somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জমে একেবারে ক্ষীর (শেষ পর্ব)

২৬ শে জুন, ২০১৯ ভোর ৪:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



তারিখ: ৯ আষাঢ় ১৪২৬ বাংলা
শেষ পর্ব

লাজুক ছেলে লাজুক ভঙ্গিতে লাজুক হেসে মাথা নীচু করে মেঘলাকে বললাম,চিরকুট কেমন লিখলাম?
মেঘলা গালে টোল পড়া হাসি নিয়ে বললো। যা-তা লিখেছে নাগর আমার।
সেদিন আমরা একে অপরের চোখে ভালবাসা দেখেছিলাম।
এসব স্মৃতিচারণ করতে করতে ডিউটির সময় শেষ। তড়িৎগতিতে সবকিছু গুছিয়ে অফিস থেকে বের হলাম।লোকাল বাসের চাপাচাপি সহ্য করে বাসায় এসে ধপাস করে বসলাম পাংখার নিচে।
এদিকে বউ আমার খাবার টেবিলে বাহারী রকমের খাবারের আয়োজন নিয়ে বসে আছে। হাত মুখ ধুয়ে খাবার টেবিলে বসে প্রশ্ন করলাম এতো রান্নার আয়োজন! শিখলে কোথা থেকে তুমি?
বউ আমার খুশি মনে বলতে লাগলো,ঐ যে আমাদের পরিচিত আপু আছেনা? কেকা ফেরদৌসির মজাদার রান্নার সমাহার বই দেখেই তো আজকের রান্নার আয়োজন। আমি তো অবাক হয়েই বলে ফেললুম,যাক বাবা! আজকাল বই দেখেও ভালো রান্না শিখা যায়। তা আজ কি কি আয়োজন?
বউরানী খুশিতে কটকটি হয়ে বলতে লাগলো,কেকা ফেরদৌসির স্পেশাল ডেজার্ট নুডুলসের শরবত,বেগুন আর পাংগাস মাছের জলোচ্ছাস,নুডুলস ভর্তা, আর অানারস দুধের মিশ্রণে ভালবাসার ক্ষীর।
আমিও বউয়ের সাথে মহা খুশিতে মাথা নাড়াতে নাড়াতে বললাম,বাহ্ কত আজব টাইপের খাবার। খাবারের নাম গুলো খুব আধুনিক। তুমি খেয়েছো?? বউ আমার বললো কোথায় খেলাম? তোমার জন্যই তো অপেক্ষা! চলো শুরু করি।
প্রথমে আমার প্লেটে নুডুলসের ভর্তা সার্ভ করা হলো। মুখে তুলতেই বমি বমি অবস্হা! কোনমতে নিজেকে সামলে ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে গিলে ফেললাম। বউ আমার দিকে তাকিয়ে বলছে কি হলো?? আমি বললাম কিছু হয়নি। লোকাল বাসের চাপাচাপিতে একটু ক্লান্ত।

ও আচ্ছা ভর্তা ভালো হয়নি, চলো পাংগাস বেগুনের জলোচ্ছাস ট্রাই করি।

আমি বললাম,এটার নাম এতো ভয়ংকর কেন? আমি খাবো নাকি সে আমাকে খাবে?

আসলে হয়েছে কি? আমি বেগুনে যতই পানি দেই,বেগুন ততই পানির উপর ভাসে? বেগুন পানি তলতল করার জন্য পানি দিতে দিতে ক্লান্ত। তাই এটার নাম বেগুন পাংগাস মাসের জলোচ্ছাস।

যতই হোক বউ আমার কোমর বেধে এতো কষ্ট করে রান্না করেছে খেতে যে হবেই আমার।
তরকারীটা মুখে নিতেই সদরঘাটের পানির সাথে এর মিল পেলাম। যতদূর সম্ভব খেয়ে হাত ধোয়ার জন্য পানি নিলাম।
ঠিক তখনি বউ আমার আনারস দুধের ভালবাসার ক্ষীর টেষ্ট করতে বললো!
আমি কথাটা শুনেই অজ্ঞান প্রায়। ক্ষীরের বাটিতে চামচ লাগিয়ে মুখে তুলে নেওয়ার পর বুঝলাম,নাহ্ এটা খাওয়া যায়। ততোটা মন্দও না। পেটের অর্ধেক ক্ষুধা নিবারণ করলাম ভালবাসার ক্ষীর দিয়ে। বউ আমার এসব গোজামিল খাবার রান্না করে নিজেই অল্প শোকে কাতর বেশি শোকে পাথর।

