somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তোমার স্মৃতি ভুলতে পারি না

২৯ শে মে, ২০১১ রাত ১০:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সবার জীবনে যেমন প্রেম আসে তেমন আমার জীবনে ও এসেছিল হয়ত বা একদিন। কিন্তু ঠিক বুঝতে পারছিনা সেটা প্রেম ছিল কিনা। যাইহোক তবু ও সেই স্মৃতি আজ ও আমাকে পীড়া দেয়। যখন আমি একাকী থাকি বিশেষ করে গভীর রাতে সেই ঘটনাটি আমার বড় বেশি মনে পড়ে। ভাবতে ও ভাল লাগে সেই ক্ষণ টি।
আমি তখন এইচএসসি প্রথম কি দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। খুব ভোঁরে কলেজে যেতে হত। পুরা রাস্তা ঘুমাইয়া ঘুমাইয়া যাইতাম। কলেজে পৌঁছাইতাম ৭ টা ৪৫ মিনিট এর পরে। সকাল ৮ টায় ক্লাস আরম্ভ হত। এবাবেই অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম। সকাল ১০ টায় টিফিন ব্রেক ছিল। প্রতিদিন অই টাইম এ টিফিন কাম ব্রেকফাস্ট করতাম। এভাভেই চলতে লাগল দিন।
কলেজ ছুটি হত ২ টায়। আমার বন্ধুরা সহ সবাই মিলে প্যারেড গ্রাউন্ড এর পাশে একটি সুপারি গাছের নীচে বসতাম। কলেজ বাস না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতাম। খারাপ লাগত না তেমন একটা। খালি মাঝে মাঝে হেলিকপটার আর বিমান এর শব্দ বিরক্ত করত। তবুও কাঁঠফাটা রোদের মাঝে প্রাইয়ই বসে আড্ডা মারতাম সবাই।
আমাদের কলেজে স্কুল ও কলেজ সেকশন দুটো ই ছিল। বেশীরভাগ স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল সামরিক বাহিনী দের সন্তান। আমি সিভিল। আমি স্কুল লেভেল এ ও মেয়েদের সাথে পড়ি নাই কারন আমি বয়েস স্কুল এর শিক্ষার্থী ছিলাম। কলেজ লেভেল এ আমার সেকশন এ কোন মেয়ে ছিল না কিন্তু অন্য সেকশন এ মেয়ে ছিল (তবে এরা কেউ এ সুন্দরী ছিল বলে আমার মনে হয় নি)। অন্য বিভাগ এ কিন্তু কিছু কিছু সামান্য সুন্দরী মেয়ে ছিল। আমি বিজ্ঞান বিভাগে ছিলাম। আবার অনেক মেয়ে ও পড়ত স্কুল সেকশন এ। অনেক সুন্দরী মেয়ে পড়ত স্কুল সেকশন এ।
আমার ঘটনাটি আমি টের পাই যখন তখন আমি মনে হয় দ্বিতীয় বর্ষ তে। কিছু দিন ধরে আমি লক্ষ্য করতে থাকি যে একটি মেয়ে আমাকে ফলো করে। আমি অবশ্য শিউর ছিলাম না কারন আমি ভাবতাম আমাকে কেন লক্ষ্য করবে। মেয়েটি মাঝে মাঝে আমার দিকে থাকাত, আমি ত ভাবতাম অন্য কার দিকে থাকাইতেছে হয়ত। মেয়েদের সাথে না মিশার কারনে আমি কোন মেয়ের দিকে থাকাতে পারতাম না। এখন ও পারি না। যখন অই মেয়ে টা আমার দিকে থাকাত তখন আমি কখনোই মেয়েটার চোখের দিকে থাকাতে পারি নাই, উল্টো নীচের দিকে থাকাইয়া থাকতাম না হয় অন্য দিকে চলে যেতাম। তখন ও আমি শিউর ছিলাম না যে মেয়েটির লক্ষ্যবস্তু আমি।
