ক্যান্সার হাসপাতাল বানাতে গাড়িতে চড়ে ম্যারাথন দৌড়ূবেন হুমায়ূন আহমেদ!!!! হুমায়ূনের এই পুরো ব্যাপারটিই একটি যৌথ প্রজেক্ট। স্টেকহোল্ডারগণ হচ্ছেন- হুমায়ূন নিজে, তার বইএর প্রকাশক সংস্থাটি এবং প্রথম আলো!
হুমায়ূনের হঠাত করে "নাই নাই" চরিত্রে অবতীর্ণ হবার পেছনে মূল কারণ তার নিজের চিকিৎসার খরচ বহন নয়। বরং "অমর" হবার বাসনা পূরণের সাথে সাথে কিছু নগদ নারায়ন অর্জন করা। ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের বর্ণনা পড়ে বোঝা গ্যালো আরেকটি স্কয়ার হাসপাতাল হতে যাচ্ছে সেটা! যেটা তৈরী করাটা নিঃসন্দেহে একটি ব্যবসায়িক উদ্যোগ- যেখানে বিজ্ঞাপনগত সহযোগীতায় আছে প্রথম-আলো গ্রুপ এবং আর্থিক ব্যাপারটাকে অধিক গণমুখি করে তোলবার বুদ্ধিটা এই মিডিয়া জায়ান্টেরই মস্তিষ্কপ্রসূত- এখানে হুমায়ূন কেবল তার নাম ভাঙিয়ে নিচ্ছেন!
হাসপাতালে যাবার কিছুদিন আগেও "ভারতজুজু" একটি অহেতুক সৃষ্টি বলে দাবী করা থেকে শুরু করে, হিন্দি সিনেমাকে দেশের প্রেক্ষাগৃহে ঢুকতে দেবার সঠিকতা নিয়ে সাফাই গাওয়া হুমায়ূন হুট করে হাসপাতালে গিয়েই টাকা-টাকা করে ঘ্যানর ঘ্যানর করা শুরু করলেন, হঠাত করে কোরান-হাদিসের তাফসির নিয়ে লেখালিখি করতে বসে গ্যালেন আর গাড়িতে চড়ে খালেদা জিয়া কিছিমের ম্যারাথন দৌড়াবার হাস্যকর "আইডিয়া" নিয়ে হাজির হলেন- সবগুলোই মূলত এই একসূত্রে গাঁথা। এগুলো হুমায়ূন করছেন সহজ কথায় পাব্লিক সেন্টিমেন্ট ধরতে, মানুষের মনরক্ষা করে কার্যসিদ্ধির উপায়- আর কিছুই নয়। আর যাই হোক, বাঙালির মনস্তত্ব এই মানুষটি বড়ো ভালো বোঝেন নিঃসন্দেহে। নইলে তার এহেন ভড়ং-কে "সততা" হিসেবে ভেবে বসে থাকবার জন্য এতো মানুষকে পাওয়া যেতো না। সমস্যা হচ্ছে, হুমায়ূনিক মনস্তত্ত্বও ইদানিং কেউ কেউ ধরতে পারে...
মজার একটা ব্যাপার খেয়াল করলাম- সে ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি উল্লেখ করে যে ঘ্যানর ঘ্যানরগুলো করেছে তার সবটাও আসলে উদ্দেশ্যমূলক। উদ্দেশ্যটা হচ্ছে- যাতে কেউ তাকে আহসানীয়া মিশন ক্যান্সার ফান্ডে কিম্বা জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউটে তার "ম্যারাথন ফান্ডের" টাকা দিয়ে দেবার যুক্তি না দ্যাখাতে পারে। কেননা, প্রথমেই যখন হুমায়ূন নিজের নাম ফাটাবার মনোবাসনা নিয়ে এই সংক্রান্ত লেখালিখি শুরু করেন- তখন এই প্রশ্ন অনেককেই করতে শুনেছিলাম যে "ক্যানো আলাদা আরেকটি বানাতে হবে, যেটা আছে সেটাকেই উন্নত করা হোক!" বুদ্ধিমান হুমায়ূন সাহেব সেই আলচনায় একটি বুদ্ধিদিপ্ত কুলুপ এঁটেছেন দেখে আবারো তার ধূর্ততার একজন ভক্ত হলাম।
তবে, নওমুসলিম হুমায়ূন আহমেদের একটা চমৎকার "ট্রিক" দেখলাম প্রথম-আলোর রিসেন্ট লেখাটায় বেশ হালকার ওপর একটা ধরা খেয়ে গ্যাছে। কুরানের তাফসির নিয়ে উচ্চকিত হুমায়ূন আহমেদ বাঙালির মহত্ত্ব বুঝাতে "নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়" (মূলত বিহার)-এর উল্লেখ করায়, একজন পাঠক বলে বসলেন- "ইতিহাসের প্রাচীন এই জ্ঞান বিজ্ঞানের তির্থস্থানটি বখতিয়ার খিলজি ১১৯৭ (যতদুর মনে পড়ছে) সালে ধ্বংস করেছিলেন। হুমায়ুন সাহেব এই তথ্যটিও দিতে পারতেন এখানে!"
---- আশফাক অনুপ -----
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জানুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


