somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনুভূতির কিছু সংকলন

১২ ই জুন, ২০১৪ রাত ১০:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"স্বপ্নময়ী" ধরো,কেউ তোমায় প্রশ্ন করলো,"এই আমাকে কি মনে পড়ে তোমার কখনো?"কেউ বলতে কোন মানুষকে বোঝাচ্ছি না কিন্তু।আমি জানি,তোমার পৃথিবীর কোন মানুষ এই প্রশ্ন করবে না তোমায়।
কেউ বলতে,আসলে বলতে চাচ্ছি,কিছু বৃষ্টির ফোঁটাকে।সেই বৃষ্টির ফোঁটা গুলো,যেগুলো আমাদের চলার পথে সঙ্গ, দিয়ে আকাশে মিলিয়ে যেতো।ওরা যদি প্রশ্ন করে,"কি বলবে তুমি?"আবার,যেই রাস্তা ধরে আমরা প্রায়ই যেতাম,সে যদি কখনো বলে বসে,"স্বপ্নময়ী"তোমার ডান দিকে যেই ছেলেটা থাকতো চশমা পড়া সে কোথায়?"আমার মনে হয় না রাস্তাটা এই প্রশ্ন করবে!ঢাকা শহর,কত মানুষের পথ চলা।তোমার আমাকে মনে রাখবে রাস্তাটা!?রাখতেও পারে,কারণ,আমার যখন খুব মনে পড়ে তোমায়,আমি একলা হাটি,ঐ রাস্তাটা ধরে।সে তোমার নতুন ঠিকানা বলে না বটে।তবে আমার মনে হয়,সে বুঝতে পারে অনেক কিছু।
ধরো,"বি আর টি সি"র এসি ওয়ালা লাল বাসটায় বসে আছো,ভারী গলায় শুনলে,প্রশ্নটা কি বলবে তুমি?ধরো বুয়েট ক্যাম্পাসের গাছ গুলো,তোমার চলার পথে চুপচাপ শান্ত শিষ দিয়ে বললো,"আচ্ছা,ছেলেটাকে তো দেখছি না,যে কিনা আমার ছায়ার নীচে,দাঁড়াতো তোমার জন্য?" খুব কি বিরক্ত হবে?
আমাকে নিয়ে তো বলার কেউ নেই তোমার কাছে,থাকলে হয়তো এই ভাবে বলত কিছু।আসলে আমি ঠিক জানি না বলতো কিনা।হয়তো বলতো,তুমি তো নিঃশেষ বিভাজ্য হওয়ার মত কিছু ছিলে না আমার কোন কিছুতে।।।
১২-৬-১৪

ছোটবেলায় কাঁদলেই মা খেলনা দিতো।খেলনা পেলেই খুশী।খানিক খেলা তারপর আবার মা কে জ্বালাতন।আবার আরেক টা খেলনা।হয়তো সেটার মাঝে বিশেষত্ব কিছুই নেই তারপর ও কান্না থামানোর জন্য যা দরকার,তাতে সব উপাদানই থাকতো।আমি খেলতাম।ভুলে যেতাম কান্না।
খানিক বড় হই।তখন আর কান্না সাঁঝে না ওত বড় ছেলের।মন খারাপ থাকলে বাবা বেশ ভালোই বুঝতও।কাছে এসেই পিঠ চাপরে বলতো,"কি রে ঘুরতে যাবি?" জবাব দিতাম," না"।বাবা বলতো,"ঠিক আছে,যেতে হবে না আমার সাথে চল,বই কিনবো।"বাবা জানতো বই এ আমার কি দুর্নিবার আকর্ষণ।বইয়ের লোভ বা বাবার আদর যেটাতেই হোক মন ভালো হয়ে যেতো তখন।
আরও বড় হই।কান্না লুকতে শিখেছি বেশ।মন খারাপ করাটাকে ও বেশ ভালো ভাবেই আড়াল করতে জানি।
তারপর ও কোথা ও একটু কান্না করার জায়গা ছিলও আমার।সেটা আমি আর সে শুধু জানতাম।মন খারাপ,জানাতাম।কারো কথা,আচরণে কষ্ট পেয়েছি,জানাতাম।সেই জিনিস গুলো এতই ক্ষুদ্র ছিলও বটে।তবে ঐ সব কিছুতেই এত এত আমিত্ব ছিলও,যেটা অনেক খুঁজেও পাই না আজ আর কোথাও।
এত নিজেকে লুকিয়ে রাখার মাঝে ও মাঝে মাঝে শুনতাম নির্মেলেন্দু গুনের ঐ কবিতার মত কথা গুলো তোমার থেকে "তোমার চোখ এত লাল কেন?মন খারাপ?আমি তো বলছি না আমাকে ভালোবাসো,শুধু একটু পাশে থাকো।দৃশ্যমান না হয়ে পারো,অদৃশ্য হয়েই থাকো।"
আমি অদৃশ্য হয়নি।আমি দৃশ্যমান।শুধু খুঁজে পাই না কোথাও তোমায়।ঠিকই বলেছিলে,তোমাকে খুঁজে পাওয়ার সব পথই বন্ধ করে দিবে।পেরেছও বটে।আমার কাছে তো ট্রয়ের যুদ্ধের সেই বড় কাঠের ঘোড়াটা নেই।থাকলে তোমার বন্ধ দুর্গে পাঠিয়ে দিতাম।জয় করতাম তোমাকে!
৭/৬/১৪

