somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কামেহামেহা, মানোয়া পাহাড় এবং আলোহা। পর্ব-১(খ)।

২৫ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১০:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ব্যাংককে একটি রাত এবং মধ্য আকাশের থাই খালাম্মা


(আগের অংশটুকু জন্যে এখান থেকে পড়ে আসতে হবে।)

প্লেন চলছে। টেকঅফ করার প্রায় ঘন্টাখানেক পার হয়েছে। এই গোটা সময়টিই আমি বাইরের দিকে তাকিয়ে চুপ করে বসে আছি।

এয়ারহোস্টেস এসে প্রশ্ন করেছে, তার দিকে না তাকিয়েই উত্তর দিয়েছি আমি। মেয়েটি হয়তো অবাক হয়েছে, বিরক্ত হয়েছে। ভেবেছে আমি অভদ্র। কেউ হয়তো প্রশ্ন করতে পারে, কি এমন আকর্ষনীয় দেখার জিনিস ছিল বাইরে? একটানা আকাশ দেখতে কি আমার ক্লান্তি আসেনি?

আমি বাইরে তাকিয়ে ছিলাম কোনকিছু দেখার জন্য নয়। আসলে আমি আমার কান্নায় লাল হয়ে আসা চোখদুটোকে লুকাতে চেয়েছিলাম। কেউ যেন আমার কান্না না দেখতে পায়।

যেহেতু সব শোকেরই মাত্রা সময়ের সাথে সাথে কমে আসে, আমার ভিতরের শূন্যতাও আস্তে আস্তে কমে আসছিল। বুকের মাঝে কেমন একটা ভোঁতা অনুভূতি। তাকে বর্ণনা করা মুশকিল। যে জানে সেইই জানে কেবল।

বিমানবালা খাবার নামিয়ে রেখে গেছে কখন তা খেয়াল করিনি। ঢাকনা খুলে দেখি কি সুন্দর করে সাজানো রয়েছে কতকিছু। এর মধ্যে একটি জিনিস আমার বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করলো। বরবটি দিয়ে রান্না করা কি যেন একটা ডিশ। বরবটি আমার মহা প্রিয়। আগস্ট মাসের এরা বরবটি কোথায় পেলো। আমি যতদূর জানতাম এটি শীতের সব্জি।

মরা বাড়ীর লোকেরাও একসময় উঠে বসে, তারাও কথা বলে, আয়নাতে মুখ দেখে, মাথায় ঘষে সুগন্ধী তেল। আমারও কেমন যেন খিদে খিদে লাগতে থাকে। সেকি ওই বরবটি দেখেই? কি জানি হতেও পারে।
কাঁটা চামচ দিয়ে অনভ্যস্ত হাতে তুলে নেই এক টুকরো বরবটি। মুখে দিয়েই বুঝতে পারি এটি আমার পরিচিত জিনিসটি নয়। কোথায় গেল সেই সুস্বাদ? কোথায় গেল সেই মাটির গন্ধ? এতো কাগজের মতো স্বাদহীন। এতো মৃত মানুষের মতো, যার কোন পরিচয় নেই, যার সাথে বন্ধুত্ব করা যায়না।

বিদেশ যাত্রার শুরুতেই এমন ছন্দপতনে আমি মুষড়ে পড়ি।

কাঁটা চামচটি নীরবে নামিয়ে রাখি। মনে পড়ে যায় খানিক আগের শোনা কথাগুলো। "আজ থেকে তুই নির্বাসিত।"

বুক ভেঙে বেরিয়ে আসে দীর্ঘশ্বাস। শুকনো রুটিতে অল্প মাখন লাগিয়ে তাইই চিবুই। জেলখানার কয়েদীদের মত জীবন। সেখানে কোন ভাল কিছু আশা করাটাই বোকামী।

ব্যাংকক পৌঁছুলাম ঠিক সন্ধ্যেবেলা। ক্যাব নিয়ে চলে গেলাম আগে থেকে ঠিক করে রাখা হোটেলে। নাম এয়ারপোর্ট হোটেল। বলাই বাহুল্য খুবই সুন্দর। যে ঘরটি আমাকে দেয়া হোল, সেটাও আয়তনে প্রকান্ড। অনায়াসে চার-পাঁচ জনে আরামসে থাকতে পারবে। সেটাই প্রথম আমার কোন পাঁচতারা হোটেলে রাত কাটানো (প্রকৃতপক্ষে সেটাই ছিল আমার যে কোন তারাবিশিষ্ট হোটেলে কাটানো প্রথম রাত। এর আগেশুধু একবার বরিশালে একটি হোটেলে একরাত কাটিয়েছিলাম। বাথরুমে কোন পানি ছিলনা সে হোটেলে। ভয়াবহ সে রাতটির কথা আজো মনে আছে)।