রাতের এসব খাবার খেয়ে বিছানায় ৫ মিনিট আর টয়লেটে ১০ মিনিট।
সারারাত এভাবেই পার করে দিলাম। ভোর সকালে চোখ খোলার পর দেখি রাগি বউ আমার বুকের উপর মাথা রেখে শুয়ে আছে। কি নিস্পাপ চেহারা,ঘুমের সময় বউয়ের মুখটা যেন টলটল পানির ফোয়ারা। রূপের বর্ষন ঝর্ণার মত। হালকা করে ওর মাথাটা হাতের তালুতে নিয়ে বালিশের উপর রেখে অফিসের জন্য তৈরী হয়ে ভের হয়ে গেলাম। অফিস শেষে সন্ধ্যায় বাসায় এসে দেখি বউ আমার মুখ ঘোমড়া করে জানালার পাশে বসে আছে। কাছে গিয়ে মন খারাপের কারন জানতে চাইলাম।
মেঘলা নরম গলায় উত্তর দিলো,সামান্য রান্নাটাই পারি না আমি? কিভাবে বাকী জীবন পার করবো তোমার সাথে??
নাকের পানি চোখের পানি এক করে কি কান্না তাহার।

আমি পাশে গিয়ে বসে বললাম,শোন! তুমি কি জানো,তোমার গানের গলা ভারী মিষ্টি। তোমার রূপের আকর্ষনে নয়,তোমার গলার মিষ্টি কন্ঠের আকর্ষনে আকর্ষিত হয়েছি আমি। শুধু রান্না দিয়ে তোমাকে জাজমেন্ট করা যাবেনা। রান্না একটি হাতের কৌশলী শিল্প। সবাই রান্না করতে পারে,কিন্তু সবার রান্নার টেস্ট আর গুনগত মান এক না। আমি রোজ তোমাকে একটি করে রেসিপি রান্না শিখাবো।

পরদিন থেকেই
মেঘলা রোজ একটি করে রান্নার রেসিপি (পদ্ধতি) শিখে আমার কাছ থেকে।
অফিসের ক্লান্তি শেষ করে বাসায় এসে বউকে রান্না শিখাতে অন্যরকম এক আনন্দ অনুভূব করি। সাধের মন বধূয়া মনযোগ দিয়েই আয়ত্ব করে রন্ধনশিল্পের যতসব কৌশল। কখন আগুনের আচ বাড়াতে হবে,কখন কমাতে হবে ইত্যাদি।

এদিকে চৌধুরী সাহেব একদিন ফোন দিয়ে দেখা করার কথা বললেন। আমি অফিস শেষে চৌধুরী সাহেবের সাথে দেখা করতে গেলাম উত্তরা ১১ নং সেক্টরের পার্কে।
পার্কে প্রবেশ করতেই চৌধুরী সাহেবের দেখা পেয়ে গেলাম।
সালাম জবাব শেষ করে চৌধুরী সাহেব ভারী কন্ঠে আমায় মেঘলা সম্পর্কে কিছু বললেন। মেঘলা নাকি তাদের আপন মেয়ে নয়,ছোটকালে মেঘলার বাবা মারা যায় রোড এক্সিডেন্টে। এর কিছুদিন পরে নাকি তার মা ও পারি জমায় না ফেরার দেশে।
অসহায় মেঘলার দায়িত্ব নেয় চৌধুরী সাহেব। এ সত্যটি মেঘলা জানে না। আর জানাতেও চায় না চৌধুরী সাহেব। আমাকে বলার উদ্দেশ্য হলো আমি যেন মেঘলাকে কষ্ট না দেই,ছেড়ে না দেই!
চৌধুরী সাহেব থেকে এসব কথা শুনে মেঘলার প্রতি ভালবাসা আরো বেড়ে গেল আমার।
সেদিন চৌধুরী সাহেবকে কয়েকটি ফিল্মি ডায়লগ শুনিয়ে চলে আসলাম বাসায়।

