনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি। সঙ্গে এক সহকর্মী। ঝির ঝির বৃষ্টি হচ্ছে, তাই রিক্সাওয়ালাদের পোয়াবারো। অনেকক্ষণ হলো কিন্তু কোন রিক্সা পাচ্ছি না। বিরক্তির চুড়ান্ত পর্যায়ে আমরা দু’জন। পেছনে একটা হর্ণ বেঁজে উঠলো, সাদা মার্সিডিজ। সাইড দিলাম। দেখি গাড়িটা আমার দিকেই এগিয়ে আসছে। থেমে গেছে আমার ঠিক সামনে। ড্রাইভং সীট থেকে নামলো জীনস প্যান্ট পরা এক বিদেশীনি। গায়ে সাদা-আকাশী স্ট্রাইপ গেঞ্জি। চোখে সানগ্লাস। চোখ কেড়ে নেয়ার মতো চেহারা। ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে থাকলাম কতক্ষণ। সম্বিত ফিরে পেতেই নিজের গালে মনে মনে ঠাস্ ঠাস্ কষালাম দু’ দু’টো চড়, রাসকেল!
মেয়েটি হাত ইশারায় কাছে ডাকছে আমায়। একরাশ সংশয় জমানো মন নিয়ে এগোচ্ছি মেয়েটির দিকে। চোখের সানগ্লাস খুলে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। গভীর সে চাহনী। আমি সেই চোখের দিকে তাকাতে পারলাম না। সাদা মার্সিডিজটাকে আমার পর্যবেক্ষণের বিষয়বস্তু করে নিলাম।
- নিরঞ্জন, কেমন আছো?
প্রচন্ড এক ধাক্কা খেলাম। অপরিচিতা এক বিদেশীনি আমার নাম ধরে কুশল জানতে চাচ্ছে, তাও পরিষ্কার বাংলায়। হিসাব মেলাতে পারছি না কিছুতেই। গাঁই-গুই করে জবাব দিতে যাচ্ছি, শুরু হলো অবিরাম প্রশ্ন...
- জবাব দিচ্ছ না কেন?
- আমাকে চিনতে পারছ না?
- এত্তো তারাতারি ভুলে গেলে? পুরুষ মানুষ...
প্রশ্নতো নয়, যেনো অবিরাম গোলাবর্ষণ। আমি বিধ্বস্ত, ছিন্নভিন্ন। হতের কাছে যা পেলাম তাই দিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে হবে, নয়লে জাত পাত নিয়ে টানাটানির আশংকা।
- চিনবো কি করে? আপনি তো পরিচয় দিচ্ছেন না। তাছাড়া এ এলাকায় আপনার মতো কাউকে চিনি বলেতো...
- বাহ্! ব্যাক্তিগত পরচিয়ের সাথে স্থানেরও সম্পর্ক আছে? নতুন জানলাম। ঠিক আছে বলো তাহলে, কোথায় গেলে আমাকে চিনতে পারবে? পর্যটন মোটেল, গলফ ক্লাব, জাফলং, শ্যামলী... কোথায়? চলো, সেখানে চলো।
আমার আত্মরক্ষার ঢাল ভেঙ্গে টুকরো টুকরো। এতক্ষণে এ পাশ্চাত্য রাজহংসীটিকে চিনতে আমার কষ্ট হচ্ছে না।
সহকর্মীর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সুবোধ বালকের মতো উঠে বসলাম ড্রাইভং সীটের পাশে। গাড়ি ছুটে চলছে সুরমা ব্রিজের উপরে। দু’জনেরই মুখে কোন কথা নেই, চুপচাপ। আমি মনে মনে আওড়ে যাচ্ছি একটি পুরনো কবিতা- Time, you old gypsy man...will you not stay... put up your caravan... just for one day... just for one day...
