somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কুমিল্লায় ঘটনা তিনটা: আমি যেভাবে দেখি

১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ সকাল ১১:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১. মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরানের অবমাননা করা হয়েছে। ‘কে করেছে?’ হিন্দু ভাইরা সবার আগে এই প্রশ্নটা করবেন। উত্তর: আমি জানি না। কোনোদিন জানা যাবে বলেও বিশ্বাস করি না। কথা হচ্ছে, উত্তর জেনে গেলে আর রাজনীতি থাকে না। সিনেমায় যেমন দর্শক চায় বলে সাসপেন্স রাখতে হয়, নায়িকারে হেলাইতে দুলাইতে হয়, রাজনীতিতেও নিরুত্তর থাকতে হয়, পাবলিকরে তুষ্ট করতে অংভং জানতে হয়।

আচ্ছা, রামু, নাসিরনগরে এসব অপকর্ম কে করছিল ঠিকঠাকভাবে জানছিলেন? প্রাথমিক তদন্তে যারা করছে প্রমাণ হইছিল তাদের কি শাস্তি হইছে? কেন হয় না? কথিত ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের একচ্ছত্র শাসনতো দেশে চলমান।

২. কোরান অবমাননার খবর শুনে উত্তেজিত জনতা মন্ডপে হামলা চালায়, মন্দিরে ভাংচুর করে। (বি, দ্র: এই জনতাকে খবরটা যারা দিছে তারা কিন্তু ঠাণ্ডা মাথার মানুষ! তারা জনতার মাথায় কাঠাল ভেঙে খায়। এবং তারা ধর্মীয় না, প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তি।)

গত দুইদিন ধরে ভাবলাম, কোনো হিন্দু (হিন্দু না মুসলিম কে করেছে আমরা জানি না। আমারতো মনে হয় না, এখানে সাধারণ কোনো হিন্দু বা মুসলমান জড়িত। এটা আসলে উপরের লোকদের বানর খেলা। উপরের লোকদের কোনো ধর্ম হয় না। ‘পাওয়ার’ হলো তাদের এক ও অদ্বিতীয় ধর্মের নাম।) যদি কোরানের অবমাননা করে তার বিচার হতে পারে। অবমাননার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হতে পারে। কিন্তু মন্ডপে হামলা কেন? এক হিন্দু অপরাধ করেছে সন্দেহ করে আরেক হিন্দুকে মারতে যাওয়া কোন যুক্তিতে! কেউ যদি ইসলাম ধর্মকে অপমান করে অপরাধ করে থাকে তাহলে যারা এর প্রতিবাদের নামে আরেকটা ধর্মের ধর্মালয় ভাংলেন, উৎসব পণ্ড করলেন তারা কি আরও বড় অপরাধ করলেন না! আপনাদের এই কাজ কি আরও বেশি ঘৃণিত ও গর্হিত হলো না?

এই যে কাজটা আপনারা করলেন তা কি আপনার নিজের ধর্ম সমর্থন করে? আপনিতো নিজধর্ম রক্ষার নামে আরেক ধর্মের হাজার হাজার ভাই-বোনদের মন ভাংলেন। আপনার কাছে যেমন আপনার আল্লাহ প্রিয়, তাদের কাছেওতো তাদের দেব-দেবী/ভগবান সমান প্রিয়।

যে কোরানের সম্মান রক্ষায় আপনার মাঠে নামলেন সে কোরানেইতো পরধর্ম বা পরধর্মের কোনো বিষয় নিয়ে বাজে কথা বলা পর্যন্ত কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। একবারও ভেবে দেখলেন না, আপনারাতো কোরান রক্ষার নামে কোরান বিরোধী কাজ করে বসলেন!


