গ.
একটা পাথরের উপর বসে আছে আদিব। তিক্ষ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে বড়শির দিকে। একটা মাছ এসেছে মনে হয়, বড়শীর সুতোটা নড়া চড়া করছে। এমন সময় মোবাইল ফোনটা বেজে উঠায় বেশ বিরক্ত হল সে, “ধ্যাৎ মোবাইলটা কেন যে সাইলেন্ট করিনি।” রিং বেজেই গেল তবু মোবাইলের দিকে নজর না দিয়ে, বড়শীর দিকেই মনোযোগ দিল। দ্বিতীয় বার রিং হতে কিছুটা বিরক্ত হয়েই ফোন রিশিভ করল আদিব, “হ্যালো. .. ...” অপর প্রান্তে প্রশ্নের বৃষ্টি শুরু হল, “দেশে গিয়ে ভুলে গেলি নাকি? কোথায় ছিলি? এতক্ষন ফোন দিই, রিশিভ করছিলিনা কেন?” আদিব শান্ত কন্ঠে বলল,“তোর কি প্রশ্ন করা শেষ হয়েছে? আমি কি এবার উত্তর দিতে পারি?” “হ্যাঁ বল।” মুচকি হাসছে বটে আদিব কিন্তু সুজয়কে রাগিয়ে দেবার জন্য কণ্ঠ গম্ভির করে বলল, “হ্যাঁ দেশে এসে তোর কথা একদম ভুলে গেছি। বড়শি হাতে ধরে বসে আছি, তাই তোর ফোন রিসিভ করছিলাম না। তা তোর কি খবর?” সুজয় রেগেছে ভালই, “না, না আমার খোঁজ খবর নেয়ারতো আপনার দরকার নাই। আপনি মাছ ধরেন আর ওগুলো ভাজি করে খান। কোন খোজ খবর নেয়ার আপনার দরকার নেই।” “আচ্ছা বাবা সরি, রাগ করিস না, কি হয়েছে বল?” “তোর প্রজেক্ট কিপেটেন্ট করা আছে?” “হ্যাঁ আছে, কিন্তু হঠাৎ এ প্রশ্ন?” “তাহলে রিচার্ড তোর প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছে কেন?” “আমার প্রজেক্ট নিয়ে রিচার্ড কাজ করবে কেন!? আমার প্রজেক্টতো আমি কমপ্লিট করে এসেছি। একটা সর্ট রিপোর্টও জমা দিয়ে এসেছি। পুরো রিপোর্টটা লিন্ডা তৈরী করে দিতে পারবে। গতকালতো ওর রিপোর্ট জমা দেবার কথাছিল, অবশ্য খোঁজ নেয়া হয়নি। কেন ও রিপোর্ট জমা দেয় নি?” “স্বর্গ থেকে এসে কি তোর রিপোর্ট জমা দেবে?” “মানে! বলিস কি? দুদিন আগেইতো আমি ওর সাথে কথা বললাম।” “গতকাল রাতে ওর ফ্ল্যাটে ওকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ বলছে মৃত্যু রহস্যজনক।” আদিব যেন আকাশ থেকে পড়ল,“বলিশ কি!?” ”ঘটনা এখানেই শেষ না, আরো আছে। শুধু তোর প্রজেক্টের দ্বায়িত্ব রিচার্ডকেই দেয়া হয়েছে তা না, ভাইরোলোজি ল্যাবের নিরাপত্তা বলয় বৃদ্ধি করা হয়েছে; এবং নিরাপত্তার দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছে ড্যানিয়েলকে। অবাক হলেও সত্য ভাইরোলোজি ল্যাবে অ্যামেরিকান বিজ্ঞানী ছাড়া সবাইকে ছুটিতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।” “বলিস কি এতো সাংঘাতিক ব্যাপার!!!” “হ্যাঁ, ভাইরোলোজি ল্যাবে একটা ষড়যন্ত্র চলছে, এবং তা তোর রিসার্চকে কেন্দ্র করে।সত্য করে বলতো তুই কি নিয়ে রিসার্চ করছিলি?” “তোকে মিথ্যা বলব কেন! আগেইতো বলেছি এইচ,আই.ভির টিকা তৈরি করছিলাম।” সুজয় কিছুটা চিন্তিত হয়ে বলল, “আচ্ছা তোর ডিজাইন করা টিকার কি কোন সাইড ইফেক্ট বা এমন কিছু আছে. .. ...” “তাতো জানি না। আমি হোস্ট সেলের ডি.এন.