সুরমা ব্রিজ পেড়িয়ে গাড়ি এগিয়ে চলছে ফেঞ্চুগঞ্জ রোড বরাবর। আমি কিছু বুঝে উঠতে পারছি না, কোথায় নিয়ে যাচ্ছে আমায়। জিঞ্জেস করব সে সাহসও খুঁজে পাচ্ছি না। ঘটনার আকষ্মিকতায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়িতে বসেও স্বস্তি পাচ্ছি না, ঘামছি আমি।
মিউজিক প্লেয়ারে লো ভলিউমে বাজছে ওয়েস্টার্ণ মিউজিক। একসময় যার চিঠির জন্য ডাকপিয়নকে ধমক দিয়েছি, সকাল বিকেল যার টেলিফোনের জন্য উন্মুখ থেকেছি, তাকে এভাবে পেয়ে যাবো, ভাবিনি।
শিববাড়ি পেড়িয়ে খোলা হাওড়ে থেমে গেল গাড়িটা। নামলাম দু’জনেই।
বৃষ্টি নেই এখন, বিকেলের সোনালী সূর্যের সহাস্য অভিবাদন। সোনারঙ হাওড়ে অজস্র পাখির মেলা। ছোট ছোট শালুকে ভরে আছে সারা হাওড়। মাঝে মাঝে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে অনিন্দ্যকান্তি রাজসিক শাপলা। অন্যসময় হলে এমন পরিবেশে ক্রিস্টিনা শিশুসুলভ চপলতায় নেচে উঠতো। কিংবা চুপচাপ বসে থাকতো... আর বলতো,“চুপ, কথা বলো না, এই স্বর্গীয় সৌন্দর্য হৃদয়ে মেখে নাও।”
আজ তার কোনটাই সে করবে না, জানি।
আজ সে অন্য ক্রিস্টিনা।
চোখের সানগ্লাসটা হাতে ধরে আমার সামনে এসে দাঁড়ালো। আমার কম্পিত দু’হাত তার হাতের মুটোই বন্দী করে এমন সহজ স্বাভাবিক সুরে আবৃত্তির ভঙ্গিতে উচ্চারণ কররো, “নিরঞ্জন, আমি তোমার ক্রিষ্টি, যাকে তুমি তোমার মনের গহীনে চিরদিন লুকিয়ে রাখার আশ্বাস দিয়েছিলে। আমাকে চিনতে পারছ না?”
- চিনেছি তো...
- তখন?
- তখন চিনবো কীভাবে? সুদূর গ্রীস থেকে তুমি হঠাৎ এই অস্তগামী বিকেলে উদয় হবে, আমি কি জানতাম? তাছাড়া দশ বছর আগের ক্রিস্টি কী আছো তুমি, পরিবর্তন কি হয় নি তোমার?
- হয়তো অনেক বদলে গেছি আমি, কিন্তু তুমি? দশটি বছর কী শুধু আমি অতিক্রম করেছি, তুমি কর নি? তোমাকে তো চিনতে ভুল হয় নি আমার। তাছাড়া... এ্যই, তুমি আমার মুখের দিকে তাকাও, দেখো আমার বাম গালে এই যে তিল, যে তিল আমার মায়েরও ছিল... তুমি বলতে, ঐতিহাসিক তিল... এই তিল কি বদলে গেছে? তুমি বলতে, সুদূর গ্রীসে গিয়েও এই তিলের অস্তিত্ত্ব খুঁজে খুঁজে ঠিকই আমাকে বের করতে পারবে। আচ্ছা বলতো নিরঞ্জন, তোমরা এতো বিস্মৃতিপরায়ন কেন?
আমি কিছু বরতে যাবো, কিন্তু তার আগেই হাত ইশারায় আমাকে থামিয়ে বললো,
- আমি জানি, তুমি তোমার স্বপক্ষে সুন্দর সব যুক্তি দাঁড় করাবে। তোমাদের মতো কবিদের যুক্তির শেষ নেই। কিন্ত, নিরঞ্জন, মনে রেখো, যুক্তিটাই শেষ কথা নয়। টলেমির পৃথিবীকেন্দ্রিক বিশ্বের যুক্তি, কিংবা এরিস্টোটোলের দাস প্রথার পক্ষের যুক্তির মতো অনেক যুক্তিই শেষকালে ভুল প্রমাণিত হয়েছে।
ক্রিস্টি আজ আমার অস্তিত্ত্বকে ছিন্নভিন্ন করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আজ আমার সাধ্য নেই তাকে রুখবো। চুপ থাকাটাই নিরাপদ মনে করে তার দু’হাত হাতের মুঠোয় নিয়ে বললাম, “স্যরি ক্রিস্টি, আমি সত্যিই দুঃখিত।”
এবার সে হেসে উঠলো, সেই নির্মল হাসি। আমি বললাম, “তোমার হাসিটা আগের মতোই আছে, এতটুকু বদলায়নি আজো।”
সে বললো, “আর সব বদলে গেছে?”
আমি বললাম, “তা তো জানি না, দেখতে হবে...”
- “এই, এমন কিল মারবো, হি হি হি...”
