somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার হল জীবন: কিছু স্মৃতি রোমন্থন

২৩ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাবা সরকারী চাকুরে, তাই দেশের বিভিন্ন এলাকায় কেটেছে আমার শৈশব, আর প্রাইমারী স্কুল ও সেভাবে শেষ হয়েছে। ক্লাস এইটে উঠলে আমাদের শহর সাতক্ষীরার সরকারী বালিকা বিদ্যালযে ভর্তি হই এবং সেখান থেকেই এসএসসি পাস করি। বাবা ততদিনে বদলী হয়েছেন খুলনায়। এসএসসি পাশ করে চলে আসি খুলনায় এবং খুলনা সরকারী মহিলা কলেজে ইন্টারমিডিয়েট ভর্তি হই। বাসা থেকে কলেজের দুরত্ব এক কিলোমিটারের ও কম, তাই বাসায় থেকেই ক্লাস করতাম।
জীবনের প্রথম মেস জীবনের স্বাদ পাই ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ঢাকায় কোচিং করতে এসে। ফার্মগেটের একটা মেসে থাকতাম আমরা আট বান্ধবী। কিন্তু একমাস যেতে না যেতেই আমার নাভিশ্বাস। এর মধ্যে আম্মা দুইবার এসে ঘুরে গেছেন তারপর ও কোন লাভ হয়নি। এক মাস যেতেই সিদ্ধান্ত যা হয় হবে আর মেস নয় এবার ঘরে ফিরব, তাই ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে ফিরে গেলাম খুলনায়।
তারপর প্রস্তুতি শুরু খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য। ভর্তি পরীক্ষা শেষে চান্স ও পেলাম। তখন ও বাসায় থাকি, প্রথম দিকে বাসায় থেকেই ক্লাস করতাম। হটাৎ বাবার ট্রান্সপার রংপুরে, কি আর করা সমাদান একটাই হলে উঠা।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের তখন একটাই হল (এখন ও একটাই তবে দোতলা হয়েছে)। একতরা এই ভবনে ফার্স্ট ইয়ারে সিট পাওয়া সম্ভব নয়। আম্মু কথা বলল দূর্ভাষীর সাথে, দূর্ভাষী তখন ক্যাম্পাসে সিনিয়র এবং বেশ প্রভাবশালী (না তাকে তুষ্ট করার জন্য বলছি না)। সে এবং সেতু দু'জনে মিলে আমার জন্য একটা সিটের ব্যবস্থা করে দিল। একদিন বিকাল বেলা ব্যাগ এন্ড ব্যাগেজ হাজির হলাম খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রঅ হলে। গেস্ট হাউজ পর্যন্ত দূর্ভাষী এবং সেতু আমার সাথে, সেখানে প্রভোস্ট স্যারের সাথে ওরা কি কথা বলল ওরাই জানে, স্যার দেখলাম আমার ব্যাপারে যথেষ্ট কেয়ারিং। হলের খালার পিছু পিছু সেদিন আমার সিটে পৌছলাম। রুমে গিয়ে দেখি চারজনের সিট একটা রুমে। আমার সিট টা জানালার কাছে। রুমে অন্যদের সাথে পরিচিত হলাম, সবাই থার্ড ইয়ার বা ফোর্থ ইয়ারের, এদের মধ্যে একজন আবার দূর্ভাষী এবং সেতুর বান্ধবী। যাই হোক সেই আপু আমাকে আমার সিট ও লকার দেখিয়ে দিল। দেখলাম চারজনই আছি আমরা আমাদের রুমে। ভাবলাম যাক যা মুনেছি তাহলে তা মিথ্যা, ডাবলিং করতে হবে না। :)
কিন্তু মানুষ ভাবে এক আর হয় আর এক! :(( সন্ধ্যার পরেই দেখলাম আর ও তিনজন রুমে এলেন এবং যথারীতি আমার সিনিয়র। আমাদের ডিপার্টমেন্টের শুধু আমি একা তখন হলে। সমস্ত হলে ফার্স্ট ইয়ার আমরা মাত্র সাতজন!:P
রাতে আপুর সাথে ক্যান্টিনে খেতে গেরাম, কিন্তু খাবার আমার মুখ দিয়ে আর ভিতর দিকে যায় না। এমন খাবার আমি জীবনেও খাইনি। কোন রকম খাওয়া শেষ করে রুমে এলাম, সবার সাথে পরিচিত হতে এবং গল্প করতে সেদিন রাত ১২ টা বেজে গেল, এরই মধ্যে দেখলাম দূর্ভাষীকে ফোন করেছে আপু। আর আমার কাওয়ার বিবরন দিচ্ছে। একটু পরে দূর্ভাষী আমার ফোনে ফোন করে বলল চিন্তার কিছু নেই, আগামীকাল থেকে খাবার পাল্টে যাবে।
রাতে বাকীরা সবাই তিনটা বেডে আর আমি একা এক বেডে ঘুমালাম। সকালে উঠে নতুন বিড়ম্বনায় পড়লাম, বাথরুমে যেতে সিরিয়াল দিতে হলো। আমার আবার আট টায় ক্লাস ছিল। যাই হোক ছুটতে ছুটতে ক্লাসে গেলাম। দুপরের পর থেকে টানা সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত ক্লাস থাকায় অন্য কোনদিকে তাকানোর সময় পাইনি। সন্ধ্যায় রুমে ফিরে দেখি রুমে একটি হিটার, হাড়ি পাতিল এবং চাল ডাল সহ বিভিন্ন সব্জী। একটু অবাক হলাম, এগুলি তো আগে ছিলনা। এমন সময় দূর্ভাষীর ফোন, রিসিভ করতেই বলল হাড়ি পাতিল চেক করে দেখ কি রান্না হয়েছে। দেখি ইলিশ মাছ ভাজি এবং অন্য একটা সব্জি রান্না হয়েছে এবং কমপক্ষে আট দশজন ভালো মত খাওয়া যাবে। জিঞ্জাসা করলাম ঘটনা কি! জানালো এখন থেকে প্রতিদিন দুপুরে এবং রাতে হলেল এক খালা আমাদের সবার রান্না করে দিয়ে যাবে। বাজার করার দায়িত্ব আমাদের। ব্যস, খেতে বসে গেলাম, সত্যি খালা রান্না করত ও দারুন। এরপর থেকে বাজার আমরা ও করতাম, আর বেশী করত দূর্ভাষী।

(ক্রমশ)
২৪টি মন্তব্য ২৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×