আমাদের আত্মমর্যাদাবোধ কি হ্রাস পেয়েছে? নাকি ঘরে ঘরে হাওখাও লেগে গেছে? তা না হলে এভাবে প্রতিবেশী দেশের সীমান্তে নির্যাতনের শিকার হচ্ছি কেনো? গরু যদি আমাদের না থাকে তা হলে ওর মাংস খাওয়ার দরকার কী? গরু আনার নামে অধিকাংশই যে ভারত থেকে মাদক আনছে, মাদকের কালো ফেনায়ই যুবসমাজ ধ্বংস হচ্ছে। এসব কি দায়িত্বশীলদের দৃষ্টিগোচর হয় না? শুধু কি মাদক? আগ্নেয়াস্ত্র, বোমা, বারুদ তথা মারণাস্ত্র পাচার করে এনে দেশের উন্নয়ন পদে পদে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। জানমালের নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকে ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। বারবার নানাভাবে নির্যাতনের পরও সীমান্তের যে চিত্র দেশের পত্রপত্রিকায় উঠে আসছে তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আত্মমর্যাদায় চিড় ধরেছে। ত্যাগের মধ্যদিয়ে গৌরবে লাগা কালির দাগ কেনো আমরা মুছার মতো পদক্ষেপ নিচ্ছি না? এর অসংখ্য প্রশ্নবান বিবেকবানদের নিশ্চয় ক্ষতবিক্ষত করছে।
সীমান্তে কেউ নির্যাতনের শিকার হলে তাকে যদি দেশের কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি চোরচুট্টা বলে তা হলে আত্মমর্যাদা নিয়ে আর গর্বের কিছু থাকে না। মর্যাদাবোধ যে তলানিতে ঠেকতে বসেছে তা নিয়ে দ্বিমত থাকলেও সীমান্তে আমরা আমাদের মর্যাদা যে রক্ষা করতে বারবারই ব্যর্থ হচ্ছি তা নিয়ে নিশ্চয় কেউ দ্বিমত করবেন না। আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আমাদের স্বাধীনতা অর্জনে প্রতিবেশী দেশ ভারত সহযোগিতা করেছে? পক্ষে-বিপক্ষে বহু যুক্তি তর্ক রয়েছে, যা অবশ্যই রাজনৈতিক। সেদিকে না গিয়ে বর্তমান সীমান্তের চিত্র শাদা চোখে দেখে তা বিশ্লেষণ করলে যা পাওয়া যায়- তা আমাদের ব্যর্থতারই প্রতিচ্ছ্ববি নয় কি?
জনসংখ্যা বিস্ফোরণের দেশ আমাদের। জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর করতে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে দিনে ৩টি শিফটে ভাগ করতে হবে। সকালে প্রাথমিক শিক্ষা, বিকেলে কারিগরি। আর রাতে টোফেল। শুধু সাধারণ শিক্ষাদানে দেশে বেকারত্বের বোঝা বাড়ছে। জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হলে অবশ্যই কারিগরি শিক্ষা ও বিদেশী ভাষাজ্ঞানে দক্ষ করে তুলতে হবে। আর গরু? ঘরে ঘরে যেভাবে মোটাতাজা করার রেওয়াজ চালু হয়েছে তা ত্বরান্বিত করতে দেশের পশুসম্পদ বিভাগকে ঢেলে সাজাতে হবে। প্রয়োজনে পদ্ধতি বদলে সকলকে দায়িত্বশীল করে তুলতে হবে। সীমান্ত প্রহরীদের দায়িত্বশীল করে তোলা খুবই জরুরি। চোরাচালান জিইয়ে রাখা মানে তলাহীন ঝুঁড়িতে খাবার গচ্ছিত করা। চোরাচালান বন্ধ করতে না পারলে দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হবে কীভাবে? স্বনির্ভরতা অর্জনে, সীমান্তবাসীর মধ্যে দেশপ্রেমবোধ জাগিয়ে তুলতে হবে ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

