somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেশ বনাম দূর পরবাস যোগ-বিয়োগের অংক।

২০ শে মে, ২০১৯ রাত ৮:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


একজন প্রবাসীর জীবন।
প্রিয় পাঠক, ধৈর্য্য নিয়ে পড়বেন। আজ কোন ছন্দেভরা কবিতা,চিরকুট বা দৃশ্যপট লিখবোনা,আজ লিখবো একজন প্রবাসীর জীবন গল্প।
এ বিষয়ে লিখার ইচ্ছে ছিলোনা, তবুও লিখতে হলো বাধ্য হয়ে।
( ১) ইদানিং প্রবাসীদেরকে নিয়ে পত্রিকার পাতায়,ইন্টারনেট গণমাধ্যম ফেসবুক,ব্লগে, টিভি, চ্যানেলের নিউজে বলাবলি লিখালিখি হয়। আবার সে সব পোষ্টে বা ভিডিও পোষ্টে কিছু মানুষ প্রবাসীদের নানারকম কটু কথা বলে,তোরা কেন বিদেশ যাস,তোদের হৃদয়ে দেশের জন্য মায়া নেই ইত্যাদি । এইতো কিছুদিন আগের ঘটনা, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরতএকজন পুলিশ প্রবাসীকে কামলা বলে গালি দিয়েছিলো,আবার অন্য জায়গায় কিছু শিক্ষিত মেয়েরা বলতেছে, প্রবাসীদের বিয়ে করাই উচিৎ না। কয়েকদিন আগের ঘটনা ছাগলনাইয়ার ওসি মোর্শেদ ওনি তো স্কুলে গিয়েই বক্তব্য দিয়ে আসছেন প্রবাসীদের বিয়ে করা যাবেনা।
প্রবাসীর ফ্যামিলিতে নাকি নারী গৃহবধূকে নির্যাতন করা হয়।
কত সহজ করে এরা আমাদেরকে সমাজের সামনে কটু কথার মালা পড়িয়ে উপস্হাপন করলো ভাবা যায়?
আবার এরাই কিন্তু কিছুদিন পর তাদের বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতি ও প্রবাসীদের কাছ থেকে ক্ষমা চেয়েছিলো।
অথচ তাদের এতটুকুও বোধগম্য নেই যে দশ পাঁচজন মানুষের সামনে কিভাবে কথা বলতে হয়।
এরাই আবার সমাজে সুশীল বলে পরিচয় দেয়।
এখন আসেন আমার জীবনের গল্পে।
আমি বাংলাদেশ থেকে শুরু করতে চাই।
আমি একজন মিডেল ক্লাস ফ্যামিলির সন্তান। যারা পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকার জন্য প্রতিনিয়ত স্টাগল করে অর্থের জন্য।আমার পরিবারে যারা আছেন তারা হলেন আমার মা-বাবা, একজন বড় ভাই ওমান প্রবাসী, আমি ও আমার ভাতিজা। মোট ৫ জনের একটি সংসার। ভাইয়া ইচ্ছাকৃত পড়ালেখা ছেড়ে দিয়েছিলেন,পড়ালেখার দৌড়ে বলতে গেলে ওনাকে আমরা সঠিক বাংলা ভাষায় বলতে পারি এক ক্লাস কম মেট্রিক পাশ।
বড় ভাই আমার, এক ক্লাস কম মেট্রিক পাশ হয়ে তো আর কোন ব্যাংক বা আদালত তাকে চাকরী দিবেনা। কারণ বাংলাদেশে চাকরী হলো সোনার হরিন।
শেষমেষ উপায় না পেয়ে ভাই আমার গামেন্টসে নিন্ম বেতনের চাকরী নিলো,আলহামদুলিল্লাহ ভালোই চলছে জীবন,বাবার ব্যবসাও ভালো যাচ্ছে,ভাইয়াও এখন রোজগার করছে। আমার পড়ালেখার সাথে ভাতিজার পড়ালেখাও চলছে নির-বিচ্ছিন্ন গতিতে। সমস্যাটা তখন হলো যখন বাবার ট্রান্সপোর্ট ব্যবসা অচল হয়ে পড়লো। ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায় এখন আর গার্মেন্টেস পার্টিরা তাদের সাথে যোগাযোগ করছে না,কারণ গার্মেন্টেস কতৃপক্ষরা এখন তাদের নিজস্ব জাহাজ এবং নিজস্ব গাড়ী দিয়ে তৈরিকৃত পোশাক ট্রাসপোর্ট করে। এখন পুরো সংসারের দায়িত্ব ভাইয়ের উপর,ভাই তার সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যতটুকু পারছে আমাদেরকে চালিয়ে নিচ্ছেন,কিন্তু তার চাকরীটাও বেশিদিন টিকলো না,বিভিন্ন জায়গায় চাকরীর তালাশের তালাশি আমার ভাই চাকরী পেলেও চাকরীর বেতন অনেক কম।
উপায়ন্তর না পেয়ে ভাই আমার সংসারের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার জন্য এদিক সেদিক ধারদেনা করে বৈধ পথে ওমান পাড়ি জমান। এদিকে আমি এস,এস,সি পরীক্ষা শেষ করলাম গ্রেড নাম্বার ৪.৮৮ পেয়ে। টংগী সরকারী কলেজে ভর্তি হয়ে গেলাম,আর উওরায় La bamba নামক রেষ্টুরেন্টে এক বন্ধুর সাহায্যে সহকারী শেফ বা বাবুচীর চাকরী নিলাম,সকালে কলেজে ক্লাস করি, আর বিকেল বেলায় বাবুর্চীর কাজ রাত ১১ টা পর্যন্ত।
আবার দিন ভালোই কাটছে আমাদের।
এখন আমরা দুই ভাই রোজগার করি। ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা শেষ করলাম মানবিক শাখা হতে গ্রেড নাম্বার ৩.৭৫ পেয়ে।

