শালা বাঙ্গালী কথাটা নিজেই নিজেকে বলি প্রতিনিয়ত। জীবনে চলার পথে এত ঘটনা ঘটে যে তখন মনে হয় কেন যে বাঙ্গালী হলাম???
আমাদের কমন সেন্সটা এত কম যে কেন বুঝিনা? ধরে নিলাম অনেক লোক অশিক্ষিত এই দেশে। কিন্তু শিক্ষিত লোক ও তো কম নয়। যখন শিক্ষিত লোক অবিবেচকের মত আচরন করে তখন রাগে দুঃখে মরে যেতে ইচ্ছা করে। খুব সাধারন একটা বিষয় হল মোবাইল এটিকেট। অশিক্ষিত লোকজন এই বিষয়ে অবগত না থাকলেও শিক্ষিত লোকজন তো জানে। কিন্তু আমরা বাঙ্গালীরা সব স্তরের লোকজন এই বিষয়টা আজও বুঝতে পারলাম না।
সেদিন বুয়েট এ একটা ওয়ার্কশপ এ গিয়েছিলাম। ওয়ার্কশপটা আয়োজন করা হয়েছে বুয়েট ও ইউএসএ'র একটা ইউনি'র যৌথ উদ্যগে। তো ওয়ার্কশপ শুরু হবার আগে বুয়েটের এক প্রফেসর বললেন সবার মোবাইল বন্ধ না করতে পারলেও যেন সাইলেন্ট করে রাখা হয় (উল্লেখ্য উদ্বোধনি বক্তব্যে বারবার অনেকের মোবাইল বেজে উঠছিল)। প্রথম সেশনে ইউএসএ'র এক প্রফেসর লেকচার দিচ্ছেন ১০ মিনিট পার হবার পরই একজনের ফোন বেজে উঠলো। প্রথমবার তাই কেউ কিছু হয়নি এমন একটা ভাব করে থাকলো। তার ৫ মিনিট পার না হতেই আবার আরেকজনের ফোন বেজে উঠলো। তার আবার চাইনিজ মোবাইলে চাইনিজ ধুম ধাড়াক্কা রিংটোন। এভাবে শুরু হল আর ৫-৭ মিনিট পর পর একেকজনের মোবাইল বেজে উঠতে থাকলো। যার ফলে ইউএসএ'র প্রফেসর একটু বিরক্ত হয়ে কিছুক্ষন চুপ করে এদিক ওদিক তাকালেন অসহায়ের মত। অনুষ্ঠানে সবাই প্রায় বিএসসি ইঞ্জিঃ/ ইউনি টিচার/কিছু পলিটেকনিক এর ডিপার্টমেন্ট হেড। তারপর আবার যোগ হল বিদ্যুত বিভ্রাট। ২০ মিনিটের মাঝে ৩ বার বিদ্যুত সমস্যা ফলে ৩ বার প্রজেক্টর বন্ধ হয়ে গেল। পুরা বিষয়টাতে প্রফেসর সাহেব বেশ অস্বস্তিতে পড়লেন বলে মনে হল। তারচেয়ে বড় কথা তিনি এই দেশের মানুষের বিবেক বুদ্ধি নিয়ে কি ধারনা নিয়ে গেলেন??? এমনিতেই বাংলাদেশের ভাবমুর্তি বাইরে খুবই খারাপ (দু একটা ব্যাতিক্রম বাদে)। সেখানে বাংলাদেশের সেরা প্রতিষ্ঠানের এই পরিবেশ/ অবাস্থা দেখে তারা নিশ্চয় আরো নেগেটিভ ধারনা নিয়ে যাবে। আমরা কি সামান্য ফোন এটিকেট টাও শিখতে পারি না???
তারপর আরো একটা ঘটনা। জাপানি অধ্যাপক বাংলাভাষার টানে বাংলাদেশে এসে তার ল্যাপটপ সহ ব্যাগ হারালেন!!! সামান্য এতটুকু নিরাপত্তা যদি না দেয়া যায় তবে সকল প্রকার ইন্টাঃ প্রোগ্রাম বাতিল করা ই উচিত নয় কি? নিজেরা যা খুশি তাই করলাম কেউ জানলো না দেখলো ও না। এটাই তো ভালো???
তারচেয়ে ভালো হয় আমরা যদি একটু সচেতন হয় তাহলে আর এই সামান্য ঘটনা গুলো ঘটে না।
আমরা রাস্তায় বা কোনো অনুষ্ঠানে ফোনটা ভাইব্রেশন দিয়ে রাখলে মনে হয় তেমন কোনো প্রবেলম হয় না। কিংবা যারা বাইরে থেকে এদেশে আসে তাদের পাশে যারা থাকে তারা একটু সতর্ক থেকে তাদের জিনিসের প্রতি নজর রাখতে পারে। কারন চোরদের তো বিদেশি লোকজনের প্রতি বেশি আগ্রহ থাকে।
প্রথম আলোর স্লোগান নয় আমাদের নিজেদের স্লোগানে আমাদের নিজেদের ভিতরটা আরেকটু সুন্দর করা উচিত। আরেকটু সচেতন হওয়া উচিত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



