বি-পজেটিভ (দ্বিতীয় পর্ব)
সুজয় অবাক হয়ে প্রশ্ন করল, “মানে?” আদিব কিছুক্ষন নীরব থেকে বলল,“মানে তাই।” “কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব?” “স্বাভাবিকভাবে সম্ভব নয় তবে রিচার্ড এটাকে সম্ভব করেছে।” “তাতো বুঝলাম কিন্তু কিভাবে?” “সহজভাবে বলতে গেলে বলতে হয়, ব্লাডগ্রুপের উপর ভিত্তি করে। আর যদি আরো গভীরে জানতে চাস তবে বলতে হয়, ও যে মডিফায়ার ইউজ করছে তা মানুষের ৯ম ক্রোমোজোমের ৩৪ তমব্যান্ডে কিছুটা পরিবর্তন ঘট্য়া। ঐ যায়গায় যে জীন থাকে তা মানুষের ব্লাড গ্রুপ নিয়ন্ত্রন করে। রিচার্ডের মডিফায়ার এই যায়গায় কাজ করে, রক্তরসে র্নিদৃষ্ট এন্টিবডি তৈরী করে। ফলে এক ধরনের মডিফায়ার যেকোন রক্তকে ধিরে ধিরে এ ব্লাডগ্রুপে পরিবর্তন করে অপরটি করে ব্লাডগ্রুপ বি!” আদিবের কথা শেষ হতেই কেউ হাত তালি দিয়ে উঠল। সুজয় এবং আদিব পিছু ফিরে দেখল রিচার্ড দাড়িয়ে আছে।
ঙ
রিচার্ড হাসি মুখে বলল,“বাহ ডঃ আদিব, ভালই বক্তব্য দিলেন দেখছি।” আদিব কিছুটা রাগান্নিত হয়ে বলল,“আপনার এই প্রজেক্টের উদ্দেশ্য জানতে পারি?” “আপনি এখনো বুঝতে পারেন নি। কি আশ্চর্য! আমি ভাবলাম আপনি বুঝি সব জেনে ফেলেছেন। আসলে আপনি যেটাকে মডিফায়ার হিসাবে দেখছেন সেটা আসলে মডিফায়ার নয়, ওটা এক্টিভেটর।” আদিব ভ্রু কুচকে প্রশ্ন করল, “এক্টিভেটর!?” “হ্যাঁ এক্টিভেটর; বি ভাইরাসের এক্টিভেটর।” “বি ভাইরাস!?” “ও আপনি এটারও নাম জানেন না। জানবেনই বা কি ভাবে, এটা আমার ডিজাইন করা নতুন ভাইরাস। যা বি ব্লাড গ্রুপের রক্ত কনিকা ভেঙ্গে ফেলে।” সুজয় এবার কথা বলল,“কিছুদিন আগে একটা দ্বিপে বি ব্লাড গ্রুপের সব মানুষ মারা যায়, তাহলে এটা আপনার কাজ!?” রিচার্ড একটা কুটিল হাসি দিয়ে বলল, “জ্বি, ওটা বি ভাইরাসের ফিল্ড টেস্ট ছিল” সুজয় ভিষন অবাক হয়ে বলল, “এতগুলো মানুষের উপর ফিল্ড টেস্ট! রাতের মাঝে এতগুলো মানুষকে মেরে ফেলা আপনার কাছ ফি- টেস্ট!?” “সায়েন্সে সব সময় কিছু না কিছু, স্যাকরিফাইজ করতে হয়। ল্যাবে কত গিনিপিগ মারা যায় তার কি কেউ খোজ রাখে?” “আপনার কাছে গিনিপিগ আর মানুষ এক হল।” “সায়েন্সে সবাই সমান . .. ...” আদিব একটা দীর্ঘষাশ ফেলে জানতে চাইল, “তা বি ব্লাড গ্রুপ বেছে নেয়ার কারণ?” রিচার্ড মুচকি হেসে বলল,“তেমন কোন কারণ নেই।” “আর মডিফায়ার এ ইউজ করার কারণ?” “ওটা তৈরি করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না। তবে তৈরি যখন হয়েই গেছে, বৃথা যাবে না।” “আপনার প্ল্যানটা কি বলেনতো?” “আপনার রিসার্চ ব্যাবহার করে তিন ধরনের ভ্যাকসিন তৈরি হবে। একটা হবে নরমাল, যা অ্যামেরিকা ও তার বন্ধু ভাবাপন্ন দেশগুলোতে যাবে। দ্বিতীয়টি হবে ভ্যাকসিন-এ, এটা সকল ব্লাড গ্রুপকে ব্লাড গ্রুপ ‘এ’ তে পরিবর্তন করে তাই এই ভ্যাকসিন দেয়া হবে ঐ সমস্ত দেশের বি-ব্লাড গ্রুপের মানুষকে। আর ভ্যাকসিন-বি যাবে বাকি দেশগুলোতে।” “তাদের পরিনতি কি হবে?” “তাদের পরিনতি. .. ...” রিচার্ড একটা কুটিল হাসি দিল, “. .. ... আপনিই চিন্তা করে নেন