এবার বুঝা গেলে আকাশের মেঘ সত্যি সত্যি চলে গেছে। পরিবেশ সম্পূর্ণ অনুকূলে।
ক্রিস্টি হেসেই চলেছে, হাওরের এলোমেলো বাতাসে উড়ছে ওর চুল। ফর্সা, গ্রীক ভাস্কর্যের মতো মুখে কালো চুলের লুটোপুটি খেলা, গালে টোল খাওয়া হাসি, ওদিকে সুবিশাল হাওরের স্বর্গীয় বিস্তৃতি- সব কিছু মিলে অসহ্য সুন্দর পরিবেশ। আমি সেই সৌন্দর্য উপভোগ করছি সমস্ত অন্তকরণ দিয়ে। সেই দশ বছর আগের ক্রিস্টিনা আর নেই, অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এখন আগের সেই চঞ্চল অষ্টাদশী আর নেই। অনেক পরিপূর্ণতা এসেছে শরীরে এবং চালচলনে।
হঠাৎ হাসি থামিয়ে আমার কাধে হাত রেখে ক্রিষ্টি গম্ভীর কন্ঠে উচ্চারণ করল, “ভয় পেওনা নিরঞ্জন, আমি তোমার সেই ক্রিস্টি নই। আমি এখন অন্য ক্রিস্টি। আঘাত পেতে পেতে আমি এখন অনেক প্র্যাকটিক্যাল হয়েছি। কবিতা পড়ে চোখের জল ঝরাবার বয়স কিংবা মানসিকতা আর নেই। তাছাড়া... থাক সে কথা, এই সুন্দর পরিবেশটাকে বিষাদের ধুয়ায় বিষাক্ত করতে চাই না।
- ক্রিস্টি, চল আমার বাসায়।
- না, অসম্ভব। তোমার বাসায় কেন যাবো? তোমার সুখের সংসার দেখতে? তোমার স্ত্রী সন্দেহের চোখে তাকাবে আমার দিকে, আর তুমি... তুমি, আচ্ছা বলতো, কী পরিচয় দেবে আমার? আমি তোমার কে?
- বন্ধু, তুমি আমার বন্ধু।
- শুধুই কি বন্ধু? আর কিছুই নই? আর কিছুই কি ছিলাম না কোনকালে? সেই সময়গুলো কি তোমার একদম মনে পড়ে না? নিজের সাথে এভাবে প্রতারণা করছ কেন নিরঞ্জন? তোমার এই চেহারাটার সাথে আমি পরিচিত ছিলাম না।
- আমিও তোমার এই চেহারার সাথে পরিচিত নই ক্রিস্টি। আমাকে নাস্তানাবুদ করার পণ নিয়ে যদি তুমি আমার সাথে দেখা করে থাকো, তবে আমি প্রশ্ন রাখতেই পারি, আমার অপরাধটা কী? একটি মাস... বলো তো সেই একটি মাস আমরা কেমন ছিলাম? আমাদের সম্পর্ক কতটা গভীর ছিল... আর হঠাৎ একদিন তুমি ধুলোর মতো মিলিয়ে গেলে বাতাসে। আমি কী দুঃখ পেতে পারি না? সকল দোষ শুধু আমার? তুমি হঠাৎ চলে গেলে, তারপর দীর্ঘদিন তোমার কোন হদিস পাইনি আমি। তোমার চিঠি পেলাম পুরো একটি বছর পর। ততক্ষণে আমি বিবাহিত। বল আমার কী করার ছিল? কী করতে পারতাম আমি?
- বাহ্: সুন্দর গোছালো বক্তব্য দিলে। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য যথেষ্ট... কিন্তু কেন আমি হঠাৎ চলে গেলাম সে তথ্যটা শৈল্পিক বেড়াজালে লুকিয়ে নিলে। তুমি কি জান না, আমি কেন চলে গিয়েছিলাম? আমার চিঠি যদি পেয়ে থাক তবে তো এই তথ্যটাও জানার কথা। একটি জবাব কি আমি আশা করতে পারতাম না? আমি আমার সেল নম্বর দিয়েছিলাম সেই চিঠিতে। চিঠি যদি লিখতে না পার, অন্তত একটা হ্যালো তো করতে পারতে, সে আশাটাও কি আমি করতে পারি না? আমি কি এতই অপাংক্তেয় ছিলাম তোমার কাছে?
- ক্রিস্টি, সে জন্য আমি স্যরি বলছি। আবার বলবো... বারবার বলবো...
- এই একটা শব্দ, এই শব্দটাকেই আমি সবচেয়ে ঘৃনা করি। পৃথিবীর যত অপরাধী, যত টাউট বাটপার, প্রতারক পার পেয়ে যায় এই একটি শব্দের কল্যাণে। বলো, তুমি সহস্রবার স্যরি বললেই কি আমার হৃদয়ের ক্ষত মুছে যাবে, আমি নির্বান লাভ করতে পারব?
