গলা চড়িয়ে দাবি করা যায়, ক্রিকেট নিয়ে অভিধান প্রণেতাদের অনেক কিছুই করার বাকি রয়ে গেছে!
কারণ এটা মূলত খেলা হলেও এর আন্তঃসৌন্দর্যকে দাম্ভিকতা ছাড়াই ‘সাহিত্য’ জ্ঞান করা যায়।
অনুভূতির সংক্রমণশীলতাই যদি সাহিত্যের মৌল সার্থকতা বিবেচিত হতে পারে, তাহলে যে খেলাটি বিশ্বের কোটি দর্শকের মনকে অনুভব সাগরে ভাসায়, তা সাহিত্য পদবাচ্য না হবার কোনো যুক্তিই থাকতে পারে না, অন্তত থাকা উচিত নয়।
আসল কথায় ফিরে আসি। গ্ল্যান্সের সহজ সরল তরজমা হচ্ছে - হঠাৎ এক পলক দেখা। প্রিয়ার এক পলক বাঁকা চাহনির জন্য কতজনই লবেজান, কপাল চাপড়িয়ে হা পিত্যেস করেন। তেমনি ব্যাটসম্যানের চকিত স্ট্রোক গ্ল্যান্সের শিল্পিত কাট ঠেকাতে না পেরে কত্তো ফিল্ডার যে কপাল চাপড়ায়, তার খবর কে রাখে?
লেগের দিকে বাঁক খাওয়ানো ডেলিভারিতে অভিজ্ঞ ব্যাসটম্যান শরীরকে একটু মুষড়িয়ে ব্যাটটি নব্বই ডিগ্রি অ্যাঙ্গেল করে ছুটন্ত বলের পাশে হঠাৎ হালকা স্ট্রোক (যেন উইলোর আদর!) নেন। ব্যাস, তাতেই বলটি স্কয়ার লেগ আর ফাইন লেগের মাখখান দিয়ে সোজা বাউন্ডারিতে দৌড়ায়। গ্ল্যান্স স্ট্রোক দেয়ার কালে ব্যাটসম্যান তার ব্যাটটি কমবেশি লেগ স্ট্যাম্পের বাইরে স্থাপন করেন। আর স্ট্রোকটি মূলত একটি ক্ষণিকের প্রতিক্রিয়া, এতেই বলটি সীমান্তে পগাড়পার। অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে এটাকে হয়তো আনআর্নড ইনকাম বা অনুপার্জিত আয় বলা যেতে পারে। আর ক্রিকেটীয় ভাষায় এটা আনগেইনলি স্ট্রোক বা বেয়াড়া মার।
ঊনিশ শতকে এ জাতীয় স্ট্রোক অসুন্দর এবং অমার্জিত আখ্যা পেয়ে নির্বাসনে যায়। কিন্তু কে. এস. রনজিত সিংজি তার ব্যাটের ডগায় গ্ল্যান্সকে ফিরিয়ে আনেন শিল্প-সৌকর্যে। মজার ব্যাপার হচ্ছে রনজি তার ব্যাক ফুট স্থির রেখেই এ জাতীয় স্ট্রোক নিতেন অনায়াসে। এটার ব্যাখ্যা রনজি নিজেই দিয়েছেন। তার ভাষায়, প্রথম দু বছর আমি যখন ক্রিকেটে সিরিয়াস মনোনিবেশ করি, তখন অনুশীলনকালে আমার ডান পা যেন পিচে গেঁথে যেতো।
গ্ল্যান্সকে ইঞ্জিনবিহীন বিমান গ্লাইডারের সঙ্গে অনায়াসে তুলনা করা যায়। কারণ এ স্ট্রোক খাওয়ার পর বলটি মসৃণভাবে ক্রমাগত এগিয়ে যায় শব্দহীন ছন্দে। এটা মূলত ব্যাটের কৌণিক অবস্থান ও ব্যাটসম্যানের পরিমিতবোধের জাগতিক নজরানা।
আমি মনি করি, গ্ল্যান্স স্ট্রোকের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নির্ণয় করা জরুরি। কারণ প্রায় ৩৬০ ডিগ্রিতে ছুটন্ত বলে ৯০ ডিগ্রি কৌণিক ব্যাটের আঘাত হানার ফলে সৃষ্ট মসৃণ গতির ব্যাখ্যা নিশ্চয়ই রয়েছে। সংঘর্ষ, আঘাত, বায়ুর সরণ, বলের গতি, বলের ওপর প্রযুক্ত বল সব কিছু মিলিয়ে গ্ল্যান্স রীতিমতো বৈজ্ঞানিক ব্যাপার-স্যাপার।
শেষ কথা : বিদ্রোহী কবি নজরুল তার অগ্নিগিরি গল্পে দাবি করেছেন, হিসেব-নিকেশ করার জন্য নিকেশ মাথারই প্রয়োজন। তার এ দাবি যতোটা না বৈজ্ঞানিক, তারচেয়ে বেশি কাব্যিক। কিন্তু গ্ল্যান্স স্ট্রোক নিতান্তই হিসেব করা মার। হিসেবের হেরফের হলেই খবর আছে!
আলোচিত ব্লগ
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।