হোটেলে ঘরের সাথে খাওয়া-দাওয়াও ফ্রি ছিল। পরদিন সকালে উঠতে হবে দেখে ভাবলাম তাড়াতাড়িই খেয়েদেয়ে শুয়ে পড়বো।

একতলায় বিশাল ডাইনিং হল। বুঝলাম আজ কপালে দুঃখ আছে। কেননা এখানে কি জাতীয় খাবার পাওয়া যায়, তার কোন ধারণা নেই আমার। আর সেই আমলে ঢাকাতেও কোন থাই রেস্টুরেন্ট ছিল কিনা তা আজ মনে পড়ছেনা। শুধু কিছু কিছু চাইনিজ রেস্টুরেন্ট "থাই স্যুপ" নামের একটি তরল মিশ্রন পাওয়া যেতো যা আমি কখনো খাইনি। অতএব থাই খাবার যে কি জাতীয় পদার্থ সেই চিন্তাতেই মাথা গরম হবার যোগাড়। তার উপর শুনেছি বিদেশে নাকি সবকিছুতেই পোর্ক, হ্যাম ইত্যাদি সুকৌশলে মেশানো থাকে (যাতে আমাদের ধর্মনষ্ট হয়)।

দুরুদুরু বুক নিয়ে কোণার একটা টেবিলে বসলাম। আমাকে দেখে এগিয়ে এলো একজন হাসিমুখ ওয়েটার। সে আমাকে শুধোল কিছু একটা। আমি তার মুখের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে আছি দেখে সে হাসলো আরো একটু। ভাবখানা এমন যে, "বুঝেছি তুই ব্যাটা অশিক্ষিত। ইংরেজী বুঝিস না। তারপরেও কেন যে বাপু তোমরা এইসব খানদানী হোটেলে ঢোকো।"

আমি যখন তাকে মোটামুটি স্পষ্ট ইংরেজীতে বললাম যে আমি তার কথা কিছুই বুঝতে পারছিনা, তখন ব্যাটাচ্ছেলে একটু থমকে গেল। মুখের হাসিটিকে একটু ম্লান মনে হোল। মনে হয় সে বুঝতে পেরেছিল যে সমস্যাটি তার ইংরেজী উচ্চারনের, আমার বোঝার সীমাবদ্ধতা নয়। সে এবার একটু থেমে থেমে স্পষ্ট করে যা বললো, তার অর্থ হচ্ছে যে আমি মেন্যু থেকে খাবার অর্ডারও করতে পারি, আবার বুফে সেকশনে গিয়ে পছন্দসই খাবারগুলো বেছে নিতে পারি।

আমাকে একটার বেশী অপশন দিলেই আমি ঘাবড়ে যাই। বুফে, না মেন্যূ? শেষমেশ বুফেতেই রাজী হয়ে যাই। কেননা, বুফেতে অন্ততঃ পক্ষে খাবারগুলো নেবার আগে চোখে দেখা যাবে, আর তাছাড়া সামনে দাঁড়ানো এই ওয়েটার বাবাজীকে অর্ডার ঠিকমতো বুঝাতে আমা যে কালোঘাম ছুটে যাবে, তাতে কোন সন্দেহ ছিলনা আমার।

বুফের হলটি পাশের ঘরে। হাঁটিহাঁটি পা পা করে এগুলাম সেদিকে। ও বাবা-একি দেখছি! বিশাল কাউন্টার ভর্তি শুধু খাবার আর খাবার। যা খুশী বেছে নাও, যত পারো খাও।

ওই মুহুর্তে আনন্দের চেয়ে আমার মনে দুঃখের ছায়াটিই নেমে এলো। কেন জানিনে, ছোট ভাইটির কথা মনে হোল। সে বরাবরই খাওয়া-পাগল। আমাদের বাড়ীতে তাই মাছের মাথা জাতীয় বিশেষ খাবারগুলো তার প্লেটেই যায় সচরাচর। আমাকে ওই খাবার দিয়ে কোন লাভ নেই। আমি ওর কদর বুঝিনি কোনকালেই।