( ২ ) ভাই ওমানে পাড়ি জমানোর ২ বছর পর দূর পরবাস থেকে জানতে পারলাম ভাইয়ার পরবাস জীবন ভালো যাচ্ছে না,ওমানে থাকার বৈধতার উপর কর বৃদ্ধি করেছে সে দেশের সরকার,আগের মতন তেমন কাজ নেই,অর্থনৌতিক মন্দা চলছে। মাসে ১০ হাজার ঘর ভাড়া বাবদ, সাংসারিক খরচ,ভাতিজার পড়ালেখার খরচ, বাবার শ্বাস কষ্টের চিকিৎসা প্রতি মাসে ৩/৪ হাজার টাকার ঔষুধ ইত্যাদি মিলিয়ে আবার টানাহেঁচড়ায় পড়ে গেলাম আমরা।
আমার যে টাকার চাকরী তা দিয়ে আর হচ্ছে না।
এখন পরিস্হিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে আমি আর সামনে পড়তে পারছি না,ইন্টারের পরেই আমাকে থামতে হলো, লেখা পড়ার সুন্দর পৃথিবী থেকে ছিটকে পড়লাম,ভাইয়া অবশ্য বলেছে সামনে পড়তে,কিন্তু এ মুহুর্তে আর সবচেয়ে জরুরি হলো ফ্যামিলিকে সার্পোট দেওয়া। কারন আমি হলাম একটি মিডেল ক্লাস পরিবারের সন্তান, যাকে স্টাগল করতে হবে।
প্রথমত চাকরী জন্য আবেদনপত্র জমা দিলাম কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে,
আড়ং শপিং শপ,মিনা বাজার,আগোরা শপিং শপ,শ্যামলী পরিবহন,ওয়ারিদ ভয়েস টেলিকম সেন্টার। আড়ং, মিনা বাজার,আগোরা তে চাকরীর বেতন ৪ হাজার কি ৫ হাজার,যা দিয়ে চলছেনা।
শ্যামলী পরিবহনে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়েও চাকরীটা পেলাম না। কারন আমার C V তে আমি ৬ টি ভাষায় কথা বলতে পারা,আর ৫ টি ভাষা বলতে পড়তে লিখতেও পারার এমন মেধা বিদ্ধমান ছিলো বলে তারা আমায় জঙ্গি সন্দেহ করে চাকরীটা দিলো না।
এয়ারটেল টেলিকম সেন্টারে সুযোগ পেলাম অ্যাকাউন্টিং ম্যানেজার পদে,বেতন ৬ হাজার, টার্গেট ফিল আপ করতে পারলে মাসে ৮/৯ হাজার পড়বে।
জয়েন দিলাম। চাকরী করে যা বেতন পাচ্ছি তা দিয়ে কোনরকম চলছে আমাদের সংসার।
কিছুদিন পর ওয়ারিদ বিক্রি হয়ে গেলে এয়ারটেলের কাছে,কর্মস্হলের প্রধান আমলা আমায় বললো শাহাদাত আমাদের কোম্পানী বিক্রি হয়ে গেছে এয়ারটেল নামক ভারতীয় কোম্পানীর হাতে। নতুন কোম্পানী এয়ারটেল আমাদের ৭০% শেয়াল ক্রয় করেছে, তাই তারা অতিরিক্ত লোক ছাঁটাই করবে। তখন আমি নতুন ছিলাম,তাই বিষ ছোবলটা