ওয়াইড বল, ডেড বল, স্পিন বল, ফাস্ট বল, লস্ট বল, স্লো বল, নো বলÑ সবই ক্রিকেট বলের বাই-প্রডাক্ট। বলতে পারেন আকাশের ভেতর আকাশ। তবে নো-বল নিয়ে এতো বিতর্ক, এতো পেরেশানি, এতো ঝামেলা, আইনের এতো বিবর্তন ক্রিকেটের অন্য কোনো ক্ষেত্রে হয়নি। শুধু তাই নয়, ১৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আইন প্রণেতা ও আম্পায়ারদের কাছে নো-বল চিন্তার কারণ হয়ে ঝুলে আছে।
১৮৬৪ সালের আগ পর্যন্ত সমস্যা ছিল ডেলিভারকালে বোলারের হাত ওপর দিকে কতোটা উঠছে তা নিয়ে। ১৮৮২ সালের পরের বিশ বছর ছুঁড়ে বল করার প্রবণতা ভয়াবহ রূপ নেয়। বর্তমানে এটা চাকিং সমস্যায় রূপ নিয়েছে এবং ক্রিকেটে বর্ণবাদী চেতনার কারণে মুরলিধরন ও শোয়েব আখতাররা অহেতুক সন্দেহের শিকার হয়েছেন।
নো-বলের শাব্দিক তরজমা হতে পারে Ñ- যা বল নয়। তাহলে এটা নিয়ে এতো মাতামাতির দরকারটা কি, এটা বুঝে আসে না। ১৭৪৪, ১৮১৬, ১৮৩৫, ১৮৬৪, ১৮৯৯, ১৯৪৭, ১৯৬৩ ও ১৯৬৬ সালে নো-বল প্রশ্নে বহু আইন প্রণীত হয়। কিন্তু বিতর্ক থামেনি। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় - এটা ওয়াটারগেট, মনিকাগেট আর হ্যান্সিগেটের চেয়েও মারাত্মক কিছু।
ক্রিকেট মূলত ব্যাট-বলের খেলা। কিন্তু ব্যাট-বলের ফাঁকে নো-বল নামক খবিসটি ঢুকে সব এলোমেলো করে দিয়েছে। ভদ্রলোক বোলারের গায়ে দুর্নামের আজানুলম্বিত ওভারকোট চাপিয়ে দিয়েছে। বোলারের ডেলিভারি অসঙ্গত মনে করলেই আম্পায়ার বাবাজি তার ডান হাতটি নব্বই ডিগ্রি অ্যাঙ্গল করে নো-বলের সিগনাল বাতান। আম্পায়ারের যুক্তি বোলার তার পা পপিং ও বোলিং ক্রিজের মাঝে রাখেনি। আবার না জানিয়ে ডেলিভারির ধরন পাল্টালেও আম্পায়ার নো-কল দেন। কনুই বাঁকালে চাকিংয়ের অভিযোগ আনেন।
সূচনালগ্নে পরিস্থিতি এতো গোলমেলে ছিল না। নো-বল ছিল বোলারের ব্যাকফুট কেন্দ্রিক। আর জরিমানা? ওটা মোটেও হতো না। বলটা ডেড-বল হিসাবে গণ্য হতো। ঊনিশ শতকের প্রথম দিকে ব্যাটসম্যান রান আউটের আগ পর্যন্ত যে কোনো বল পেটাতে পারতেন। ১৮২৯ সালে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, নো-বল হলে এক রান জরিমানা এবং এটার একটা ভদ্র নাম দেয়া হয় এক্সট্রা। ১৮৩০ সাল থেকে আইনটি কার্যকর হয়।
নো-বল খেলার ভেতরে গণ্য হলেও ওভারের মধ্যে গণ্য হয় না। ক্যায়সা ফ্যাঁকড়া দেখুন! ওয়াইড বলে হিট করলে বল আর ওয়াইড থাকে না। কিন্তু নো বলে হিট করলেও তা নো-বলই থাকে। সংগৃহীত রান ব্যাটসম্যানের নামের পাশে লেখা হয়। কিন্তু অন্য কোনোভাবে রান হলে তা নো-বলের স্কোরে জমা পড়ে। আসলে যেটা বলই নয়, তা নিয়েই যতো ঝামেলা আর বিতিকিচ্ছিরি কান্ড। মাথা গুবলেট হওয়ার যোগাড়!
পুনশ্চ : ১৮৩৯ সালের ১৭ মে লর্ডসে এমসিসি ও মিডল সেক্সের মধ্যকার ম্যাচেই সর্বপ্রথম নো-বল রেকর্ড করা হয়। আর টেস্ট ম্যাচের এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি নো-বল দিয়েছেন ইংল্যান্ডের এফআর ফস্টার (বনাম অস্ট্রেলিয়া, মেলবোর্ন, ১৯১২ সাল) এবং অস্ট্রেলিয়ার ইএল ম্যাককরমিক (বনাম ইংল্যান্ড, লর্ডস, ১৯৩৮ সাল)। দুজন বোলারই এক ইনিংসে এক ডজন করে নো-বল দেন।
আলোচিত ব্লগ
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।