মূর্খের এপিটাফ
বৃষ্টি ইদানিং মূর্খের মত দেখি;নতজানু ঘোর লাগা চোখে
সন্ন্যাসীর রক্ত ভেসে ভেসে মেশে নালায়
তারপর
খাল,নদী,মোহনা,সাগর ইত্যাদি ইত্যাদি
ক্রমশঃ ফুরিয়ে যাওয়া সূর্য ভিক্ষুক সাজে অদম্য যন্ত্রণায়,
আর আলগোছে চাঁদ সব আলো শুষে নেয় তার!
নিশ্চিত কোথাও পুরোনো মমি
কেঁদে চলেছে,যার দগ্ধ ক্ষত,খসে যাওয়া শ্বেত বসন,
নেশাতুর ঝাপসা চোখ থমকে রয় লাশ কাটা ঘরে
দূরবর্তী সন্ধ্যায় আজো জোনাকি পাখা ভাঙ্গে কিনা,
জানা নেই!
শব্দ হতে দু'হাত দূরে দাঁড়িয়ে কান পেতে রাখি,
যদি বর্ণ ভেঙ্গে আসে অনিদ্রিত চোখ
আর কথায় কথায় বর্ণনাহীন হয়ে উঠে ক্লান্তিকর অপেক্ষা
সন্ন্যাসী বগলদাবা করে হাঁটছে মমির নিঃশ্বাস।সূর্য মরে পরে আছে
অযাপিত দূরে।থামতে থামতে অনেক দূর গড়িয়ে গেছে সময়ের ট্রেন।
মন্দিরে মন্দির উলু ধ্বনি,
মসজিদে মুয়ায্যিনের আহ্বান আর গির্জার ঘন্টা,
মনে করিয়ে দেয় একদিন চলে যেতে হবে সব ফেলে
আমার অবাক লাগে ভাবতে
তোমাদের ঈশ্বর প্রেম বোঝে না;শাস্তি বোঝে
মূর্খের মত কাক ভেজা হয়ে পড়ি
নিজের এপিটাফ;
অন্তরালে যীশু মিথ্যুক ছিলেন আর ধার্মিকের প্রার্থনালয় লাগে না।
-------------------------------------------------------------------------
দেহাবসানের পর
মৃতদেহের চোখে তাকাবো বলে
পাঁজর খুলে খুলে ধ্যান করেছি অবিরাম;
আজ-তক চোখ খোলা মৃতদেহের সন্ধান মেলে নি।
বোবার আর্তনাদ শব্দ-বর্ণে বিভাজিত হয়,
কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে মরচে ধরা যৌবন;আর
ফেনিল হয়ে ঝরে পড়ে জল,
মৃত চোখের।
প্রতিটা চোখে ভাঙ্গন লেগে আছে
মৃত্যুর কাছে হার মেনে যায় দেহ-কাষ্ঠ;
আপাদ-মস্তক রোদে পুড়ে কবেই নিঃশেষ তার!
রাতের শেষ প্রহরে ঘোষণা করেছে শশ্মানের প্রহরী-
কোথাও কোনো কবরের জায়গা নেই।
জানাজা নেই কোনো কাফন পরা লাশের,
চিতা জ্বলছে না কোনো সংখ্যালঘু তরুনীর,
দ্বি-দ্বন্দ্বে অসাড় হয়ে আছে চার্চের ঘুম।
বেলা ত্রি-প্রহরের পর;
অবশেষে পাওয়া গেলো চোখ খোলা মৃতদেহ;
অদ্ভুদ শুয়ে সাড়ে বারো হাত মাটির নিচে।
চোখের ভেতর নগ্ন সাপের আবাসন,
পাঁজর জুড়ে কালশিটে দাগ।
কাফনের ভেতর অর্ধ-অর্ধ পুড়ে মেশা চন্দনকাষ্ঠ-দেহকাষ্ঠ;
বাহিরে মৃত্তিকাবদ্ধ দন্ডায়মান নাবালক ক্রুশ।
দয়াপরবশ কোনো বিকলাঙ্গের খুদিত এলিজি:
'ওপারে কোনো অস্তিত্ব নেই মৃতদেহের'।
---------------------------------------------------------------------------
আলোয় আলোয় জমাট বাঁধা অন্ধকার
আমি থকথকে সময়ের কাঁদায় বারবার গেঁথে যাই ।
চৌকাঠের ঘুণপোকারা বিম্ব গুনে গুনে ঘুমিয়ে পরে সময়ের গভীরে ।
সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে তথাকথিত গোঁজামিল দিয়ে দিয়ে
বেঁচে থাকা;কোনো অর্থ নেই জেনেও অপার তৃপ্তিবোধ ।
এপার হতে ওপারে থেমে থাকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় মেঘের দল
নিজস্ব সত্তা আর বিম্বের সাথে অবিরাম যুদ্ধ করেও
পেরোতে পারি নি একবারও ।
হয়ত আমি জানবো কোথাও আমার জন্যে কোনো অক্ষর নেই ।
তবুও বৃষ্টি দেখে ভাববো এখানেই আমার আলো রোদ ।
আমার গভীরে ফসলী জমি মরা পরে আছে,
কেউ এক ফোঁটা বীজ বুনে নি ।
আমার জানালায় জমাট পড়ে সময় ও তার সাময়িকতা ।
প্রতিটি আলোয় মিশে থাকে অবোধ অন্ধকার ।
অন্ধকারে মিশে থাকে সুবোধ বালকের মত আমার অবয়ব ।
মিশে যায় আলোয়
মিশে থাকে অন্ধকার,আমার অবয়ব ।
---------------------------------------------------------------------

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


