সাঈদ আন্ডার গ্রাউন্ড হত্যাকাণ্ডের শিকার: এদিকে নিহত হাসান সাঈদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, প্রতিপক্ষ রুমানার সহযোগীরাই কারা কর্তৃপক্ষের সাহায্যে কৌশলে তাকে সরিয়ে দিয়েছে। নিহতের ভাই ফারুক হাসান শাওন বলেন, হাসান সাঈদের জামিনে মুক্তির বিরোধিতাকারীরাই পেশাদার খুনি দিয়ে সাঈদকে হত্যা করেছে। তাদের দাবি, হাসান সাঈদের মৃত্যুর পর থেকে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছিল। প্রথম দিকে আত্মহত্যা পরে স্ট্রোক করে মারা যাওয়ার তথ্য দিয়েছে। এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। ফারুক বলেন, যদি সাঈদের হার্ট অ্যাটাকেই মৃত্যু হয়, তাহলে কারাগারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কেন প্রথমে ফোন করে মুখে পলিথিন ও কম্বল জড়ানো অবস্থায় বাথরুমে লাশ পাওয়ার কথা বললেন? তাহলে বাথরুম থেকে বিছানায় লাশ এলো কিভাবে? কারও অপমৃত্যু হলে তো সুরতহাল হওয়া ছাড়া লাশ সরানোর কথা নয়। তার হাতের দাগ এলো কোথা থেকে? তার পরনে প্যান্ট কেন? ওই রাতে পিজি হাসপাতালের প্রিজন সেলে কারা ঢুকেছিল? কেন ঢুকেছিল? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে পারলেই সাঈদের মৃত্যু রহস্য পরিষ্কার হয়ে যাবে। নিহতের খালু রফিক উদ্দিন বলেন, হাসান সাঈদের মানসিক অবস্থা খুবই শক্ত ছিল। সে এতটা হতাশাগ্রস্তও ছিল না। এছাড়া কারা হেফাজতে কেউ বাথরুমে ঢুকলে বাইরে কারারক্ষীর দাঁড়িয়ে থাকার কথা। এছাড়া বাথরুমের দরজার উপরে-নিচে খোলা থাকে। ভেতরে কেউ আত্মহত্যার চেষ্টা করছে কিনা কারারক্ষীরা তা দেখে। এ ক্ষেত্রে দেখলো না কেন? তিনি বলেন, ঘটনার পর পরই বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলের ১১ জন কারারক্ষীকে তাৎক্ষণিক সরিয়ে নেয়া হয়। লাশ নেয়ার অনুমতি নেয়ার জন্য পিতা সাঈদ আহমেদ কবীর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে গেলে জেলার আলতাফ হোসেন ‘এই মৃত্যু বিষয়ে কোন অভিযোগ নেই’ মর্মে লিখিত নেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সাঈদের পিতা তাতে স্বাক্ষর না করে সুষ্ঠু তদন্ত চাই লিখে স্বাক্ষর করেন। রফিক উদ্দিন বলেন, এসব ঘটনা ও ঘটনার পরম্পরায় মনে হয়, এটি আসলে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। হাসান সাঈদের শ্বশুর পক্ষের কেউ কারা কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে আন্ডার গ্রাউন্ড কিলিং ঘটিয়েছে। অথবা প্রিজন সেলের হাসান সাঈদের কক্ষে বিডিআর বিদ্রোহের আসামি ইউসুফ কিংবা পাশের কক্ষের একাধিক হত্যা মামলায় ৩১ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি অপু এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। অর্থের বিনিময়ে তাদের দিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হতে পারে। নিহতের মা হাসিনা কবির বলেন, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গাড়িচালক আনোয়ারকে দিয়ে প্রিজন সেলে হাসান সাঈদের জন্য খাবার পাঠানো হয়েছিল। এ সময়ও কারারক্ষীরা গাড়িচালক আনোয়ারকে তার মৃত্যু সম্পর্কিত কোনও খবর জানায়নি। তার অভিযোগ, সাঈদের মৃত্যু নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষ এত লুকোচুরি এবং নাটকীয়তা করেছে কেন? নিশ্চয় এর পেছনে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে। আমেরিকা প্রবাসী বোন সামিরা হক বলেন, আমরা ময়না তদন্ত রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি। কিন্তু এ রিপোর্টও পাল্টে ফেলা হবে কিনা তারও কোনও নিশ্চয়তা নেই। তবে সাঈদের মৃত্যুর পেছনে কোনও একটা রহস্য যে রয়েছে তা শতভাগ নিশ্চিত বলে মনে করেন তিনি। গত সোমবার ভোর ছয়টার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক রুমানা মনজুরের স্বামী হাসান সাঈদের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। এর আগে গত ১৫ই জুন স্ত্রী রুমানাকে নির্যাতনের অভিযোগে তিনি গ্রেপ্তার হলে কয়েক দফায় রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



