চাকরীটা পেলে সে কি করবে ভাবতে লাগল। তানজিলকে জানাতে হবে। ব্যাটা চাকরী আছে বলে সে কি ডাট। বিলাসিতা কাকে বলে তা ওকে দেখলে বোঝা যায়। ১৮ হাজার তো বেশী না। দেখ ব্যাটা আমি ২০ হাজার টাকার চাকরী করি।
নীলাকে জানাবে....তবে ওকেও বুঝতে হবে যে শামসু এখন আর হেলা ফেলার বিষয় নয়। মেয়েটা ভাল করেই জানে যে শামসু তাকে পছন্দ করে অথচ এমন ভাব দেখায়... ওকে সরাসরি প্রপোজ করলে কেমন হয়...? যদি ফোন করে বলে, "চাকরীটা আমি পেয়ে গেছি নীলা শুনছ?" ব্যাপারটা মনে করে হাসি পেল শামসুর।
একটা বার্গার অর্ডার করে খেয়ে নিল। পানি টা খেতে কেমন বিস্বাদ লাগল। চাকরীটা হোক, তারপর সাথে মিনারেল ওয়াটার নিয়ে ঘুরবে তানজিলের মত। শালা বাইরের পানি খায়না। শামসুর মতো মানুষদের সে কি মানুষ মনে করে না?
সকাল সকাল রিক্সার ঝামেলাটা না হলে ভালই হতো। এখন কোনো রিক্সা পাওয়া যাচ্ছে না। ভিড় ঠেলাঠেলি করলে শার্ট এর ইস্ত্রিটা নষ্ট হয়ে যাবার আশঙ্কা আছে, দেখা যাবে জুতার উপর পাড়া দিয়ে একজন দাড়িয়ে আছে। তাই বাস ধরাও ঝামেলা। ঘড়ি দেখল শামসু। ইন্টারভিউয়ের টাইম ১১:৩০ অথচ এখন বাজে১১টা। বাস না ধরলে আধা ঘন্টায় পৌছানো সম্ভবও না। রাস্তায় এখন পর্যাপ্ত জ্যাম আছে। রাজ্যের মানুষ তার দিকে তাকিয়ে আছে। যেন সে চিড়িয়াখানার একটা চিড়িয়া। পায়ে জুতা, গলায় টাই , তার নিজেরও কেমন দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হয়।
কোনোমতে একটা বাসের দরজায় ঠাই নেয় শামসু। আকাশে প্রচন্ড রোদ। অবশ্য এখন সেদিকে তাকাবার সময় নেই। কোনোমতে সময় মতো যেন সে পৌছাতে পারে সেই চিন্তাই মাথায় ঘুরপাক খেতে লাগল। রাস্তায় যথেষ্ট জ্যাম। গাড়িগুলো যেন নড়তে চায় না। শামসুর মনে হয়, সারা ঢাকা শহর যেন তাকে নিয়ে উপহাস রচনা করছে। সে এই উপহাস নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছে। আকাশে প্রচন্ড রোদ, প্রচন্ড গরমে দরদর করে ঘামতে থাকে শামসু...
(চলবে)
পড়ুন প্রথম পর্ব নিচের লিংক হতে....
শামসু ব্যাচেলর-১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

