somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

নীলা তোমাকে ভালোবাসি

০৮ ই জুন, ২০২১ রাত ৩:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছবি; আমার তোলা।

একদিন বিকেলে নীলার মন খারাপ দেখে আমি নীলাকে একটা কৌতুক শুনাই।
আমার কৌতুক শুনে নীলা রাগ করে একটা সিএনজি ডেকে চলে গেলো। কৌতুকটা ছিল এই রকম-
'নারী বিদ্বেষী এক যুবক ঈশ্বরকে জিজ্ঞেস করল- হে ঈশ্বর, তুমি নারীকে এত সুন্দরী বানিয়েছ কেন?
যাতে তুমি তাকে ভালোবাস।
তাহলে ঈশ্বর, তুমি নারীকে এত বোকা বানিয়েছ কেন?
যাতে সে তোমাকে ভালোবাসে'।

এই কৌতুকে রাগ করার কি আছে আমি বুঝতে পারি না। ইদানিং নীলা আমার উপর খুব বেশী রাগ করছে।

মন থেকে কিছু চাইলে সেটা বিফল হয় না।
নীলা একটু একটু করে আমার রক্তে মিশে গেছে। যতক্ষন নীলার সাথে থাকি ততক্ষন নিজেকে মিশরের সম্রাট বলে মনে হয়। তখন কোনো চিন্তা ভাবনা মনে আসে না। কোনো সমস্যার কথা মনে পড়ে না। মনে হয় পৃথিবীটা খুব সুন্দর। নীলা পাশে থাকলে সব সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজে পাবো। আত্নবিশ্বাস বেড়ে যায়। কিন্তু নীলা মুখটা গম্ভীর করলেই বুকের ভেতরে জ্বলে। মরে যেতে ইচ্ছা করে।

আবেগ ব্যাপারটা আমি ঠিক বুঝি না।
আমার কৌতুহল ও খুব কম। আমি ভাবতাম নীলা আমাকে খুব বুঝে। নীলা আমাকে একটুও বুঝে না। সে সবাইকে বুঝে শুধু আমি ছাড়া।আমাকে শুধু বকতে পারে। ধমক দিতে পারে। আদর করতে পারে না। নীলাকে আমি বুঝাতে পারি না- আমি একা। বড় একা। আমার জীবনের সব সুন্দর মুহূর্তে আমি একা ছিলাম। আমার আজও স্পষ্ট মনে আছে আমি যখন নীলাকে ভালোবাসি, তখনও আমি একা ছিলাম। যেই মুহুর্তে আমি নীলাকে মনে করি ঠিক সেই মুহুর্তেও আমি একা। আমার কপাল এমন খারাপ যখন প্রথম সমুদ্র দেখি, তখনও আমি একা।

বোকা নীলাকে আমি বুঝাতে পারি না-
অবিশ্বাস আর সন্দেহের কারনে ভালোবাসা হারিয়ে যায়। কিন্তু অবিশ্বাস আর সন্দেহ দিয়ে ভালোবাসা পাওয়া যায় না। একটু ভুলের জন্য পরে সারা জীবন কাঁদবে। নীলার মূল সমস্যাটা কোথায় বুঝতে পারছি না। ফলাফল আমার মাথায় যন্ত্রনা হচ্ছে।
'যতই আমি দূরে যেতে চাই
ততই আসি কাছে
আমার গায়ে তাহার গায়ের
গন্ধ লেগে আছে'।


গভীর রাতে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে তখন হঠাৎ কেন জানি চোখ ভিজে উঠে। আকাশের সবচেয়ে জ্বল জ্বল করা তারাটির নাম নীলা। আকাশের দিকে তাকিয়ে বলি- 'হে ইশ্বর ভালোবাসা কি আমাকে বুঝিয়ে দাও। এই ভালোবাসা কোথায় লুকিয়ে থাকে? কোন অচেনা ভুবনে? কি করে সে আসে? কেন সে আসে? কেন সে আমাদের অভিভূত করে? হাসায়, কাদায়?
পাশের বাসায় ইংরেজী গান বাজছে। গানটি সুর সারা জগতময় যেন পরিচিত। গানের কথা গুলো এই রকম-
'If u missed the train l'am on
U will know that l am gone
U can hear the whistle blow a hundred miles
A 100 miles A 100 miles
Not a Penny to my name
And the land that l once loved is not my own
Lord l'm 1, Lord l'm 2, Lord l'm 3, Lord l'm 4
Lord l'm 500 miles Away from Home
Away from Home.'


সেদিন আমার ভাবি আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন-
তোমার নীলির খবর কি? আমি ভাবিকে বলেছি- ভাবি নীলি নয় নীলা।

অনেক দিন থেকে কিছু কথা গুছিয়ে রেখেছি-
নীলাকে বলার জন্য। আজ বলবো। নীলা পৃথিবীর যেখানেই তুমি থাকো- তুমি আমার'ই। চিরটা কাল তুমি আমার'ই থাকবে। মনে রেখ, আদিম মানুষেরাই ঠিকভাবে বাঁচতে জানত। কারন তারা ছিল জ্ঞানী এবং স্বপ্নবাজ। তারা অনুভব করতো বেঁচে থাকার গভীর আনন্দ।জ্ঞানী এবং সৎ স্বপ্নবাজ মানুষদের সভ্যতার কৃএিমতা থেকে দূরে থাকাই ভালো। আমাদের বাঁচতে হবে মুক্ত আকাশের মতো। চারিদিকে ছড়িয়ে দিতে হবে আনন্দের বীজ।

