প্রথমপর্ব
দেখতে দেখতে হল জীবনের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে শুরু করলাম। প্রতিদিন সকালে উঠে ফ্রেশ হয়ে দৌড়ে চলে যেতাম ক্যান্টিনে গরম গরম পরোটার লোভে, সব্জী আর ডিম দিয়ে সকালের নাস্তা সেরে আস্তে আস্তে ক্লাসে আসতাম। আ র যেদিন সকাল আটটায় ক্লাস থাকত সেদিন নাশতা না করেই বের হতাম। ক্লাস শেষে দল ধরে ক্যাফেটরিয়ায় বসে নাশতা করা। দলের মধ্যে থেকে কেউ একজন প্রত্যেকের ফরমায়েশ অনুযায়ী টাকা সংগ্রহ করে কাউন্টার থেকে টোকেন নিয়ে জমা দিতাম ক্যাফেটরিয়ার নির্ধারিত জায়গায়। তারপর নিজে হাতে প্লেটটি নিয়ে টেবিলে। সে সময় টেবিলে জায়গা দখল করা নিয়ে চলত রীতিমত যুদ্ধ্। ক্যাফেটরিয়ার পাইকারী চা থেতে ভালো লাগত না, তাই নাশতা সেরে চলে যেতাম তপন দার চায়ের দোকানে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে তপন দা'র চায়ের দোকানে যে চা না খেয়েছে সে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রী কি না আমার যথেষ্ঠ সন্দেহ আছে। ঘাসের উপর বসে তপন দা'র দোকানের চা খাওয়ার জুড়ি মেলে না।
এরপর অফ পিরিয়ডে তপন দা'র দোকান বা ক্যাফেটরিয়া বা শহীদ মিনারে বসে আড্ডা, হাতে সময় বেশী থাকলে খানজাহান আলী হলের পাশে দাদা'র লেবু চা খাওয়ার মজাই ছিল আলাদা। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে দাদা'র লেবু চা ছিল বিখ্যাত, প্রথমে দেখে আপনি বুঝতে ও পারবেন না ওটা চা না শরবত, কিন্তু একটা চুমুক দিতেই আপনি নিশ্চিত দাদা'র ভক্ত হয়ে যাবেন। এবার খুলনায় এসে ক্যাম্পাসে গিয়ে বড় আশা নিয়ে গিয়েছিলাম দাদা'র লেবু চা খেতে, কিন্তু দূর্ভাগ্য দাদা তার দোকানটি বন্ধ করে দিয়েছেন এবং বর্তমানে কোথায় আছেন আশপাশের কেউ জানাতে পারল না।
দুপুরবেলা বেশীরভাগ দিন হলে লাঞ্চ করতাম, খারা রান্না করে রেখে যেতেন। কোনদিন মাছ বা কোনদিন মাংস। সব্জী প্রতিদিনই থাকবে আর ডাল তবে ক্যান্টিনের মত পাতলা নয়। কোন কোনদিন দূর্ভাষী আগে থেকে বলে রাখত, আজ ডাইনিং এ খাব না, খালার রান্না খাব ব্যবস্থা করে রাখবে। দুপুরে নিজে খেয়ে দূর্ভাষীর জন্য খাবার নিয়ে আবার বের হতাম ক্লাসের উদ্দেশ্যে।
ক্লাস শেষে দল ধরে সবাই বিকাল পাঁচটার বাসে উঠে পড়তাম, এক একদিন একে এক রুটে। সারা রাস্তা হই হুল্লোড় করতে করতে আবার ফিরে আসতাম ক্যাম্পাসে সন্ধ্যা বেলায়। তারপর তপন দা'র দোকানের গরম সিংগাড়া আর চা খেয়ে হলে ব্যাক।
(ক্রমশ)
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


