রোদ,পাথর,মোস্ট ওয়ান্টেড আর আমাদের সর্দি-জ্বর.......
পাঁচফোড়ন.............
আমাদের প্রত্যেক টা চোখ ভরপুর ছিলো স্বপ্ন আর সংশয়ে।চেনা-জানার মধ্যে কেউ নেই।
কয়েকজন মাত্র সদ্য মাতৃক্রোড় ছেড়ে এসেছে, গায়ে লেগে আছে জননীর আগলে রাখার চিহ্ণ আর তদকারণে ক্রমশঃ জমে উঠা অসহায়ত্ব!কি শুকনো শুকনো মুখ সবার!!
আমরা কয়েকজনের সেই করুণ অবস্থা টা ছিলো না।সেই কবে হাই স্কুলের গন্ডি ছাড়িয়ে বাড়ি ছেড়েছি।বাকি টা সময় মেসে মেসে,কখনো বুয়ার হাতে অখাদ্য খেয়ে,কখনো চুরির দায়ে বুয়া খেদিয়ে নিজেই বুয়া সেজে।
সাতসকাল থেকে রাত অবধি কেউ সারারাত কুউউ ঝিকঝিক করে রাজধানী ছাড়িয়ে,কেউ শহরের মেস থেকে ব্যাগ,বই,বেডিং,বেডিং ভর্তি ছারপোকা আর চোখভরা স্বপ্ন নিয়ে ঢুকতে থাকি আমরা ছাত্রাবাস নামের খুপড়ি ঘর গুলোয়!!
ভার্সিটির প্রথম দিন টির কথা বলছি।নির্ধারিত কক্ষের দরোজা খুলে ময়লার স্তূপ দেখে অসহায় হয়ে চেয়ে থাকা,স্যাঁতসেঁতে দেয়াল,মাকড়সার ঝুল,টিকটিকির আড্ডা,জঙ্গলময় পরিবেশ আর ছাত্রাবাসের পেছনেই কবরস্থান..সব মিলিয়ে অদ্ভূত একটা স্মৃতি!!
ষষ্ঠীকালের মোহক্ষয়.............
আমরা তখনো পরিচিত হয়ে উঠি নি ভালো ভাবে।কিংবা বলা যায় সম্পর্ক টা সবে মাত্র বাথরুমে তাড়াহুড়োয় ধাক্কা খেয়ে হুড়মুড় করে স্যরি বলার পর্যায়ে।যেন,স্যরি টা যথাসময়ে না বলা হলে থমকে দাঁড়াবে সময়।সময় থামিয়ে দেয়ার মানসিকতা কারোর ছিলো না ।
অবশ্য মানসিকতা টা হয়ে যেতে খুব একটা সময়ও লাগে নি!!!
মেইন হলে সীট সংকুলান না হওয়ায় জঙ্গলে ঢাকা প্রায় নিঃসঙ্গ শহুরে মেসের মত টানা একতলা সেমি পাকা ঘরে গাদাগাদি করে থাকতে দেয়া হয়েছিল।
গ্রামের দিকে একটা প্রবাদ শুনতে পাই, 'ছাল নাই কুত্তার,নাম রাখছে বাঘা'!!
জীর্ণ-শীর্ণ বিল্ডিংটার নামও ছিলো বাঘা টাইপ!! "শহীদ শাহ বর্ধিতাংশ ছাত্রাবাস।"
শুরুর দিকে আমাদের সব কিছু তে ছিলো,অপরিসীম আগ্রহ,একাগ্রতা,ভয়।সকাল হলেই বাথরুমে হুড়োহুড়ি লেগে যেত।অভ্যস্ত না হয়ে উঠা আমাদের ক্লাস পৌঁছানোর তাগিদ আর স্যারদের অহেতুক চোখ রাঙানি এর পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করতো।
বিকেলে ক্লাস শেষে ফেরার পথে প্রায়ই ইচ্ছা করতো,যাই ক্যান্টিনে একটু বসি।যাওয়া হত না।বড় ভাই রা যদি কিছু বলে!!
আমাদের কাছে তখনো ক্যান্টিন,স্যারদের কোয়ার্টার মুখী দীর্ঘ সর্পীল রাস্তা,বিশাল খেলার মাঠ,লেডিস হল আর ছোট পুকুর টা বিশাল একটা আগ্রহের কারণ ছিলো!!!
সপ্ত ডিঙা মধুকর...................
আমাদের সম্পর্কগুলো বিকেল বেলা দল বেঁধে নাস্তা কিংবা রাতে মেইন হলের ডাইনিং এ খেতে যাওয়ার ফাঁকে কখন তুমি থেকে তুই তে নেমে এসেছে,তা টের পাই নি কখনো।
আমাদের একটা জগত হয়ে গিয়েছিলো।ছোট বিল্ডিং টা ঘিরেই জগত টা।
সামনের জঙ্গল কেটে স্তূপ করা হলো,শুকিয়ে যাবার পর আগুন ধরানো হলো,আগুন খুব বেড়ে যাওয়ায় তা নেভানোর জন্য পানি টানা হলো,নেভাতে গিয়ে কালি ঝুলি মেখে একেক টা ভূত সাজা হলো।
তারপর যা পাওয়া গেল,তা একচিলতে উঠোন।এই উঠোনে জমে উঠত আমাদের বিকেল টা।কখনো ব্যাটে-বলে শর্ট পিচ ক্রিকেট।কখনো আড্ডা।আড্ডায় ক্লাসের মেয়েদের বৈশিষ্ট্য থেকে সাম্প্রতিক বিশ্ব ঘুরে ফিরে যেত।
আমাদের আসলে কোন মিল ছিলো না কারো সাথে।কেউ সারাক্ষণ হাসে,মজা করে,পেছনের কবরস্থানে দাঁড়িয়ে লোডশেডিং এর রাতে ভীতু ছেলে টা কে ভয় দেখায়,কেউ চুপচাপ,মনে হত অহংকারী।
একটা সময় এসে দেখা গেল,বান্দর ছেলে টা আসলে খুব ভালো।চুপচাপ ছেলেটার কোন অহংকার নেই।
অষ্ট ধাতু............................
আমাদের স্বপ্ন ছিলো।রোদে পুড়ে গেছে।
আমাদের একতা ছিলো।মলিন হয়ে গেছে।
আমাদের আনন্দ ছিলো।ফিকে হয়ে গেছে।
আমাদের চাওয়া ছিলো।হারিয়ে গেছে।
{চলতে পারে.........................।}
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