মনে মনে কল্পনা করি, এইখানে আজ যদি আমার পাশে আমার ভাইটি দাঁড়িয়ে থাকতো, তাহলে তার কেমন লাগতো? কি করতো সে? নিশ্চয়ই তার মুখটি আনন্দে জ্বলজ্বল করে উঠতো।

নিশ্চয়ই সে আমাকে বলতো, "দাদা-আজকে কিন্তু অনেক খাবো। ঠিক আছে?"
আমি হয়তো হাসতাম তার কথা শুনে। হয়তো বলতাম,"খাবিইতো। যত ইচ্ছে খাবি, যত পারিস খাবি। কথা কম, কাজ বেশী।"

মাথা নীচু করে আমি চোখ মুছি। সেদিন থেকে আমার কথায় কথায় চোখ ভিজে আসার অসুখটি শুরু হোল। কোন দাওয়াইতেই কোন কাজ হয়নি।

কিছুক্ষণ আগেও বেশ খিদে ছিল। এখন আর কোন খিদে নেই। একবার ইচ্ছে হোল শুধু একগ্লাস পানি খেয়ে আবার রুমে ফিরে যাই।

সাত-পাঁচ ভেবে একটি প্লেট তুলে নেই হাতে। সামনে কত রকম খাবার। অল্প একটু সাদা ভাত নেই, সাথে একটু শব্জী, অল্প একটু মুরগী। প্লেট হাতে ফিরে আসি টেবিলে। আগেকার ওয়েটারটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে সেখানে। আমাকে দেখে হাসলো। "ড্রিংক দেবো কিছু?"
আমি মাথা নাড়লাম। নাহ-লাগবে না।
আমার প্লেটের খাবারের পরিমান দেখে সে আমাকে কি যেন একটা জিজ্ঞেস করলো। আমি ভাল বুঝলাম না। শুধু কানে এলো, "বেজিতারিয়ান" শব্দটি।

আমি খাওয়া শুরু করি। খাবার অতিমাত্রায় বিস্বাদ। প্লেনের খাবারের পর বুঝে গেছি যে সামনে কঠিন দিন আসছে। জিভটিকে পোষ মানাতে হবে। ভুলে যেতে হবে কতনা মজার স্বাদু খাবারের কথা। যেখানে যাচ্ছি, সেখানেও তো মানুষ থাকে, তারাও তো খাওয়া-দাওয়া করে। ওরা যদি পারে তাহলে আমিই বা পারবো না কেন? দেশ ছাড়ার যন্ত্রণাটি প্রতি মুহুর্তেই টের পেতে থাকি। দীর্ঘশ্বাস ছাড়া আর কিইই বা আছে করার?

টেবিলের পাশে খুটখাট শব্দে মুখ তুলে তাকাই। দেখি সেই ওয়েটারটি ফিরে এসেছে। তার হাতে একটি বড় প্লেট, তাতে অনেক রকমের ফল। বুঝলাম সে ভেবেছে যে আমি হয়তো নিরামিষাশী এক বেচারা , এজন্যেই এত কম খাবার নিয়েছি। আমার জন্যে তাই সে ফল নিয়ে এসেছে। একটু আগেই তাকে দেখে রাগে গা জ্বলে যাচ্ছিল, কিন্তু এখন তার মায়াময় হূদয়টিকে বড় ভাল লাগলো। আমার জন্যে এটা সে না করলেও পারতো।

ওইদিনে আমার আর একটি শিক্ষা হয়েছিল। পৃথিবীতে এখনো ভাল মানুষের সংখ্যা প্রচুর। তাইই বোধহয় এখনো সূর্য্য ওঠে, এখনো টিকে আছি আমরা সবাই। জীবনের প্রতিটি পথের বাঁকে দেখা মিলেছে এমনতরো আরো অনেক সহূদয় জনের।

প্লেটের ফলগুলো সব আস্ত আস্ত। কলা, কমলা, আপেল ইত্যাদি চেনা ফলের পাশাপাশি একটি ফল আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করলো। সেটি দেখতে অনেকটা লিচুর মতো, সাইজে অতটুকু বড়ই হবে। কিন্তু ফলটির গায়ে চুলদাড়ির মতো লম্বা লম্বা কি যেন বেরিয়ে এসেছে। এ আবার কি ফল হে বাপু?

