somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নারীবাদ কেন খারাপ?

২১ শে অক্টোবর, ২০২১ সকাল ১১:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



নারীবাদ খারাপ কারণ এইটা যত না নারীকেন্দ্রিক তার চাইতে বেশি পুরুষকেন্দ্রিক বিষয়।

সমাজে ও রাষ্ট্রে পুরুষ কী করবে বা কী করবে না তার তালিকা তৈরি করে নারীবাদ।

পুরুষের সম্মতি, স্বার্থ, ইচ্ছা ও তর্কের মূল্য না দিয়াই তা করে।

সমাজে নারীর যে ক্ষমতাহীনতার অবস্থান তা থেকে উত্তরণের চাইতে নারীবাদ পুরুষকে সেই ক্ষমতাহীন অবস্থানে স্থানান্তরেরই চেষ্টা বেশি করে। তাতে সমাজের যে সমস্যা, দুর্বল একটি পক্ষের পরাধীন অবস্থা, তার সমাধান ঘটে না।

বরং নিজেদেরকে ধারাবাহিক ভাবে ভিকটিম প্রতিপন্ন করার মাধ্যমে নারীবাদী নেতৃত্বগুলি বুদ্ধি, চিন্তা ও ইচ্ছা দিয়া সমাজকে সামাজিক সম্পর্ক গবেষণার প্লাটফর্মে পরিণত করে। এই কাজে তারা ক্ষমতাকেন্দ্র, প্রশাসন, অ্যাকটিভিস্ট ও আইনজ্ঞদের সহযোগিতা পায়।

নারীবাদীদের ব্যাখ্যা বা দূতিয়ালির মাধ্যমে আপাত দূরবতী ক্ষমতাচক্র আইনের প্রয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে আরো বেশি জনঘনিষ্ঠ হইয়া ওঠে। অর্থাৎ সামাজিক সম্পর্কগুলি আইনভিত্তিক হওয়ার দিকে ঝুঁইকা পড়ে। ধীরে সমাজ লুপ্ত হয়, অধিকার ভিত্তিক আইনি সমাজ বড় হইয়া দাঁড়ায়। ফলে কালচার বা সংস্কৃতি লোপ পায়। যৌনতা, শিল্প ও সাহিত্য নারীবাদী নৈতিকতার সম্মতি-অসম্মতির জালে আবদ্ধ হইয়া পড়ে।

এই রকম জগতে (সমাজ, সংস্কৃতি, শিল্প ও সাহিত্যহীন কেবলই অধিকার ও সম্মতির জগৎ) নারী ও পুরুষ উভয়েই ক্ষমতাবান গোষ্ঠীর দ্বারা তৈরি কৃত্রিম ও আইনের হুমকিযুক্ত "সমতা" নামক স্বেচ্ছাচারের অধীনে 'পেপার পিপল' হিসাবে বসবাস করতে বাধ্য হয়।

পরিবার নামক যে অসম ক্ষমতা, অধিকার ও সম্মতির সিস্টেম বা প্রতিষ্ঠান, যা দিয়া তৈরি সমাজ, যার কেন্দ্রে থাকে পুরুষ বা পিতা, তা ভাইঙ্গা পড়ে।

এভাবে নারীবাদ সমাজকে কাঠামোহীন করে। অর্থাৎ সমাজের যে একক সেই পরিবার থেকে ক্রমশঃ এক ব্যক্তির তথা পিতা বা স্বামীর ক্ষমতাকে অবলুপ্ত করে।

সমাজে বড় ছোট থাকে না। কেউ আর কারো উপর নির্ভরশীল থাকে না। কাজেই সম্পর্কের বিনিময়ও অদৃশ্য হইতে থাকে। সকলে সমান থাকার কারণে পরিবার বা সমাজ বইলাও কিছু থাকে না। একটা কৃত্রিম একবাড়িতে বা একপাড়ায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর আবির্ভাব ঘটে।

ফলে পরিবার ও সমাজের জন্যে যে অর্থে প্রাইভেসি বা কাঠামো নষ্টকারী রাষ্ট্র, সরকার, প্রশাসন, দল ও আইন খারাপ সেই একই অর্থে নারীবাদও খারাপ।

নারীবাদ মূলত পুরুষদের আচার-আচরণ শোধরানো ও শেখানোর নৈতিক তত্ত্ব দেয়। এবং সে আলোকে দেশের আইনের মধ্যে নতুন নতুন নৈতিক সূত্র যুক্ত করতে থাকে।

এগুলি কেমন খারাপ বিষয় তা বুঝতে হলে কল্পনার আশ্রয় নিতে হবে। ভাবতে হবে পুরুষরা পুরুষবাদ তৈরি করতে একই ভাবে রাষ্ট্র, সরকার, প্রশাসন ও আইনজ্ঞ ও অ্যাকটিভিস্টদের আশ্রয় নিতেছে।

