somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অসম্ভবের পথে (শুরুর পরের পরে)

১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ২:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জ্যোতিষীর কথা ফলেছিল। আমি একদিন সত্যি সত্যিই রাজা হয়েছিলাম- হৃদয় রাজ্যের রাজা; রাজাধিরাজ। না হয়ে উপায় ছিল না। একটি প্লাবন বদলে দিয়েছিল সবকিছু। আগের দিন সব- অলীক স্বপ্নকথা। বান ডেকেছিল নদী; আ্মার প্রেয়সী- রূপোলী বুকের কর্ণফুলি। বৃষ্টি ছাড়াই বান ডাকল সেবার। সে এক আজব বন্যা! এসেছিল দূর্নিবার; প্রচন্ড তেজে সবকিছু ডুবিয়ে-ভাসিয়ে একাকার। কিছুদিন পর সে স্রোত শান্ত হয়ে গেল- আশ্চর্য রকমের শান্ত! নড়াচড়ার কোন লক্ষণই নেই তাতে। দিনে দিনে সে জলরাশি বাড়ে; বাড়তেই থাকে। ডুবল সবই; চাষের জমিগুলো, নীচু এলাকার ঘরবাড়ি, গোশালার গরু, আস্তাবলের ঘোড়া, এটা-সেটা- আরো কত কি! মাসখানেক পর পাহাড়ের মাথাগুলো শুধু জেগে রইল। রাজ-জ্যোতিষীর গণনা শুরু-
আভিশাপ লেগেছে- মা গঙ্গার অভিশাপ। রক্ত চায় নদী- কুমারী মেয়ের বুকের তাজা রক্ত। নদী-মাকে শান্ত করতে হবে মহারাজ। নাহলে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।
রাজা র্নিবিকার; থাকার মত কিছুই ছিল না আর। সবহারা মানুষের নিজস্ব কোন শক্তি অবশিষ্ট থাকে না। তাঁর ঠাঁট-বাট, রাজকীয় হাঁকডাক, অবিরাম বজ্রনাদ- সবকিছু যেন ঐ সম্পত্তির সাথে সাথেই ডুবে গিয়েছিল। ইশারায় কুমারী বলিদান- কথাটা ভাবতে গিয়ে আজ তাঁর অন্তরাত্মা কেঁপে উঠে। প্রাসাদ বারান্দায় নির্বোধ রাজা- নদীর বিশালতা মাপে; দিগন্তজোড়া রূপালি শামিয়ানা। কোথা থেকে কি হয়ে গেল! -তাঁর বোধে কুলোয় না।

আমি কিছুটা বুঝেছিলাম। -এ নদীর প্রেম। নদী আমাকে ভালবেসে ফেলেছিল। তাইতো, আর দূরে থাকতে পারল না। সবকিছু ভেঙেচুরে ছুটে এল আমার কাছাকাছি। এত কাছে, যেন আমার প্রতিটি নিঃশ্বাস তাকে ছুঁয়ে যায়; আ্মার প্রতিটি কাব্যকথা- প্রতিটি উচ্চারণ তার বুকের মাঝখানটিতে ঝড় বইয়ে দেয়। -না এসে উপায় ছিল না ওর। সেই ছোটবেলা থেকে রাজ্যময় আমার অবাধ যাতায়াত।সোনাই সবসময় আমার সাথে ঘুরত; পাহাড়ের কোল ঘেঁষে, সমতলে-অবতলে- সবখানে। আমাকে সেই কোলের বয়স থেকে একটু একটু করে বড় করে তুলেছিল লোকটা। সে আমাকে নদী চিনিয়েছিল; নদীর খুব কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিল। তখন কতইবা বয়স আমার; সাত কি আট। কিছু একটা ছিল তাতে- নদী আমাকে নেশা ধরিয়েছিল। সেই থেকে আমার প্রতিটি বিকাল বিষণœ নদীতীরে; প্রতিটি চন্দ্ররাতে চুপিসারে বজরায়। আর কত সহ্য করবে নদী! সবশেষে আসতেই হল তাকে-

ওসব আমার কাব্যময়তা; বাস্তবতার উল্টোপিঠ-। কিছুদিন পর খবর এল; এ পানি কোনদিনও নামবে না। সরকার নদীতে বাধ দিয়েছে। আটকে থাকা পানি যাবে কোথায়? -যেদিকে ফাঁকা; দে ছুট।
হঠাৎ করে!
জলবিদ্যুৎ নামে কি যেন বানাবে। ঐ জিনিস বানাতে গেলে এমনটাই নাকি করতে হয়।
কি দরকার ছিল এসবের? আমাদের ডুবিয়ে দিয়ে-
বলেন কি মহারাজ! আমি দেখেছি; ঐ জিনিসে তেল ছাড়া প্রদীপ জ্বলে। পাখা হাতে নাড়তে হয় না; আপনাই ঘুরে- আর সে কি বাতাস! -সুখবর হল; সরকার আপনাকে ক্ষতিপূরণ দিবে।
আমার রাজ্যের-
ওসবে ওরা বিশ্বাসী নয়। বড়জোর দু-চারটা গো-শালা, শখানেক গৃহপালিত আর কয়েকশ বিঘা চাষের জমি- তাও যদি প্রমাণ থাকে।
প্রমাণ!
শুভঙ্করের ফাঁকি যাকে বলে। লাভ নেই মহারাজ। ঐ আশায় বসে বসে শেষে বাড়িটাই না ডুবে। তারচেয়ে, এখনো যা আছে, তা নিয়ে ওপারে পাড়ি জমান। উপায় নেই আর।

যত তাড়াতাড়ি পানি এসেছিল, বাড়ি খালি হতে সময় লাগল তার চেয়েও কম। রাজা গেল, রাণী গেল, চাকর-চাকরাণী, দাসী-বাঁদী, নায়েব-গোমস্তা, আয়া-দারোয়ান, ছোট ছোট বাচ্চা-কাচ্চা, স্বর্ণমুদ্রা, অলংকার, বাসন-কোসন, আসবাবপত্র, তিনখানা বিশাল আকৃতির বজরা- বাদ পড়লনা কিছুই। বাদ পড়লাম আমি- নিজের ইচ্ছাতেই। রাজা অনেক পীড়াপীড়ি করেছিল; আমি অনড়। যে নদী সব ছেড়ে আমার কাছে ছুটে এসেছে, তাকে ছেড়ে যাওয়ার মত স্বার্থপর আমি তখনো হয়ে উঠিনি। আর রইল সোনাই (ওর ভালবাসা আমি)।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২১
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×