somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অভিশপ্ত (৫ম পর্ব)

১৮ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


৪.
হিজড়ারাও দুই জাতের। মেয়েজাত এবং পুরুষজাত। মেয়ে হিজড়ারা মেয়েদের মতো আচরণ করলেও তাদের স্ত্রী-যৌনাঙ্গ না থাকায় শারীরিক গঠন অস্বাভাবিক। আবার পুরুষদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা। তবে হিজড়ারা সব-সময় নিজেদের নারী ভাবতেই সবচেয়ে বেশী পছন্দ করে। তাই তারা সাজ-গোজের উপরে থাকে।
বদরপুর গ্রামে তিনজন প্রবেশ করেছে। তিনজনই দৈহিকভাবে দেখতে পুরুষের মতো। তবে নারীদের মতই সু-ঢৌল স্তন আছে, বড় বড় চুল, কোমল দুলিয়ে দুলিয়ে হাটা, এবং সবসময় শাড়ী পরার অভ্যাস তাদের আছে।
মাত্র দুদিন হলো তারা গ্রামে ঢুকেছে। ইতিমধ্যে তাদের জ্বালাতনে গ্রামের সবাই মোটামুটি অস্থির।
প্রথমদিন গ্রামে ঢুকেই তারা মসজিদের সামনে যায়। ভাগ্যক্রমে ইমামের সাথে দেখা হয়। ইমাম সাহেবের কাছে তারা একটু ভাত খেতে চেয়েছিল। কিন্তু ইমাম তাদের গালাগাল করে এবং একজনকে লাঠি দিয়ে বাড়ি দেয়। এই ঘটনায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে মসজিদের সামনে লেংটা নাচ দেয়া শুরু করে। আসলে এটা ছিল ওদের প্রতিবাদের ভাষা।
তাদের নামও চমৎকার। প্রত্যেকের নাম হিন্দি সিনামার নায়িকাদের নামে। একজনের নাম মাধুরী। সে তাদের তিনজনের মধ্যে সবচাইতে বড়। বয়স চল্লিসের কাছাকাছি হবে। অন্যদুজনের থেকে সে একটু শান্ত স্বভাবের। এটা হয়তো তার বয়সের ভারিক্কির কারণেও হতে পারে। তবে বাকি দুজন তাকে গুরু বলে সম্বধণ করে। বাকি দুজন একদম বাচ্চা। বয়স বিশ অথবা একুশ। এর বেশী হওয়ার কথা না। একজনের নাম কারিশমা এবং অপরজনের নাম কারিনা। তারা দুজন খুবই উগ্র স্বভাবের। তাদের কেউ কটাক্ষ করলে তারা তা মানতে পারে না। সাথে সাথে ঝাপিয়ে পড়ে এর বিরুদ্ধে। যেমন, ইমাম সাহেবের কান্ডটার পর লেংটা নাচটা তারা দুজন মিলেই দিয়েছিল। কারণ, মাধুরীর শরীরে ইমাম আঘাত করেছিল দেখে।
শুধু যে ইমামের উপরই তারা চড়াও হয়েছে তা কিন্তু নয়। আজ সকালে বদরপুর স্কুলের দারোয়ান হাওলাদার তাদের দেখে একটা গালি দিয়েছে এবং সেই সাথে মাটিতে থুতু ছিটিয়েছে। তখনই কারিশমা হাওলাদারকে জাবড়িয়ে ধরে বলে, ওরে আমার সুইটহার্ট, এতো ঘিন্না!! থুতু ছেডাও!! আসো তুমার ঘিন্না দূর কইরা দেই। এই বলেই সে হাওলাদারের ঠোটে কষে এক চুমু খায়। এই ঘটনার পরপর হাওলাদেরর বমি করা শুরু করেছে। এখনও পর্যন্ত বন্ধ হয় নাই। কিছুক্ষণ আগে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