এ সিকোয়েন্স করতে দিয়ে এসেছিলাম। ওটা দেখে লিন্ডার ফাইনাল রিপোর্ট জমা দেবার কথা ছিল।” “তুই কি কোন ভাবে ওটা চেক করতে পারবি?” “আমার ল্যাপটপে একটা ব্যাকআপ রেখেছিলাম, কিন্তু ওটা এক্সট্রাক্ট করার মত সফটওয়ার আমার কাছে নেই। তুই এক কাজ কর, তোর কাছে আমার ফ্যাটের চাবি আছে না?” “হ্যাঁ আছে।” “তাহলে তুই আমার মূল কম্পিউটার থেকে সফটওয়ারগুলো মেইল করে দে। পারবি না?” “পারব। আর ঠিক আছে তোকে পরে কি হয় জানাচ্ছি।”
ঠিক দুই ঘন্টা পর সুজয় আবারো কল দিল। আদিব হ্যালো বলতেই, সুজয়ের উত্তেজিত কণ্ঠ, “তোর ফ্যাটের সব কিছুতো লন্ডভন্ড।” “বলিস কি?” “হ্যাঁ ঠিকই বলছি। তোর স্টাডি রুমে যেন ঝড় বয়ে গেছে; বই খাতা সবকিছু ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলা। পিসির হার্ডডিক্স গায়েব!” “হয়াট!!!!” “হ্যাঁ, তবে গেস্টরুম আর বেডরুম মোটামুটি ঠিক আছে।” আদিব কিছুক্ষন চুপ থেকে বলল,“ঠিক আছে আমি আসছি। কি ঘটছে ব্যাপারটা দেখা দরকার।”
ঘ.
এয়ারপোর্টে আদিবকে সুজয় রিসিভ করল। এরপর আদিব সুজয়ের ফ্ল্যাটেই থেকে গেল। রাতে আদিব ও সুজয় ভাইরোলোজি ল্যাবে প্রবেশ করল; সুজয় সিকিউরিটির খুটি নাটি জানে বলে খুব দ্রুত ল্যাবে প্রবেশ করতে পারল। ল্যাবের মাঝে গিনিপিগ গুলোর কিচকিচ শব্দ ছাড়া আর কোন শব্দ নেই। রাত দুইটার দিকে সুজয় কিছুটা উত্তেজিত হয়ে প্রশ্ন করল, “কিরে কিছু পেলি না।” “আরে এরাতো, আমার ড্রাগে মডিফায়ার ইউজ করলে তার প্রভাব কি রকম হবে, তা নিয়ে রিসার্চ করছে।” “তারমানে বলতে চাচ্ছিস এরা স্বভাবিক টেস্ট করছে?” “তা বলা যায়।” “তার মানে কি লিন্ডার মৃত্যু তোর রুম তছনচ করা ্গুলোর সাথে, তোর গবেষণার কোন সাথ নেই!?” “তাইবা বলি কি করে।” “তবে. .. ... তুই কি ডাটাবেজ চেক করে দেখবি?” “তাই করি।” “তবেতো কম্পিউটার ল্যাবে যেতে হবে।” ”হ্যাঁ চল।” ওরা কম্পিউটার ল্যাবে এল। আদিব ডাটাবেজ থেকে বিভিন্ন ডাটা চেক করতে লাগল। কিছুক্ষন পর আদিবকে চিন্তিতভাবে গাল চুলকাতে দেখে সুজয় প্রশ্ন করল,“না মানে ঠিক বুঝতেছি না।” ”তারমানে কিছু পেয়েছিস.....” “আসলে রিচার্ডের গবেষণা দেখে মনে হচ্ছে ও ব্লাডগুফ চেঞ্জ করতে চাচ্ছে।” সুজয় অবাক হয়ে বলল,“ব্লাডগুফ! যে পুরো পৃথিবীতে জীবাণূ বোমার কারিগর হিসাবে পরিচিত, সে কিনা ব্লাডগুফ নিয়ে কাজ করছে। তারমানে এখানে নিশ্চয় কোন কিন্তু আছে।” আদিব সুজয়ের মুখের দিকে কিছুক্ষন অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকল, তারপর হঠাৎ করেই কম্পিউটারের কিবোর্ডের উপর হুমড়ে পড়ল। তারপর যখন মুখ তুলে তাকাল, ওর চোখে কিছুটা ভয়, কিছুটা বিশ্বয়! সুজয় ভ্রু কুঞ্চিত করে বলল,“কিরে। ঘটনা কি?” “ঘটনাতো অনেক বড়! রিচার্ড পৃথিবীর মানুষকে দুইভাগে ভাগ করে দিতে চলেছে। ও দুই ধরনের মডিফায়ার ইউজ করছে।”
শেষ পর্ব
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে নভেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