৩. প্রতিবাদী মানুষের মিছিলে পুলিশের গুলি! এই পয়েন্টে কথা বলা নিরাপদ বোধ করছি না। শুধু বলি, আজকাল মানুষের উপরে গুলি চালানো দেখি মোয়া খাওয়ার চেয়েও সহজ হয়ে গেছে। কথায় কথায়তো গুলি চালায় তারা, যারা আরকে দেশ থেকে উড়ে এসে একটা জনপদ দখল করে বসে-দখলদার/হানাদার। এই সরকার ও তার পুলিশরে ধরল কোন রোগে? পান থেকে চুন খসলেই গুলি! দেখে মনে হয় যেন গুলি করাটা একটা হবি।

যারা সত্যি সত্যিই সমস্যা সমাধান চান। শান্তি চান। তারা এই তিনটা পয়েন্টেই কথা বলেন। যে বা যারাই করেছে এই তিনটা কাজই অন্যায় হয়েছে। শেষের দু’টোই বাড়াবাড়ি। বাড়াবাড়িতে শান্তি নাই কেবল অশান্তির আগুন। এই আগুন এখনই নেভানো না গেলে আপনি-আমি সবায় পুড়ব। আগুন দেবালয় চেনে না। হিন্দু রক্ত, মুসলমানের রক্ত আলাদা করা যায় না।

এই লেখাটা শেষ করি, শিক্ষিত, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় হিন্দু ভাই-বোনদের উদ্দেশ্যে দুয়েকটা কথা বলে। আপনারা যদি সদাসর্বদা ইসলাম/মুসলমানরে কিভাবে বাঁশ দেয়া যায় সে সুযোগে থাকেন। আপনাদের চিন্তা-চেতনায়, শয়নে-স্বপনে যদি এটাই থাকে যে, বাংলাদেশে হিন্দুদের জন্য নিরাপদ না/হিন্দুরা নির্যাতিত হচ্ছে এটা প্রমাণ করবেন তাহলে কথা বলে লাভ নাই জানি (এই কথা সবার জন্য প্রযোজ্য না। আমি বহু হিন্দুকে দেখি, যারা খুবই গঠনমূলক। এসব বিষয়ে যাদের কথা/লেখা চিন্তার খোরাক জোগায়)। কিন্তু এই দেশটা আপনারও জন্মভূমি, এই অনুভূতি যদি ভেতরে থাকে, আপনি যদি এখানকারই সন্তান, বলে বিশ্বাস করেন তাহলে ধর্ম চোখের বাইরেও দেখার চোখগুলো খুলেন। অন্ধ হইয়া লাভ নাই। দেখেন, এখানে সংখ্যায় কম হলেও মানুষ আছে। খালি হিন্দু-মুসলমানের আবাস না এটা। মানুষের বাইরেও এখানে বহু প্রাণী বাস করে। সবকিছুকে যখন তখন ধর্মের পাল্লায় মেপে, পাশের দেশরে টেনে আইনা, উত্তেজনা তৈরি কইরেন না। এতে লাভ কারো হবে না। মনে রাইখেন, আমাদের যাদের জন্ম বাংলায় তাদের সুখে দুঃখে এখানেই বাস করতে হবে, মরতে হবে। অন্য কেউ এসে আমাদের দুঃখ লাঘব করে দিয়ে যাবে না। দুনিয়ার ইতিহাসে কেউ দেয়ওনি। খালি বাঁশে কিছু হয় না, এ মাটিতে মায়া লুকানো আছে তাকায় দেখেন। আরকিছু না হোক, এ মাটিকে ভালোবাসেন। গতকালের অনেক সমস্যা আজ আর সমস্যা মনে হবে না।

(আমার দুনিয়ার দুই/চারটা দেশ অল্প বিস্তর দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। কখনো মনে হয়নি, সেসব দেশে বাংলাদেশের চেয়ে বেশি দাপটে সংখ্যালঘুরা বসবাসের চিন্তাও করতে পারে। তবে প্রেশারে রাখার পদ্ধতিতে, টর্চারের ধরনে ভিন্নতা থাকতে পারে। এটা আমাদের পাশের দেশ দেখে যেমন বলা, আবার কথতি সভ্য ইউরোপের ২/৪টা দেশ টেনে এনে একই কথা বলব।)