মেঘলা ফোন দিয়ে বলছে, ওগো শুনছো? আজ কিন্তু তোমার পছন্দের খিচুড়ি রান্না হচ্ছে,জলদি চলে এসো?
আমি তো খুশিতে ডগোডগো হয়ে বললাম,তাই নাকি? আজ তাহলে খেলা জমবে ভালো! বৃষ্টির দিনে খিচুড়ি আহ্। ভাবতেই চোখে মুখে পানি।
কথা বলতে বলতে এদিকে চুলার আগুনের আচ না কমিয়েই মেঘলা বারান্দায় এসে পড়েছে। কিছুখন পর মেঘলার চেচামেচি, আয় হায় গো? জ্বলে গেছে গো! জ্বলে গেছে (কান্নাজড়িত কন্ঠে)
আমি ওপাশ থেকে হ্যালো? হ্যালো মেঘলা? কি জ্বলে গেছে? খিচুড়ি?
হ্যালো, কথা বলছো না কেনো??
হ্যালো?

আমি ফোন কেটে
অফিসের সব কাজ ফেলে বাসায় এসে খিচুড়ি পোড়া তীব্র গন্ধ অনুভব করলাম নাকে! মেঘলাকে তালাশ করতে করতে রান্না-ঘরে এসে দেখি
বউ আমার মন খারাপ করে আবার নতুন করে খিচুড়ি রান্না বসিয়েছে চুলায়।
এভাবেই চলতে থাকে আমাদের ভালবাসার সংসার।

আজ ১০ বছর পর মেঘলার কাপড়ের ভাজে একটি লাল রঙয়ের ডায়েরি হাতে লাগলো! সাথে আমার দেওয়া সেই চিরকুটটি। খুব যত্ন করেই রেখেছে সে।
মেঘলার অনুমতি ছাড়াই ডায়েরী খুলে প্রথম পাতাতে চোখ রাখলাম।
ডাযেরীর প্রথম পৃষ্ঠায় লিখা।
তারিখ: ০২/০২/২০০৮
আজ ভালবাসার মানুষের সাথেই (মেঘলা) আমার বিয়ে। ভালবাসার মানুষটির অনেক ধৈর্য্য রয়েছে। এতো রাগারাগি আর জ্বালাতন করার পরেও লোকটি আমাকে ছেড়ে চলে যায়নি। আমার ভালবাসাকে একটি রূপ ও পরিচয় দিয়েছে।
সে সত্যিই আমাকে মন থেকে চায়।

ডায়েরীর ৪ নাম্বার পূষ্টা
তারিখ: ১৮/০৭/ ২০০৯
আজ (মেঘলা) আমি একজন কন্যা সন্তানের জননী হয়েছি। আমার চাইতে বেশি খুশি আমার জামাই। পুরো মহল্লাতে বিরানী বিতরণ করছে ! মানুষটির ইচ্ছে ছিলো প্রথম সন্তান যেন কন্যা সন্তান হয়। তাহার ইচ্ছা পূরন হয়েছে।

ডায়েরীর ৬ নাম্বার পূষ্টা
তারিখ: ২৩/১১/২০১২
আজ আমি (মেঘলা) জানতে পারলাম, আমি বাবা-মা ছাড়াই চাচার কাছে বড় হয়েছি। যাদেরকে এতোদিন বাবা মা হিসেবে জানতাম তারা আমার বাবা মা নয়,তবে বাবা মার চেয়ে আবার কোনদিক থেকে কমও নয় তারা। আমার জামাই এ সত্য জানার পরেও আমায় কিছু জানায়নি। কত আজীব রূপের মানুষ। এসব মানুষদের ভীড়ে নিজেকে অনেক ভাগ্যবতী জানলাম। উপর মনিবের কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া।

