somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বি - পজটেভি (দ্বিতীয় পর্ব)

১৮ ই জুলাই, ২০১০ রাত ১২:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথম পর্ব

গ.
একটা পাথরের উপর বসে আছে আদিব। তিক্ষ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে বড়শির দিকে। একটা মাছ এসেছে মনে হয়, বড়শীর সুতোটা নড়া চড়া করছে। এমন সময় মোবাইল ফোনটা বেজে উঠায় বেশ বিরক্ত হল সে, “ধ্যাৎ মোবাইলটা কেন যে সাইলেন্ট করিনি।” রিং বেজেই গেল তবু মোবাইলের দিকে নজর না দিয়ে, বড়শীর দিকেই মনোযোগ দিল। দ্বিতীয় বার রিং হতে কিছুটা বিরক্ত হয়েই ফোন রিশিভ করল আদিব, “হ্যালো. .. ...” অপর প্রান্তে প্রশ্নের বৃষ্টি শুরু হল, “দেশে গিয়ে ভুলে গেলি নাকি? কোথায় ছিলি? এতক্ষন ফোন দিই, রিশিভ করছিলিনা কেন?” আদিব শান্ত কন্ঠে বলল,“তোর কি প্রশ্ন করা শেষ হয়েছে? আমি কি এবার উত্তর দিতে পারি?” “হ্যাঁ বল।” মুচকি হাসছে বটে আদিব কিন্তু সুজয়কে রাগিয়ে দেবার জন্য কণ্ঠ গম্ভির করে বলল, “হ্যাঁ দেশে এসে তোর কথা একদম ভুলে গেছি। বড়শি হাতে ধরে বসে আছি, তাই তোর ফোন রিসিভ করছিলাম না। তা তোর কি খবর?” সুজয় রেগেছে ভালই, “না, না আমার খোঁজ খবর নেয়ারতো আপনার দরকার নাই। আপনি মাছ ধরেন আর ওগুলো ভাজি করে খান। কোন খোজ খবর নেয়ার আপনার দরকার নেই।” “আচ্ছা বাবা সরি, রাগ করিস না, কি হয়েছে বল?” “তোর প্রজেক্ট কিপেটেন্ট করা আছে?” “হ্যাঁ আছে, কিন্তু হঠাৎ এ প্রশ্ন?” “তাহলে রিচার্ড তোর প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছে কেন?” “আমার প্রজেক্ট নিয়ে রিচার্ড কাজ করবে কেন!? আমার প্রজেক্টতো আমি কমপ্লিট করে এসেছি। একটা সর্ট রিপোর্টও জমা দিয়ে এসেছি। পুরো রিপোর্টটা লিন্ডা তৈরী করে দিতে পারবে। গতকালতো ওর রিপোর্ট জমা দেবার কথাছিল, অবশ্য খোঁজ নেয়া হয়নি। কেন ও রিপোর্ট জমা দেয় নি?” “স্বর্গ থেকে এসে কি তোর রিপোর্ট জমা দেবে?” “মানে! বলিস কি? দুদিন আগেইতো আমি ওর সাথে কথা বললাম।” “গতকাল রাতে ওর ফ্ল্যাটে ওকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ বলছে মৃত্যু রহস্যজনক।” আদিব যেন আকাশ থেকে পড়ল,“বলিশ কি!?” ”ঘটনা এখানেই শেষ না, আরো আছে। শুধু তোর প্রজেক্টের দ্বায়িত্ব রিচার্ডকেই দেয়া হয়েছে তা না, ভাইরোলোজি ল্যাবের নিরাপত্তা বলয় বৃদ্ধি করা হয়েছে; এবং নিরাপত্তার দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছে ড্যানিয়েলকে। অবাক হলেও সত্য ভাইরোলোজি ল্যাবে অ্যামেরিকান বিজ্ঞানী ছাড়া সবাইকে ছুটিতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।” “বলিস কি এতো সাংঘাতিক ব্যাপার!!!” “হ্যাঁ, ভাইরোলোজি ল্যাবে একটা ষড়যন্ত্র চলছে, এবং তা তোর রিসার্চকে কেন্দ্র করে।সত্য করে বলতো তুই কি নিয়ে রিসার্চ করছিলি?” “তোকে মিথ্যা বলব কেন! আগেইতো বলেছি এইচ,আই.ভির টিকা তৈরি করছিলাম।” সুজয় কিছুটা চিন্তিত হয়ে বলল, “আচ্ছা তোর ডিজাইন করা টিকার কি কোন সাইড ইফেক্ট বা এমন কিছু আছে. .. ...” “তাতো জানি না। আমি হোস্ট সেলের ডি.এন.এ সিকোয়েন্স করতে দিয়ে এসেছিলাম। ওটা দেখে লিন্ডার ফাইনাল রিপোর্ট জমা দেবার কথা ছিল।” “তুই কি কোন ভাবে ওটা চেক করতে পারবি?” “আমার ল্যাপটপে একটা ব্যাকআপ রেখেছিলাম, কিন্তু ওটা এক্সট্রাক্ট করার মত সফটওয়ার আমার কাছে নেই। তুই এক কাজ কর, তোর কাছে আমার ফ্যাটের চাবি আছে না?” “হ্যাঁ আছে।” “তাহলে তুই আমার মূল কম্পিউটার থেকে সফটওয়ারগুলো মেইল করে দে। পারবি না?” “পারব। আর ঠিক আছে তোকে পরে কি হয় জানাচ্ছি।”