মুসলমানদের কিছু বলার নাই। গত ক’দিনে যারা মারা গেল তাদের জন্য দুঃখ হয়। আর যা করতে গিয়ে মরল, মরার আগে যা হলো এই ঘটনায় আমার ঘাড় এখনো নুয়ে আছে। লজ্জ্বায়, অপমানে। একটা প্রতিমায় কারো আঘাত যেন আমার মুখে জুতা মারার লাঞ্ছনা নিয়ে ফিরে ফিরে আসে। আমি যতটুকু হলে মুখ দেখানো যায় না তারচেয়েও বেশি লজ্জ্বিত। এই লজ্জ্বা প্রতিনিয়ত পুড়ায়, আমৃত্য পুড়াবে। এই দুঃখ কোনোদিনও যাবে না, বোকা মানুষ বুঝল না। তারা বরাবরের মতো এবারও খেলা গুটি হলো।

ভিক্টিম যারা (হিন্দু) হলো তারাও আপনাদের মতো নীরিহ মানুষ। এই মানুষগুলো আপনার ভাই/বোন, শত্রু না। এদের আগলে রাখা, ভালোবাসা, তাদের ধর্ম শান্তিতে পালন করতে দেয়া, আপনার ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্বও।

সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ১২:২৪
১৪টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যদি বিখ্যাত মুভি গুলোর নাম বাংলাতে হত, তাহলে কেমন হত :D

লিখেছেন অপু তানভীর, ২৭ শে নভেম্বর, ২০২১ রাত ৯:৩৩

মফস্বল শহরে যারা বড় হয়েছেন তাদের স্থায়ীয় সিনেমা হলের পোস্টারের দিকে চোখ পড়ার কথা । আমাদের এলাকায় দুইটা সিনেমা হল আছে । একটা সম্ভবত এখন বন্ধ হয়ে গেছে । সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সন্তানের স্বার্থপরতার বলি বেগম জিয়া!!!!

লিখেছেন মাহফুজ, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২১ রাত ৩:৩০




লেখাটা কে কিভাবে নেবেন আমি জানিনা তবে আমার লেখার উদ্দেশ্য মানবিক। আমি লিখছি আমার পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে। আজ পর্যন্ত লেখালেখি করে অনেক আজেবাজে ট্যাগ পেয়েছি তবে এখন পর্যন্ত কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন ও সমুদ্র ..........

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২১ সকাল ১০:২৭

জীবন ও সমুদ্র ..........


‘আমি শুনেছি সেদিন তুমি
সাগরের ঢেউয়ে চেপে
নীল জল দিগন্ত ছুঁয়ে এসেছো,
আমি শুনেছি সেদিন তুমি
নোনা বালি তীর ধরে
বহুদূর বহুদূর হেঁটে এসেছো।’
মৌসুমী ভৌমিকের এ গান... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুয়াডাঙ্গা তো ঢাকার ভেতরে। গ্রাম দেশের শিক্ষিত সমাজ।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২১ সকাল ১০:২৮



বউ বাসায় নাই। আমার সাথে অভিমান করে বাপের বাড়িতে গেছে। তাই আমার মন খারাপ। কোন কাজে মন বসে না। নিজেকে বড় একা একা লাগছে। আমার যে তার জন্য মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিষিদ্ধ অপরাধ

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২১ সকাল ১১:২৬



মিনারা বেগমের মনে সন্দেহ ঢুকছে। তার স্বামী নাকি ভাই কে হতে পারে অপরাধী। এত চোখে চোখে রেখেও কিভাবে এরকম ঘটনা ঘটে গেল সেটাই বুঝতে পারছেনা মিনারা বেগম।

রমিলা এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×