somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রবাসের ডায়েরী-১০: বরফ সাদা স্কটল্যান্ড

২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৮:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


লেখাটা ড্রাফটে ছিল অনেক দিন, পড়া-শোনা আর অন্য বিষয়ে লেখা-লেখির কারনে শেষই হচ্ছিল না। তার উপর সামুতে ছবি আপলোড করার পেইন!

স্কটল্যান্ডে গেলাম ফেব্রুয়ারীর ২৬ তারিখ আর তা নিয়ে পোস্ট লেখা শুরু করি এই এপ্রিলে ! তাই শুরুতেই সৃতিশক্তির চরম পরীক্ষা দেয়ার প্রস্তুতি নিয়ে লিখতে বসেছি।

৩ দিনের শর্ট-টুর তাও আবার বাসে :( যেতে আসতেই সাত দুগুনে ১৪ ঘন্টা গায়েব। শীত তখনও শেষ হয়নি, এই সময়ে স্কটল্যান্ড যাত্রা তাই আমার মত উষ্ণদেশের পাবলিকের জন্য মরার উপর খরার ঘাঁ :) । পরিচিত সবাই ডিসকারেজ করছিল এই বলে যে, গ্রীষ্মের স্কটল্যান্ড আর শীতের স্কটল্যান্ডের মধ্যে নাকি প্রাসাদের রাজকুমারী আর পথের ধুলায় মলিন পাতাকুড়ানির মত পার্থক্য। কিন্তু কি আর করা :) ৯০ পাউন্ডে স্কটল্যান্ড দর্শন আর রিসার্চ ল্যাবের আতঁলাম থেকে মুক্তির হাত ছানি সহজেই বরফ ঢাকা স্কটল্যান্ড জয়ের সাহস যোগাল।

২৬ তারিখ দুপুর আড়াইটায় শুরু হল যাত্রা, দেশি-বিদেশী ভাষার কিচির-মিচিরে প্রথম দুই-আড়াই ঘন্টা কিছু টের না পেলেও শীত যেন রাস্তার মাইলস্টোনগুলর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছিল। শেষ দিকে অনস্থা এমন হল যে কথা বলা ত দূরে থাক জানালা দিয়ে স্কটিশ রাত দেখতেই বিরোক্তি এসে যাচ্ছিল।

রাত সাড়ে ৯ টায় আমরা পার হলাম গ্লাসগো; স্কটল্যেন্ডের সব চেয়ে বড় শহর। মানুষ জন ও বেশী এখানে যদিও এডিনবার্গ হল স্কটল্যান্ডের রাজধানী শহর। হায়! ঢাকা যদি এমন হত! রাত প্রায় ১১ টায় আমরা ১০০ স্টুডেন্ট বৃষ্টি মাথায় নিয়ে উঠলাম এডিনবার্গের স্থানিয় ই্উথ হোস্টেলে। নাম ই্উথ হোস্টেল হলেও সুযোগ-সুবিধায় আমাদের দেশী ২-৩ তারা হোটের সাথে পাল্লা দিতে পারবে অনায়াসে :) সুতরাং সাথে আনা খাবার-দাবার পেটে পুড়ে দে ঘুম



সকালে উঠেই রেডি হলাম ব্যাস্ত দিনের প্রত্যাশায়। আজ আমরা দেখতে যাব স্কটিশ পর্লামেন্ট ও এডিনবার্গ ফোর্ট। ৮ টায় ব্রেকফাট শেষে আশ-পাশে একটা চক্কর দিলাম, বেশ শান্ত শহর এডিনবার্গ। ১০ টায়া যাত্রা শুরুর মথা থাকলেও পৌনে ১০ টায় হোস্টেলে এসে দেখি গাইড বেটা আমাদের ৬ বংগ সন্তানকে ফেলেই ছুট দিয়েছে সদল বলে :(। ভাগ্যিশ হেটে যাবার প্লেন ছিল তাই রক্ষে। কামাল ভাইয়ের নেতৃত্বে আর মেপ দেখে শুরু হল দিনের কর্ম সূচি। আমাদের কামাল ভাই আবার দারুন পথ প্রদর্শক :)

যেতে যেতে যা দেখলাম











এডিনবার্গ অনেকটা ইতালির রোমের মত, ৫-৭ টা পাহাড় ঘিরে আছে ইংল্যান্ডের রোম খ্যাত এডিনবার্গকে।


মূল দলের দেখা পেলাম এখানে

এর পর এসে হাজির হলাম স্কটিশ পার্লামেন্টে। বেশ ছিমছাম গোছান। বেশ কয়েকটি ভাষায় অনুদিত বুকলেটের রেকে খুজে পেলার প্রিয় বাংলা বর্ণমালাকেও। আচ্ছা আমাদের জাতীয় সংসদকে ও কি এভাবে উন্মুক্ত কারা যায় না ? না হয় হাজার টাকার টিকেট কেটেই ঢুকলাম




এর পরে ঢু মারলাম পাশের মুউজিয়ামে, ছোট তবে বেশ সমৃদ্ধ।


এইটা একটা ঘরি !

শেষ গন্তব্য এডিনবার্গ কেসেল । বেশ পুরন ও শহরের সর্বোচ্চ পাহারের চুড়ায় অবস্থিত। এক কথায় অপুর্ব এক স্থাপত্য শিল্প। কেসেল থেকে দেখা এডিনবার্গ শহর.........









টিপু সুলতানের তলোয়ার ও শিরনাস্ত্র। তাকে হত্যকারী ব্রিটিশ সৈন্যদলটি ছিল একটি স্কটিশ কনটিনজেন্ট।










পরদিন সকালে ব্রেকফাস্ট শেষেই চড়তে হল ফিরতি বাসে মাঝে ৩ ঘন্টার যাত্রা বিরতি রাজকিয় ইয়ট রয়েল ব্রিটানিয়া দর্শনের জন্য। এইটা ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রিয় একটি নৌযান। প্রিন্স চার্লস ও লেডি ডায়ানার হানিমুনের সৃতি আকড়ে আছে এই ইয়ট।






হানিমুন কেবিন


ডিউক অফ এডিনবরার ব্যবহৃত কেবিন


রানীর কেবিন


ইয়টের আপারডেক ডাইনিং রুম




শেষ বিরতি ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের সীমান্ত শহর গেটেনা গ্রীন (নাম ভুলে গিয়েছিলাম। সবজান্তা গুগল মামুরে প্রশ্ন করতেই :) টেলেন্ট এক খান )। বেশ ছোট শহর তবে বিখ্যাত। আগেকার দিনে বাবা-মার অনুমতি ছাড়া বিয়ে করতে পারত না স্কটিশ প্রেমিক যুগল তাই পালিয়ে এই শহরে এসে বিয়ে করত স্কটিশ তরুন-তরুনিরা। আজও অনেক প্রেমিক যুগল বিয়ে করতে আসে এই শহরে যদিও বিয়ের ব্যাপারে স্কটিশ বাবা-মার খররদারির মৃত্যু ঘটেছে বেশ আগে।





এবার শুরু হল বাড়ি ফেরার পালা.......

















আর ৫ ঘন্টা পরেই যাচ্ছি ওয়েলসে। আশা করি এটিও একটি ভাল টুর হবে। দোয়া করবেন।


কৃতজ্ঞতা: ব্লগার দাসত্য সহজে আপলোড করার একটা বুদ্ধি দেয়াতেই এতগুল ছবি শেয়ার করতে পারলাম। ধন্যবাদ দাসত্য।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মে, ২০১০ দুপুর ১:৩৪
৭টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×