আমার উপরেই পড়লো। বিধির লিখন মেনে নিয়ে হতভাগা আমি তখন বেকার,দু বছর এদিক ওদিক করে যখন দেখছি আমি চাকরী পাচ্ছি না,আর যে সব চাকরীর সুযোগ হচ্ছে সে সব চাকরী বেমানান আমার জন্য। চাকরীর সন্ধানে দিনের পর দিন ঢাকা শহরের তপ্ত গরম ও মরার যানজট টপকিয়ে ভাবতে লাগলাম আমরা কোন দেশে আছি,যে দেশে প্রতি বছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী সার্টিফিকেট নিয়ে ঠিকি ভের হচ্ছে, অথচ সরকার এদের কর্মসংস্হানের জোগান করে দিচ্ছে না। রাগে ক্ষোভে মস্তিকের কঠিন শব্দ দিয়ে সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে ফেসবুকে পোষ্ট দিলাম,যে যার মতো করে ব্যর্থ সরকারকে ধুয়ে দিলো কমেন্ট বক্সে,তাদের মন্তব্যে পড়ে মনে হলো তারা সবাই আমার মত একি সমস্যার ভোক্তভোগী। আমার ব্যাথার সাথে তাদের ব্যাথার অনেক মিল রয়েছে। তারাও সবাই আমার মত হতভাগা। এদিকে আমার
সাথের বন্ধু বান্ধব এক একজন করে প্রবাসে পাড়ি জমাচ্ছে,কেউ ইতালি,কেউ পোল্যান্ড,কেউ বা আবার ইউরোপ। দিন দিন আমি ভেঙে পড়ছি,কেউ সার্পোট (ছায়া) দিচ্ছে না। বড় ভাই আগের মত টাকা দিতে পারছেনা,বাবা অসুস্হ,মা টানাপোড়ায় সংসার চালাচ্ছেন। ভাতিজার পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যাবে এমন লক্ষণ। চুর্তদিকে হতাশার মাঝে হঠাৎ আম্মুর কাছ থেকে জানতে পেলাম,আমার এক দূরের সম্পর্কে আত্তীয়, ওনি নাকি ভিসা সংক্রান্ত ব্যবসা করেন? আমি গিয়ে ওনার সাথে যোগাযোগ করে জানলাম, সৌদি এয়ারলাইন্স ক্যাটারিং কোম্পানীর ভিসা,বেতন ১ হাজার রিয়াল,যা বাংলার ২১ হাজার টাকা,থাকা খাওয়া যাবতীয় খরচ কোম্পানীর। কাজ হলো খাবার তৈরি করা,মানে বাবুর্চীর কাজ।
আমি চিন্তা করলাম, যদি মাস প্রতি আমি ২১ হাজার টাকার বাড়ীতে দিতে পারি,তাহলে সংসার ভালোই চলবে, সমস্যা হলো ভিসার দাম ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এতটাকা কই পাবো এখন????
