ইংরেজি ডিসমিজাল নামক বিশেষ্য পদটির আভিধানিক অর্থ বরখাস্ত, খারিজ, পদচ্যুতি। তবে ক্রিকেটিয় অভিধানে তা একটি দলের ইনিংস সমাপ্তি বা দলটির প্রতিটি সদস্যের ইনিংস সমাপ্তিকে নির্দেশ করে। অবশ্য ক্ষেত্রে বিশেষে ক্রিকেট জগত ডিসমিজাল শব্দটিকে আভিধানিক অর্থেও ব্যবহার করে।
গতিশীল ও জনপ্রিয় খেলা হবার সুবিধা এটাই! হয়তো এটাই রীতিসিদ্ধ। তাই কোনো ক্রিকেটার বিয়ে করলে সংবাদ শিরোনামে লেখা হয়, ব্যাচেলর লাইফে ডিসমিজালের শিকার হয়ে জীবনের নয়া ইনিংস শুরু করলেন।
ম্যাচ চলাকালে একজন ক্রিকেটার ১১ প্রকারে ডিসমিস হতে পারেন। যেমন : আউট অব হিজ গ্রাউন্ড, বোল্ড আউট (নো, ওয়াইড বলে বোল্ড আউট হয় না), কট আউট (কিপার ধরলে কট বিহাইন্ড, তবে বল মাটি স্পর্শ করলে বা টুপি অথবা অন্য কিছু দিয়ে ফিল্ডার বল ধরলে ব্যাটসম্যান আউট হন না), অবস্ট্রাকাটিং দ্য ফিল্ড, টাইমড আউট, হ্যান্ডল দ্য বল, হিট উইকেট, হিট দ্য বল টোয়াইস, এলবিডব্লিউ, রান আউট ও স্টাম্পড আউট।
কিন্তু হালে ডিসমিজালের ডানা গজিয়েছে বেশ। দল হারলে কোচ অথবা ক্যাপ্টেন অথবা দুজনেই ডিসমিজাল নোটিস পান। কোচ ও ক্যাপ্টেনসির পদ ডিসমিজাল-চক্রে পড়ে আচ্ছা করে খাবি খায়। আবার কেউ বা এ চক্রে পড়ে গদি হারান। কেউ বা ডিসমিজাল আগুন লাগিয়ে ঘরের কোণে সঙ্গোপনে কলকে টানেন।
ম্যাচ গড়া-পেটায় জড়িত থাকার অভিযোগ স্বীকার করে অথবা উত্থাপিত অভিযোগ প্রমাণিত হলে অথবা ডোপটেস্টে ওয়ার্ন-শোয়েব-আসিফের মতো ধরা খেলেও তা ক্রিকেটারকে ডিসমিজালের রাস্তা বাতায়। চোখের জলে ভেসেও কেউ কেউ গদি রক্ষা করতে পারেন না (যেমন কপিল দেব, দল হারের কারণে)। আবাস মাতাল অবস্থায় মাঠে এসে পিচে মূত্র ত্যাগের কারণেও ডিসমিজের নজির রয়েছে। ঘটনাটা এরকম : ববি পীল ছিলেন ইয়র্কশায়ারের ক্রিকেটার। ১৮৯৭ সালে তিনি একবার নেশার ঘোর নিয়েই খেলতে নামেন এবং পিচে মূত্র ত্যাগ করেন। কর্তৃপক্ষ তাকে কাব থেকে আজীবনের জন্য ডিসমিস করে।
ক্রিকেটাঙ্গনে কয়েক বছর আগে ডিসমিজালের নতুন একটি খেলা শুরু হয়েছে। আইসিসি ক্রিকেটাদেরকে এবং ক্রিকেটাররা আইসিসিকে ডিসমিস করতে চাইছে। বিরোধ লোভনীয় এক টুকরো ভূমি নিয়ে। ভূমির নাম আইসিসির অ্যামবুশ মার্কেটিং। অবশ্য লড়াইয়ে ভারতীয় খেলোয়াড়রা দারুণ ফাইট দিয়েছে। কারণ তাদের স্বার্থ ছিল সবচেয়ে বেশি।
হ্যাঁ, অস্বাভাবিক কারণে আম্পায়ারও ডিসমিস হন। ১৯২৮-২৯ সেশনে এমসিসি দল বেনডিগোতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লড়ছিল। ডগলাস জার্ডিনের হিট করা বলটি লেগ আম্পায়ার পিয়ার্সের দিকে উড়ে যায়। আম্পায়ারের লোভ সামলাতে না পেরে ক্যাচটি লুফে নেন। কর্তৃপক্ষ লঘুচিত্ততার অপরাধে আম্পায়ারকে ডিসমিস করেন।
তবে সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হচ্ছে, বাংলাদেশী ক্রিকেটের স্বপ্নও আমাদেরকে মাঝে মাঝে ডিসমিস করে, আবার আবেগেও ভাসায়।
আলোচিত ব্লগ
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।