somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নাইমুল আবরার, তোমার মৃত্যুর বিচার চাইলে কি এদেশে মত প্রকাশের কন্ঠটি বন্ধ হয়ে যাবে?

১৯ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ৩:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নাইমুল আবরার। এই কিশোর ছেলেটি ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে নবম শ্রেনীতে পড়তো। গত ১ নভেম্বর ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে দৈনিক প্রথম আলো’র ম্যাগাজিন কিশোর আলো’র অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আবরারের মৃত্যু হয়। প্রথম আলো দাবী করে অনাকাংখিত ঘটনায় নাইমুল আবরারের মৃত্যু হয়। কিন্তু নাইমুল আবরারের কিছু সহপাঠী এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছাত্রদের অভিযোগ ছিলো, নাইমুল আবরারকে অযত্নে মেরে ফেলা হয়েছে। প্রথম আলো থেকে জানানো হয়, আবরারের পিতা–মাতা এবং অভিভাবকেরা নিজেরাই আলাপ করে পুলিশের কাছে আবেদন করেন যে, এটা একটা দুর্ঘটনা। তাঁরা ময়নাতদন্ত চান না। যদিও সেসময় এই দাবীর প্রেক্ষিতে প্রথম আলো জোরালো কোন প্রমাণ দেখাতে পারে নি। ঘটনা পরিপ্রেক্ষিতে নাইমুল আবরারের মৃত্যুর পর তার সহপাঠীরা মিলে রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুলের সামনে ছোটখাট একটা মানববন্ধন করে। প্রিন্ট মিডিয়ায়ও খুব একটা গুরুত্ব দিয়ে নাইমুল আবরারের মৃত্যু ও মানববন্ধন সংক্রান্ত সংবাদ ছাপানো হয় না। এক অর্থে নাইমুল আবরারের মৃত্যুর সংবাদটি সাধারণ মানুষের কাছে আকর্ষণীয় ছিলো না। এই ঘটনায় সংঘবদ্ধভাবে প্রতিবাদও হয়েছে কম। এর প্রথম কারন হতে পারে, নাইমুল আবরার বুয়েটের আবরার ফাহাদ ছিলো না ! দুই, নাইমুল আবরারের মৃত্যুর ঘটনা অনেকগুলো প্রশ্ন উত্থাপন করলেও, নাইমুল আবরারকে দেশের চলমান ধারাগুলো তাদের সুবিধা মতো সংজ্ঞায়নে সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে বিপদে পড়ে যায়।
নাইমুল আবরারের মৃত্যু এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ আমাদের তিনটি অনুসিদ্ধান্তে উপনীত হতে বাধ্য করে-
এক, অনুষ্ঠানে বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে অংশগ্রহনকারীর মারা যাওয়া বিনা তদন্তে প্রায় স্বাভাবিক ঘটনা।
দুই, কোন অনুষ্ঠানে হঠাৎ দুর্ঘটনা কিংবা প্রাণহানির ঘটনা ঘটে গেলে অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তা গোপন রাখা বাঞ্চনীয়।
তিন, মুমূর্ষু রোগীকে কাছের হাসপাতালে নিয়ে যেতে কোন বাধ্যবাধকতা নেই।

এই তিনটি অনুসিদ্ধান্ত প্রমাণিত করতে অদৃশ্য শক্তির জোর প্রচেষ্টায় নতুন একটি সত্য চোখের সামনে ধরা দেয়। এই সত্যটি আমাদের মেনে নিতে শেখানোর চেষ্টা করে, বাংলাদেশে অগণতান্ত্রিক ও বিচার বহির্ভূত প্রক্রিয়া চর্চার মহাসড়কে শুধু রাজনীতিবিদ ও প্রশাসনই এখন একা উজির-নাজির নন। সমাজের দর্পণ/ সংবাদের জনক/ তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও দরবারে প্রবেশ করেছে।
কিন্তু আমরা অবাক হই, সংবাদ মাধ্যমের অপব্যবহারের এতোটুকু সত্য বরং একটি নব ব্রাহ্মণ্যবাদকে প্রচার করছে। এই প্রচারের সামনে থেকে নেতৃত্বে আছে প্রথম আলো

সম্প্রতি নাইমুল আবরারের অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে করা মামলায় প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। প্রথম আলো আদালতের এই সিদ্ধান্তকে নানাভাবে প্রশ্নের সম্মুখীন করে বরং একে মত প্রকাশের বাধা বলে ফলাও করে প্রচার করে। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, চারদিকে এখন সুশাসনের হাহাকার। কিন্তু সুশাসনের অভাব ও সামাজিক অস্থিরতার উপর দায় চাপিয়ে এর থেকে উত্তরণের জন্য একক আলোকবর্তিকা কিংবা মসীহা হিসেবে কাউকে ধারন করারও অবকাশ নেই। শুধুমাত্র চলমান ধারার সমালোচনা করার অজুহাত দেখিয়ে কোন অপধারাকে প্রশ্রয় দেওয়া এবং দিতে অনুরোধ করাও যে একধরনেরস্বৈরাচারীতা, তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নেই।



দুঃখিত নাইমুল আবরার
পক্ষের স্বৈরাচার এবং বিপক্ষের স্বৈরাচারের খেলায় তোমার লাশ কাঁধে নেওয়ার মতো শক্তি বিধাতা সাধারণদের দেন নি। বাংলাদেশকে দেন নি।




সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ৩:২৬
১১টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জাপান কেন বাঙালির চিরকালের নিঃস্বার্থ বন্ধু?

লিখেছেন রায়হানুল এফ রাজ, ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৫০



জাপানী সম্রাট হিরোহিতো বাঙ্গলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে বলেছিলেন, ‘যতদিন জাপান থাকবে, বাঙালি খাদ্যাভাবে, অর্থকষ্টে মরবেনা। জাপান হবে বাঙালির চিরকালের নিঃস্বার্থ বন্ধু’! এটি শুধু কথার কথা ছিলো না, তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার লেখা প্রথম বই

লিখেছেন ফারহানা শারমিন, ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৯:১৩



ছোটবেলা থেকেই প্রচন্ড রকম কল্পনাপ্রবণ আমি। একটুতেই কল্পনাই হারিয়ে যাই। গল্প লেখার সময় অন্য লেখকদের মত আমিও কল্পনায় গল্প আঁকি।আমার বহু আকাংখিত বই হাতে পেয়ে প্রথমে খুবই আশাহত হয়েছি। আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির আয়নায়

লিখেছেন নিভৃতা , ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১১:০৪





কিছুদিন আগে নস্টালজিতে আক্রান্ত হই আমার বাসার বুয়ার জীবনের একটি গল্প শুনে। স্মৃতিকাতর হয়ে সেই বিটিভি যুগে ফিরে গিয়েছিলাম।

এই বুয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন জীবন- নয়

লিখেছেন করুণাধারা, ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১২:০২



আগের পর্ব: নতুন জীবন- আট

অবশেষে আনুষ্ঠানিক ভাবে আমার বোন পেট্রার জন্মকে স্বীকৃতি দেয়া হল। আমাকে জানানো হল আমার একটা বোন হয়েছে। আমি বোন দেখতে গেলাম, দেখি মায়ের পাশে ছোট একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সর্বশ্রেষ্ঠ নবী এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ওফাতকালীন ঘটনাসমূহ (প্রথম পর্ব)

লিখেছেন নীল আকাশ, ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৪:৩৬



[সকল প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য, যিনি আমাদেরকে সর্বোত্তম দীনের অনুসারী ও সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উম্মত হওয়ার তৌফিক দান করেছেন। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×