আত্তীয় স্বজন পাড়া প্রতিবেশীদের থেকে ধার দেনা করে ভিসাটা ক্রয় করলাম। আমার মা ও আমার দেশের মায়া পরাজিত হলো দারিদ্রতার কাছে। সৌদি আরব আসার পর জানতে পারলাম আমাকে যে কোম্পানীর কথা বলা হয়েছে সে কোম্পানী আমাকে হায়ার করেনি,অন্য একটি কোম্পানী আমাকে রিসিভ করেছে,তখন আর বুঝার বাকী রইলোনা যে আমি আমার নিজ দেশ থেকেই প্রতারণার স্বীকার হয়ে আরবের মরুুভূমি দেশে এসেছি,আমাকে যে কোম্পানী আর যে বেতনের কথা বলেছে তার কোনটাই আমি পাইনি,তবে কাজটা ঠিক পেয়েছি। বাংলাদেশ থেকে আমার ফ্যামিলি ঐ এজেন্সীর নামে মামলা দায়ের করলেও তা শেষমেষ কোন ফল পায়নি।
কারন এসব দালালদের হাতে টাকা চলে গেলে তা আর ফেরত পাওয়ার আশা থাকেনা।
কোম্পানীর বেতন ১৮ হাজার পাই আর আমি বাহিরে একটি ছোটখাটো পার্টটাইম জব করে মাস প্রতি ২০/২৫ হাজার করে বাড়ীতে রেমিট্যান্স পাঠাই।
কিছু টাকা ধারদেনা পরিশোধ করছি আর কিছু টাকা ফ্যামিলিকে দিচ্ছি।
এখন আমি সৌদি আরবে সরকারের অধীনে বাবুর্চীর কাজ করি,মানে আমি একজন শেফ। ৮ ঘন্টা ডিউটি করে রুমে এসে নিজের খাবার নিজেই রান্না করে খেতে হয়,এখানে রান্না করে দেওয়ার মত কেউ নেই। অসুস্হ হলে কেউ মাথায় পানি ঢেলে দিবে সে সৌভাগ্য হয়না একজন প্রবাসীর। ঈদের দিনেও আমাদের ডিউটি করতে হয়। আমাদের জন্য ঈদের দিন,রোযার দিন,শবে বরাত,জানুয়ারী ফেব্রয়ারী সব দিন একই। বিশেষ দিন বলে কিছু নেই।আমাদের মত প্রবাসীরা সংসারের বোঝা টানতে টানতে নিজেদের কোন পছন্দ থাকেনা। সবার আবদার পূরণ করতে করতে প্রবাসীর নিজের আবদার বলে কিছুই অবশিষ্ট থাকেনা। আলহামদুলিল্লাহ আমি এখানে মানবেতর জীবন যাপন করলেও আমার ফ্যামিলি সুখে আছে,ভাতিজার পড়ালেখা বন্ধ হয়নি,সামনের বছর সে এস,এস,সি পরীক্ষা দিবে। ভাইয়ার উপর চাপ কমছে। এখন আমার প্রশ্ন ঐ সব সুশীলদের কাছে, আমি কি স্বীয় ইচ্ছায় নিজ দেশের মায়া ত্যাগ করেছি?
নাকি একটি অন্ধকার ঘরে মোমবাতি হয়ে চারদিকে আলো ছড়ানোর জন্য দূর পরবাসে পাড়ি জমিয়েছি? মাঝ সমুদ্রে একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার আগেই আমি সে নৌকাকে তীরে নিয়ে গিয়েছি নিজে সাঁতার কেটে। আমার দেশে আমি সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে কি চাকরী পেয়েছি?? সরকার কতজনের কর্মসংস্হানের ব্যবস্হা করেছে??