আকাশে সূর্য। রৌদ্র আগুন ছড়াচ্ছে চারিপাশে। গরম যেনো জাবড়ে ধরে আছে সবাইকে। এই ভরদুপুরে তারা তিনজন গ্রামের তরুণ কোরআন হাফেজ নুরুলের পুকুর ঘাটে গোসলের জন্য যায়। তার আগে তারা সারা গাযে তেল মাখাচ্ছে। এতে নাকি ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়।
নুরুল তাদের খেয়াল করেছে একদম শুরু থেকেই। সে অনেকক্ষণ ধরে হাতে লাঠি নিয়ে আম গাছের আড়ালে দাড়িয়ে আছে। ভয়ে সে সামনে আসতে পারছে না। তারপরও শেষে ভয়কে জয় করে সে লাঠি হাতে এগিয়ে আসে তাদের দিকে।
- ঐ কুত্তাগুলা খবরদার আমার পুকুরে নামবি না।
আচমকা নুরুলের আগমন আর এই গালী শুনে তারা যেনো খুব মজা পেলো। তারা তিনজনই হো হো করে হাসা শুরু করে দিলো।
মাধুরী বলল, ওরে আল্লাহ, তো তুমি জানলা কেমনে মোরা কুত্তা না কুত্তি!
এরপর কারিনা বলে, কুত্তা যেহেতু কইছো, তয় আসো তুমারে একটু কামরাইয়া দেই।
আবার তিনজনের হাসি।
কোরআন হাফেজ নুরুল একটু ভড়কে যায়। শেষমেষ সাহস নিয়ে আবারও বলল, খবরদার নাপাকীগুলা। খবরদার..আমার পুকুরে নামবী না। আমি প্রত্যেকদিন এইহানে গোসল করি, ওযু কইরা নামায পড়ি। তোরা আমার পুকুরটারে নাপাক করিস না।
করিনা একটু আল্লাদ করে বলে, একটু না হয় নাপাক হলই বা। তুমি এতো চিন্তা নিয়া তো....
এক ভিন্ন জাতের এই লিঙ্গের আল্লাদি স্বর তার পছন্দ হয় নি। পাশের বাসার মুসলেমাও ঠিক এভাবে কথা বলে; তখন কতো ভালো লাগে! আর.. আর জাহিদ ভাইয়ের বউ..আহ্ কি আল্লাদি স্বর। মনের সাথে দেহটাও নাইচা ওঠে। কিন্তু এই ভিন্নজাত, নাপাকী জাত, অভিশপ্ত জাত......না পুরুষ না মাইয়া। ছি ছি ছি... নুরুল ক্ষিপ্ত হয়ে বলে, চুপ থাক মাগী। ঢং মারাইতে আইসোস। খবরদার আমার পুকুরে নামবি না।
এতে মাধুরী একটু গম্ভীর হয়ে যায়। এই বাক্যটি যেনো গায়ে শুলের মতো বিধে। সে একধাপ এগিয়ে নুরুলের সামনে গিয়ে দাড়ায়। দেহের শক্তির বিচারে মাধুরীও যে কম যাবে না তা দেখলেই বোঝা যায়।
- এমন করো কেন গো? আমরা নাপাক এতে আমাগো কি দোষ। যে পাক-নাপাক আবিস্কার করছে তারে যাইয়া কও। আচ্ছা যাও আমরা একা নামমু না। তুমার পুকুর তুমারে নিয়াই নামি। দেহি আমার নাপাকি পানি তুমার শরীরে লাগলে কি অয়।
এই বলে মাধুরী নুরুলকে কোলে তুলে ধপাস করে পুকুরে নিয়ে ফেলে। তাকে চেপে ধরে রাখে মাধুরী। আর কারিশমা ও কারিনা নুরুলের জামা কাপড় খুলে নেয়। উলঙ্গ নুরুল পুকুরে থাকে। আর তারা তিনজনই গোসল করে চলে যায় পুকুরঘাট থেকে।

চলবে..........

১ম- ৩য় পর্ব: Click This Link

৪র্থ পর্ব: Click This Link
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×