না।” “তাদের মেরে ফেলার জন্য ঐ সমস্ত দেশে বি-ভাইরাস ছেড়ে দেয়া হবে।” “এইতো বুঝতে পেরেছেন।” “কিন্তু ব্লাড গ্রুপ চেঞ্জ হতেতো বেশ সময় লাগবে, এই সময়ের মাঝে যদি যুদ্ধ বেধে যায়, তখন?” ”দুই দুবার চিকিৎসা ক্ষেত্রে নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানি ড. আবিদ চৌধুরিকে পৃথিবীর মানুষ খুব বিশ্বাস করে, আশা করছি এখানে আপনার রেপুটেশান কাজে লাগবে। আর আপনার রিসার্চে এক্টিভেটর ব্যাবহার করেছি, অথচ বিষয়টা ধরতে আপনার ডাটাবেজ চেক করা লেগেছে; থলের বিড়ালটা তাই কেউ সহযে ধরতে পারবেনা বলেই ধরে নিচ্ছি। আর ফিল্ডে যাবার পর মাত্র এক বছর সময় দরকার। সো বুঝতেই পারছেন. .. ... তার পরও যদি ব্যাপারটা মাঝ পথে ধরা পড়ে, কুটনৈতিক ভাবে যুদ্ধ থামিয়ে রাখা হবে।” সুজয় বলল,“আমরা বেঁচে থাকতে এটা হতে দেব ভেবেছেন?” রিচার্ড এবার বেশ জোরেই হেসে উঠল,“আপনারা বেঁচে থাকছেন, এটা ভাবছেন কেন?” রিচার্ড পকেট থেকে একটা ছোট্ট রিভালবার বের করল। সুজয় সাথে সাথে লাফ দিয়ে একটা বড় কম্পিউটার টেবিলের পেছনে নিজেকে আড়াল করল। ব্যাপারটা রিচার্ড স্বাভাবিক ভাবে নিলেও আদিব দেখতে পাচ্ছে, কম্পিউটার টেবিলের আড়ালে বসে সুজয় কি-বোর্ডটা টেনে নিয়ে তাতে ঝড় তুলেছে। রিচার্ড বলল,“মি. সুজয় আপনারা বেরিয়ে আসলে আপনাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা আছে; যদিও বন্দি অবস্থায়!” রিচার্ড আবারো হেসে উঠল, তারপর আবার বলল, “আমি এক থেকে তিন গুনব, এর মাঝে আপনি বের হয়ে না আসলে; প্রথমে আপনার বন্ধুকে তারপর খুড়ে নিয়ে আপনাকে মারব। আর আপনি জানেনইতো এই ল্যাব থেকে আপনি খুব সহজে বের হতে পারবেন না।” রিচার্ডের কথা শেষ হতেই কয়েকটি ঘটনা এক সাথে ঘটে গেল, দূরে কোথাও সাইরেন বেজে উঠল, রিচার্ড সুজয়কে কি-বোর্ডে কাজ করতে দেখে গুলি করল, বদ্ধ ঘরে বিকট শব্দ হল, তারপর ল্যাবের সবগুলো লাইট একসাথে নিভে গেল। ঠিক পাঁচ সেকেন্ড পর যখন ল্যাবের লাইটগুলো আবার জ্বলে উঠল, তখন দেখা গেল পাশের কম্পিউটারে সুজয় কাজ করছে, ওর ডান বাহু বেয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে, রিচার্ড আবারো গুলি করল, বদ্ধ ঘরে আরারো যেন বোমা ফাটল। সুজয় দুলি বিদ্ধ হয়ে কি-বোর্ড নিয়ে হুড়মুড় করে পড়ে গেল। আদিব দৌড়ে গিয়ে ওকে ধরার চেস্টা করল। রিচার্ড তৃতীয় গুলিটি করল দ্বিতীয় কম্পিউটার লক্ষ্য করে। সুজয় চোখ বন্ধ করার আগে ওর মুখে এক চি তে হাসি দেখা গেল। আদিব দেখল প্রথম কম্পিউটারে কিছু একটা আপলোড হচ্ছে।
পরিশেষ
বায়োব্যাংক-কে ঘিরে অনেকগুলো আইন শৃঙ্খলা বাহিনির গাড়ি দাড়িয়ে আছে। রিচার্ডকে হাতকড়া পরিয়ে প্রীজন ভ্যানে নেয়া হল। সাইরেন বাজিয়ে একটা এম্বুলেন্স এসে থামল, কিছুক্ষন পর সুজয়ের ডেড বডিটা স্ট্রেচারে করে এম্বুলেন্সে নেয়া হল। সুজয় নিরাপত্তার জন্য লাগানো ক্যামেরায় ধারনকৃত ভিডিওটা নেটে আপলোড করে দেয়, ফলে সবাই জেনে যায় রিচার্ডের কুকির্তি।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



