somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কুমিল্লা ইস্যুতে আরও কিছু কথা,

১৭ ই অক্টোবর, ২০২১ রাত ১০:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেকেই সুর মেলাচ্ছেন সাম্প্রদায়িক অপশক্তির ষড়যন্ত্র, সাম্প্রদায়িক হামলা, সাম্প্রদায়িক ধ্বংশলিলা এসব আহ্লাদিত বাক্যমালার সাথে। আহ্লাদ করেন তবে ‘সাম্প্রদায়িক’ শব্দটার জায়গায় ‘রাজনৈতিক’ বসান। ক্ষমতালোভীও বসাতে পারেন (সে যে কোনো দল, এই দেশে কেউ ধোয়া তুলসি পাতা না। আমার কাছে, জামাত-বাম, আওয়ামী লীগ-বিএনপি সবগুলারেই ঠক মনে হয়। আপনারটা আপনার বিবেচনা)। যদি না বসান আপনিও আসলে ষঠতাপূর্ণ রাজনীতির খেলাই খেলছেন। বাংলাদেশের সমাজে হিন্দু একটা ভিক্টিম কার্ড না। হিন্দুরা আমাদের এখানে সামাজিক শত্রু হিসেবেও চিহ্নিত না। এই দেশে যারা কথিত ‘ইসলামী সমাজ’ প্রতিষ্ঠা করতে চায় এক. তারা জনগণের সমর্থনে সংখ্যাগরিষ্ঠ না। ২. তারা তাদের কথাবার্তায় দেশের শত্রু হিসেবে হিন্দু বা অন্য সংখ্যালঘুদের নিশানা করে না বা করার সাহসও তাদের নাই। ঢাকা শহর বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেলে তার জন্য হিন্দুকে দায়ী করে ভারতে পাঠাই দেওনের ভাষণ কেউ দেয় না, এখানে।


এই সমাজ যদ্দূর দেখেছি, এখানে অধিকাংশ মানুষের (হোক হিন্দু, হোক মুসলমান) আসলে ধর্ম নিয়ে খুব একটা মাথাব্যাথা নাই। ধর্ম নিয়ে আসল সমস্যাটা করে শিক্ষিত মানুষ, এরা নানা এঙ্গেলে খেলে। এই সমাজটা নষ্টের মূলও এসব শিক্ষিত চোরগুলা। গরীব মানুষ সারাদিন কজ করে সন্ধ্যায় নাক ডেকে ঘুমায়। তারা ধর্ম মানলেও সই, না মানলেও সই। মিলেমিশে থাকে, থাকতে হয়। সমস্যা করে একদল, তারা হলো মোড়ল, মাতব্বর বা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা। উদ্দেশ্যমূলকভাবে সমস্যা পাকায়। কি চায় মোড়লরা? তারা অল্প পয়সায় সম্পত্তি কিনেতে চায়! কিভাবে কিনবে? কোনো হিন্দু বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে গেলে। মুসলমানপাড়া ছেড়ে হিন্দু পাড়ায় নতুন বসতি গড়লে (যশোর, বাঘেরহাট এসব অঞ্চলে ঘটে)। খেয়াল করে দেখেন এখানে হিন্দু দুর্বল। এই দেশের ৯৫ ভাগ মানুষই দুর্বল। এবং তারা নানাভাবে সবলদের অত্যাচার, অনাচারের শিকার। গরীব মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে বড় আইরনিটা হলো, তারা না ধর্ম, না রাজনীতি কোনো বিবেচনাতেই আসে না।


(রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ নামক দেশটার সুবিচার, জবাবদিহীর সংকট এখানে। ধর্মের না।)


মোড়ল শুধু ঐ হিন্দুর জমি চায় না। সে তার বাড়ির আশপাশে যতো গরীব মুসলমান আছে তাদের জমিও চায়। তাদেরও নানাভাবে তাড়ায়। একটু গ্রামের দিকে যান, ঢাকায় গড়ে উঠা বড় বড় মার্কেট বা আবাসিক এলাকাগুলোতে গিয়ে কান পাতেন। কান্না শুনতে পাবেন। গরীব মুসলমান ভিটা-বাড়ি হারিয়ে কাঁদছে। বস্তিতে যান, দেখবেন কিভাবে উচ্ছেদ হয়। কি নির্মমতা চলে সেখানে। বাংলাদেশের মস্ত সমাজসেবী ভূমি ব্যবসায়ীরা কয় শতাংশ জমি কেনে আর কয় শতাংশ দখল করে সে হিসাব কে রাখে?