ডায়েরীর ৮ নাম্বার পৃষ্ঠা
তারিখ: ১৭/৩/২০১৬
আজ বহুদিন পর কোন এক সংগীত অনুষ্ঠানের বিশেষ গায়িকা হিসেবে আমাকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে,অনেকদিন পর অনেক শ্রোতাদের সামনে গান গাইতে হবে! খুব ভীত ছিলাম আমি । যখন স্টেজে লাইট অন হলো তখন সামনের আসনে প্রিয় মানুষকে দেখে ভয় জানালা দিয়ে পালালো। ২ টি গান করলাম তার চেহারার দিকে তাকিয়ে থেকেই। সামনে প্রিয় মানুষ থাকলে সব কাজেই সাহস পাওয়া যায়। শত শ্রোতাদের মুখে প্রশংসিত আমি,তবে এ প্রশংসার কৃতিত্ব পুরোটাই আমার প্রিয় মানুষের।

ডায়েরীর ১০ নাম্বার পৃষ্ঠা
তারিখ: ০৯/০৪/২০১৮
আজ আমার জামাইকে আজব নমুনার খাবারের স্বাদ আস্বাদন করালাম । এতো বাজে বিদঘুটে খাবার খেয়েও লোকটি কোন অভিযোগ করলোনা। অথচ আমি সামান্য কোন ভুল দেখলেই লোকটাকে গালমন্দ করি। লোকটি যদি পারতো,হৃদয় চির করেই ভালবাসা দেখাতো।

চুপিসারে পড়ে ডায়েরিটা রেখে দিলাম ঠিক আগের জায়গাতেই। সামনে হয়তো মেঘলা আরো কিছু লিখবে! রাগী মেয়েটার মনে এতো ভালবাসা আমার জন্য। কোনদিন প্রকাশ করেনি। দিন দিন তাহার প্রতি ভালবাসা জমে একেবারে ক্ষীরে পরিণত।

নোট: ইহা একটি কাল্পনিক গল্প। কারো জীবনের সাথে ঘটনা মিলে গেলে লেখক নিজেই দায়ী।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুন, ২০১৯ সকাল ১১:১৮
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ত্যাগ চাই মর্সিয়া ক্রন্দন চাহি না : পুুণ্যময় মুহররমের শিক্ষা

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:৪৭



কৈফিয়ত:
দশ মুহররম গত হয়ে চলে গেছে আমাদের থেকে। মুহররমের আজ ১৪ তারিখ। হ্যাঁ, সময় পেরিয়ে যাওয়ার কিছুটা পরেই দিচ্ছি এই পোস্ট। পোস্ট লিখে রেখেছিলাম আগেই। কিছুটা ব্যস্ততার জন্য কম্পিউটারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অটোপসি

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:৩২

যে পাহাড়ে যাব যাব করে মনে মনে ব্যাগ গুছিয়েছি অন্তত চব্বিশবার-
একবার অটোপসি টেবিলে শুয়ে নেই-
পাহাড়, ঝর্ণা, জংগলের গাছ, গাছের বুড়ো শিকড়- শেকড়ের কোটরে পাখির বাসা;
সবকিছু বেরিয়ে আসবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গৌরব গাঁথা আমাদের ইতিহাস : ঘটনাপঞ্জি ও জানা অজানা তথ্য। [১]

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:১৮


আমার এ পোষ্টটি সবার ভালো না ও লাগতে পারে । যাদের মুক্তিযুদ্ধ ও আমাদের স্বাধীনতার গৌরবগাঁথা সর্ম্পকে বিন্দু মাত্র শ্রদ্ধাবোধ বা আগ্রহ নাই তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকার পথে পথে- ১৪ (ছবি ব্লগ)

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:২৩



ঢাকা শহরের মানুষ গুলো ঘর থেকে বাইরে বের হলেই হিংস্র হয়ে যায়। অমানবিক হয়ে যায়। একজন দায়িত্বশীল পিতা, যার সংসারের প্রতি অগাধ মায়া। সন্তনাদের প্রতি সীমাহীন ভালোবাসা- সে-ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্রলীগ নিয়ে শেখ হাসিনার খোঁড়া সমাধান!

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:২৫



Student League News

স্বাধীনতা যুদ্ধের পর, ছাত্র রাজনীতির দরকার ছিলো না; ছাত্ররা ছাত্র, এরা রাজনীতিবিদ নয়, এরা ইন্জিনিয়ার নয়, এরা ডাক্তার নয়, এরা প্রফেশালে নয়, এরা শুধুমাত্র ছাত্র;... ...বাকিটুকু পড়ুন

×