( ৩ ) প্রবাসীদের রক্ত -ঘাম দিয়ে অর্জিত দেশে পাঠানো রেমিটেন্সের টাকায় দেশের জি,ডি,পি প্রবৃদ্ধি হার যদিও ১২ শতাংশ বেড়েছে।
বিদেশে কামলা কেউ পাঠায় না,আমরা নিজ দেশে চাকরী না পেয়ে হতাশা আর দারিদ্র থেকে মুক্তির জন্য বিদেশ আসি। জাতি যদি এটাকে গর্বের বিষয় না দেখে,তাহলে রেমিটেন্সের পাঠানো দেশের তালিকায় বাংলাদেশ নবম স্হানে এটা নিয়েও গর্ব করেছিলো দেশের বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগ। প্রবাসী বাংলাদেশিরা চলতি অর্থবছরের (২০১৮-১৯) প্রথম ৮ মাসে ১০,৪১০ দশমিক ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছে, ...তথ্য গুলো যাচাই করে দেখবেন। এসব কামলারাই কিন্তু দেশের অর্থনৌতিক চাকা সচল করেছে। ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিটেন্স! একবার ভেবে দেখুন বাংলাদেশের জাতীয় বাজেট কত?? নিশ্চই আপনাদের জানা নেই তাহলে শুনুন ,২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন। এটি দেশের ৪৭তম ও আওয়ামী লীগ সরকারের ১৮তম এবং অর্থমন্ত্রীর দ্বাদশ বাজেট প্রস্তাব। ‘সমৃদ্ধ আগামী পথযাত্রায় বাংলাদেশ’ নাম দিয়ে প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। দেখুন প্রতিবছর প্রবাসীর রেমিটেন্সের টাকা আর জাতীয় বাজেটে কতটুকু দূরত্ব। তাহলে কোন প্রশ্ন ছাড়াই আমরা এ কথা বলতে পারি,দেশের জাতীয় বাজেটের চাইতে প্রতিবছর প্রবাসীদেরর পাঠানো টাকার অংক বেশি।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তির অন্যতম একটি খাতের নাম রেমিটেন্স। দেশের মানুষ শুধু প্রবাসীদের রেমিটেন্স টাই দেখলো।
তাদেরকে সম্মান দিতে শিখলোনা। রেমিটেন্স নিয়ে ঠিকি গর্ব করছে জাতি। যখন
এসব প্রবাসীরাই যখন দেশে আসে ছুটিতে,তখন তাদেরকে কাস্টমসে হয়রানী হতে হয়,পুলিশদের থেকে কামলা বলে গালি শুনতে হয়। নানা রকম ভাবে এরা অপমাণিত হয়। আমাদের দেশের সরকার এদের জন্য কি করেছে?? তাদের জন্য কোন ভি আই পি ব্যবস্হা আছে?? নেই,ভি আই পি ব্যবস্হা শুধু সরকারী আমলা কামলাদের জন্য যারা দেশকে লুটেপুটে খাচ্ছে। সরকার এসব প্রবাসীদের জন্য কিছুই করেনি বিগত ২০ বছরে। যারা দেশ ও নিজের পরিবারের জন্য দিন রাত এক করে দেশে টাকা পাঠায়। তারাই তাদের নিজ দেশে অবহেলিত।এমন ও ঘটনা আছে, প্রবাসে কেউ মারা গেলে তাহার লাশ ৩ মাসের আগে দেশে পৌছায় না বাংলাদেশ অ্যাম্বাসিতে কর্মরত সরকারী আমলা-কামলাদের গাফলতির জন্য।
বাংলাদেশকে প্রথম লুটতরাজ করেছে পাকিস্তান,এরপর দ্বিতীয় বারের মত লুট করছে সরকারের এসব চোর বাটপার দায়িত্বহীন আমলা কামলারা।
গরিবদের রক্ত চুষে এদের মত এক শ্রেণী এখন বিত্তবানদের তালিকায়।
(১)যদি শ্রম বাজারে বাংলাদেশকে উপরে দেখতে হয় তাহলে দেশে ভোকেশনাল বিভিন্ন শিক্ষা বাড়াতে হবে।
(২) দায়িত্বহীন আমলা কামলা ছাঁটাই করতে হবে অ্যাম্বাসি থেকে।
(৩) পরবাসে প্রবাসীদেরকে নায্য অধিকার আদায়ের জন্য ব্যবস্হা নিতে হবে।
(৪) ভিসা সংক্রান্ত বিষয়ে বিদেশ গমনেচ্ছু ব্যাক্তি থেকে যেন ভিসা ফি ইত্যাদি বাবদ টাকা বেশি আদায় না হয় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
(৫) এজেন্সী ও এজেন্সীর দালালদের বে-আইনি কর্মের জন্য ধরপাকড় করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে।
(৬) বাহিরের দেশের সরকারী কর্মকর্তাদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।
(৭) পরবাসে কেউ মারা গেলে তাহার লাশ ১ মাসের ভিতর দেশে পাঠাতে হবে।
(৮)রেমিটেন্সের টাকার সঠিক ব্যবহার করতে হবে
ছবি: ছবিতে মাঝখানে আমি,আর আমার সহকর্মীরা,ছবিটি ১৮ মে বাংলাদেশ বিমান বন্দর বোডিং পাস হওয়ার সময় তোলা।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মে, ২০১৯ ভোর ৪:০২
২৮টি মন্তব্য ২৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বন্যায় প্লাবিত কুড়িগ্রাম; জনজীবনে দুর্ভোগ