ওয়েটারের দিকে প্রশ্নের দৃষ্টিতে তাকাই। সে একগাল হেসে বলে, "জুজুপ।"
জুজুপ! জুজুপ কি? সেটা কি এই ফলটির নাম? আবার জিজ্ঞেস করি তাকে। সে আবারো বলে,"জুজুপ।"

তাহলে এই ফলটির নাম জুজুপ হবে বোধকরি। যাকগে-সেটার চেহারা বিশেষতঃ ফলটির চুল-দাড়ি দেখে আর খেতে ইচ্ছে করলোনা সেদিন। প্লেট থেকে একটা আপেল আর একটা কলা নিয়ে নিলাম। পরে জেনেছি এই কিম্ভুতকিমাকার ফলটির নাম রামবুতান। ফলটি বোধহয় এখন বাংলাদেশেও পাওয়া যায়। খেতে ভারী চমৎকার। শুধু দেখতে না, স্বাদেও লিচুর কাছাকাছি মনে হয়েছে আমার কাছে।

খাওয়া ততক্ষণে শেষ। ভাবলাম দুটি ফল হাতে নিয়ে আমি আমার ঘরে ফিরে যাই। কিন্তু আবার একই সাথে মনে হোল এইই প্রথম দেশের বাইরে এলাম। এই যে আমি এই ব্যাংকক শহরটিতে এলাম, আমি কি এর কিছুই দেখবোনা? এটুকু জানতাম যে আমি এয়ারপোর্টের কাছেরই একটা হোটেলে আছি (কেননা হোটেলটির নাম ছিল এয়ারপোর্ট হোটেল), তার মানে হচ্ছে যে আসল ব্যাংকক শহর বেশ দূরে। রাতের বেলা একা একা সম্পূর্ণ অপরিচিত একটি শহরে ঘুরে বেড়ানোর মত সাহস ছিলনা আমার। কিন্তু নিদেনপক্ষে পায়ে হেঁটে হোটেলের আশপাশেও তো ঘুরতে পারি।

ফল দুটোকে পকেটে পুরে আমি হোটেলের বাইরে এসে দাঁড়ালাম।
এতক্ষণ টের পাইনি, এবারে টের পেলাম। ব্যাংকক এর আবহাওয়া ভয়ানক রকমের বাজে। ভ্যাপসা গরম। দু মিনিট দাঁড়ালেই কুলকুল ঘামে ভরে যাবে শরীর। সেটায় দমিয়ে দিলো আমাকে পঞ্চাশ ভাগ। তার উপর রাস্তায় দেখলাম প্রচড জোরে এবং বেপরোয়াভাবে মটর সাইকেল চালাচ্ছে লোকেরা। তারা রাস্তায় আটকে থাকা গাড়ীর মাঝখান দিয়ে বাউলি কেটে বেরিয়ে যাচ্ছে অবলীলায়।

পরে জেনেছি যে ওই বেপরোয়া মটর সাইকেল আরোহীরা নাকি ক্যুরিয়ার সার্ভিস এর লোক। ব্যাংককে ট্র্যাফিক এত বেশী জমে যায় যে ওরাই তখন একমাত্র ভরসা। মানুষ থেকে শুরু করে যেকোন কিছুই তারা নিয়ে যায় শহরের এক মাথা থেকে অন্য মাথায়।

ভেতো বাঙ্গালী আবার আস্তে আস্তে হোটেলের ভিতর ঢুকে পড়লো। যাই বাবা- ঘরেই ফিরে যাই বরং। শেষমেশ বিদেশ-বিভুঁইয়ে মটর সাইকেল চাপা পড়ে পৈত্রিক প্রাণটি হারানোর কোন মানে হয়না।

নিজের ঘরে ফিরে এসে মনটা কেমন যেন বিষন্ন হয়ে গেল আবারও। বুঝলাম আমার এতদিনের চেনা মানুষগুলো আর আমার কাছে নেই। এখন থেকে আমার যথার্থ একাকী জীবনের শুরু হোল। কেউ নেই সাহায্য করবার, কারো কাছে যেয়ে পাবোনা কোন সহানুভূতি বা পরামর্শ। এমন কেউ নেই যে আমার কাঁধে হাত রেখে বলবে, "এত চিন্তা করছিস কেন? সন কিছু ঠিক হয়ে যাবে।"

টিভিতে কিসব দেখাচ্ছে। ভিন্ন ভাষা, অপরিচিত সবকিছু। ভাল লাগলোনা। টিভি বন্ধ করে দিলাম।

পরদিন সকাল দশটায় আমার ফ্লাইট। তার মানে সকাল আটটার মধ্যে এয়ারপোর্টে গিয়ে পৌছালে ভাল হয়। তার মানে ভোর ছ'টার দিকে ঘুম থেকে ওঠা উচিত। অত ভোরে কি উঠতে পারবো? ঘুম কি ভাংবে আমার?

