ছোট্ট একটা গল্প বলি...
ছোটবেলা থেকেই আমি একটু এলোমেলো স্বভাবের ।বাবা মা অনেক চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি, তাই হয়ত শেষে হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন।যাই হোক, আমার অনেক বাউন্ডুলে ঘটনার মধ্যে কয়েকদিন আগে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা share করছি…….........................
রাতটা ছিল ৩০ নভেম্বর,২০১০(১লা ডিসেম্বর)। সময় আনুমানিক ২টা। নিত্যদিনের মতো আজও একটা ব্যাস্ত দিন পার করলাম । বিল দেয়া হয়নি বলে কাটা হয়ে গেছে internet এর connection । FM শুনতে ইচ্ছা করছে না আর। এ দিকে আস্তে আস্তে গভীর হচ্ছে মুখর রাজধানির রাতের নিরবতা । কিন্তু কিছুতেই ঘুম বাবাজি শিয়রে এসে দেখা দিচ্ছে না ।কিছুক্ষন বসে বসে দিয়াশলাই এর কাঠি পোড়ালাম(আমার একটা বাজে অভ্যাস)। অনেক্ষন বিছানায় শুয়ে অহেতুক গড়াগড়ি করার পর মাথায় একটা বুদ্ধি এলো। আপুর রুম থেকে চুরি করে আনলাম দরজার চাবি, আর main gate এর চাবি তো আগে থেকেই আমার কাছে ছিল।পকেটে ৬০০ টাকা নিয়ে বেরিয়ে পরলাম............................................................................................................
চেনা নগরীর পথ গুলো কেমন জানি অচেনা মনে হচ্ছিল নিজের কাছে। চারদিকে চুপচাপ শুধু সোডিয়াম লাইট এর লালচে আলোর নিচ দিয়ে হাটছি আমি একা্ । একজন পাহারাদার আমার দিকে ফ্যালফ্যাল করে একটু দূর থেকে চেয়ে আছে।কিছু জিগ্গেস করার আগেই আমি তাকে অতিক্রম করে চলে গেলাম। এ রকম ফাকা রাস্তা আমি কোনোদিন ঢাকা শহরে দেখেনি।খিলগাও রেলগেট আসার পর এই প্রথম ৪-৫ জন মানুষ চোখে পড়ল। ২ টা রিক্সাও দেখলাম। টিপটিপ করে জলছিল একটা চায়ের দোকান।একটা সিগারেট ধরিয়ে এক রিক্সাওলা কে জিগ্গেস করলাম মামা যাবেন...?
কই যাইবেন.....?
জানিনা....?
তাইলে.....?
আপনার যেখানে ইচ্ছা.....।
ঘন্টা ১০০ টাকা লাগবো...।
আচ্চা নিয়েন.......।
আমি পকেটে থাকা ৬০০ টাকা পুরোটাই রিক্সাওলাকে দিলাম।
মাঝে মাঝে খুব ভয়ও লাগতেছিল,যদি কারো পাল্লায় পড়ে যাই।আবার এই কথা চিন্তা করে হাসিও পাচ্ছিল, কারন আমার কাছে তো কিছু্ই নেই শুধু শার্ট আর প্যান্ট ছাড়া।ওহ নিজেকে যে কতটা হালকা লাগতেছিল তা বলে বোঝাতে পারবো না।
মামা পল্টনের দিকে যামু….?
যান……….।
আচ্ছা মামা একটা কথা জিগামু…..?
বলেন……….
আপনে আমারে এত গুলা টাকা দিলেন ক্যানে……?
বুঝলেন না মামা কেউ যদি ধরে………..
আমাগোরে কি ধরতে পারে না………?
আপনারে ধরে কি করবে……?
কি যে কন না মামা, হেই দিন রাইতের বেলা আমার ২০০ টা টাকা ছিল হেইটাও লইয়া গ্যাছে গা।
কে নিলো……?
ওই যে (……)এর পোলারা, ভোট দিয়া সরকর বানাইছি অহন আবর ট্যাকাও চান্দাও দেওন লাগবো্।
মামা কি সারা রাত রিক্সা চালান……..?
