somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জেন গল্প ৭-৯: রাত্রিবাসের জন্য তর্কযুদ্ধ : সুখী চীনা : খোলামেলা প্রেম

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাত্রিবাসের জন্য তর্কযুদ্ধ
কোন জেন মন্দিরে গিয়ে সেখানে বাসরত কাউকে বুদ্ধত্ব বিষয়ে তর্কে হারাতে পারলে যে কোন পরিব্রাজক ভিক্ষু রাতে মন্দিরে থাকার সুযোগ পায়। হেরে গেলে তাকে পথে এগোতে হয়।

জাপানের উত্তরাংশের এক মন্দিরে দু’ভাই থাকত। বড়ভাই বিদ্বান। ছোট ভাই নির্বোধ এবং তার এক চোখ কানা।

একবার এক পরিব্রাজক রাতে মন্দিরে থাকার সুযোগ নিতে তর্কযুদ্ধের আমন্ত্রণ জানাল। বড়ভাই সেদিন শাস্ত্র পাঠ করে বেশ ক্লান্ত থাকায় ছোট ভাইকে পাঠাল। বড়ভাই সতর্ক করে বলল, ‘যাও গিয়ে নীরবে তর্ক করার প্রস্তাব দাও।’

ছোট ভাই এবং সেই ভিক্ষু মন্দিরের ভেতরে গিয়ে তর্কের জন্য বসল।

একটু পরেই সেই ভিক্ষু বড় ভাইয়ের কাছে এসে বলল, ‘আপনার ছোট ভাই বেশ চমৎকার। আমাকে হারিয়ে দিয়েছে।’

বড়ভাই বলল, ‘আলোচনা কি হলো বলুন তো।’

ভিক্ষু ব্যাখ্যা দিলেন, ‘আচ্ছা। আমি প্রথমে একটি আঙ্গুল তুলে ধরলাম। আলোকপ্রাপ্ত জন, বুদ্ধ বোঝাতে। ছোট ভাই দু’আঙ্গুল দেখালেন। বুদ্ধ এবং তাঁর শিক্ষা বোঝাতে। আমি তিন আঙ্গুল তুলে ধরলাম- বুদ্ধ, তাঁর শিক্ষা ও অনুসারী বোঝাতে। তখন তিনি আমার চোখের সামনে হাত মুঠো পাকালেন। তিনটিই যে একক বোধ থেকে আসে তা বোঝাতে। এভাবে উনি জিতলেন। আমার আর এখানে থাকার অধিকার নেই।’ ভিক্ষু চলে গেলেন।

ছোটভাই দৌড়ে এসে বড়ভাইকে জিজ্ঞেস করল, ‘লোকটা কোথায়?’

‘বুঝেছি, তুমি জিতেছ।’

‘কেউ জেতেনি। আমি ওকে পেটাবো।’

বড়ভাই এবার বললেন, ‘তর্কের বিষয় বলো তো শুনি।’

‘সামনাসামনি হওয়ার পর ও আমাকে এক আঙ্গুল দেখাল। আমার কানা চোখকে ও ব্যঙ্গ করেছে। সে যেহেতু আগন্তক তাই ভদ্রতা দেখিয়ে ওকে দু’আঙ্গুল দেখালাম। ওর দু’টি ভাল চোখের জন্য। এরপর বেয়াদব আমাকে তিন আঙ্গুল দেখাল। আমাদের দু’জনে মিলে যে তিনটি চোখ ভাল তা বোঝাল। আমার মাথা খারাপ হয়ে গেল। ওকে ঘুষি মারতে এগোলাম। কিন্তু ও দৌড়ে বেরিয়ে গেল।’

সুখী চীনা

আমেরিকার চাইনাটাউনগুলোতে ঘুরে বেড়ালে পাটের বস্তা ঘাড়ে এক শক্তপোক্ত লোকের মূর্তি চোখে পড়ে। চীনা ব্যবসায়ীরা তাকে সুখীচীনা অথবা সহাস্য বুদ্ধ বলে ডাকে।

আসলে লোকটির নাম ছিল হোতেই। তিনি তাঙ যুগের মানুষ। জেন শিক্ষক হিসেবে নিজেকে জাহির করবার বা অনেক শিষ্য জোটাবার কোন ইচ্ছেই তাঁর ছিলনা। বরং ঘাড়ে এক বড় বস্তায় ক্যান্ডি, ফল বা ডোনাট নিয়ে তিনি রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতেন। খাবারগুলো শিশুদের জন্য, যারা খেলতে খেলতে তাকে ঘিরে ধরত। তিনি এভাবে রাস্তাতেই কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

কোন জেন-ভক্তের দেখা পেলেই তিনি হাত বাড়িয়ে ধরতেন, ‘একটা পয়সা দিন।’
একবার তিনি যখন খেলার কাজে মত্ত তখন আরেক জেন গুরুর সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। সেই জেন শিক্ষক জিজ্ঞেস করলেন, ‘জেন- এর তাৎপর্য কী?’

হোতেই সঙ্গে সঙ্গে নির্বাক থেকে কাঁধ থেকে ঝোলাটা মাটিতে নামিয়ে রাখলেন।

‘আচ্ছা, এর বাস্তব প্রয়োগ কী?’

সুখীচীনা এবার কাঁধে ঝোলাটা ঝুলিয়ে হাঁটা শুরু করলেন।


খোলামেলা প্রেম

এক জেন গুরুর কাছে বিশজন ভিক্ষু এবং একজন ভিক্ষুণী ধ্যান চর্চা করতেন। ভিক্ষুণীর নাম এশুন। মাথা-মুড়ানো, সাদাসিধে পোষাক পরা হলেও এশুন দেখতে খুবই সুন্দর। বেশ কয়েকজন ভিক্ষু গোপনে তার প্রেমে পড়লেন। তাদের একজন এশুনকে এক প্রেমপত্র পাঠালেন। আবদার - গোপনে দেখা করা।

এশুন কোন উত্তর দিলেন না। পরদিন গুরু সবাইকে পাঠ দিচ্ছিলেন। পাঠ শেষে এশুন উঠে দাঁড়ালেন। তিনি প্রেমপত্রের লেখককে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘আমাকে যদি এতই ভালবাসেন, তবে আসেন, আমাকে আলিঙ্গন করেন।’

সবক’টি পর্বের লিংক:
আর কোন জেন গল্প নয়: Click This Link
জেন গল্প ১০-১২: Click This Link
জেন গল্প ৭-৯: Click This Link
জেন গল্প ৪-৬: Click This Link
জেন গল্প ১-৩: Click This Link

দ্রষ্টব্য: এসব গল্পই ইন্টারনেট হতে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে। অনূদিত ৯৯টির মধ্যে ১০টি গল্প দৈনিক ইত্তেফাক এর ‘সাহিত্য সাময়িকী’ ও দৈনিক সমকাল এর ‘কালের খেয়া’-তে প্রকাশিত হয়েছে। সবশেষ কিস্তিতে ভূমিকাটি উপস্থাপনের আশা রাখছি। ধন্যবাদ।


সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুন, ২০১১ রাত ৯:১৯
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×