ডিগ্রী ফাইন্যাল শেষে দেশে ফিরিয়াই সবার প্রথমে মস্তিষ্কে যেই সুবুদ্ধির উদয় হইলো, তাহা হইতাছে যে মেঘে মেঘে তো অনেক বেলাই গড়াইয়া গেলো, এইবার একখানা প্রেম করা অতীব জরুরী হইয়া দাড়াইয়াছে। যেই ভাবা সেই কাজ। বসিয়া হিসাব করিতে লাগিলাম কি করিলে কি হইবে। দেখিলাম প্রেমের সমীকরণ অতীব সরল।
১. পছন্দের পাত্রী বাছাইকরণ
২. পরিচয় পর্ব
৩. অতঃপর সুযোগ বুঝিয়া প্রেম নিবেদন
এহেন সহজ একখানা কর্ম কেন আমি এতদিনেও সাধন করিতে পারিলাম না, কেন কন্যাজাতির সামনে গেলেই আমার হাত পা শক্ত হইয়া আসিত এবং মুখে কোন কথা ফুটিতো না, এইসব ভাবিয়া আমি মনে মনেই একচোট হাসিয়া লইলাম। চোখের সামনে ভাসিয়া উঠিলো অতীতের বহুবিধ কন্যাকর্তৃক বিব্রত হইবার স্মৃতি। এবং কঠিন মনে সিদ্ধান্ত লইলাম যে এইবার একটা হেস্তনেস্ত করিয়াই ছাড়িবো।
অতএব শুরু হইলো আমার প্রেম-প্রকল্প বাস্তবায়নের মহান প্রচেষ্টা। সুযোগ্য কন্যার খোঁজ লইতে গিয়াই টের পাইলাম এই বিষয়ে আমার ছোট ভাই হইতে অভিজ্ঞ এবং উপযুক্ত লোক অত্র এলাকায় আর দ্বিতীয়টি নাই। আশেপাশের কয়েক বর্গকিলোমিটার অঞ্চলে কলেজ পড়ুয়া এমন কোন কন্যা নাই যাহার নাড়িনক্ষত্র ইহার অবগত নাই। এবং উহাদের বেশিরভাগই কোন না কোনভাবে আমার ভাইয়ের বান্ধবী গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। যাই হোক, ছোট ভাই-বোনেরাই প্রেমের ক্ষেত্রে সব চেয়ে বড় সহায়ক হইয়া থাকে, এই আশায় উদ্দীপিত হইয়া পাকড়াও করিলাম আমার ছোট ভাইকে। সব শুনিয়া ঠোটের কোনে ব্যাঙ্গাত্বক এক হাসি ঝুলাইয়া ও বলিলো ইহা তো কোন ব্যপারই না। দুই দিনেই ও মুশকিল আসান করিয়া দিবে। শুনিয়া আমিও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলিয়া মনের সুখে মান্ধাতার আমলের প্রেমের গান গুনগুন করিতে করিতে দিন গুজরান করিতে লাগিলাম।
যথাসময়ে পাত্রীর খবর লইয়া আমার ছোট ভাইয়ের উদয় হইলো। তাহার কাছ হইতে যতোই পাত্রীর রূপের বৃত্তান্ত শুনি, আবেগে উত্তেজনায় আমার নিঃশ্বাস ততোই বন্ধ হইয়া আসে। স্পষ্ট টের পাইলাম যে ইহাকেই এতোদিন আমি মনে মনে খুঁজিয়া আসিতেছিলাম। কন্যার স্বপ্নে বিভোর হইয়া বেশ কয়েকখানা হার্টবিট মিস করিবার পরে সিদ্ধান্তে উপনীত হইলাম যে এই কন্যার সহিত যেই করিয়াই হোক পরিচিত হইতেই হইবে।
পরের পর্বের লিঙ্কঃ প্রেম প্রচেষ্টা - পর্ব ২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

