somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি টি ব্রেক গল্প - অনিন্দিতা ও অন্যান্য

২২ শে মে, ২০১৫ রাত ৮:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনিন্দিতার চেহারা এত লাল হয়ে আছে যে, দেখে মনে হয় যেকোনো মুহূর্তে ভ্যা ভ্যা করে কেঁদে ফেলবে। ওই মুখটায় অনেকক্ষণ একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকেও কি ঘটেছে কিছুই যখন আঁচ করতে পারলাম না, আমি তখন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বরং পানির গ্লাসটা টেনে নিলাম। অনেকক্ষণ ওর পাশে বসে থাকায় সংক্রামক ব্যাধির মতো আমার মুখটাও লাল হয়ে গেছে, একটু পানি খাওয়া দরকার। ঘটনার সূত্রপাত খানিকক্ষণ আগে, ভরপেটে খেয়েদেয়ে যখন ঘুমাবো বলে প্ল্যান করছিলাম তখনই। অনিন্দিতা হঠাৎ ফোন দিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, ‘ক্যাফেটেরিয়ার দিকে আসো প্লিজ।’ জিজ্ঞেস করলাম, ‘কি হইসে?’ ফোনে আরও হাঁপিয়ে উত্তর দিল, ‘কি হইসে সেটা পরে শুনবা। আগে বল আসবা নাকি ?’

আমি অনিন্দিতার এই ব্যাপারগুলোতে বেশ ভয় পেয়ে যাই। কখনো সে বান্ধবীদের সাথে ঝগড়ার পর এরকম হাঁপাতে থাকে, কখনোবা ক্লাস আইটেমে পেন্ডিং পাওয়ার পর। এই দুই উপলক্ষে ভ্যা ভ্যা করে কেঁদেও দেয় মাঝেমাঝে। আবার যখন সান্ত্বনা দিতে যাই, অনিন্দিতা আমার সাথে এমন ব্যবহার করে, যেন মনে হয় তার যাবতীয় সমস্যার মূলে একমাত্র আমিই ছিলাম। এই মুহূর্তে ক্যাফেটেরিয়ায় বিস্তর মানুষ বসে আছে, তাই অনিন্দিতাকে সান্ত্বনা দিয়ে নতুন করে নিজেকে অপরাধী হিসেবে দাঁড় করানোর কোন মানে খুঁজে পেলাম না। বরং সরাসরি জিজ্ঞেস করলাম, ‘কাহিনী কি?’
-কাহিনী দিয়ে কি হবে ? তুমি কাহিনী শুনে কি করবা ? অনিন্দিতা তখনো স্বাভাবিক হয়নি।
-মানে , এই যে ভরদুপুরে ক্যাফেটেরিয়ায় ডাকলা, নিশ্চয়ই কিছু একটা হইসে।
-কিছু হইসে মানে কি, এমনি এমনি তোমাকে আমি ডাকতে পারবো না ? অনিন্দিতা চিৎকার করে বলে উঠে।
‘খাইসে! তা বলছি নাকি ?’ আমি ঘাবড়ে গিয়ে আশেপাশে তাকাই। না, আশেপাশের মানুষজন তেমন একটা শুনেনি।‘ এই যে মুড খারাপ করে আছো, ওইটার কারণটা জানতে চাইসি শুধু।’ সাবধানে বলে উঠি। বাউন্সি উইকেটে দেখে শুনে না খেললে আবার সমস্যা।

অনিন্দিতা মাথা নিচু করে ফেলে, ‘সরি বাবু। চেঁচানোটা উচিত হয়নাই। আসলে সকাল থেকেই মন মেজাজ সব খারাপ।’
-কেন ?
-বইলো না, সকালে বাজারে গেছিলাম। দেড় কেজি মুরগী কিনে রুমে এনে দেখি হারামজাদা দোকানদার একটা রান দেয় নাই !
আমি অবাক হওয়ার ভঙ্গীতে বলে উঠি, ‘ দেয় নাই মানে ? তুমি কি দোকান থেকে মুরগী কেটে আনসো নাকি?’
-হু, নিজে রুমে কাটতে আবার ঝামেলা। অনিন্দিতা উত্তর দেয়।
- তো, দেখে রাখবা না, কাটার সময় ?
অনিন্দিতা বলে, ‘আরে, আমি মুরগী ছিলতে দিয়ে পাশে আলু কিনতে গেছিলাম না ?’ আমি চোখজোড়া সরু করে জিজ্ঞেস করি, ‘আচ্ছা, তোমারে রান্না করতে বলসে কে? ডাইনিং ক্যান্টিন তো বন্ধ না’। ‘আমি নিজেই করসি, কেউ বলে নাই’। অনিন্দিতা চোখ বন্ধ করে জবাব দেয়। ‘ তবে কালকে পাশের রুমের ওরা বলাবলি করতেসিল আমি নাকি রান্না পারি না।’
-পাশের রুমের কথা তোমাকে কে বলসে ?
- শায়লা বলসে। শায়লা আমার রুমমেট না।
- ও আচ্ছা।
‘ওরা বলসে, আমি নাকি রান্নার র ও জানি না’। অনিন্দিতার চোখ ছলছল করে উঠে।‘তুমিই বল বাবু, আমি কি খুব খারাপ রাঁধি? তারউপর আমরা তো এখানে ডাক্তারি পড়ার জন্য আসছি, রান্না শেখার জন্য না’। আমি মাথা নাড়াই, ‘ ঠিক তো’।
-তাহলে, বলবে কেন ? রাইস কুকার ক্যারি কুকার কিনে নিজেদের মাস্টারশেফ ভাবে নাকি ওরা?
- তুমি তো খারাপ রান্না করো না, গেলবার ডাল রান্না করার সময় একটু মিষ্টি করে ফেলসিলা এইতো।
- হুম, আর মুরগীটায় হলুদ বেশী হয়ে গেছিলো। অনিন্দিতা যোগ করে।

