মালদ্বীপের অর্থনীতিতে অনেক ভূমিকা রয়েছে সামুদ্রিক মাছের। মাছ ধরতে এরা নাকি জাল ব্যাবহার করে না। নৌকা নিয়ে প্রথমে সাগরে কিছু মাছের খাবার ছিটিয়ে দেয়। এতে ঝাকে ঝাকে মাছ খাবারের লোভে একত্রিত হয়। তখন বড়শি ছুড়ে মারলেই নাকি বড়শিতে মাছ গেথে যায়।
ছোট বড় বিভিন্ন আকৃতির, বিভিন্ন রঙের মাছ পাওয়া যায়।
ছবিতে আমাদের কুক বিশাল সাইজের একটা মাছ সাইজ করছে
সবচেয়ে বেশী পাওয়া যায় টুনা মাছ। বলতে গেলে এখানে মাছ বলতে টুনা মাছই বোঝায়
মাছ ধরে আনার পরে ছোট বড় মাছ গুলো আলাদা করা হয়। এরপর ভাগ করার পালা।
মাছ ধরার জন্য যার নৌকা ব্যাবহার করা হয়, সে মাছের অর্ধেক ভাগ নেয়। বাকি অর্ধেক বাকিদের মাঝে ভাগ করা হয়।
এরপরে সাগরপাড়েই মাছের কানকো আর নাড়িভূড়ি বের করে পরিষ্কার করা হয়।
ছবিতে হাত দিয়ে একজন মাছের নাড়িভূড়ি আর কানকো আলাদা করছে। এসব কাজ এরা (কোন দা, বটি ছাড়া) হাত দিয়েই করে থাকে
এরপর সাগরের পানিতে ধুয়ে যার যার ঘরে নেবার পালা।
দিবাহীরা (মালদ্বীপের অধিবাসীরা) সংরক্ষণের জন্য প্রথমে মাছ গুলোকে কেটে টুকরো করে পানিতে সিদ্ধ করে। এরপর টুকরো গুলোকে এভাবে রোদে শুকোতে দেয়। এই শুকনো মাছ গুলোই কখনও রান্না করে আবার কখনও এমনিই খায়। (আমাদের লংকান স্টাফ আর ওয়ার্কারদেরও দেখলাম রোদে শুকানো মাছ গুলো খুব মজা করে খাচ্ছে
মাছ সিদ্ধ করে উঠানোর পরে যে পানিটুকু থাকে তাকে গারুদিয়া বলে। গারুদিয়াকে আবার অনেক সময় নিয়ে জাল দিয়ে ঘন আঠালো করা হয়। ঘন আঠালো হলে একে বলে রিহাকুরু। এই রিহাকুরু নাকি অত্যন্ত সুস্বাদু, পুষ্টিকর, শক্তিবর্ধক, উষ্ণতাবর্ধক এবং রোগ প্রতিরোধক। এখানকার বাঙগালীদের মতে, এই রিহাকুরু খাওয়ার কারণেই নাকি দিবাহীদের তেমন কোন বড় অসুখ-বিসুখ হয়না আর গড় আয়ূও অনেক বেশী। ছবিতে দোকানে বিক্রীর জন্য রাখা এক বয়্যাম রিহাকুরুর দাম ১৫০ রুফিয়া (বাংলাদেশী ৮০০টাকা প্রায়)।
আমার বিলাইটোগ্রাফী
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মার্চ, ২০১০ সকাল ৭:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


