এই পোস্টের মূল লেখক অন্য একটি ব্লগের যাত্রী নিকধারী ব্লগার। প্রাসঙ্গিক বিধায় কপি পেস্ট করলাম। মূল পোষ্ট পড়তে পারবেন এখানে।
------------------------------------------------------------------------------
একটি প্রচলিত ধারনা আছে কারো কারো মধ্যে যে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর কেউ চোখের জল ফেলেনি বা কোথাও কোন ধরনের একটিও প্রতিবাদ হয়নি। গত মার্চ মাসে সংসদে বিএনপির এক মহিলা এমপি শাম্মী আখতারও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নানা আজেবাজে কথার মাঝে একই ধরনের কথা বললেন - বঙ্গবন্ধু হত্যার পর কেউ ইন্নালিল্লাহ......রাজেউন পড়েনি। [ শীর্ষ নিউজ , বিডিনিউজ] এছাড়া বেশ কয়েকদিন আগে প্রতিবেশী একটি ব্লগে এক সিনিয়র ব্লগারও লিখলেন বঙ্গবন্ধু হত্যা প্রসঙ্গে ওনার দেয়া এক সাক্ষাৎকারের কথা -
: অবশেষে আমার সব কথা শেষ হবার পর তিনি শুধু বললেন – কিন্তু দেশে এক জনও কি এমন কেউ ছিলো না, যে সর্ব সম্মুখে দাঁড়িয়ে জাতির জনকের সমগ্র পরিবারের এমন নৃশংস হত্যাকান্ডে কিছু চোখের জল ঝরাতো?
: সেদিন আমি তার সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারিনি।
এই দুটি উদাহরন ছাড়াও নানা জায়গায় দেখেছি একই ধরনের কথার পুনরাবৃত্তি। তাই আমি আগ্রহী হয়ে খোঁজা শুরু করলাম। নেট ঘেটে পেলাম নানা তথ্য। নিচের লিংকগুলো থেকে জানা গেল যে বেশ কয়েক জায়গায় (বরগুনা, কিশোরগঞ্জ, খুলনা ইত্যাদি স্থানে) প্রতিবাদ হয়েছে। এমনকি পরবর্তীতে অনেক মানুষ মারাও গেছেন সশস্ত্র প্রতিবাদ করতে গিয়ে। সূত্রগুলো উল্লেখ করছি -
১. দেশ টিভি
![]()
ছবি: প্রথম প্রতিবাদকারীদের কয়েকজন
বঙ্গবন্ধু হত্যা: বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দিতে চাননি বরগুনা, কিশোরগঞ্জ, খুলনার মানুষ :বরগুনাবাসী কয়েকদিন দখলে রেখেছিলেন শহর
২. প্রথম আলো (ক)
প্রথম প্রতিবাদকারী কিশোরগঞ্জের সেই তরুণেরাও খুশি
৩. জনকন্ঠ
প্রথম প্রতিবাদকারী ছাত্রনেতাদের সন্তোষ
উল্লসিত প্রথম প্রতিবাদকারীরা
৪. কালের কন্ঠ
ফাঁসির দড়ি থেকে ফিরে... বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করে জেলে যাওয়া বিশ্বজিৎ নন্দী বললেন, 'ওদের অপকর্মের প্রতিবাদ জানাতে গিয়েই নিজে পৌছে গিয়েছিলাম ফাঁসিকাষ্ঠে।'
৫. প্রথম আলো (খ)
সশস্ত্র প্রতিবাদকারী বিশ্বজিত নন্দী: যন্ত্রণা অনেকটাই লাঘব হয়েছে
তাহলে কেউ প্রতিবাদ করেনি এই ধারনাটা প্রসার লাভ করল কিভাবে? এইভাবে হয়ত চিন্তা করা যায়-
হত্যাকান্ডের পরেই ঢাকায় কার্ফু দিয়ে রাখা হয়েছিল একাধিক দিন। রাজপথে ছিল জলপাই বাহিনী। এছাড়া ১৯৭৫ সালে তো টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা আজকের মত এত ভালো ছিল না। বেতার ছিল মূল ভরসা। সেটাও তো দখল করে রাখা হয়েছিল। তাই এক জায়গার খবর আরেক জায়গায় পৌছানো নিশ্চয়ই সময়সাপেক্ষ ব্যাপার ছিল। সুতরাং এই সব স্থানের প্রতিবাদের কথা তাৎক্ষনিকভাবে অন্য স্থানে যায় নাই এটা বলাই বাহূল্য। এছাড়া ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় সেই সময় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে বঙ্গবন্ধুর নাম নেয়াও নিষিদ্ধ করে রেখেছিল মোশতাক/ জিয়ার সরকার। আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের উপর চলছিল নির্যাতনের রোলার স্টিমার। এমন কি আরও পরে ১৯৭৬ সালের ২৩ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর বাসভবনস্থ অফিসের কর্মকর্তা মুহিতুল ইসলাম লালবাগ থানায় বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা রুজু করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু এজাহারের বিবরণ শুনে মামলা না নিয়ে ডিউটি অফিসার মুহিতুল ইসলামের গালে থাপ্পড় মেরে বলেছিল - তুইও মরবি, আমাদেরও মারবি’ । তাই বলা যায়, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর কোন প্রতিবাদ হয়নি - এ ভ্রান্ত ধারনা যাদের রয়েছে তারা যত তাড়াতাড়ি সে থেকে বেরিয়ে আসেন ততই ভালো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