অনিন্দিতা এখন কিছুটা স্বাভাবিক, রাগটা পড়ে গেছে। আমার মনে হলো বিশাল একটা বিপদ থেকে উদ্ধার পেয়েছি। পরিস্থিতি আরেকটু স্বাভাবিক করতে আমি বললাম, ‘তোমার রান্না তবুও অনেক মজা হয়, অন্য রকম একটা টেস্ট’। অনিন্দিতা আমার প্রেমিকা, যার সারা শরীর এতক্ষণ রাগে দুঃখে লাল হয়েছিল, এখন সে লজ্জায় লাল হয়ে যায়। আমতা আমতা করে জিজ্ঞেস করে, ‘সত্যিই ?’
-আমি কি মিথ্যা বলবো তবে ? জানি মাঝে মাঝে মিথ্যা বলেও না বলার অভিনয় করতে হয়। এমন অভিনয় বেশ খানিকক্ষণ ধরে করে যাচ্ছি অনিন্দিতার সামনে। তাতে যদি ফুজিয়ামার গনগনে লাভায় তিব্বতের শীতল হাওয়া বয়ে যায়, তবে তাই হোক।

‘আমি জানতাম তুমি অন্তত ওদের মত বলবা না’। অনিন্দিতা হেসে ফেলে। তারপর পায়ের নিচ থেকে একটা হট বক্স বের করে বলে, ‘ যাও বাবু হাত ধুয়ে আসো’।
আমি যদিও সামনে ঘটতে যাওয়া ঘটনাগুলো এবার আঁচ করে ফেললাম। তবুও জিজ্ঞেস করলাম, ‘ কেন ?’
-ওমা! মুরগী রেঁধে নিয়ে আসছি তো। খাবা না ? সামান্য একটু লবণ বেশী হয়ে গেছে আর একটু পুড়ে গেছে। এছাড়া খারাপ হয়নাই তো।
‘পেট ভরা আমার। না খেলে হয় না ?’ আমি ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করি।
-মানে তুমি কি ভাবো আমি রাঁধতে জানি না ?
‘না তা ঠিক না।’ বলে আমি অনিন্দিতার দিকে তাকাই।

অনিন্দিতার চেহারা এখন আবার লাল হয়ে গেছে , দেখে মনে হচ্ছে যেকোনো মুহূর্তে ভ্যা ভ্যা করে কেঁদে ফেলবে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে আগস্ট, ২০২০ দুপুর ১:৪৩
৮টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আলী জাকের মারা গেছেন

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২৭ শে নভেম্বর, ২০২০ সকাল ১০:১৪


ভোর বেলা আজ তাড়াতাড়ি উঠে গেছি , কেন জানিনা । পি সি খুলে কেউ একজন বাংলা একাডেমী ইন্টারন্যাশনাল সাইটে দুসংবাদটি দিল । পত্রিকায় আসেনি তখনো । ক্যান্সারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকার শিক্ষক, কবি, লেখক, অভিনেতা, সমাজকর্মী, উচচ-পদস্হ কর্মচারীরা চুপচাপ মরছেন!

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৭ শে নভেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:৫০



যাযাবর সম্প্রদায়ের গৃহকর্তা পানি খাবে; পানি আনার জন্য অর্ডার দেয়ার আগে, ছেলেমেয়ে, বা বউকে কাছে ডাকবে; যে'জন কাছে আসবে, তার হাতে একটা থাপ্পড় দেবে জোরে, বিনাকারণে এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেষ কাব্য

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৭ শে নভেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:৫৮



হতেই পারে এই রাত শেষ রাত
হতেই পারে এই দিন শেষ দিন,
হতেই পারে এই লেখা শেষ লেখা
হতেই পারে এই দেখা শেষ দেখা।

হতেই পারে এই চোখ শেষ আঁকা
হতেই পারে এই চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রায় দেড় মিলিয়ন ভিউসংখ্যার ভিডিওটিসহ আমার ইউটিউব চ্যানেলের শীর্ষ ১৫টি মিউজিক ভিডিও

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৭ শে নভেম্বর, ২০২০ দুপুর ১:৫৩



আপনারা অনেকেই জানেন, আমি ব্লগিং করার পাশাপাশি ভ্লগিংও (ইউটিউবিং) করে থাকি, ফেইসবুকিং-এর কথা তো বলাই বাহুল্য। আজ এ পোস্ট ফাইনাল করতে যেয়ে দেখলাম, ইউটিউবে আমার অ্যাকাউন্ট ওপেন করার তারিখ... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্ন সেতু পদ্মা-- ফটোব্লগ

লিখেছেন সাদা মনের মানুষ, ২৭ শে নভেম্বর, ২০২০ বিকাল ৪:২৪


স্বপ্ন সেতু পদ্মা নির্মিত হচ্ছে অনেক দিন হল। এই নির্মান যজ্ঞ দেখার জন্য বেশ কিছু দিন যাবৎ যাই যাই করেও যাওয়া হচ্ছিল না। অবশেষে শিকে ছিড়ল কয়েক দিন আগে। পদ্মা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×