মুমিত: বাবা, এই বাবা, আজ আমি কান্না করেছি।
বাবা: কান্না করেছো বাবাই ?? কেন কান্না করেছে জানটুশ??
মুমিত: আম্মু বকেছে.. জোরে বকেছে...
বাবা: আহারে। আম্মু কেন বকেছে বাবাই??
মুমিত: আমি দুষ্টুম করেছি। আম্মু বকেছে, জোরে বকেছে 'মুমিত থামো
বাবা : বাবাই, কেন দুষ্টামি করেছো?
মুমিত: মিনু বিড়াল বসেছিলো। আমি ওর লেজ ধরেছি।
বাবা: তাই... মিনু বিড়াল কামড়ে দিলে.. আমিও তোমাকে বকবো?
মুমিত: না তুমি আমাকে বকবে না। তুমি আমাকে বকবে না। (ছলোছলো চোখে) তুমি বকবেনা।
বাবা: কেন বাবাই? আমি বকবো না কেন?
মুমিত : আমি কষ্ট হয়।
বাবা: আমি বকলে কষ্ট পাবে? তাহলে তোমাকে কে বকবে বাবাই?
মুমিত: ঐ যে আম্মু বকবে, ছোটমামা বকবে, দাদু আর নান বকবে
বাবা: আচ্ছা বাবাই সবাই বকবে, আমিও বকবো।
মুমিত: না বকবে না? তুমি বকো আমি কান্না করি (মানে আমি বকলে ও কান্না করবে)
বাবা: আচ্ছা বকবোনা সোনা।
মুমিত: বাবা, তুমি কোথায় গিয়েছো?
বাবা: আমি অফিস গিয়েছি।
মুমিত: অফিস গিয়েছো? আমি বাবা খুজেছি। আম্মু বকেছে।
বাবা: বাবাই, বলোতো আজ সারাদিন কি কি করেছো?
মুমিত : খেলেছি।
বাবা: বাবাই আর কি করেছো?
মুমিত: কমপিটারে বাবা বেয়াকশিপ (ব্লাকশিপ) পড়েছি।
বাবা: আর কি করেছো বাবাই?
মুমিত : মিনু বিড়ালের লেজ ধরেছি।
বাবা: এটা ভালো কাজ হয়নি? আর ধরোনা।
মুমিত: তুমি বকোনা আমি ধরবোনা।
বাবা : আর কি করেছো?
মুমিত : দুষ্টম করেছি। আম্মুকে হাপুস পানি দিয়েছি।
বাবা: হা:...হা:....হা:
মুমিত: হি:...হি:..হি:.. আম্মু বলে 'ইস মুমিত'...
বাবা: বাবাই অনেক রাত হয়েছে। বারোটা বাজে।
মুমিত: অনেক রাত হয়েছে? এত্তোগুলা রাত? বারোটা রাত।
বাবা: হুমম.. এখন ঘুমাতে হবে।
মুমিত: আমি তোমার সাথে ঘুমাবো।
বাবা : আমি তোমাকে নিবোনা!
মুমিত: আমি কান্না পাই। তুমি নাও। আমি বাবা (মানে বাবাকে) আদর দিবো।
বাবা: আর কি দিবে?
মুমিত: পিঠ চুলকে দিবো।
বাবা: আর কি দিবে বাবাই?
মুমিত: শাম্পু দিবো। চোখ জ্বলবে না।
বাবা: তাই?? আর কি দিবে জানটুশ...??
মুমিত: একটা কিকেট বল দিবো।
বাবা: আর কি করে দিবে?
মুমিত: সকালে পানি দিয়ে খেলতে দিবো।
বাবা: কিন্তু বাবাই, আমি'তো তোমাকে নিবো না.. নিবোই না..
মুমিত: আমি তোমার সাথে ঘুমাবোতো। লালটু পাগলকে ডাকবো।
বাবা: বাবাই, লালটু পাগল কি করবে?
মুমিত: তোমাকে বকবে। রেগে যাবে।
বাবা: হুম। তাহলে'তো তোমাকে নিতেই হয়। আসো। বাবার গলা ধরো।
মুমিত: এভাবে ঘুমাবো না। আহ্লাদ করে ঘুমাবো। (মানে আমার বুকে উপুর হয়ে ঘুমাবে)
বাবা: ঠিক আছে। এই যে বুকে নিলাম। আহ্লাদ করে ঘুমাও।
মুমিত : আমার পিঠে আদর করে দাও।
বাবা: ওরে আমার বাবাইরে... লক্ষী সোনা বাবাইরে...আদর ..আদর ..আদররে... (সুর করে গান গাইছি আর হাত বুলাচ্ছি মুমিতের পিঠে)
মুমিত : বাবা, হরিণরা কি খায়?
বাবা: ঘাস খায়, পাতা খায়।
মুমিত : নদীতে পানি খায়।
বাবা: তাই?? তুমি জানো বাবাই??
মুমিত : হুমমমম.....ঐ যে আম্মু ডিসকরি (ডিসকভারি) টিভি... হাতি... হালুম.. হরিন লাফায় ...
বাবা: আমি গান গেয়ে দিবো??
মুমিত: হুমমমমম
বাবা: আয় আয় চাঁদ মামা..
মুমিত: এটানা....এটানা
বাবা: কোনটা বলবো বাবাই
মুমিত: নিথুয়া পাথায়ে পেয়েছি বন্ধুরে.. এটা বলো
বাবা: নিথুয়া বন্ধুরে পেয়েছি পাথারে..
মুমিত: এটানা... বলো "নিথুয়া পাথায়ে পেয়েছি বন্ধুরে..."
বাবা: নিথুয়া পাথারে পেয়েছি বন্ধুরে...
এই গান শুনতে শুনতে আমার মুমিত ঘুমালো। বিছানায় নিষ্পাপ মায়াময় ওর মুখের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। ভাবলাম ওর সাথে আজকের কথোপকথনটাও শেয়ার করি। তাই লিখে পোস্ট করলাম। বাকী রাতটা ওর মুখের দিকে তাকিয়েই কেটে যাবে।
সতত শুভ কামনা।
আড়াই বছর বয়সী পুত্রের সাথে পিতার কথোপকথন-১
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৩:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



