অধিক সন্ন্যাসীতে গাজর নষ্ট
এক
এক বনে ছিল একটি বাঘ। বাঘটি ছিল খুব রাগী। যাকে বলে বদরাগী। কারনে ও
কারনে পশুদের উপর হামলা করে সবাইকে তটস্থ করে রাখত। ক্ষিধা লাগলে হরিন
ধরে ধরে খায়। খা বাবা। ক্ষিধা লেগেছে তো পেট ভরে হরিনের মাংস খা। কিন্তু
কেন রে বাবা তুই বিনা কারনে অন্য প্রানির উপরে হামলা করিস।
বনে সবাই বসল বাঘকে কিভাবে শায়েস্তা করা যায় তার উপায় বের করার জন্য্।
সভাপতি শিয়াল বলল, কার সাহস আছে এই বাঘকে শায়েস্তা করতে পারো। হাতি,
ঘোড়া, সজারু, মহিষ, হরিন, খরগোশ, কচ্ছপ, প্যাঁচা, বেজি, গন্ডার, মুখপোড়া
হনুমান , ব্যাঙ, ময়ুর, বানর সবাই একে অন্যের মুখ চাওয়া চাওয়ী করল।
হাতি আর ঘোড়া প্রথমেই অস্বীকার করল।
সবার মুখ রক্ত শূন্য। শিয়াল গন্ডারের দিকে তাকালে গন্ডার বলে ওরে বাবা আমি পারব না।
খরগোশ বলে সজারুর গায়ে বিষক্ত কাটা আছে। এই কাটা বাঘের পায়ে দিয়ে হুল
ফুটিয়ে দিলে বাঘ হাততে পারবে না।
সবাই এক যোগে হুম হুম করে উঠে।
সজারু সাহস পায় না সে বলে এত বড় বাঘের সাথে আমি লড়াই করে পারব না।
বাঘ আমারে দেখতেই পারে না। কাছে যাব কিভাবে।
তার চেয়ে ভালো হয় ময়ুর যদি ওর সুন্দর পেখম মেলে নাচ দেখায় বাঘ মুগ্ধ হয়ে
যাবে। এই সময় বানর, শিয়াল ক্চছপ গিয়ে বাঘের চোখ তুলে দিবে। তারপর আস্তে
আস্তে বাঘ না খেয়ে দুবর্ল হয়ে মরে যাবে।
কারো প্রস্তাব মনোপূত হলো না। স্বীধান্ত ছাড়াই সভা শেষ হলো।
সভা ভেঙ্গে যাওয়ার শেষ মূহুর্ত্বে ব্যাঙ গ্যাং গ্যাং ডেকে বলল, আমি বাঘকে
শায়েস্তা করব। সভা জুড়ে হাসির রেশ ছড়িয়ে পড়তে লাগল। হেসে সব বন্য প্রানী
খুন!
শিয়াল বলে হু! হাতি ঘোড়া গেলো তল ভেড়া বলে কত জল।
ব্যাঙ বলে কথায় নয় কাজে পরিচয়।
দুই
বাঘ প্রতিদিন যে পথে আসা যাওয়া করে সেই পথের পাশে একটা বড় পাথরের পিছনে
ব্যাঙ বসে বাঘের জন্য আপেক্ষা করতে লাগল। বাঘ হুংকার ছেড়ে আসে।
তাই রে তাইরে না !তাই রে তাইরে না !