এই মোড়লরা এসব করতে গিয়ে ধর্মকে সামনে আনে, ধর্ম এক হলে লাঠিয়াল কাজে লাগায়। সংখ্যালঘু হলে ধর্মসংক্রান্ত ইস্যু বানায়, ঝামেলা পাকায়, আতংক ছড়ায়। অথচ আপনি তাদের কাজের দায়ভার এই দেশের এমন সব মানুষকে দিচ্ছেন যারা স্বয়ং ভিক্টিম। এসব করে নিজের ধর্মের কি লাভ করেন জানি না। তবে যার দখলদার তাদের বড্ড উপকার করেন। তারা ধর্মের আড়ালে পার পেয়ে যায়। ধর্মকে ঢাল হিসেবে সামনে ধরা গেলে আর বিচারের ধার ধারা লাগে না। ক্রেতাদূরস্থ ‘সাম্প্রদায়িক’ শব্দটা দিয়ে সবকিছু ঢেকে দিচ্ছেন। এটা স্লোগানও হিসেবেও বেশ রসালো। অথচ যাদের সাম্প্রদায়িক বলছেন তাদের একটা বিশাল অংশের এইসব শব্দের সাথে পরিচয়ই ঘটেনি, ঘটবেও না কোনোদিন।


এই মোড়লরা খেলে স্থানীয় পর্যায়ে। একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে খেলতে গিয়ে দুর্বলকে গিনিপিগ বানায় (নাসিরনগর, রামু সব জায়গায় একই চিত্র)। তাদের একদল সাঙ্গপাঙ্গ আছে। যারা পেছনে সামনে থেকে এইসব অনাচার করে। আর তার গুরুরা খেলে জাতীয় পর্যায়ে। ধর্ম যেহেতু খুব সুক্ষ্ম ও সস্পর্শকাতর অনুভূতি, এটাকে খুব সহজে ব্যবহার করা যায়। তাই করা হচ্ছে। মন্ডপে কোরান দিয়ে বলা হচ্ছে ধর্ম গেল, গেল। একদল মরামারি শুরু করে দিল। এই মারামারি দেখে দুইজন হিন্দু ভারতে চলে গেলে তার জমিগুলো কিনবে কে? ঐদিন মিছিলে আসা মুসলমানেরা?


এই মিছিল দেখিয়ে পাশের দেশেও বলা হচ্ছে, দেখ বাংলাদেশে আমাদের ধর্ম শেষ হয়ে গেল। ওখানে বড় বড় মিছিল হচ্ছে। ওখানকার সংখ্যালঘুদের উপর চলমান নির্যাতন নতুন মাত্রা পাচ্ছে। উত্তেজিত জনতাকে বলা হচ্ছে, তোমরা তোমাদের দেশে নিজেদের ধর্ম রক্ষা কর। ওদের মার, বর্জন কর। সেখানে রক্তপাত হলো। ভোটে জেতা হলো। এখানেও লাশ পড়ল। কারা জিতল আর কারা মরল? কারা মরে আসলে!


এতো দেখি রীতিমতো আঞ্চলিক রাজনীতির কূটকৌশল!


মাঝখান দিয়ে সাফারার হলো কে? মানুষ! মা, বোন বা ভাই! কে রাখে তাদের ধর্মের খুজ? চেয়ে দেখ ভাই, মানুষ কাঁদে। যে কোনো পরিচয়ে তুমি মানুষ খুন কর না কেন, ইতহাস কোনোদিনও বলবে না তুমি পাঁচজন মুসলমান খুন করেছিলে, তোমার হাতে দশজন হিন্দু খুন হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তুমি আসলে মানুষ খেকো খুনি!!! তোমার হাত মানুষের রক্তে লাল হয়েছিল।


শোন মুসলমান, তোমার আহম্মকির জন্য যে হিন্দু ভাইটা বা বোনটার অশ্রু ঝরল, যে প্রতিমা ভাঙা দেখে তাদের মন ভাংলো, তুমি যদি তোমার ধর্মে বিশ্বাস করে থাক তাহলে এ জন্য একদিন তোমাকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। শাস্তি পেতে হবে। কে অধিকার দিল তোমাকে কার সম্পত্তি নষ্ট করার! তোমার ধর্মের কোথায় আছে এ কথা, হারামজাদা?