এটা অহরহই ঘটে যাওয়া কোন ঘটনার মধ্যে পড়ে হয়তো, কোন বিশেষত্ব নেই,নেই কোন কিছুই।এত শত নেই এর মাঝে ও আছে অনেক কিছুই।বাসের লাইনে দাঁড়ানো সকাল বেলা।বলতে গেলে আট সকাল,সাত সকাল নয় কিন্তু।গন্তব্য অফিস।
খোলা চুলে ছড়িয়ে,ঠিক পাশে নয়,পাশের লাইনে দাড়িয়ে।নাম জানি না।চেহারা ও চেনা না।হয়তো"বনলতা সেন"এ রকমই ছিলও।দেখতে,পোশাকীতে না।
কাঁধে ব্যাগ।হাত ভরা চুরি।জিন্স পরা,নীল ফতুয়া তে।বাঙালী রং।
তাকিয়েই রইলাম "হা" করে।বোধ হয় বুঝতে পেরেই মাথাটা নিচু ছিলও তার।আমি ও একটু ভদ্র হতে চেষ্টা করলাম।সরাসরি না আড়চোখে তাকানো।ঐ ভাবে হটাৎ বেশ কয়েকবার চোখাচোখি হওয়ার পর এক গাল হাসি।
সমস্যা হল এটা বাংলাদেশ।সাহস সঞ্চয় করতে করতেই বাস চলে আসলো তার।সে এগোচ্ছে আমি দাড়িয়ে।বাম দিকে বসলো।তখনো দাড়িয়ে।বাস চলতে শুরু করলো তখনো দাড়িয়ে।বাসের বেগ বাড়তে শুরু করলো।পেছন ফিরে সে তাকালো বাস থেকেই।আবার ও হাসি এক গাল।
আমি ও খানিক বাদে বাসে।পাশের সিট ফাকা।চলছে দ্রুত বাস।বৃষ্টি তখনো শহরে নামেনি।বিশেষত্বহীন ঘটনা।নেই নেই এর মাঝে ও অনেক কিছু আছে।একটা ইতিহাস হতে গিয়ে ও মিস।
দেখি কাল সকাল টা ।।।।
৩/৬/১৪

কোন না কোন ভাবে এতটুকু জানি আমায় মনে পরে তোমার।হয়তো ঘৃণা ভরা মন নিয়ে,চাপা কোন অভিমান নিয়ে,বলতে না পারা অভিযোগ গুলো ভেবে,তিরস্কারের সাথে,কষ্ট নিয়ে,অভিশাপে জানি মনে করো আমায়।তবে এতটুকু জানি ভালোবেসে মনে করো না অন্তত আমায়।
বৃষ্টি হচ্ছে।গত বৃষ্টি তে ও তো ছিলে।অভিযোগ নিয়ে,কষ্ট নিয়ে,তিরষ্কার করে,অভিমান করে।ছিলে তো অন্তত।সেটা ই কি খুব বেশী ছিলো না?
এটা তো জানতে আমার রাস্তা একটাই ছিলো।অলিগলি এ পথ ও পথ ঘুরে ঠিকই আসতাম।তুমি তো জানতে আমি একবারেই সব পারি না।আমি তো ক্লান্ত হইনি,চলার পথ থামিয়ে দেইনি।তবে তুমি...কেন?এটা তো জানতে, ছেড়ে-দেয়া হাত নতুন ক'রে আর কাউকে ধ'রতে পারে না। কারোর কারোরটা পারে হয়তো, আমারটা পারে না। আমি জানি, এটা তুমি জানতে। তবুও . . . . . . .কেন?
২৭/৫/১৪