লিখেছেন আরাফাত আবীর, ১৮ ই জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:০২

কুড়িগ্রাম; যে জেলাকে দেশের সবচেয়ে দরিদ্র জেলা বলা হয়। দেশের আর কোথাও এখন 'মঙ্গা' কার্যক্রম দেখা না গেলেও, এখানে 'মঙ্গা' কার্যক্রম প্রতিবছর চালু থাকে। এখানকার মানুষদের এখনো শুনতে হয়, 'আরে!... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাস্তায় পাওয়া ডায়েরী থেকে-১০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ৯:৫১



১। বাংলাদেশ গর্ব করতে পারে এমন একজন লেখক হচ্ছেন- হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ুন আহমেদ এর মৃত্যুর কথা মনে পড়লেই কোত্থেকে যেন এতগুলো কষ্ট এসে জমে বুকে। আমার সবচেয়ে প্রিয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বর্ণবাদকে উসকে দিচ্ছেন আমেরিকায়

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৮ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ১০:৪৫



বহুবর্ণের মানুষের দেশ হিসেবে, বর্তমান বিশ্বে, আমেরিকা সবচেয়ে কম বর্ণবাদী সমাজ; ১৯৬০ সালের পর, এই দেশে বর্ণবাদ দ্রুত সহনশীলতার মাঝে আসে, এবং গত ৪০ বছর বর্ণবাদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফ্রেমবন্দির গল্প-২

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ১২:১০

©কাজী ফাতেমা ছবি
=ফ্রেমবন্দির গল্প=
গত এপ্রিল মাসে আম্মাকে নিয়ে গিয়েছিলাম ইসলামিয়া ইস্পাহানী চক্ষু হাসপাতাল চোখ দেখাতে। সেখানে চোখ দেখাতে অনেক ঘুরাঘুরি করতে হয়। ফাইল কাগজপত্র এখান থেকে সেখানে, সেখান থেকে ওখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের সাহিত্যকর্ম

লিখেছেন এমজেডএফ, ১৯ শে জুলাই, ২০১৯ ভোর ৫:৩৮


দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৯ জুলাই, ১৮৬৩ - ১৭ মে, ১৯১৩) ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাঙালি কবি, নাট্যকার ও সংগীতস্রষ্টা। তিনি ডি. এল. রায় নামেও পরিচিত ছিলেন। আজ দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ১৫৬তম জন্মবার্ষিকী।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×