পুরো বন যেন কেঁপে উঠতেছে।
বাঘ যখন ব্যাঙের সামনে আসে তখন ব্যাঙ বলে এই বাঘ দাড়া। তুই বিনা কারনে
প্রানীদের উপর অত্যাচার করিস কেন।
তোর বিচার হবে।
বাঘ প্রথমে ভয় পায় । পরে বিরক্ত হয়। এই পুচকে ব্যাঙ তুই আমাকে দমকাচ্ছিস।
তোর সাহস তো কম না।
ব্যাঙ বলে চিৎকার করো না, দেয়ালে পিট ঠেকে গেলে রুখে দাড়ায় আক্রান্ত দূর্বল।
এই বনে এখন আমি যা বলব তাই হবে। তোমার কথার দাম নাই। মানে
আমি বড়। তুমি ছোট। না তুমি ছোট আমি বড়। তুমি আমার কথা শুনবা।
না তুমি আমার কথা শুনবা।
ঝগড়া করে লাভ নেই। আসো আমরা পরীক্ষা দেই।
পরীক্ষায় যে জিতে সে হল বিজয়ী।
বাঘ দাম্ভিকতা দেখিয়ে বলে আচ্ছা চল পরীক্ষা দেই। সামনে একটা খাল ছিল।
এই খালটা লাফিয়ে যে ওপারে যেতে পারবে সে বড় আর যে পারবে না সে অন্যের কথা
শুনতে বাধ্য।
ব্যাঙ বলে রাজি। কে আগে লাফ দিবা। তুমি না আমি। বাঘ বলে আমি আগে দেই। বাঘ
লাফিয়ে ওপারে চলে গেল। পিছনে ফিরে তাকিয়ে বলে, কই ব্যাঙ কই তুমি। দাও তো
দেখি একটা লাফ।
ব্যাঙ বলে পিছনে তাকাচ্ছ কেন দেখ আমি তোমার সামনে।
বাঘ বিমরি খায় বলে অ্যা
তুমি সামনে আসলা কিভাবে।
যাই হোক তুমি তো হেরে গেলা তাইনা। শর্ত মনে আছে।
বাঘ বলে ভাই আমারে ক্ষমা করে দাও। আমি আর অন্যায় করব না।
ব্যাঙ মুখ থেকে একটা পশম টেনে হাতে ( সামেনের পা) নিয়ে বলে এই দেখ গতকাল
একটা বাঘ খেয়েছি। এখনও পশম আমার মুখে লেগে আছে।
বাঘ ভয় পেয়ে ভোঁ দৌড় দেয়।
দৌড়াতে দৌড়াতে হাফিয়ে যায়। পথে শিয়ালের সাথে দেখা । শিয়াল বলে, মামা
দৌড়াচ্ছ কেন। বাঘ বলে বনে একটা ঠাক এসেছে। আমাকে খেড়ে ফেলবে। আমি পালাই।
শিয়াল বলে আরো বনে তো তুমিই সেরা । তোমার উপর কে আছে।
চল টাকটা দেখে আসি।
বাঘ বলে না বাপু আমি পারব না তুম যাও।
শিয়াল বলে তুমি আমাকে ওর কাছে নিয়ে চল। বাঘ বলে পারব না। শিয়াল বলে এই
প্রমিজ আমি তোমাকে ছেড়ে পালাব না।
তোমার লেজ আর আমার লেজ শক্ত করে বাধলাম।
বাঘ শিয়াল খালের ওপারে চলে আসে। বাঘ ব্যাঙকে দেখিয়ে বলে ওটা। শিয়াল বলে
ওটা তো পুচকে ব্যাঙ।
পায়ের নিচে চাপা দিয়ে ভেঙ্গে দিব ওর ঠ্যাং।
ব্যাঙ ভয় পায়। সেরেছে। এই মুশকিল কোথা থেকে আসল।
সাহস না হারিয়ে ব্যাঙ আবার বলে, কিরে শিয়াল তোকে সেই কখন পাঠিয়েছি বাঘকে
ধরে আনার জন্য এত দেরী করলি কেন।
ওহ! ক্ষুধায় পেট চোঁ চোঁ করছে।
বাঘ এই কথা শুনা মাত্র আবার দৌড়। শিয়াল বলে থামতে বাঘ দেয় আরো জোরে দৌড়।
শিয়াল কখনও এই গাছে আঘাত পায় আবার ওই গাছে।
এই পাহাড়ে আবার ওই পাহাড়ে। বাঘ বন ছেড়ে অন্য বনে চলে যায়।
এতক্ষনে শিয়াল মরে যায়। বনের সব পশুদের কাছে এই খবর যায়।
ব্যাঙকে ফুলের মালা দিয়ে সবাই বরন করে নেয়।
প্রশ্ন: ব্যাঙ কিভাবে খাল পেরুল বাঘের আগে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

