somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এটা ক্যামেরা ট্রায়াল, রায় প্রস্তুত আছে, শুনিয়ে দিন: আদালতে খালেদা জিয়া

০৪ ঠা জুন, ২০০৮ বিকাল ৩:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠনের পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ১০ জুন। বুধবার সংসদ ভবনের বিশেষ আদালত- ৩ এর বিচারক সাহেদ নূর উদ্দিন এই আদেশ দেন। আদালতে অভিযোগ গঠনের শুনানিতে হাজির করা হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, আরাফাত রহমান কোকোসহ ১৭ আসামিকে। শুনানিতে অংশ নিয়ে আদালতে বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, বর্তমান সরকার যত ষড়যন্ত্র ও নীল নকশাই করুক, বাংলাদেশকে তারা তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারবে না। তিনি বলেন, এই সরকার এগার জানুয়ারির পর দল ভাঙ্গার কাজ শুরু করেছে। তারা বিএনপিকে ভাঙ্গতে চায়।যতই দিন যাচ্ছে, দেশের অবস্থা আরও নাজুক হচ্ছে। খালেদা জিয়া বলেন ১১ জানুয়ারির ঘটনা যে কারণে ঘটানো হয়েছিল তা জনগণের কাছে এখন স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সমস্ত রাজনৈতিক দল ও রাজনীতিবিদদের হেয় করার জন্যই উদ্দেশ্যমূলকভাবে ওই ঘটনা ঘটানো হয়। কিছু উচ্চভিলাষী লোক ১১ জানুয়ারির ঘটনার পেছনে কলকাঠি নেড়েছেন। তারাই ঘটিয়েছেন এই ঘটনা। আদালতে তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকো অসুস্থ হয়ে পড়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বিচারককে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমার সুস্থ ছেলেকে ধরে নিয়ে গিয়ে চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। মামনীয় আদালত, আপনি তা দেখেছেন। আপনাদের কিছু করার আছে। তিনি বলেন, সরকারের দেশের ভালো বিষয়ে কোন নজর নেই।শুধু রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হেয় ও নির্যাতন করার দিকেই তাদের নজর নিবন্ধ। সংলাপ বিষয়ে খালেদা জিয়া বলেন , সংলাপের ক্ষেত্রে সরকার এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করেছে যেখানে বড় কোন দল সংলাপে অংশগ্রহণ করছে না। সরকার সন্ত্রাস দমনের নামে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে। সরকার তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী নিজেদের নির্বাচিত লোকদের দিয়ে নির্বাচন করাবে, এটা এখন পরিষ্কার হয়েছে। নির্বাচনে সকল রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করতে পারছে না তা নিশ্চিত হয়ে গেছে। বেগম খালেদা জিয়া বলেন, আমাদের সময়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছিল। যে যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সারাদেশে শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছিল, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার বেড়েছিল। কিন্তু আজ এই সরকার কি করছে।এই সরকার এত জনপ্রিয় হলে দু বছর ধরে জরুরি আইন জারি রেখেছে কেন। কারণ তারা জানে, জরুরী আইন উঠে গেলে জনগণ তাদের মুখোশ খুলে দেবে। তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় ছিলাম, আমরা তো কোনদিন জরুরী আইন দিয়ে ক্ষমতায় থাকি নি। খালেদা জিয়া সরকারের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করা প্রসঙ্গে বলেন, এই সরকারের নব্বই দিন ক্ষমতায় থাকার কথা, কিন্তু সংবিধান উপেক্ষা করে তারা এখনও ক্ষমতায় আছে। তাদের জনপ্রিয়তা শূণ্যের কোঠায়। গ্যাটকো মামলা প্রসঙ্গে তিনি আদালতে বলেন , এই মামলা মিথ্যা ও বানোয়াট। আমাদের নির্বাচন করতে না দেয়া এবং জনগণের কাছে হেয় করার জন্যই এসব মামলা দেওয়া হয়েছে। তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তারা এতই জনপ্রিয় যে উচ্চ আদালতকে তারা নির্দেশ করে জামিন বন্ধ করে রেখেছে। জামিন বন্ধ করার কোন প্রয়োজন ছিল না। তিনি বলেন এটা ক্যামেরা ট্রায়াল। এটা সাজানো বিচার হচ্ছে। সবকিছুই একের পর এক সাজানো জিনিস দিয়েই চলছে। রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী আমরা কাজ করেছি। ক্ষমতায় থাকার জন্য এই সরকার নানা ছলচাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছে। তিনি বলেন, যদি দুর্নীতি করে সব খেয়ে ফেলতাম, তাহলে দেশের এত উন্নয়ন হতো না। গ্যাটকো প্রতিষ্ঠান এত খারাপ হলে সেটি বন্ধ করে দেওয়া উচিত ছিল। সাংবাদিকরা লিখতে পারে না, তাদের ওপর বাধা নিশেধ আরোপ করা হয়, বিচারক সঠিক রায় দিতে পারে না, তাদের ওপর ওহি নাজিল হয়। তিনি আদালতে তারেক রহমান এবং আরাফাত রহমান কোকোর সুচিকিৎসা এবং প্রয়োজনে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার দাবি জানান। এক পর্যায়ে বিচারক বলেন আপনার কথা বলার সময় শেষ হয়েছে। খালেদা জিয়া বিচারককে উদ্দেশ্য করে বলেন এতদিন তো বিনা বিচারে আটকে ছিলাম। আপনার কাছে রায় তো প্রস্তুত করাই আছে প্রয়োজন হলে রায় পড়ে শুনিয়ে দিন। এদিকে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে আরাফাত রহমান কোকোকে হুইল চেয়ারে অক্সিজেন দেওয়া অবস্থায় হাজির করা হয়। সাড়ে এগারোটার দিকে তিনি আদালতে অসুস্থ হয়ে পড়েন । এর কিছুক্ষণ পর আরও অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে আদালত থেকে আবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে খালেদা জিয়া তার কনিষ্ঠ পুত্র কোকোকে তার পাশে নিয়ে আসার অনুরোধ করলে তাকে খালেদা জিয়ার পাশে নিয়ে আসা হয়। এসময় খালেদা জিয়ার সঙ্গে কোকোর ইশারায় কথা হয়। কোকো তার মা খালেদা জিয়াকে বলেন, তিনি ভাল আছেন। এই মামলার অন্য আসামিরা আদালতে বলেন, তারা ১৬১ ধারায় যে জবানবন্দি দিয়েছিলেন, সেটা তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করে তা আদায় করে নেওয়া হয়েছে এবং তারা সেটা প্রত্যাহার করার আবেদন জানান আদালতের কাছে।
১১টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×