মানুষের আইনি অধিকারের সমতাকে নৈতিক গোষ্ঠীর সঠিকতা দিয়া নির্ধারণ করা যাবে না। মানুষের সমতা তৈরির আগে নারী-পুরুষ সমতার লড়াই মূলত শ্রেণী, বর্ণ, রুচি ইত্যাদির প্রয়োজনীয় লড়াইকে অবান্তর কইরা দেওয়ার অনুশীলন। মূলত পুরুষতন্ত্রের মধ্যে ক্ষমতাবান নারীদের নিজ নিজ অবস্থান তৈরি কইরা নেওয়ার সুবিধা গ্রহণ।

সমাজ যেহেতু পুরুষতান্ত্রিক, ফলে এর ভাঙন বা উচ্ছেদ মানে সমাজেরই উচ্ছেদ। আমরা যদি সমাজ রক্ষা করতে চাই বা সভ্যতা রক্ষা করতে চাই তবে পুরুষতন্ত্রের ক্ষমতাকাঠামোর মধ্যেই তা রক্ষা করতে হবে।

নারীর অক্ষমতা বা দুর্বলতা কাটানোর দায়িত্বও সমাজেরই, নারীবাদ বা অ-সমাজের নয়।

পুরুষতন্ত্রের দুর্বলতা, অবিচার, অন্যায্য সমস্যাগুলি ঠিকঠাক করতে হবে। তার বদলে পুরুষতন্ত্রের উচ্ছেদ ঘটাইলে সমাজ থাকবে না। কারণ সমাজ পুরুষতান্ত্রিক।

একই সঙ্গে সমাজ, সংস্কৃতি, শিল্প, সাহিত্য চাইবো, আবার পুরুষতন্ত্রের উচ্ছেদও চাইবো তা হয় না।

আমাদের মনে রাখতে হবে, নারীবাদী সমবায় সমিতি দিয়া পরিবারের কাজ চলবে না, সভ্যতায়।

নারীবাদ নিপাত যাক!

২১/১০/২০২১

সর্বশেষ এডিট : ২১ শে অক্টোবর, ২০২১ সকাল ১১:৫৮
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ কতটা উন্নতি করলো?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৩:৫১

ছবিঃ আমার আঁকা।

গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে বলা যাবে না।
যতদূর এগিয়েছে তার চেয়ে ত্রিশ গুণ বেশি এগোনো দরকার ছিলো। শুধু মাত্র দূর্নীতির কারনে আজও পিছিয়ে আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগার নতুন নকিবের গোপন এজেন্ডা

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৪:৩৮


আসসালামুয়ালাইকুম। আপনারা সবাই ব্লগার নতুন নকিবকে চেনেন। তাকে আমার খুব পছন্দ ছিলো। কারণ সে ইসলামী ভালো ভালো পোস্ট দেয়। কিন্তু হঠাৎ করে এক পোস্টে তার মুখোশ খুলে গেছে। দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্নানঘরের আয়না

লিখেছেন মনিরা সুলতানা, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ সন্ধ্যা ৭:৪৯



দিনের শেষে প্রিয়বন্ধু হয়ে থাকে একজন' ই
- স্নানঘরের দর্পণ
যে দর্পণে তুমি নিজে পৃথিবীর সবচাইতে সুন্দরী রাজকন্য হয়ে র'বে
কনে সাজে তুমি, অথবা মাতৃত্বের জ্বরতপ্ত বিষণ্ণ মুহূর্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগার জটিল ভাইয়ের কুটিল এজেন্ডা ফাঁস!

লিখেছেন জটিল ভাই, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ রাত ৯:৩৩


(ছবি নেট হতে)

জটিল ভাইকে সবাই হয়তো চিনেন না। আমি কোনোকালেই তাঁর ভক্ত ছিলাম না। এমনকি কখনও আমি তাকে ব্লগার হিসেবেও স্বীকৃতি দিতে রাজি নই। তাছাড়া ভবিষ্যতে তিনি করবেন এমন একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সালাত আদায় বনাম নামাজ পড়া বনাম সালাত কায়েম

লিখেছেন জ্যাকেল , ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ রাত ১১:৫৪




মুসলমান ও ইয়াহুদী ধর্মের মানুষগণ সেজদা সহ মোটামুটি মিল আছে উপায়ে প্রার্থনা করেন/নামাজ পড়েন। লোকমুখে আমাদের দেশে এভাবে ব্যাপারটা চলে-

নামাজ পড়তে হবে।
নামাজ পড়া বাদ দিলে মুসলমান থাকা যায় না। ফাসেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×