টুর্নামেন্টে দর্শক টানার জন্য মাঝে মাঝে আকর্ষণীয় বিশেষণ প্রয়োগ করা হয়। সিরিজেস অব দি সেঞ্চুরি, সুপার সীজন, থান্ডার ডাউনআন্ডার, শোডাউন ফর দি ক্রাউন, গ্রেটেস্ট শো অন টার্ফ (বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ, ১৯৮৫), ডাবল ট্রাবল, ক্যাশেস ফর দি অ্যাশেজ, ট্রাম কন্ডাকটার ভার্সাস বাস ড্রাইভার ইত্যাদি ভারিক্কি বিশেষণ তারই প্রমাণ। কিন্তু ভদ্র ক্রিকেটারদেরকে যখন জীব-জানোয়ারের নামে (যেমন কিউই, প্রোটিয়াস, রয়েল বেঙ্গল টাইগার) পরিচিতি প্রদান করা হয়, তখন কিছুটা খটকা লাগে। আবার খেলার মাঝে যখন একজন টেইলএন্ডার ব্যাটসম্যানকে জন্তু বিশেষণে আখ্যায়িত করা হয়, তখন সবকিছু গোলমেলে ঠেকতে পারে। আশরাফুল মাখলুকাতকে জন্তু নামে আখ্যয়িত করার মহিমা কি তা বোঝা বড় ভার! অনেকটা ওয়াটার ড্রিপ ইফেক্ট বা পিক পকেটস-এর মতো। আম্পায়ার অনুকূল সিদ্ধান্ত জানানোর পর ফিল্ডাররা একে অপরকে অভিনন্দন জানানোর প্রক্রিয়াটি ওয়াটার ড্রিপ ইফেক্ট নামে পরিচিত। আর ফিল্ডাররা যখন সিলি মিড অনে অথবা খুব নিকটে অবস্থান করে ব্যাট থেকেই বল ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন, তা-ই পিক পকেটস (পকেটমার) আখ্যা পেয়েছে। অতএব, মশাই ঠেলা সামলান! তরজমা না জানলে অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে ভেবে দেখুন।
ক্রিকেটে র্যাবিট-তত্ত্বের মাজেজা হয়তো বুঝতে পারেননি নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক (এনিমেল ফার্ম-এর জন্য) জর্জ অরওয়েল। ক্রিকেট বিরোধী এ লেখক তাই শ্লেষ করে লিখেছিলেন, এটা এমন একটি খেলা যেখানে প্রত্যেকে যুগলবন্দী হয়ে খেলেন, যেখানে মধ্য ইনিংসে জরুরি কাজের জন্য কামারকে ডাকলে আসতে বাধ্য হন এবং মাঝে মাঝে সূর্যের আলো কমে এলে চার রানের জন্য ছুটন্ত বলটি সীমান্তে দাঁড়িয়ে থাকা খরগোশকে হত্যা করতে পারে।
র্যাবিট খরগোশ গোত্রীয় তৃণভোজী প্রাণী। ইয়া লম্বা কান, ক্ষুদ্র লোমে ঢাকা সুন্দর লেজ। নিজস্ব কর্ম চৌহদ্দিতে বেশ করিৎকর্মা। তাই বলে ব্যাটিংয়ে পারদর্শিতা কম বলেই একজন ব্যাটসম্যানকে এভাবে পশুর কাতারে নামিয়ে আনাটা কতটুকু যৌক্তিক?
র্যাবিট সবুজ খাসে লুটোপুটি খায়, যখন তখন ঘাসের চিকন ডগা পেটে চালান দেয়, চিল দেখলে প্রাণপণ দৌড়িয়ে গর্তে লুকায়। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক বা ডিসকভারি চ্যানেল অন্তত এটাই দেখায়। প্রাণী জগতের অস্বাভাবিক কর্মতৎপরতাগুলো তারা অপার দক্ষতায় ধারণ করে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো জীববিজ্ঞানী এটা দাবি করেননি, খরগোশ ক্রিকেট খেলে বা বোঝে।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, ইংরেজি র্যাবিট শব্দটির বুৎপত্তি সম্পর্কে ভাষাবিদরা আজো নিশ্চিত নন। তবুও বিংশ শতাব্দীর প্রায় সব খেলায় টেইলএন্ডার বা কাচা খেলোয়াড়রা র্যাবিট নামেই চিহ্নিত হতেন। কিন্তু ক্রিকেট প্রতিবেদক-লেখক-ধারাভাষ্যকারদের সতর্ক অনুশীলনের বদৌলত আজ র্যাবিটগুলো একমাত্র ক্রিকেটের সম্পত্তি বনে গেছে।
শেষ কথা : বাণিজ্যিক ভিত্তিতে র্যাবিটের চাষ নতুন কিছু নয়। সন্ধ্যা হলেই ওদেরকে অনায়াসে খাচায় ভরা যায়। সম্ভবত ডাকসাইটে বোলাররা আনাড়ি ব্যাটসম্যানকে সহজেই প্যাভিলিয়ন-খাচায় ভরতে পারেন বলেই আনাড়িয়া র্যাবিট আখ্যা পেয়েছেন।
আলোচিত ব্লগ
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।