ঠিক দুই ঘন্টা পর সুজয় আবারো কল দিল। আদিব হ্যালো বলতেই, সুজয়ের উত্তেজিত কণ্ঠ, “তোর ফ্যাটের সব কিছুতো লন্ডভন্ড।” “বলিস কি?” “হ্যাঁ ঠিকই বলছি। তোর স্টাডি রুমে যেন ঝড় বয়ে গেছে; বই খাতা সবকিছু ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলা। পিসির হার্ডডিক্স গায়েব!” “হয়াট!!!!” “হ্যাঁ, তবে গেস্টরুম আর বেডরুম মোটামুটি ঠিক আছে।” আদিব কিছুক্ষন চুপ থেকে বলল,“ঠিক আছে আমি আসছি। কি ঘটছে ব্যাপারটা দেখা দরকার।”

ঘ.
এয়ারপোর্টে আদিবকে সুজয় রিসিভ করল। এরপর আদিব সুজয়ের ফ্ল্যাটেই থেকে গেল। রাতে আদিব ও সুজয় ভাইরোলোজি ল্যাবে প্রবেশ করল; সুজয় সিকিউরিটির খুটি নাটি জানে বলে খুব দ্রুত ল্যাবে প্রবেশ করতে পারল। ল্যাবের মাঝে গিনিপিগ গুলোর কিচকিচ শব্দ ছাড়া আর কোন শব্দ নেই। রাত দুইটার দিকে সুজয় কিছুটা উত্তেজিত হয়ে প্রশ্ন করল, “কিরে কিছু পেলি না।” “আরে এরাতো, আমার ড্রাগে মডিফায়ার ইউজ করলে তার প্রভাব কি রকম হবে, তা নিয়ে রিসার্চ করছে।” “তারমানে বলতে চাচ্ছিস এরা স্বভাবিক টেস্ট করছে?” “তা বলা যায়।” “তার মানে কি লিন্ডার মৃত্যু তোর রুম তছনচ করা ্গুলোর সাথে, তোর গবেষণার কোন সাথ নেই!?” “তাইবা বলি কি করে।” “তবে. .. ... তুই কি ডাটাবেজ চেক করে দেখবি?” “তাই করি।” “তবেতো কম্পিউটার ল্যাবে যেতে হবে।” ”হ্যাঁ চল।” ওরা কম্পিউটার ল্যাবে এল। আদিব ডাটাবেজ থেকে বিভিন্ন ডাটা চেক করতে লাগল। কিছুক্ষন পর আদিবকে চিন্তিতভাবে গাল চুলকাতে দেখে সুজয় প্রশ্ন করল,“না মানে ঠিক বুঝতেছি না।” ”তারমানে কিছু পেয়েছিস.....” “আসলে রিচার্ডের গবেষণা দেখে মনে হচ্ছে ও ব্লাডগুফ চেঞ্জ করতে চাচ্ছে।” সুজয় অবাক হয়ে বলল,“ব্লাডগুফ! যে পুরো পৃথিবীতে জীবাণূ বোমার কারিগর হিসাবে পরিচিত, সে কিনা ব্লাডগুফ নিয়ে কাজ করছে। তারমানে এখানে নিশ্চয় কোন কিন্তু আছে।” আদিব সুজয়ের মুখের দিকে কিছুক্ষন অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকল, তারপর হঠাৎ করেই কম্পিউটারের কিবোর্ডের উপর হুমড়ে পড়ল। তারপর যখন মুখ তুলে তাকাল, ওর চোখে কিছুটা ভয়, কিছুটা বিশ্বয়! সুজয় ভ্রু কুঞ্চিত করে বলল,“কিরে। ঘটনা কি?” “ঘটনাতো অনেক বড়! রিচার্ড পৃথিবীর মানুষকে দুইভাগে ভাগ করে দিতে চলেছে। ও দুই ধরনের মডিফায়ার ইউজ করছে।”


শেষ পর্ব
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে নভেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩৩
৬টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×