মানব সৃষ্টির আদিতে ঘোষণা ছিল। সব জাগতিকতার মূলে এক একটি ঘোষণা থাকতেও পারে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা, জেএমবির বোমা হামলার রায় ঘোষণা, ধরিত্রী ঘোষণা, আইসিসির ঘোষণা, খেলোয়াড়দের পাল্টা ঘোষণা, মহাবিশ্বের বিরুদ্ধে দল ঘোষণা (বব উইলিস মহাবিশ্বের বিরুদ্ধে মর্ত্য একাদশ ঘোষণা করেছিলেন), মানবাধিকার ঘোষণা, জাতিসংঘ ঘোষণা, ফখরুদ্দীন চাচার ঘোষণা, লাদেনের ঘোষণা, বুশের ঘোষণা (নাকি গুন্ডামি!) মিলে জগত জুড়ে চলে ঘোষণারই রাজত্ব। আর সুযোগ বুঝে ক্রিকেট অধিনায়কও ইনিংসের ঘোষণা দেন। অবশ্য এটা দোসরা কিসিমের নমুনা।
ক্রিকেটের চৌদ্দ নাম্বার আইন মতে, খেলাটি যতো দিনেরই হোক না কেন, ব্যাটিং দলের অধিনায়ক খেলা চলাকালে যে কোনো সময় ইনিংস সমাপ্তির ঘোষণা দিতে পারেন। টেস্ট বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে অধিনায়ক একটি বল না খেলেও ইনিংস ঘোষণা দিতে পারেন। অবশ্য এক্ষেত্রে তাকে প্রতিপক্ষ অধিনায়ক ও ম্যাচ আম্পায়ারকে তার ঘোষণার কথা ঠিক ততোটুকু আগে জানাতে হবে, যাতে কমপক্ষে ৭ মিনিট পিচ রোলিং করা সম্ভব হয়।
হাতে উইকেট থাকা সত্ত্বেও অধিনায়ক ইনিংস ঘোষণা করার অধিকার রাখেন। সাধারণত একটি দল জয়ের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক রান সংগ্রহের পর ইনিংস ঘোষণা করে থাকে।
পাচটি স্তর অতিক্রম করে ক্রিকেট অধিনায়করা ইনিংস ঘোষণার বর্তমান স্তরে উপনীত হয়েছেন। ১৮৮৯ সালে অধিনায়ক সর্বপ্রথম ইনিংস ঘোষণার অধিকার পান, তবে খেলার তৃতীয় দিনে। ১১ বছর পর (১৯০০) অধিনায়ক দ্বিতীয় দিনের মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতির পর তা করার অনুমতি পান। ১৯০৬ সালের বিধিতে উল্লেখ করা হয়, দুই দিনের খেলায় প্রথম দিনে ইনিংস ঘোষণা করা যাবে, তবে সেদিন খেলা শেষের একশো মিনিট আগে করতে হবে। এর মাত্র চার বছর পর নতুন আইনে ঘোষণা দেয়া হয়, তিন দিনের খেলায় দ্বিতীয় দিনের যে কোনো সময় করা যাবে। ১৯৫৭ সালে আসে মহাঘোষণা : খেলা চলাকালে যে কোনো সময় ইনিংস ঘোষণা করা যাবে, এমনকি প্রথম দিনেও।
সনাতনপন্থীরা জোরেশোরে চেচান : ক্রিকেট ভদ্রলোকের খেলা। কিন্তু একটু চিন্তা করলেই দেখা যায়, ইনিংস ঘোষণার পেছনে দুটি কারণ ক্রিয়াশীল রয়েছে। প্রথমত রানস্ফীতির কারণে ম্যাচটি অনিবার্যভাবে ড্র হয়ে যেতে পারে। ফলে ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে রাখতে হলে ইনিংস ঘোষণার কোনো বিকল্প থাকে না। দ্বিতীয়ত এ জাতীয় পরিস্থিতিতে এগিয়ে থাকা পক্ষ অন্তরে জয়ের বাসনা উজ্জীবিত রেখেই লৌকিক ভদ্রতার খাতিরে ইনিংস ঘোষণা করে প্রতিপক্ষ সেনাপতিকে অবজ্ঞার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেÑ আমার দলের মুরোদ তো দেখলে, ওহে বুড়ো গাধা! এবার তোমার মুরোদ দেখাও।
অতএব বুঝতেই পারছেন, বৃটিশরা ইনিংস ঘোষণার ভেতরও কি ভয়ানক কূটনীতি লুকিয়ে রেখেছে। তওবা, তওবা, এটাই নাকি ভদ্রলোকের খেলা!
আলোচিত ব্লগ
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।