- ক্রিস্টি, প্লিজ, তুমি ঝগড়া করছ কেন? আমি না হয় কিছু ভুল করেই ফেলেছি, ভুল করতে পারি না?
- পার, ভুল তুমি করতেই পার, কারণ তুমি মানুষ। কিন্তু তোমার ভুলের কারণে কতটি মেয়ের জীবন সায়াহ্নের আগেই অন্ধকারে মিলিয়ে গেছে, সে হিসেব কি করেছ কোনদিন? নাহ্, আমি তোমার সাথে ঝগড়া করব বলে এখনে আসিনি। বাংলাদেশে আমি এসেছি এক মাস হতে চলল। যে ডোনার এজেন্সির সাথে এসেছিলাম তাদের কাজ শেষ হয়ে গেছে অনেক আগেই, সবাই চলেও গেছে, রয়ে গেছি শুধু আমি। কেন রয়ে গেলাম বলতো? তোমার সাথে ঝগড়া করব বলে? একটিবার... শুধু একটিবার তোমাকে দেখবো বলেই আমি আজো ফিরতে পারিনি। ডোনার এজেন্সির এই প্রোগ্রামের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছি শুধুমাত্র তোমাকে দেখার প্রত্যাশায়। সিলেট এসে তোমার আগের ঠিকানায় খোঁজ করেছি, পাইনি। তোমাদের মণিপুরি পাড়ায় গেলেই তোমার ঠিকানা পেয়ে যেতাম, যে মণিপুরি পাড়ায় আমি একবার গিয়েছিলাম। কিন্তু আমি সেটা চাইনি। কারো সাহায্য ছাড়াই তোমাকে খুঁজে বের করব, এমন প্রতিজ্ঞা নিয়েই বিগত এক মাস সিলেটের অলিতে গলিতে চষে বেড়িয়েছি। নিয়তির কী অদ্ভত লীলা, তোমাকে খুঁজে পেয়েছি সেই দিনে, যেদিন তোমার আমার প্রথম দেখা হয়েছিল।
- মানে?
- মানেটা তুমি খুঁজে পাবে না। কারণ তোমার সবকিছুই বিস্মৃতির অটলে তলিয়ে গেছে। তুমি ভুলে গেছ, আমাদের প্রথম দেখা হয়েছিল কোন এক সোমবারে। আজ আরেক সোমবার। সোমবার দিনটির প্রতি আমার মনের পবিত্র অর্ঘ আমি অনেক আগেই দিয়ে রেখেছি।
- কেন? আমদের প্রথম পরিচয়ের দিন বলে?
- না, ঠিক সে জন্য নয়। এই দিনটিতেই ঈশ্বর তোমাকে এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন বলে। পরম পিতা যীশুর আজ্ঞাবহ হয়ে রবিবার দিনটিকে পবিত্র দিন হিসেবে গ্রহণ করেছি শৈশব থেকে। আর বিগত দশ বৎসর ধরে তোমার জন্মবার বলে সোমবারও আমার পবিত্র দিন। তোমার কি মনে আছে আমার জন্মবার কবে?
- হুম, শুক্রবার।
- যাক, আমাকে মনে না রাখলেও জন্মবারটুকু মনে রেখেছো। সে জন্য ধন্যবাদ প্রাপ্য হয়ে গেল তোমার।
- দিয়ে দাওনা একটা।
- না, এখন দেয়া যাবে না।
- কেন? এখন কি দেবে তাহলে?
- কিছু দিতেই হবে নাকি? তাহলে কী দেব জান? একটা হৃদপিন্ড, তোমার ছিনিমিনি খেলার জন্য...
বলেই হাসতে শুরু করল। হাসতে হাসতে হাত ধরে টানতে টানতে বলল, “চলো চলো, সন্ধ্যে হয়ে এলো।”
গাড়িতে উঠে বসতেই ওয়েস্টার্ন মিউজিকের ডিভিডি খুলে মিউজিক প্লেয়ারে নতুন আরেকটি ডিভিডি চালু করল। বেজে উঠলো মণিপুরি ভাষায়, ‘চৎকে হায়না খনখিনু...ইনাক্তগী লাপখিনু’... তারপর ক্রমশঃ... ‘মরোল থোকত্রবা ঐগী থম্মোয়... কদায়দনো চৎলিবা পূন্সিনা...ঙসিদি ঐগী পুক্নিং ওয়াখল...’
গাড়ি চলছে, গান চলছে, গন্তব্য কোথায় তা জানি না। ক্রিস্টি কি জানে, কোথায় যাচ্ছি আমরা?
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুন, ২০১১ রাত ১০:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



