দুর্মুখেরা মাঝে মাঝে বেফাঁস মন্তব্য করে বসেন নারী-চরিত্র নিয়ে। হয়তো আলোচনা বা গল্প-উপন্যাস অথবা কাব্যের কাটতির জন্য। এটা তাদের পাটোয়ারি বুদ্ধির জাগতিক দলিল। তবে নারী চরিত্র রহস্যময় বললে আকাটমুর্খও মাথা নাড়ে বিজ্ঞজনের মেজাজে, নয়তো দাঁত কেলিয়ে হাসে। কিন্তু যখন দাবি করা হয়, নারী চরিত্রের মতো ক্রিকেট নিয়েও শেষ কথাটি বলা সম্ভব নয়, তখন বেশ ফাঁপড়ে পড়তে হয়। ক্ষেত্র বিশেষে অবৈদান্তিক গর্দভও সাজতে হয়। তাত্ত্বিকপ্রবর তখন যুক্তি দেন, একবার ভাবুন দেখি লং হপের কথা। আরে বাবা, শর্ট-পিচ বল বললেই ল্যাঠা চুকে যেতো।
মানুষ এক পায়ে লাফালে ইংলিশভাষীরা বলে হপ্। কিন্তু পাখি বা জন্তু দুই পায়ে না লাফালে তা মোটেও হপ্ বিবেচিত হয় না। আর ক্রিকেটে এসে শব্দটা ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। ব্যাটসম্যান থেকে বেশ সামনে বলটি আছড়ে পড়লে তখন বলা হয়: আরে এটাইতো লং হপ্।
লং হপ্-এর কারণে ক্রিকেট রণাঙ্গনে দ্বিমুখী প্রতিক্রিয়া হয়। একজন আশান্বিত হন। আরেক জনের হার্টবীট বাড়ে। কারণ স্ট্রাইক নিতে ব্যাটসম্যান পর্যাপ্ত সময় পেয়ে বলকে আলুর চপ ভেবে জোরসে পিটিয়ে লং হপের রান শ্রাদ্ধ করেন। আর বেচারা বোলার জিভে কামড় দিয়ে বলেন: হায়! এবার বুঝি দফা শেষ।
লং হপের বনেদী নাম নাকি লং হপার। এ জাতীয় শর্ট-পিচ বল মাটির পরশ পেয়ে উলম্বভাবে ঊর্ধ্বমুখী হয় না ঠিকই। কিন্তু যুতসই উচ্চতায় ওঠে। ফলে ব্যাটসম্যান বলটি বাউন্ডারি সীমান্তে ঠেলে দেয়ার উত্তম মওকা পেয়ে যান। সংগত কারণে ফ্রি-গিফট নামে পরিচিত লং হপ্ ব্যাটসম্যানের জন্য বড়ই মজাদার। যদিও এর পরিণতি সব সময় মজাদার প্রমাণিত হয় না।
লিলি হোয়াইট ১৮৬৭ সালে প্রকাশিত তার ক্রিকেটারস কমপেনিয়ন গ্রন্থে লং হপের চান্দিতে দি সিন অব বোলারস ফর হুয়িচ দেয়ার ইজ নো ফরগিভনেস (বোলারদের পাপ-যার ক্ষমা নেই) নামক বাঁকা মন্তব্যটি সেঁটে দিয়েছেন। অতএব, মুশাই, একবার হিসেব কষে দেখলেই বুঝতে পারবেন লং হপ্ একজন বোলারের জন্য কতটা বেইজ্জতির সনদ। কারণ ব্যাটসম্যান লং হপ্ থেকে জেল্লাদার রান হোপ (আশা) করতেই পারেন।
ক্রিকেট সাহিত্যের জনক স্যার নেভিল কার্ডাসের ভাষায়: নিদেনপক্ষে বাউন্ডারি। আর ক্রিকেট প্রাইম মিনিস্টার স্যার পেলহ্যাম ওয়ার্নার বলেন, ওই শর্ট পিচ ডেলিভারিকে ব্যাটসম্যান যে কোনো বিন্দুতে পাঠাতে পারেন। সুতরাং বুঝতেই পারছেন, লং হপের মাজেজা দ্বিমুখী।
একদিকে ব্যাটসম্যানের বেনারসী হাসি, অন্যদিকে বোলারের জিভে কামড়, নিদেনপক্ষে বোকা বনে কপাল চাপড়ানো। লং হপ্ পেলে ব্যাটসম্যান ফুটওয়ার্ক ঠিক রেখে সোল্লাসে গেয়ে ওঠেন : ঘি চপচপ কাবুলি মটর। আর বোলার সখেদে বলেন, তওবা তওবা, কি সরেস বোকামিটা করলাম, আমার ঘরপোড়ার সুযোগে ব্যাটা ব্যাটসম্যান দুই হাতে খই (রান) খাচ্ছে।
আলোচিত ব্লগ
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।