এরপর এবাবেই চলতে লাগল। প্রতিদিন মেয়েটিকে টিফিন টাইম এ দেখা যায়। আমি কখন ও কিছু ই বলি নাই। কিছুদিন পর দেখতে পেলাম কলেজ ছুটির পর মেয়েটি আমাদের আড্ডার স্থানটির একটু দূরে দাঁড়াইয়া থাকে। আমার বন্ধুরা টের পায় একটু একটু আর আমাকে বলে, আমি তখন একটু একটু বুঝতে পারি। এভাবে চলতে থাকে দিন।
অনেকদিন পর একদিন আমি ক্লান্ত হয়ে কলেজ বাস এ বসে আছি একা, বাকী সবাই মাঠে ফুটবল খেলতছে। হঠাৎ দেখি সেই মেয়েটি বাসের দিকে এগিয়ে আসতেছে। আমি প্রথম এ বুঝি নাই যে সে আমার বাস এ আসবে, পরে যখন দেখি যে সে আসলেই আমার বাস এর দিকে আসতেছে তখনই আমি বীরের মত বাস এর জানালা খুলে জানালা বরাবর চাকাটাতে পা দিয়ে জানালা দিয়ে লাফ দিয়ে বেরিয়ে আসি এবং মেয়েটি না দেখে মত পালাইয়া চলে যাই আমার বন্দুদের কাছে। ওখান থেকে দেখলাম মেয়েটি সরাসরি আমি যেই সিট এ বসে ছিলাম সেই সিট এ আসল, আমাকে না দেখতে পেয়ে চারপাশে দেখল। তারপর পুরা বাসের সবগুলো সিট চেক করল। এরপর নেমে গেল। এই ঘটনার পর আমি বুঝতে পারলাম যে মেয়েটির টার্গেট ছিলাম আমি।
এরপর মেয়েটি আমাকে দেখলেই থাকিয়ে থাকত। আমি কখন ও কোন কথা ও বলি নাই তার সাথে। এরপর এইসব চলতে চলতে টেস্ট পরীক্ষা হইয়া গেল। আর তেমন কলেজে ও নিয়মিত যেতাম না। গেলে ও কাজ শেষে তাড়াতাড়ি চলে আসতাম। মাঝে মাঝে মেয়েটিকে দেখতাম। এরপর পাশ করার পর বিশ্ববিদ্যালয় এ ভর্তি হলাম। আস্তে আস্তে বয়স বাড়তে থাকলো, বুজতে পারলাম কি বোকামিই না করলাম। মেয়েটি আমাকে অবশ্যই কিছু না কিছু বলতে চেয়েছিল। আমার বাস থেকে পালিয়ে যাওয়া মোটেও ঠিক হয়নি। অন্তত শোনা উচিত ছিল তার কথা। আজ এই কাঠখোট্টা জীবনে এই স্মৃতিটি খুব মনে পরে।
গভীর রাতে যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়ে তখন আমি ব্যাস্ত থাকি কাজ নিয়ে, কাজ করতে করতে হঠাৎ আনমনা হয়ে গেলে সেই স্মৃতিটি মনে পরে। হয়তবা এখন ও মেয়েটি আমার কথা চিন্তা করে। কিন্তু মেয়েটার এই চিন্তার চেয়ে মনে হয় তাকে নিয়ে আমি আর ও বেশি চিন্তা করি। তার নাম ও জানি না। কখনো তার সাথে দেখা হবে কিনা সেটা ও জানি না। কিন্তু সে আমার হৃদয়ে থাকবে চিরজীবন।
এই কথাগুলু আমি কাউকেই বলি নাই। কারন সবাই জানে আমি এইসব প্রেম, ভালোবাসা পছন্দ করি না। আসলেই আমি কখনো কোন মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়াই নাই। আসলে সেই পরিমাণ সময় ও আমার কাছে ছিল না। সত্যি বলতে কি আমি এইসব পছন্দ ও করতাম না, এখন ও করি না। কিন্তু তবু ও সেই স্মৃতি আমার মন থেকে মুছতে পারছি না। এই স্মৃতি আজ আপনাদের সবার সাথে শেয়ার করলাম। তবে এটাই কি প্রেম, এটাই কি ভালোবাসা?। ঠিক বুঝতে পারছি না।
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×