১. সকল মন্ত্রী (ফুল, সেমি-ফুল, হাফ, সেমি-হাফ)-দের বাসস্থান এবং দপ্তরকে লোডশেডিং-এর আওতায় আনিতে হইবে। তাহদের বাসস্থান এবং দপ্তরে আইপিএস, জেনারেটর, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার নিষিদ্ধ করিতে হইবে। গরমের ছয়মাস সর্বক্ষণ স্যুট (টাই সহ)পরিধান করা বাধ্যতামূলক করিতে হইবে।
২. বর্তমান জাতীয় সংসদের সকল সাংসদ (সরকার এবং বিরোধীদলীয় এভং নির্দলীয়)-দের বাসস্থান, দপ্তর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত দ্বিগুন লোডশেডিং করিতে হইবে।
এবং
তাহদের বাসস্থান, দপ্তর এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আইপিএস, জেনারেটর, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনিতে হইবে।
এবং
সাংসদের নিজনিজ দলের ঐতিহ্য অনুযায়ী মুজিবকোট, সাফারী স্যুট, শেরোয়ানী এবং স্যুট পরিধান বাধ্যতামূলক করিতে হইবে।
এবং
সকল সাংসদদের নির্বাচনী এলাকায় লোডশেডিং চলাকালীন সময়ে জনসংযোগ করা বাধ্যতামূলক করিতে হইবে। (এই জনসংযোগের পূর্বে সরকারের পক্ষ হইতে অবশ্যই সকল সাংসদের জীবনবীমা এবং গন্ডারের চামড়া প্রদান করিতে হইবে)।
৩. কেবিনেট মিটিং-এর সময় লোডশেডিং বাধ্যতামূলক করিতে হইবে।
৪. জাতীয় সংসদকে লোডশেডিং-এর আওতায় আনিতে হইবে এবং আরো যাহা করিতে হইবে:- ক) সংসদ অধিবেশন চলাকালীন লোডশেডিং বাধ্যতামূলক করিতে হইবে। যাহাতে সাংসদগন ফ্লোর পাইলে খালি গলায় কথা বলিতে বাধ্য হন এবং ঝগড়াঝাটি করিবার সময় একে অপরের নূরানী চেহারা দর্শন করিতে না পারেন। খ) জাতীয় সংসদের জেনারেটর, আইপিএস, সৌরবিদ্যুৎ-এর ব্যবস্থা রাখা যাইবে তবে তাহা ব্যবহার করা যাইবেনা। গ) জাতীয় সংসদ অধিবেশন শুরু হইবার পূর্বে, বা সংসদ অধিবেশন চলাকালীন সময়ে অথবা সংসদ শেষ হইবার পরে কোনক্রমেই এসি বা ফ্যান ব্যবহার করা যাইবেনা। ঘ) গরমের ছয়মাস সকল সাংসদকে সংসদ চলাকালীণ সময়ে উলের স্যুয়েটার পড়া বাধ্যতামূলক করিতে হইবে।
৫. রাস্ট্রপতির কার্যালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং সচিবালয়সহ সকল সরকারী দপ্তরে এসি এবং ফ্যান ব্যবহার নিষিদ্ধ করিতে হইবে। আইপিএস, জেনারেটর, সৌরবিদ্যুৎ বা বিকল্প কোন বিদ্যুৎ ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষনা করিতে হইবে।
৬. বর্তমান সরকারের সকল মন্ত্রী (ফুল, সেমি-ফুল, হাফ, সেমি-হাফ), বর্তমান জাতীয় সংসদের সকল সাংসদ (সরকার এবং বিরোধীদলীয় এভং নির্দলীয়), সকল সচিবসহ সকল সরকারী যানবাহনে এবং তাহাদের ব্যক্তিগত যানবাহনে এসি/ফ্যানের ব্যবহার নিষিদ্ধ করিতে হইবে। এসি/ফ্যানের পরিবর্তে হিটার ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করিতে হইবে।
৭. বর্তমান সরকারের সকল মন্ত্রী (ফুল, সেমি-ফুল, হাফ, সেমি-হাফ), বর্তমান জাতীয় সংসদের সকল সাংসদ (সরকার এবং বিরোধীদলীয় এভং নির্দলীয়)-দের চারদলীয় জোট সরকারের সাবেক সাংসদ জনাব সালাউদ্দীন ওরফে দৌড় সালাউদ্দীনের দৌড়ের ভিডিও ফুটেজ প্রতিদিন সকাল বেলা ঘুম হইতে জাগিবার পরে এবং রাত্রিতে ঘুমাইতে যাইবার পরে মনোযোগ সহকারে দেখা বাধ্যতামূলক করিতে হইবে।
যদি উপরোক্ত কাজগুলি কার্যকর করা গেলেই অবশ্যই বিদ্যুৎ সমস্যার আশু সমাধান সম্ভব হইবে। কারণ সকল সাংসদগন ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি আমদানির সিদ্ধান্ত লইয়া নিজেদের যানবাহন সমস্যার দ্রুত ফলপ্রসূ সমাধান করিয়াছেন। মন্ত্রীগণ নিজেদের সরকারী বাসস্থানের পাশাপাশি এমপি হোস্টেলের দখল অক্ষত রাখিয়া নিজেদের আবাসন সমস্যার সমাধান করিয়াছেন। বেতনবৃদ্ধির মাধ্যমে এই দূর্মূল্যের বাজারে নিজেদের ভালো খাইবার ও ভালো পড়িবার ব্যবস্থা করিয়াছেন। জনগনের দূর্ভোগ যখন নিজেদের স্কন্ধে অর্থাৎ গর্দানে পড়িবে এবং যনগনের যন্ত্রণা নিজেরা উপলদ্ধি করিতে পারিবেন তখন তাহার নিজেদের জন্যই বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে মনোনিবেশ করিবেন। আর মনোনিবেশ করিলেই ট্যাক্স ফ্রি গাড়ী, সরকারী টাকায় বিদেশ ভ্রমনের আংকাখা মিটাইবার ধারাবাহিক প্রয়াস, বেতনবৃদ্ধি প্রভৃতির মতন বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হইবে। অতি দ্রুতই হইবে। কারন তাহারা নিজেদের জন্যই সমাধান করিবেন। ফাঁকতালে জনগন উপকৃত হইবে।
যাহারা ক্ষমতায় থাকেন তাহারা নিজেদের জন্যই সবকিছু করেন। তবে নিজেদের জন্য করিলেও কারণ দর্শাইবর জন্য একটি উসিলার দরকার হয়। আমরা বোকা জনগন সেই উসিলামাত্র। তাহার বেশী কিছু নই।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মার্চ, ২০১০ রাত ১:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