টিকা: আমার যা মনে হয়, বাংলাদেশে সিভিল সোসাইটি নাম ভেক ধরে থাকা একটা গোষ্ঠী কখনো চায় না, এদেশে সংখ্যালঘু সমস্যার সমাধান হোক। সমাধান হয়ে গেলে তাদের ব্যবসা লাটে উঠে। আর তাদের রাজনৈতিক প্রভুরা মাঠে মারা খায়। এইসব মারা খাওয়া উপদ্রবগুলো তাই কখনো সমস্যার মূলে যায় না। আশ্চর্যজনক হচ্ছে, এই দেশের শিক্ষিত হিন্দুদের একটা অংশ সাধারণ হিন্দুদের নিয়ে রাজনীতি করতেই ভালোবাসে। তারাও মূল ঘটার কাছাকাছি যেতে চায় না, উল্টো ধর্ম কার্ড খেলে। বরং সিভিল সোসাইটির সভা, সেমিনার করায় মনোযোগ বেশি! সেমিনারে টাকা আসে কিন্তু ভাই। ভালো ব্যবসা হয়।

(আমি বিশ্বাস করি, আশার আলো দেখি একদল তরুণকে দেখি। তারা ধর্ম-বর্ণ-দল নির্বিশেষে ঘটনার মূলে যেতে চায়। প্রকৃত সত্যটা জানতে চায়, বুঝতে চায়। একটা সমাধানও চায়। আমি আরও বিশ্বাস করি, এ সব তরুণের সততার কাছে ক্ষমতার রাজনীতির চলে আসা এই অসভ্যতা হেরে যাবে। জিতে যাবে মানুষ।)


সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ১:১১
১৫টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যদি বিখ্যাত মুভি গুলোর নাম বাংলাতে হত, তাহলে কেমন হত :D

লিখেছেন অপু তানভীর, ২৭ শে নভেম্বর, ২০২১ রাত ৯:৩৩

মফস্বল শহরে যারা বড় হয়েছেন তাদের স্থায়ীয় সিনেমা হলের পোস্টারের দিকে চোখ পড়ার কথা । আমাদের এলাকায় দুইটা সিনেমা হল আছে । একটা সম্ভবত এখন বন্ধ হয়ে গেছে । সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সন্তানের স্বার্থপরতার বলি বেগম জিয়া!!!!

লিখেছেন মাহফুজ, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২১ রাত ৩:৩০




লেখাটা কে কিভাবে নেবেন আমি জানিনা তবে আমার লেখার উদ্দেশ্য মানবিক। আমি লিখছি আমার পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে। আজ পর্যন্ত লেখালেখি করে অনেক আজেবাজে ট্যাগ পেয়েছি তবে এখন পর্যন্ত কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন ও সমুদ্র ..........

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২১ সকাল ১০:২৭

জীবন ও সমুদ্র ..........


‘আমি শুনেছি সেদিন তুমি
সাগরের ঢেউয়ে চেপে
নীল জল দিগন্ত ছুঁয়ে এসেছো,
আমি শুনেছি সেদিন তুমি
নোনা বালি তীর ধরে
বহুদূর বহুদূর হেঁটে এসেছো।’
মৌসুমী ভৌমিকের এ গান... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুয়াডাঙ্গা তো ঢাকার ভেতরে। গ্রাম দেশের শিক্ষিত সমাজ।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২১ সকাল ১০:২৮



বউ বাসায় নাই। আমার সাথে অভিমান করে বাপের বাড়িতে গেছে। তাই আমার মন খারাপ। কোন কাজে মন বসে না। নিজেকে বড় একা একা লাগছে। আমার যে তার জন্য মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিষিদ্ধ অপরাধ

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২১ সকাল ১১:২৬



মিনারা বেগমের মনে সন্দেহ ঢুকছে। তার স্বামী নাকি ভাই কে হতে পারে অপরাধী। এত চোখে চোখে রেখেও কিভাবে এরকম ঘটনা ঘটে গেল সেটাই বুঝতে পারছেনা মিনারা বেগম।

রমিলা এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×