হ মামা আমি হইলাম রাইতের পাখি, হারারাইত রিক্সা চালামু আর হারাদিন ঘুমামু।
কথা বলতে বলতে কখন যে জাতীয় ঈদগাহ মাঠের সামনে চলে এসেছি বুঝতেই পারিনি। বড় গাছটার নিছে ফুটপাতের মধ্যে বস্তার মতো মাঝে মাঝে চাদর মুঢ়ি দিয়ে পড়ে আছে কয়েকটা ঘুমন্ত মানুষ।কার্জন হলরে সামনের মালিকহীন ফুলের দোকানগুলো অসম্ভব সুন্দর লাগছিল।ল্যামপোষ্টের আলোগুলো যখন ফুলের পাপড়ির উপর পড়ছিল মনে হচ্চিল ও গুলো যেনো মু্ক্তির আনন্দে রংয়ের খেলায় মেতেছে।
রিক্সা দোয়েল চত্তর হয়ে ডান দিকে মোড় নিয়েছে।কয়েকটা ছেলে ঢুলতে ঢুলতে সহরাওয়াদ্দী উদ্দান হতে আমার বিপরিত দিকে হেটে আসছিল।বুঝতে বাকি রইল না ওরা কোথা হতে এসেছে…? আমার একটু একটু ভয় লেগেছিল তবে অতটা না। আমার রিকসা ওদেরকে অতিক্রম করে চলে গেলো।
একটু অন্ধকার কিন্তু সহরাওয়ার্দী উদ্যানটা বেশ দেখা যাচ্ছিল। দিনের বেলা এখানটা কপোত-কপোতিদের আড্ডার স্থলে পরিনত হয় অথচ রাতের বেলা কি শুনশান নিরবতা। এটাই মনে হয় প্রকৃতির নিয়ম সব কিছুতেই জোয়ার-ভাটার এক চমৎকার কম্বিনেশন। হাতে হাত ধরে ওই তিন রাস্তার মোড়টায় কয়েকজন সৈনিক দাড়িয়ে আছে অনেকবছর ধরে। দিন-রাত ২৪ ঘন্টায় ওদের এই অভিন্ন রূপ। লালচে আলোর নিচে দেখতে অমায়িক লাগছিল TSC চত্তরের ওই ভাস্কর্যটিকে। TSC চত্তর ঘুরে থানা রোড হয়ে কাটাবনের দিকে যাওয়ার জন্যে রিক্সাওলাকে বললাম। কিন্তু তা আর হলো কই এক পুলিশ মামা সামনে এসে হাজির……।
এই রিক্সা দাড়াও….।
আমরা দাড়িয়ে গেলাম(একটু ভয়ও অবশ্য পেয়েছিলাম)
কোথায় যাবেন….?
এই তো আঙ্কেল একটু বারডেম এ যাবো,
এত রাতে বারডেমে কেন....?
আমার মামা অসুস্থ ওখানে ভর্তি আছে।কিন্তু হুট করে একটু বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছে তাই আসতে হলো।
কি করেন আপনি…?
পড়াশোনা ।
ID Card আছে….?
না আঙ্কেল, ভুলে নিয়ে আসিনি।
রাত্রে বাইরে বের হলে ID card নিয়ে বের হবেন,ঠিক আছে….?
আচ্ছা ।
মনে মনে ভাবলাম যাক এ যাত্রায় পার পেলাম.......
কাটাবন ঘুরে সোজা শাহবাগ এর মোড়ে আসলাম রিক্সাওলা বলল মামা চা খামু । ওকে তাই হবে, ওভার ব্রীজ এর নিচে দেখলাম এক টা চায়ের দোকান দেখা যাচ্চে ।দুজনে দু কাপ চা খেয়ে নিলাম। রিক্সাওলা বলল মামা সিগারেট ধরামু, ধরান। আমিও একটা ধরালাম।এবার বিল কে দিবে? আমার টাকা তো রিক্সাওলার কাছে।আমি বললাম মামা বিল দেন।ওনি বিল দিচ্ছিলেন কিন্তু দোকানদার দেখি আমার দিকে হা করে চেয়ে আছে।একটু পর আমিও অবাক হয়েছিলাম, মনে হলো আমার বিল দিচ্ছে এক রিক্সাওলা…….!!!
এ জন্যেই মনে হয় দোকানদার আমার দিকে চেয়ে ছিল । আবার শুরু করলাম শেরাটন হোটেল এর সামন দিয়ে যাচ্ছি।রাতের বেলায় হোটেল টাকে অনেক সুন্দর লাগছিল। সামনেই একজন বসে আছেন তার ঘোড়ার গাড়িতে।জানিনা ওনি রানী কি না। রাজষিক বিহার, অসম্ভব সুন্দর এই মৃনাল হক এর ভাস্কর্যটি । ইচ্ছে করছিল দৌড়ে গিয়ে উঠে পড়ি ঘোড়ার গাড়ীটার উপর।
হঠাৎ করে ঘোড়ার পায়ের দিকে চোখ গেল, মনে হলো কে জেনো শুয়ে আছে ঘোড়ার পায়ের নিচে।আমি রিক্সা থামাতে বললাম। কাছে গিয়ে আরো অবাক হলাম। আরে এতো আস্ত একটা জীবন্ত মানুষ !!
(আজকে আর লিখতে ভাল লাগছে না বাকিটা আরেক দিন বলব)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

