ধানমণ্ডি ৫ নম্বর সড়ক। সোনিয়াকে আজ দেখতে আসবে ছেলের মা। সোনিয়া বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে। ওর জন্য ঘর জামাই খোঁজ করা হচ্ছিল। ঘর জামাই পাওয়া দুরহ বিষয় নয়। ভাল ঘর জামাই পাওয়া মুশকিল। বহু খোঁজাখুজির পর এক সম্ভ্রান্ত্র পরিবারে ছেলে পাওয়া গেল। শোনা গেল সে ঘরে বসেই আয় উপার্জন করে।
সোনিয়াদের বাসায় ঢুকে মেহবুবের মায়ের চোখ কপালে। মেয়ে সুন্দরী না হলে কী হবে, বেশ ঢকের এক বাসা বানিয়েছে। নাহ, রুচি আছে সোনিয়াদের- এই কথা একবারে স্বীকার করতে হয়।
কাজের মেয়ে এক ট্রলি ভর্তি চেনা-অচেনা খাবার দিয়ে গেছে। চামচে খাওয়ার অভ্যাস মেহবুবের মায়ের তেমন নাই। তিনি লজ্জা পাচ্ছেন। আবার নিজেকে সাহস দেবার চেষ্টা করছেন। হাজার হোক, তিনি একজন স্কুলের হেডমিস্ট্রেস। তিনি অনেক কিছু জানেন, বোঝেন। ইদানিং তিনি মেহবুবের কাছ থেকে কম্পিউটার শিখছেন। শুধু টাকা থাকলেই মানুষ অনেক কিছু জেনে যায় না।
সোনিয়ার মা ঢুকলেন। হাসি মুখে মেহবুবের মাকে ছালাম জানালেন। মেহবুবের মা তার কাছ থেকে এটা আশা করেন নি। তিনি গলে যেতে শুর করলেন। আবার নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করলেন। তার রাজপুত্রের মত ছেলেকে এইরকম চেহারা-শ্রী-হীনার কাছে যে দিবেন এতেই তো তিনি অনেক করছেন। সোনিয়ার মায়ের উচিৎ তার পায়ে পড়ে থাকা।
দু জনের আলাপচারিতা শুরু হল। তার কিছু অংশ নিচে দেওয়া হলঃ
সোনিয়ার মাঃ কেমন আছেন?
মেহবুবের মাঃ হুমম!…এই তো খারাপ না।
সোনিয়ার মাঃ সব ঠিকঠাক যাচ্ছে তো? বাসার সবাই কেমন আছেন।?
মেহবুবের মাঃ ভালই।
সোনিয়ার মাঃ তো মূল আলোচনায় আসি। সোনিয়ার আবার পরীক্ষা শুরু হচ্ছে সামনের মাস থেকে। এ কয়টা দিন বেশ ব্যস্ত যাবে। তা…. আপনার ছেলে কি করে?
মেহবুবের মাঃ আমার ছেলে ব্লগ করে। ও একজন ব্লগার।
সোনিয়ার মাঃ কী করে?
মেহবুবের মাঃ ব্লগ করে।
সোনিয়ার মাঃ এইটা আবার কী?
মেহবুবের মাঃ কোনটা? ব্লগ? আপনি ব্লগ কি- এইটা জানেন না!
সোনিয়ার মাঃ জি না। আমি আসলে বাইরের অনেক কিছুর খবর রাখি না। তো ব্লগ কী?
মেহবুবের মাঃ ব্লগ হচ্ছে একটা ওয়েব সাইটে বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করা। আপনি কিছু একটা লিখলে আপনার লেখায় অন্য মানুষ মন্তব্য করবেন। আবার আপনিও অন্য মানুষের লিখায় মন্তব্য করতে পারবেন।
সোনিয়ার মাঃ তা এইসব করে আপনার ছেলে আয় উপার্জন করে?
মেহবুবের মাঃ জি। বেশ ভাল আয় করে। খুব কম ব্লগার আছে যারা ওর মত আয় করে।
সোনিয়ার মাঃ তা আয় হয় কিভাবে? একটু ব্যাখ্যা করলে ভাল হত।
মেহবুবের মাঃ আমার ছেলে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্লগার। সে যখন কোন কিছু নিয়ে কিছু লিখে তখন ওই লিখা পড়ার জন্য মানুষ হুমড়ি খায়। ওর আবার বিশ্ববিখ্যাত কম্পানী গু-গোলের সাথে ভাল লিংক আছে। ওর ব্লগ পড়ার ফাঁকে কেউ যদি গুয়ের এ্যাডে টিপ দেয় তখন ও ডলার পায়। কাঁচা ডলার।
সোনিয়ার মাঃ তা মাসে কত পায়?
মেহবুবের মাঃ আমাকে ও সঠিক হিসাব দেয় না যদিও, একাবার ও মাসে ১১০ মার্কিন ডলার পেয়েছিল।
সোনিয়ার মাঃ এত অল্প টাকা!
মেহবুবের মাঃ অল্প কই? ইদানিং ও যেই সব গু-রুত্বপূর্ণ লিখা পোষ্ট করা শুরু করেছে তাতে ওর ব্লগ কোম্পানীর ব্যণ্ডইডথ নিয়ে টানাটানি শুরু হয়েছে। এই মাসে ও ফাটায় ফেলবে।
সোনিয়ার মাঃ তা দেখি আপনার ছেলের ব্লগ। সাদেক আলী, আপার কাছ থেকে লেপটোপ নিয়া আয় দেখি। আপনি অ্যাড্রেস জানেন তো?
মেহবুবের মাঃ (মনে মনে) আবার জিগায়! জি আমার জানা আছে।
সোনিয়ার মাঃ বলেন অ্যাড্রেস।
মেহবুবের মাঃ www.raamchhagolzinblog.net/blog/paathablog
সোনিয়ার মা বেশ সময় নিয়ে ওর ব্লগ দেখলন।
শেষে ল্যাপটপ থেকে চোখ ওঠালেন। রিডিং গ্লাস খুলে মুখ ভরা বিরক্তি নিয়ে মেহবুবের মাকে বললেনঃ যান ফোটেন! আইছে আমার ব্লগার! ব্লগারের ভাত নাই!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