গতকাল রাতে স্বপ্নে দেখি-
নীলার সাথে আমার বিয়ে হয়ে গেছে! বিয়ের তিন দিন পর্যন্ত ভালো ছিলাম। তারপর শুরু হয়েছে অত্যাচার। নীলা কঠিন গলায় আমাকে বললো- প্রতি মাসে তাকে সংসার চালানোর জন্য ৬০,০০০ হাজার টাকা দিতে হবে। আরো অনেক কথা। তারপর ৩ বছর চলে যায়।আমাদের দু'টা বাচ্চা হয়। মেয়েটার নাম নীলাঞ্জনা আর ছেলেটার নাম মেঘ। বাচ্চাদের নাম নীলা'ই রাখে। সারাদিন কর্মব্যস্ততার পরে যখন বাসায় ফিরি নীল শাড়ি পড়া নীলাকে দেখলে আমার সব ক্লান্তি ভুলে যাই। নীলা হাসে। বড় ভালো লাগে এই বোকা মেয়েটার হাসি।এই হাসির জন্য আমি অনেক কিছুই করতে পারি। নীলার হাসি অনেক সুন্দর। মনে হয়, একসঙ্গে অনেকগুলি কাচের চুড়ি বেজে উঠলো।নীলার হাসি জলতরঙ্গের মতো। শুনলেই মনে হয়- এটা শুধু হাসি নয়। হাসি দিয়ে দু'হাত বাড়িয়ে দেয়া। হাসির মাধ্যমে কাছে ডাকা।

তোমার একটু স্পর্শ।
অদ্ভুত এক ভালো লাগা। নীলা তুমি কেন এতো রহস্যময়? কী অদ্ভুত আকর্ষন শক্তি তোমার ভেতর। মাঝে মাঝে ইচ্ছা করে তুচ্ছ এই জীবন থেকে পালিয়ে যাই। এটা কি মোহ? আবেগ? নাকি নিছক পাগলামি, না ভালোবাসা? জানি না। আমি জানি না। এই অনুভূতির শেষ নেই? জানি ভুল, তবু মায়াময়।
নীলা, ভয় কিসের? কিসের অভিমান? কেন মিছে কষ্ট পেয়ে দূরে দূরে থাকা? কেবল শূন্যতাকে নিজের করে বুকে আগলে রাখো, ভালোবেসে দেখো একদিন উওাল সাগরের সবটুকু ঘোলাটে জল শান্ত-স্থির হবে। অবাধ ভালোবাসায় রঙিন হবে ধূসর জগৎ। নীলা, আমার একদিকে পৃথিবীর সব ধন-দৌলত, আনন্দ আর অন্য দিকে তোমাকে রেখে যদি বিধাতা বাছাই করতে বলতেন, তোমাকে চেয়ে নিতে আমার একদন্ডও সময় লাগবে না।

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুন, ২০২১ রাত ৩:২৬
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৬৪ জন ব্লগার চাই

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ১৩ ই জুন, ২০২১ দুপুর ২:৪৪




বাংলা ভাষার সবচেয়ে বড় ব্লগ হচ্ছে আমাদের প্রিয় সামু ব্লগ। কিন্তু জিনিস ইদানিং খুব ফিল করছি। এত বড় প্লাটফর্মে
কি বাংলাদেশের ৬৪ জেলার ৬৪ জন ব্লগার ব্লগিং করেন না... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুপ !! ( একটি রম্য কবিতা)

লিখেছেন নূর মোহাম্মদ নূরু, ১৩ ই জুন, ২০২১ বিকাল ৫:১৬


চুপ !! (একটি রম্য কবিতা)
© নূর মোহাম্মদ নূরু

চুপ! চুপ!! চুপ পেলাপান, এক্কেবারে চুপ !!!
চ্যাচা মেচি করলে রাজা রাগ করিবেন খুব।
কথা বলো চুপি চুপি দাড়ি পাল্লায় মেপে
ওজন বেশী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সহজ ভাষায়ঃ কপি-পেস্ট দোষের কেন [একটি গল্প ফাও]

লিখেছেন আরইউ, ১৩ ই জুন, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:২৯




একটা গল্প বলিঃ ৯০ এর দশকের কোন এক সময় হবে, তখনকার। গ্রামের নাম নীলগন্জ। ঢাকা থেকে অল্প দূরে -- ধরা যাক ২৫ কি ৫০ কিলোমিটার হবে -- ছোট একটা গ্রাম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মহামারী ব্ল্যাক ডেথের গর্ভ হতে জন্ম নেয়া কিছু সাহিত্য ও শিল্প কর্ম নিয়ে একটি পর্যালোচনা।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৩ ই জুন, ২০২১ রাত ৯:৩১


সুত্র : Click This Link
আমরা অনেকেই জানি ব্ল্যাক ডেথ ( Black Death) নামে পরিচিত মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর একটি মহামারী অস্বাভাবিক মারণক্ষমতা নিয়ে প্যানডেমিক হয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল সারা বিশ্বে। মধ্য এশিয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভিনদেশী গানের সুরের আদলে রবীন্দ্রসঙ্গীত

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ১৩ ই জুন, ২০২১ রাত ১০:১১


কৈশোর ও তারুণ্যের মাঝামাঝি বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কয়েক দিন আগের পোস্টে কিছু হিন্দি গানের লিংক দিয়েছিলাম যেগুলির সুর রবীন্দ্রসঙ্গীত থেকে ধার করা ছিল। এই পোস্টে কিছু রবীন্দ্রসঙ্গীতের সন্ধান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×