আমাদের প্রবাসীরা কতটুকু সুখে থাকেন?
সৌদি আরব ৮ বাংলাদেশীকে খুন করার পর এই প্রশ্নটা মাথায় এলো। খুন শব্দটার ব্যবহার দেখে অনেকে ঘাবড়ে যেতে পারেন। তাদেরকে দুটো প্রশ্ন করবো।
প্রথমত, ইসলাম ধর্ম প্রতিষ্ঠা হয়েছে বলে সৌদি রাষ্ট্রদূত যে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুললেন, তার পেছনে যুক্তির অংশ কতটুকু? এই কয়েকদিন আগে এক সৌদি যুবরাজ লন্ডনে এক খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত হলেন। খুন হওয়া ব্যক্তিটি ঐ প্রিন্স এর খিদমদগার এবং সমকামের সঙ্গী ছিলেন। সৌদি সরকার এক্ষেত্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার কোন উদ্যোগটা নিল? ইসলামে সমকামের শাস্তির বিধান আছে। কিন্তু এক্ষেত্রে 'কিসাস' এর প্রয়োজন পড়লো না ।
দ্বিতীয়ত, এই লোকগুলো যদি বাংলাদেশি মিসকিন না হয়ে আমেরিকান অথবা ইন্ডিয়ান-ও হতো, তবে আর 'ইসলাম প্রতিষ্ঠার' প্রয়োজন পড়তো না। তার মানে, সৌদি ইসলাম একটা স্পেশাল ফর্মের ইসলাম! এই ইসলামের আইন-কানুন ব্যক্তিকে তার কৃত অপকর্মের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দেয়। অর্থাৎ আইন এখানে অন্ধ না, অন্ধ হবার ভাবও নেয় না, রীতিমত চোখ খুলে সে ব্যক্তিকে দেখে, তারপর শাস্তি দেয় অথবা চেপে যায়।
আমাদের বাংলাদেশে সৌদি আরবের বিশাল মর্যাদা আছে। সৌদি রাজপরিবার ইসলামের পবিত্র দুই মসজিদের রক্ষক। এই লাইসেন্সটার উপযুক্ত ব্যবহার তারা করে। ইসলাম দুনিয়ার জঘন্যতম জায়গাটিতে নাজেল হয়েছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয় ঐ জায়গাটির মানুষগুলোর খুব বেশি উন্নতি ইসলাম করতে পারেনি। খোলাফায়ে রাশেদার হাত ধরে ইসলাম আরবের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। দক্ষিন এশিয়াতেও ইসলাম আদিরূপের কাছাকাছি আছে, কিন্তু খোদ আরবে তা নেই। আরব ইসলাম মুসলমানদের সন্ত্রাসী অবতারে রূপায়িত করেছে। ওসামার উত্থান কিন্তু সৌদি রাজপরিবারের বিরোধিতা করেই। কিন্তু সৌদি ইসলাম এমনই গণতন্ত্রমনা যে বিরোধিতা সন্ত্রাসবাদের রূপ নেয়।
১৯৪০ সালে তেল আবিষ্কারের আগে এদের অন্যতম প্রধান আয় ছিল হজ্ব মৌসুমের বিবিধ আয়। তেল ফুরিয়ে গেলেও তাদের এই আয় অব্যাহত থাকবে। সারা পৃথিবী থেকে মানুষ মক্কায় যাবে। তাদের কাছে এরা টুপি-তসবি-আতর-খোরমা বিক্রি করবে। কিন্তু এই মুসলমানদের হজ্ব কি আল্লাহ কবুল করবেন?
আল্লাহ যদি সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক হন তাহলে তিনি কবুল করবেন না। কারন তার ঘরের জিম্মাদারি এমন লোকদের হাতে যাদের হাতে রক্তের দাগ। যাদের শিশ্ন সবসময় ব্যস্ত। যারা বিলাস-ব্যসনের দিকপাল।
রাজশাহী
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ২:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