তুমি গুম হওনি এতটুকু জানি।কারণ হলে অন্তত একটা-আধটা খবর আসতো পত্রিকায় কিংবা খবরের চ্যানেল গুলোতে।তুমি জানো বেশ করেই,কোন খবর আমার চোখ এরায় না।খবর হয়তো একটা পেতামই তুমি গুম হয়ে গেলে।যেহেতু,কোন খবরই তোমার আজকাল আসে না-কিংবা পাই না,কি ধরে নিবো তাহলে?একবার,শেষ বিকেলের ঠিক আগে বলেছিলে,যদি কোনদিন আমায় খুঁজে না পাও,তাহলে ধরে নিও আমি দেশান্তরী।আসলেই তুমি দেশ পালিয়েছও,নাকি আমাদের স্মৃতি গুলো থেকে পালানোর জন্য দিয়েছও নিজেকে স্বেচ্ছায় নির্বাসন।মাঝে অনেক অনেক দিন হয়ে গেলো,তোমাদের বাসার চৌরাস্তাটায় দাঁড়াই না।ফেক্সির ঐ দোকানাটায় গেলে হয়তো একটা খবর পাওয়া যেত তোমার।যাওয়াই হচ্ছে না কেন জানি...আচ্ছা আমিও কি তাহলে তোমাকে গুম করে ফেলেছি আমার ভেতরের কোন কৃষ্ণগহ্বরে?আমি দ্বিধাগ্রস্ত !এমনতো হওয়ার কথা ছিলো কখনো।
১/৫/১৪
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে নভেম্বর, ২০১৭ দুপুর ২:৩৪
৬টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৪৫ বছরের অপ-উন্নয়ন, ইহা ফিক্স করার মতো বাংগালী নেই

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১০ ই আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৫:০৫



প্রথমে দেখুন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলো; উইকিপেডিয়াতে দেখলাম, ১০৩ টি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি আছে; ঢাকা ইউনিভার্সিটি যাঁরা যেই উদ্দেশ্যে করেছেন, নর্থ-সাউথ কি একই উদ্দেশ্যে করা হয়েছে? ষ্টেমফোর্ড ইউনিভার্সিটি কি চট্টগ্রাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ মাতানো ব্লগাররা সবাই কোথায় হারিয়ে গেল ?

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ১০ ই আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৩৪

ইদানিং সামু ব্লগ ব্লগার ও পোস্ট শূন্যতায় ভুগছে। ব্লগ মাতানো হেভিওয়েট ব্লগাররা কোথায় যেন হারিয়ে গেছেন।কাজের ব্যস্ততায় নাকি ব্লগিং সম্পর্কে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। আমি কিছু ব্লগারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ৬৪

লিখেছেন রাজীব নুর, ১০ ই আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২৫



সুরভি বাসায় নাই। সে তার বাবার বাড়ি গিয়েছে।
করোনা ভাইরাস তাকে আটকে রাখতে পারেনি। তবে এবার সে অনেকদিন পর গেছে। প্রায় পাঁচ মাস পর। আমি বলেছি, যতদিন ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ অমঙ্গল প্রদীপ (পাঁচশততম পোস্ট)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১০ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ১১:১৪

প্রদীপের কাজ আলো জ্বালিয়ে রাখা।
কিন্তু টেকনাফের একটি ‘অমঙ্গল প্রদীপ’
ঘরে ঘরে গিয়ে আলো নিভিয়ে আসতো,
নারী শিশুর কান্না তাকে রুখতে পারতো না।

মাত্র বাইশ মাসে দুইশ চৌদ্দটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণপ্রজাতন্ত্রী সোমালিয়া দেশে চাকরি সংকট

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১১ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ১২:২০



গণপ্রজাতন্ত্রী সোমালিয়া সরকার মন্ত্রী পরিষদে কতোজান বিসিএস অফিসার আছেন? তাছাড়া সততার সাথে সোমালিয়া সরকার চাইলেও সঠিক ও যোগ্য মন্ত্রীপদে কতোজন বিসিএস অফিসার দিতে পারবেন?

(ক) মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় - একজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×