বিছানার পাশের টেবিলে ছোট্ট একটি ক্লক রেডিও। সেটায় এ্যালার্ম সেট করলাম ছ'টায়। কিন্তু এই পুঁচকে ঘড়ির আওয়াজে যদি ঘুম না ভাঙে?
ফোন তুলে কল করলাম হোটেলের রিসেপশনে। তাদেরকে বলে দিলাম আমাকে ভোর ছ'টায় ফোন করে জাগিয়ে দিতে।

এইবার কিছুটা নিশ্চিন্ত হ'লাম। ঘড়ির আওয়াজে যদি না উঠি, তাহলে হোটেলের লোকেরা তো আমাকে উঠিয়ে দেবে। কিন্তু মাথায় আবার দুশ্চিন্তা এলো। যদি আমি তাদের ফোনের আওয়াজ না শুনি? তাহলে? তাহলে কি হবে?

সিদ্ধান্ত নিলাম যে এইসব যন্ত্রপাতি বা অন্যলোকদের উপর ভরসা করে লাভ নেই। নিজের সমস্যা নিজেকেই মেটাতে হবে।

অতএব আজকের রাতে আমার ঘুমানো ঠিক হবে না। যদি আমি না ঘুমাই, তাহলে তো আর জাগার কোন সমস্যা থাকবেনা।

পোশাক বদলে বিছানার কম্বলের তলায় ঢুকে গেলাম। বাতি নিভিয়ে দিলাম বড় বড় চোখ মেলে তাকিয়ে থাকলাম ছাদের দিকে। এইভাবে থাকতে থাকতে কোন সময়ে যে ঘুমিয়ে গেছি তা নিজেও জানিনা।

হঠাৎ আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল। কোথায় যেন একটা খুট করে শব্দ হোল। ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর কিছুক্ষণ সময় লাগে সব কিছু বুঝে উঠতে। কোথায় আছি আমি?

এমন সময় হঠাৎ চোখের কোণা দিয়ে খেয়াল করলাম যে আমার ঘরের দরজায় ক্যাঁচ করে একটা শব্দ হোল। আস্তে আস্তে খুলছে দরজাটা। কেউ আমার ঘরে ঢুকছে। কে? চোর? ভয়ে আমার বুক হিম হয়ে গেল।

একসময় দরজাটা বেশ হাট করে খুলে গেল। কম্বলের তলা থেকে আমি দেখছি কে ঢুকছে আমার ঘরে? আড়চোখ সময় দেখলাম। ভোর সাড়ে পাঁচটা। এত ভোরে আমার ঘরে কে ঢুকছে?

ঘিরে আধো আলোয় দেখলাম, আমার ঘরে ঢুকেছে একটি মেয়ে। ও আল্লাহ্‌- এ আমি কি দেখছি? আমার ঘরে মেয়েমানুষ কেন? তখন মনে পড়লো কোথায় যেন পড়েছিলাম, প্রসটিটিউশনে ব্যাংককের কুখ্যাতি দুনিয়াজোড়া। তবে কি আমার ঘরে প্রসটিটিউট ঢুকেছে?

এখন আমি কি করবো?
ভয়ে আর আতংকে আমার বুকের রক্ত হিম হয়ে গেল।

মেয়েটি আমার বিছানার কাছে এগিয়ে আসে। কোন এক ক্ষমতাবলে সে টের পেয়েছে যে আমি জেগে আছি।
আমার বিছানার খুব কাছাকাছি এসে মেয়েটি মৃদুস্বরে বলে, "এক্সকিউজ মি স্যার, আপনি কি জেগে আছেন?"

(বাকী অংশ পরের পর্বে)
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুন, ২০০৮ ভোর ৪:০৫
৩০টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×