আজকে আমার ২৪ বছর হয়ে গেল।এখন যা ভাবছি সেটা গত পাঁচ ছয় বছর ধরে এই দিনে ঘুরে ফিরে মাথায় আসে। মানুষ বছর হিসেব করা শুরু করল কেন ?প্রতি বছর ৩৬৫ দিন ৬ ঘন্টায় পৃথিবী সূর্যকে ঘুরে আসে। তাহলে কি আজকের দিনটিতে পৃথিবী যেখানে আছে, আমার জন্মের সময়ও কি সেখানে ছিল ?এটা হওয়ার সুযোগ নেই, কারন সূর্য ও তার কক্ষপথে ঘুরছে, কে জানে কাকে ঘিরে। সে ব্যাটা হয়তো অন্য কাউকে ঘিরে ঘুরছে, ঘুরাঘুরির শেষ হয় না। প্রতি বছরই এই পর্যন্ত এসে খেই হারিয়ে ফেলি, কি নিয়ে যেন ভাবছিলাম...
ছোটবেলায় জন্মদিন কত ছোট ছিল ! একটা ছোট কেক ছোট ছোট হাত দিয়ে ধরে ধরে কাটতাম।কেকটা অতি সাধারন,কখোনোই তাকে ঘিরে ক্রীমের আস্তরন থাকত না।বাবা মা আর ভাই, ছোট বোনটা তখনো পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়নি। সবাই হাততালি দিত, আম্মু একটা আদর দিত।আমি সবাইকে সালাম করতাম। অনেক অনেক বছর আগের ঘটনা সেগুলো।
আব্বু একটা চমৎকার জিনিস চালু করল। জন্মদিনগুলোতে আমরা বাইরে খেতে যেতাম, আমরা পাঁচ জনের ছোট পৃথিবী। এটা এখনো চালু আছে, ছোটখাট পরিবর্তন সহ।এটা আমরা করতে পারলাম কারন ততদিনে আব্বুর বেতন বেড়ে ফালতু খরচ (বাইরে খেতে যাওয়া) করার মত অবস্থায় পৌঁছেছিল।
নাইন টেন কিংবা উচ্চমাধ্যমিক যখন পড়ি তখন বাবা মা থেকে কিছুটা দূরে।বন্ধুবান্ধব ই তখন বাবা মা।কাজেই খাওয়াও ।উপায় নাই, না খাওয়ালে চাবায়ে খেয়ে ফেলবে।ছয়মাস আগে থেকে টাকা জমানো শুরু করতাম। পঞ্চাশ জনের ছোটখাট দলটার জন্য ১০০০ টাকাই যথেষ্ট ছিল, কিন্তু টাকা তখন এখন কার মত এতটা সস্তা ছিল না।কিছু করার নেই,অন্যদের জন্মদিনে আমিই ছিলাম পান্ডা।দিনটা ভালই কেটে যেত।বন্ধুদের শুভেচ্ছা জানানোর ধরন সব সময় আলাদা।বেশির ভাগই হাত ব্যবহার করত, তবে কেউ কেউ পা দিয়েও হ্যাপি বার্থ ডে বলে দিত।দিনটা তাই ভালই কেটে যেত
মোবাইল আর ইন্টারনেট মাঝে মাঝে খারাপ লাগে। অনেক ভন্ডামি চলে এখানে। মেকি ভদ্রতা আমি করতে চাই না, কেউ আমার সাথে করলে সেটাও ভাল লাগে না। অন্যরা হয়তো অন্যভাবে দেখেন, কিন্তু আমার ভাল লাগে না।এখন একাধিক কেক কাটতে হয়,অনেক মানুষকে খাওয়াতে হয়, তাদের মাঝে কেউ কেউ থাকে যাদের কখোনো দেখিনি। বাসার কেকটা কোথায় হারিয়ে গেল ?
আজ রাতে চীনা রোস্তরায় খেতে যাব। আমরা পাঁচজন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


